Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

কটাক্ষ থাকুক, কিন্তু ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য কেন ?

By   /  July 13, 2016  /  No Comments

রক্তিম মিত্র

বিরোধী থাকার কিছু অদ্ভুত বাধ্যবাধকতা থাকে। কোনওকিছুতেই প্রশংসা করা চলবে না। শাসক যাই করুক, সমালোচনা বা কটাক্ষের তির ছুঁড়ে দিতেই হবে। প্রশংসা করলে পাছে কর্মীরা ভুল বোঝে! পাছে দলের মধ্যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়!
বিধাননগরের কাউন্সিলর অনিন্দ্য চ্যাটার্জির কথাই ধরা যাক। ‘তোলাবাজ’ হিসেবে দ্রুত ‘সুনাম’ অর্জন করেছিলেন। অনেক বাঘা বাঘা নেতাদেরও ছাপিয়ে যাচ্ছিলেন। এলাকায় নতুন কোনও নির্মাণ করতে গেলে বা কোনও কাজ করতে গেলেই হাজির হয়ে যেত তাঁর দলবল। গালাগাল থেকে হুমকি, কোনওকিছুই বাদ ছিল না। স্থানীয় অনেকেই জানতেন। কুকীর্তির তালিকাটা বেশ লম্বা। কিন্তু থামতে শেখেননি। তাই এমন মৌচাকে ঢিল ছুঁড়েছেন, সেই হুলে তাঁকেই বিদ্ধ হতে হল। অভিযোগ গেল ঢাকায়। একেবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। হাসিনা অভিযোগ করলেন মমতাকে। মুখ্যমন্ত্রী এতটাই ক্ষিপ্ত, সেইদিনই পদত্যাগের নির্দেশ দিলেন অনিন্দ্যকে। কিন্তু পদত্যাগে গড়িমসি করছিলেন সেই স্বনামধন্য কাউন্সিলর। ফলে, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল।

anindya3

বলা যেতেই পারে, মুখ্যমন্ত্রী বাধ্য হলেন ব্যবস্থা নিতে। বলা যেতেই পারে, তোলাবাজির কথা হাসিনা জানতে পারলেন, মমতা জানতেন না ? বলা যেতেই পারে, একটা সামান্য ওয়ার্ডের তোলাবাজি আটকাতে মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হল কেন ? বলা যেতেই পারে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পর্যন্ত পুলিশকে অপেক্ষা করতে হল কেন? আরও অনেক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া যায়।
কিন্তু সেসব প্রশ্ন না হয় একটু মুলতুবি রইল। ভাল কাজটাকে ভাল বলতে দ্বিধা কোথায় ? পটভূমি যাই হোক, গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করেছেন, এটুকু বলা যায় না ? অনিন্দ্যর দাদাগিরি নতুন কিছু নয়। কিন্তু জল এই পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী কী করতে পারতেন ? ধামাচাপা দিলেও সমালোচনা। আবার ব্যবস্থা নিলেও সমালোচনা ?
হ্যাঁ, দেরিতে হলেও খ্যমন্ত্রী সঠিক কাজই করেছেন। শুধু অনিন্দ্যকে নয়, তাঁর মতো আরও অনেককে কঠিন বার্তা দিতে চেয়েছেন। জনসভা থেকে, কর্মীসভা থেকে বারবার বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ কাজ হয়নি। তাই এই কড়া বার্তাটা জরুরি ছিল। হয়ত পনেরো দিন পর অনিন্দ্য জামিন পেয়ে যাবেন। হয়ত সরকারি আইনজীবী নরম ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু যেটুকু হয়েছে, সেটাও কিন্তু কম নয়। তৎক্ষনাৎ পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হলে জেতা খুব সহজ হবে না, না জিতলে অন্য বার্তা যাবে, বিলক্ষণ বোঝেন। তা সত্ত্বেও এই ঝুঁকিটা নেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন। নিজের কাউন্সিলরকে জেলে পোরার সাহস দেখিয়েছেন। এরকম করলে ফল ভাল হবে না, বিভিন্ন জেলায় অন্তত এই বার্তাটুকু দিতে পেরেছেন। এটাকে সাধুবাদ জানাতে এত কুণ্ঠা কেন ?
অথচ, কোনও বাম নেতা এটুকু কৃতিত্ব দেবেন না। কোনও কং নেতা সাধুবাদ জানাবেন না। শুধু নিন্দে আর কটাক্ষ করলে একসময় সেই সমালোচনার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। একটা ভাল কাজে প্রশংসা করলেও সমালোচনার অধিকার হারিয়ে যায় না। এই সহজ সত্যিটা যতদিন না বুঝবেন, যতদিন না স্বীকার করতে পারবেন, ততদিন যতই মিছিল করুন, মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে আসবে না।
খারাপটাকে একশোবার খারাপ বলুন। সেই সুযোগ অনেক পাবেন। কিন্তু ভাল-টা কে ভাল বলার উদারতাটুকুও থাকুক। সেটাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − 12 =

You might also like...

land phone

এভাবে মজা করা ঠিক হয়নি

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk