Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

এমন সার্বজনীন উৎসব যদি দাদরিতেও হত!

By   /  October 15, 2015  /  No Comments

অয়ন দাস

উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে মহম্মদ আখলাখ নামে বছর পঞ্চাশের এক মুসলিম ব্যক্তি গো-মাংস ভক্ষণ করার সন্দেহে একদল উত্তেজিত,উন্মত্ত ও প্ররোচিত জনতা তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। জন্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় এক মুসলিম বিধায়ক গো-মাংস খাবার ‘অপরাধে’ বিজেপি বিধায়কেরা তাঁকে মারধর করেন।ক্ষুদ্র ধর্মীয় সংকীর্ণতায় দেশের একাংশ যখন নিমজ্জিত তখন সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দূর্গাপুজো যেন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক ‘মুক্ত বায়ু’-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে হয়ে ওঠে ‘বাঙালি’র উৎসব।

হিন্দু দেবতা রাম, রাবণ বধের আগে দেবী দূর্গার ‘অকাল বোধন’ পুজো শুরু করেন।কিন্তু আজ তা কেবলমাত্র হিন্দুদের পুজো নয়,দেবীর ‘অকাল বোধন’ ধর্মের বেড়াজাল অতিক্রম করে আজ ‘বাঙালী’র শ্রেষ্ঠ উৎসব।
durga3
পঞ্চাদশ শতকে বাংলায় বড়ো করে দূর্গাপুজোর সূচনা হয়। তারপর ১৬০৬খ্রিঃ মালদা ও দিনাজপুরের জমিদাররা(মতান্তরে তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ বা নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদার) সর্বপ্রথম শারদীয় দূর্গাপুজোর প্রচলন করেন। ১৭৯০খ্রিঃ হুগলীর গুপ্তিপাড়ায় ১২ জন বন্ধু মিলে ‘বারোয়ারী’ পুজোর সূচনার মাধ্যমে দূর্গাপুজোর ক্ষেত্র প্রসারিত হয় ও ধীরে ধীরে সমাজের বিভিন্ন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১০খ্রিঃ বাগবাজারে ‘সার্ব্বজনীন’ পুজো শুরুর ফলে দূর্গাপুজো ‘সর্বসাধারণ’-এর পুজো হয়ে ওঠে এবং ক্রমশ হিন্দুদের গণ্ডি ছাড়িয়ে দূর্গোৎসব ‘বাঙালী’র শ্রেষ্ঠ উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে।আজ দেবী দূর্গার ‘বোধন’ যতটা হিন্দুদের, ঠিক ততোটাই মুসলিম,বৌদ্ধ,খ্রিস্টানদের।

durga2

পুরাণমতে হিন্দুদের উৎসব হলেও মুসলিম,বৌদ্ধ,খ্রিস্টানরা যেমন দূর্গাপুজো থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে না, তেমনই হিন্দুরাও তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে কসুর করে না।মূলত ‘সার্ব্বজনীন’ পুজোর দৌলতেই আজ দূর্গাপুজো ধর্মের গণ্ডিকে অতিক্রম করতে পেরেছে।দূর্গাপুজোয় কেনাকাটা,খাওয়া-দাওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেবলমাত্র হিন্দু নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দূর্গাপুজোর, পুজোর ৪টে দিন বৃদ্ধি পায় তাদের রোজগার।বর্তমানে ‘থিম’ ভিত্তিক পুজোর ব্যাপক জনপ্রিয়তার ফলে সামান্যতম সংকোচ টুকুও লোপ পেয়েছে।‘থিম’ ভিত্তিক পুজোর কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে থিম মণ্ডপ শেষ করার জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ কাজ করে।হয়তো নেহাতই তা রোজগারের তাগিদে,কিন্তু ধর্মীয় সংকীর্ণতা মনে বাসা বাঁধলে সেই তাগিদটাও থাকতো না হয়তো।পুজোর মণ্ডপ দেখতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে,তখন তাঁদের একটাই পরিচয় ‘বাঙালী’।অষ্টমীর সকালে নির্বিশেষে ধুতি-পাঞ্জাবী যেন বলে ওঠে-‘মানুষের কোনো ধর্ম হয় না,উৎসবের কোনো ধর্ম হয় না,তাই তো তাদের উৎসব বলা হয়।’তাই হয়তো মহঃ আলি পার্কে দূর্গাপুজো হয়।
সমস্ত দেবতারা যখন অসুরকে রুখতে ব্যর্থ তখন দেবী দূর্গা অবতীর্ণ হন তেমনই ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে দূরে সরিয়ে রেখে দেবী দূর্গা ‘বাঙালী’কে উৎসবের আলোয় আলোকিত করে তোলেন।দেবীর দশ হাতে যেন স্থান পায় ধরাধামের সমস্ত ধর্ম।একসাথে ভূরিভোজ,বিজয়ায় মিষ্টিমুখ,কোলাকুলির মধ্য দিয়ে সবকিছুকে ছাপিয়ে দূর্গা পুজোই হয়ে ওঠে ‘বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব’-কারণ এই উৎসব হল ধর্মের মিলনক্ষেত্র।
দাদরির মহম্মদ আখলাখও যেখানে আছেন সেখান থেকে হয়তো ভাবছেন-“বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব যদি উত্তরপ্রদেশেও হতো…”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − seven =

You might also like...

yeti abhijan

ইয়েতির চেয়ে ঢের ভাল ছিল মিশর রহস্য

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk