Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

এমন অনুষ্ঠান তো পাড়ার জলসাতেও হয়

By   /  August 22, 2015  /  No Comments

রাহুল বিশ্বাস
রাষ্ট্রপতি তো এলেন না। শুনছি রাজ্যপালও আসবেন না। অথচ, এমন হাঁকডাক শুরু হয়েছিল, যে আমরা ভেবেছিলাম রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ অধিবেশন বসবে মোহনবাগানের ১২৫ বছর পূর্তিতে।
ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে কিঞ্চিত হতাশাও দেখা দিয়েছিল। পাশের ক্লাবে এমন রাজসূয় যজ্ঞ দেখলে একটু ঈর্ষা তো হবেই। বাপ রে বাপ, কত নাম শোনা গিয়েছিল। অমিতাভ বচ্চন, লতা মঙ্গেশকার, আশা ভোঁসলে, শচীন তেন্ডুলকার, লিয়েন্ডার পেজ, সৌরভ গাঙ্গুলি। আমরা তো ভাবছিলাম এরপর মেসি আর রোনাল্ডোকে নেমন্তন্য না করে বসে।

pranab babu
শেষে দেখলাম, সকল মুকুল গেল ঝরে। রইল শুধু সৌরভ, চুনী, গুরবক্স। তাঁরা অবশ্যই উজ্জ্বল তারকা। কিন্তু শহরের বাসিন্দারা শহরের অনুষ্ঠানে যাবেন, এতে আশ্চর্ডের কী আছে ? তার উপর তাঁদের পুরস্কার দেওয়া হবে। তাঁরা তো যাবেনই। অবশ্য শহরে না থাকলে তাঁরাও যেতেন কিনা সন্দেহ। এই তো লিয়েন্ডারকেও পুরস্কার দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে আছেন । তিনি ভালই বোঝেন, ওই সব অনুষ্ঠানে যাওয়ার থেকে কেরিয়ার নিয়ে মাথা ঘামানো ভাল।
অবশ্য সব তারকা ‘না’ বলার পরেও যা দাঁড়িয়েছিল, সেটাও কম চমকপ্রদ নয়। যদিও রাষ্ট্রপতির আসলে একটা ব্যাঙ্কের অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল। সেই অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি একবার ক্লাবের অনুষ্ঠানে ঘুরে যেতেন। নইলে তিনিও আসতেন কিনা সন্দেহ। তবুও মনের ঈর্ষা কমছিল না। যতই হোক, পাশের ক্লাবে রাষ্ট্রপতি আসবেন, দেশের প্রধআন নাগরিক। কিন্তু স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার পরেই তিনি এই অনুষ্ঠান বাতিল করেন।
ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। দিল্লি থেকে খবর পাওয়া গেছে, মৃত্যু শোক কাটিয়ে সেইদিনই রাষ্ট্রপতি কাজে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু কলকাতায় আসছেন না। সেদিন আমাদের পাড়ার ক্লাবে ইস্টবেঙ্গলরে এক অন্ধ সমর্থক বলছিল, প্রয়াত শুভ্রাদেবী বাঙাল ছিলেন। তাই তাঁর কথা ভেবেই প্রণববাবু মোহনবাগানে আসছেন না। এমন মন্তব্যের জন্য সবাই সেই সমর্থককে নিন্দা করল। কিন্তু পাড়ার মোহনবাগান সমর্থকরাও দেখলাম, এই নিয়ে বীতশ্রদ্ধ। তারা বলছে, রাষ্ট্রপতি আসলে মোহনবাগানপ্রেমী। কিন্তু ক্লাবকর্তাদের কাজকর্মে অসন্তুষ্ট হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আগ্রহ থাকলে তিনি ঠিকই আসতেন।

mohun bagan5
ওই মোহনবাগানী সমর্থক বললেন, এটা ক্লাবের অনুষ্ঠান না সোনু নিগম নাইট ? গোটা অনুষ্ঠানে খেলার নামগন্ধ নেই। মোহনবাগান বড়াই করে বলে, পেলেকে এনেছিল। এবারে বাইচুং বিজয়নকেও আনতে পারছে না। গান গাইবে অন্বেষা। যে কটা সিনেমায় গান গেয়েছে, আঙুল গুনে বলা যায়। শ্রেয়া ঘোষাল হলে তবু একটা কথা ছিল। এমন অনুষ্ঠান তো পাড়ার মনসা পুজোতেও হয়। ওখানে গেলে রাষ্ট্রপতির মান থাকত ?
ক্রীড়াপ্রেমী মোহনবাগানীদের ক্ষোভ, দুঃখ, ইস্টবেঙ্গলিদের চাপা আনন্দ- এসবে অবশ্য মোহনবাগান কর্তাদের কিছু যায় আসে না। এর থেকে ২৯ জুলাই নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠান করলে তার জৌলুস অনেক বেশি হত। রাষ্ট্রপতি না হয় নাই আসতেন। চেষ্টা করে কোনও বড় ফুটবল দলকে এনে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা যেত। ২২ তারিখে যা অনুষ্ঠান হচ্ছে, তার থেকে ২৩ তারিখ ইস্টবেঙ্গল-মহমেডান ম্যাচ বেশি জমকালো হবে।
আসলে, ইস্টবেঙ্গল কর্তারা যেমন নীরবে কাজ করেন, মোহনবাগান কর্তারা তা নয়। টিভিতে মুখ দেখাতে আর বাইট দিতে তাঁরা বেশি ভালবাসেন। খেলোয়াড়দের থেকে বেশি ভালবাসেন প্রশাসনিক কর্তাদের। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য ছিল, রাষ্ট্রপতির পাশে মুখ দেখানো। তাই বোধ হয় ভগবানও চাননি, রাষ্ট্রপতি ওই অনুষ্ঠানে আসুন।
সব শুনে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকটি বলল, শুধু ভগবান নন, রাষ্ট্রপতি নিজেও তোদের অনুষ্ঠানে যেতে চাননি। নেহাত কলকাতায় অনুষ্ঠান ছিল, আর তোরা ঝোলাঝুরি করছিলি, তাই রাজি হয়েছিলেন পায়ের ধুলো দিতে ।আগ্রহী থাকলে তিনি ঠিকই আসতেন। পরের বছর তোরা বরং পাড়ার কাউন্সিলরকে ডেকে নুচি আর বোঁদে খাস।

(এটা বেঙ্গল টাইমস কর্তৃপক্ষের মতামত নয়। মতামতের দায় লেখকের।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 6 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk