Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  রাজ্য  >  Current Article

এটাও সেটিং নয় তো?

By   /  January 1, 2017  /  No Comments

কেন্দ্র কি সত্যিই চায় সারদা বা রোজভ্যালি কান্ডের তদন্ত হোক?‌ এতদিনের শীতঘুম দেখে তা মনে হয়নি। এখন তৃণমূলকে একটু শিক্ষা দিতে হবে, তাই তাপস পালকে ধরা হল। আবার সেটিং হয়ে যাবে না তো ?‌ প্রশ্ন তুললেন সত্রাজিত চ্যাটার্জি।।

নতুন বছরের শুরতেই রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সাড়া জাগানো একটা ব্যাপার আরও এক তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতি তে সিবিআই এর হাতে গ্রেফতার হওয়া। এমনিতে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ বাংলার শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে নতুন কোনও ব্যাপার নয়। দলের ওপরতলা থেকে নীচু তলা পর্যন্ত প্রায় সবাই নানা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। সেখানে সমাজবিরোধীদের প্রত্যক্ষ মদত দেওয়া তৃণমুলের নেতা-মন্ত্রী যেমন আছে, তেমনি বাহ্যিকভাবে শিক্ষিত বা সুরুচির মুখোশধারী সৌগত রায়ের মতো অধ্যাপক মানুষও রয়েছেন। ওই যে বলে না, “ঠগ বাছতে গাঁ উজ়াড়” তেমনি দুর্নীতি বাছতে পুরো তৃণমূল দলটাই উজ়াড় হয়ে যাবে। কারণ, এইসব দুর্নীতির পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলের সর্বোচ্চে নেত্রীর সংযোগ বা অনুমোদন অবশ্যই আছে। সে তিনি যতই সততার মুখোশ পরে থাকুন না কেন। বা “সততার প্রতীক” লিখে যতই তার ছবি বা মূর্তি স্থাপিত হোক না কেন। কিন্তু এইবার গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি এমন যে শুধু চিটফান্ডে দুর্নীতিরই ধারক ও বাহক নন, রুচিগতভাবে একটি অসামাজিক,অসভ্য, বিকৃতমনা, ইতর শ্রেণীর লোক। হ্যাঁ, আমরা সবাই তাঁর পেশাগত জীবন সম্বন্ধে সম্যক অবগত। নামজাদা অভিনেতা হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি আছে বৈকি!! জীবনের প্রথম ছবি “দাদার কীর্তি ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রায় চল্লিশ বছর পরে আজও স্মরণীয়। এহেন একজন অভিনেতার রাজনৈতিক জীবন এত কলঙ্কের, যে চিন্তাও করা যায় না। হ্যাঁ, রাজনীতি করতে গেলে কিছু মানুষের কাছে প্রিয় আর কিছু মানুষের কাছে অপ্রিয় হতে হয় বৈকি !! কিন্তু তা বলে এই তাঁর রুচি ? এই তাঁর সভ্যতা ? ভাবতেই ঘেন্না লাগে, কী করে তিনি বিরোধীদের ঘরে “ভাড়াটে গুণ্ডা” ঢুকিয়ে মহিলাদের ধর্ষণ করানোর হুমকি দিতে পারেন ! আসলে কথায় আছে না, “অসৎসঙ্গে সর্বনাশ” !! তাই শিক্ষা, সংস্কৃতি, রুচি থাকলেও তৃণমূলের মতো লুম্পেনবাহিনীর দলে ভিড়লে সবই আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। এটাই বাস্তব।

Tapas Paul appears at CBI Office
যাক সে কথা। এখন প্রশ্ন হল আগের তৃণমূল নেতা বা মন্ত্রীরা যেমন সিবিআই এর হাতে গ্রেফতার হয়েও জেলের মধ্যে রাজার হালে ছিলেন এবং কোনও এক “অজ্ঞাত কারণে” জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন, তাপস পালের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সেরকমই হবে না তো ? সময়ই উত্তর দেবে সেই প্রশ্নের। তবু মনের কোণে সেই সন্দেহটা প্রায়ই উঁকি দেয় বৈকি। আচ্ছা, সারদা কাণ্ডে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে তো সি.বি.আই এর কাছে এত এত প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছিল। মদনবাবুর গাড়ির ড্রাইভার পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছিলেন। তার পরেও তিনি জামিন পেলেন কী করে ? কোন মন্ত্রবলে মদনবাবুর সব দোষ লাঘব হয়ে গেল? বা তাঁর আগের তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সৃঞ্জয় বসু ? তিনিও তো কিছুদিন বায়ু পরিবর্তন করে “শ্রীঘর” থেকে আবার সসম্মানে ছাড়া পেয়ে গেলেন। কোন মন্ত্রবলে ?
আসলে এখানেই রহস্যটা লুকিয়ে আছে। ঘাসফুল আর পদ্মফুলে “অঘোষিত সেটিং”। রবি ঠাকুরের “ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে” গানের ভাষাতেই বলি। জোড়া ফুল আর পদ্মফুলে ঢলাঢলি ! কারণ একটাই, বামপন্থীদের ঠেকিয়ে রাখা। তাদের দুর্বল করা। আমরা সবাই জানি বর্তমানের কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হল বামশক্তি। লক্ষ্য করে দেখবেন, দেশের যে যে স্থানে বামেরা ক্ষমতাসীন বা শক্তিশালী, সেখানেই এই উগ্র, ধর্মান্ধ দল বিজেপি দুর্বল বা ক্ষয়িষ্ণু। বা এর বিপরীতাটাও সত্যি। কারণ বামপন্থীরা যে যে সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে, যেমন ধর্মান্ধতা, জাত-পাত, সামাজিক বৈষম্য অন্যান্য বিভেদ — বিজেপির সেই বিষয়গুলোই নীতি বা চালিকাশক্তি। আর দেশের যে যে অংশের সিংহভাগ মানুষ এই বিভেদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী তারাই বিজেপির মূল ভোটার। তাই বামপন্থীদের রাজনৈতিক সুবিধার্থে বিজেপি কখনই সারদা কান্ডে সি.বি.আইকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার স্বাধীনতা দেয়নি। যে কারণে সারদা মামলাতে এক এর পর এক তৃণলের নেতা, মন্ত্রী বা সাংসদ গ্রেফতার হয়েও জামিন পেয়ে গিয়েছেন। আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যতই আক্রমণ শানান বা তাঁর দলের বিরুদ্ধে “প্রতিহিংসার রাজনীতির” অভিযোগ তুলুন না কেন, বারে বারে দিল্লিতে বিজেপির তাবড় তাবড় নেটা বা কেন্দ্রের মন্ত্রীদের সাথে তিনি কি নিয়ে বৈঠক করছেন, তাও এখন জলের মতো বোঝা যায়। সে কারণেই মুকুল রায়ের মত চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত তৃণমূলের নেতাও আবার সসম্মানে দলের স্বমহিমায়। বিগত বিধানসাভা নির্বাচনে বাংলায় বামেদের জোটসঙ্গী হয়েছিল কংগ্রেস, যাদের সঙ্গে বিজেপি দিল্লির মসনদ দখলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থেই হাজার হাজার প্রতারিত মানুষের হাহাকারকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রের শাসকদল সারদা তদন্তের অগ্রগতিকে রুদ্ধ করে রেখেছে, অথচ ২০১৪ এর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতিই ছিল সারদা মামলাতে জড়িত সমস্ত লোকেদের বিচার হবে আর প্রতারিত মানুষেরাও তাদের গচ্ছিত টাকা ফেরত পাবেন।
সেই প্রশ্নটাই ঘুরে ফিরে আসছে এখন। তাপস পালের ক্ষেত্রে কী হবে ? তিনিও কি আগের সতীর্থদের মতো কিছুদিন “হাওয়া বদল” করে আবার সসম্মানে জামিন পেয়ে যাবেন ? নাকি সত্যিই রোজ ভ্যালি কাণ্ডে প্রতারিত মানুষেরা সুবিচার পাবেন? আর কৃতকর্মের জন্য তাপস পাল ও আইনে যথাযথ দণ্ডপ্রাপ্ত হবেন? এখন কেন্দ্র হয়ত তৃণমূলকে একটু জব্দ করতে চাইছে। আবার সময়মতো সব সেটিং হয়ে যাবে না তো ?‌ সময়ই তার উত্তর দেবে ।

amazon-supervaluepack

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − three =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk