Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

অ্যাওয়ে ম্যাচে সমর্থকদের নিয়ে যাওয়া যায় না?‌

By   /  January 22, 2017  /  No Comments

সোহম সেন

সময় বদলাচ্ছে। কিন্তু কলকাতার দুই প্রধানের কর্তাদের দেখলে তা বোঝার উপায় নেই। তাঁরা পড়ে আছেন সেই মান্ধাতার আমলেই। তাই যে দুই প্রধানকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগ, সেই আবেগকে তাঁরা কাজে লাগাতেই পারছেন না। অথচ, একটু সদিচ্ছা থাকলেই, সামান্য খরচ করেই অন্যরকম একটা উন্মাদনা তৈরি করা যায়।
আই লিগে কখনও গোয়া, কখনও চেন্নাই, কখনও পুনেতে খেলতে যাচ্ছে দুই প্রধান। চাইলেই সেখানে সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা যায়। কিন্তু কর্তাদের হেলদোলই নেই। ভেবে দেখুন, দু’‌বছর আগের আই লিগের কথা। সেবার বেঙ্গালুরুতে ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগেই কাতারে কাতারে সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন মোহন–‌সমর্থকরা। কেউ রিজার্ভেশন না পেয়ে ট্রেনের টয়লেটের সামনে পেপার পেতে বসেছিলেন টানা দুদিন। কেউ গিয়ে হয়ত হোটেল পাননি, হোটেলের ছাদেই থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। কেউ আবার রাস্তা বা স্টেশনেই রাত কাটিয়েছিলেন। তবু ওঁরা গিয়েছিলেন। কারণ, তাঁরা ক্লাবকে ভালবাসেন।

mohun bagan6
কিন্তু কর্তারা যদি আগাম কয়েকটি হোটেলের হলঘর নিয়ে রাখতেন, তাহলে সবাই এক জায়গায় থাকতে পারতেন। অনলাইনে আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থা থাকত। সদস্য বা সমর্থকরা দুশো বা আড়াইশো টাকা দিয়ে সেখানে থাকতে পারতেন। ডরমেটারির ক্ষেত্রে একশো টাকা ভাড়া রাখা যেতেই পারত। এমনকি পুরো খরচ যদি ক্লাব দিত, তাতেই বা কী এমন খরচ পড়ত?‌ ক্লাবে এত প্রভাবশালী, এত বিত্তশালী সদস্য। কাউকে ঠিকভাবে বললে তিনিই খরচ দিয়ে দিতেন। রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানালে হয়ত তারাই দিয়ে দিত। ট্রেনে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ক্লাব থেকে কিছু ভরতুকি দেওয়া যেত। কে কে যেতে চান, আগাম জেনে নিয়ে, সেই বুঝে ট্রেনের কয়েকটা কামরা বুক করে নেওয়া যেত। টিকিটের কিছু টাকা অগ্রিম নিয়ে বাকিটা ক্লাবই দিতে পারত। ধরা যাক, এক হাজার সমর্থক গেলেন। অনেকেরই নিজেদের সামর্থ্য আছে। তাঁদের ক্লাবের সাহায্য দরকার নেই। কিন্তু ক্লাব যদি ঘোষণা করত, যাওয়ার খরচ আপনাদের, ফেরার খরচ ক্লাবের। একটি পেশাদার এজেন্সিকে সেই দায়িত্ব দেওয়া যেত। ভেবে দেখুন, বিভিন্ন ট্রেনের কয়েকটি কামরায় শুধু মোহনবাগান সমর্থকরা যাচ্ছেন, এটা কতটা গর্বের হত। স্পন্সররাও তো এমনটাই দেখতে চান। এই বাবদ খরচটা তাঁরাই হয়ত দিয়ে দিতেন। এবারেও আই লিগে দুই প্রধান বেশ ভালই দৌড়চ্ছে। টানা অ্যাওয়ে ম্যাচেও খেলতে যেতে হচ্ছে। সেখানে যদি সমর্থকরা সঙ্গে থাকেন, তাহলে তো দলটা আরও উজ্জীবিত হতে পারে। ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার বা থাকার ব্যবস্থা যদি করা হয়, তাহলে অনেকেই হয়ত যেতে পারেন। এটুকু খরচ কি ক্লাব বহন করতে পারে না?‌ এটুকু দায়িত্ব কি কর্তারা নিতে পারেন না?‌
বেঙ্গালুরু এফ সি–‌র মতো কর্পোরেট দল পারছেন মানুষকে তাঁদের দিকে টেনে আনতে। আর দুই প্রধানের মতো শতবর্ষের আবেগ যাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তারা পারছে না। তবু ভাল, ফ্যান ক্লাবগুলো আছে। তারা নিজেদের সামর্থ্যে কিছু কিছু ছোট ছোট উদ্যোগ নিচ্ছেন। এঁদের আরও ভালভাবে ব্যবহার করা যায় না?‌
(‌মোহনবাগান–‌ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ লক্ষ সমর্থক ছড়িয়ে আছেন সারা পৃথিবীতে। সোশাল সাইটে তাঁরা সোচ্চার। ক্লাবের ব্যাপারে তাঁদের নানা পরামর্শ ও সমালোচনা বেঙ্গল টাইমসেও গুরুত্ব পাবে। বিভিন্ন ব্যাপারে আপনারাও আপনাদের পরামর্শ ও অনুভূতি তুলে ধরতে পারেন। সুস্থ বিতর্কও চলতেই পারে। লেখা পাঠানোর ঠিকানা:‌ bengaltimes.in@gmail.com)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk