Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

কমরেড, ফুরফুরায় যাওয়া কি খুব জরুরি ছিল ?

By   /  March 9, 2015  /  No Comments

স্বরূপ গোস্বামী
কয়েকদিন আগে বিধানসভায় চমৎকার একটি ভাষণ দিলেন বামফ্রন্টের তরুণ বিধায়ক আলি ইমরান (ভিক্টর)। সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিয়ে বলতে গিয়ে টেনে আনলেন কার্তিক আর গণেশের কথা। দুই ভাইয়ের মধ্যে কে বড়, তাই নিয়ে বিতর্ক। ঠিক হল, যিনি আগে পৃথিবী ঘুরে আসবেন, তিনিই বড়। কার্তিক বেরিয়ে পড়লেন পৃথিবী ঘুরতে। আর গণেশ বাবা-মাকে প্রদক্ষিণ করে কোলে বসে পড়লেন।

এই উপমা টানার পর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, আপনারা হলেন সেই গণেশের মতো। সংখ্যালঘু এলাকায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মাদ্রাসা, রাস্তা, পানীয় জল- এসব না করে ছুটে যাচ্ছেন ফুরফুরা শরিফে ত্বহা সিদ্দিকির কাছে। যেদিন অমিত মিত্র বাজেট পেশ করছেন, সেদিন সন্ধেবেলাতেই ফিরহাদ হাকিমকে ছুটতে হল ফুরফুরা শরিফে। কাগজে একই পাতায় দুটো ছবি। যদি আপনারা সত্যিই সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ করতেন, তাহলে এভাবে আপনাদের ত্বহা সিদ্দিকির কাছে ছুটে যেতে হত না।

তরুণ বিধায়ক। চমৎকার কথা বলেন। আবেগের সঙ্গে মিশে থাকে যুক্তি। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আসল সত্যিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। সেদিন তিনি বোধ হয় ভাবতেও পারেননি, এই ভাষণ দেওয়ার পাঁচদিনের মধ্যেই বামনেতারাও হাজির হয়ে যাবেন ফুরফুরা শরিফে, সেই ত্বহা সিদ্দিকির কাছে। কাগজে বেরোলো সেই ছবিটা। ত্বহা সিদ্দিকির সঙ্গে সূর্যকান্ত মিশ্র, সুজন চক্রবর্তী, সুদর্শন রায়চৌধুরি। সহজ কথা সহজে বলাই ভাল। ছবিটা দেখে একেবারেই ভাল লাগেনি।

furfura cpm

তৃণমূল যে পথে হাঁটছে, বাম নেতারাও সেই সস্তা পথটাই বেছে নিলেন ? কমরেড, আরও একবার ভাবুন। বলুন তো, ফুরফুরায় যাওয়া কি খুব জরুরি ছিল ? মাঝরাতে মুকুল রায় গেছেন, সন্ধে বেলায় ববি হাকি গেছেন বলে কি আপনাদেরও যেতে হবে ? সত্যিই যদি সম্প্রীতি অনুষ্ঠানে যেতেন, তাহলে তেমন আপত্তি থাকত না। কিন্তু এর পেছনে যতটা উৎসবে সামিল হওয়া, তার থেকেও বেশি বোধ হয় বিজেপি ভীতি। এই বিজেপি ভীতিটাই কি এই রাজ্যে বিজেপি-কে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছে না ?

মানুষ বিজেপি শিবিরে ভিড় করছে কেন, একবারও ভেবে দেখেছেন ? একটা বিরাট অংশের মানুষ বিশ্বাস করে, আপনারা সংখ্যালঘু তোষণ করতেন। পরে তাঁরা দেখলেন, তৃণমূল এই খেলায় আপনাদের থেকে অনেক বেশি পারদর্শী। তাই বাম শিবিরের লোক যেমন গেছেন, তেমনি তৃণমূল শিবিরের অনেক লোকও গেছেন বিজেপিতে। কেউ কেউ যাচ্ছেন রাজনৈতিক কারণে। তাঁদের মনে হয়েছে, তৃণমূলকে যদি কেউ আটকাতে পারে, তাহলে বিজেপি পারবে।
সহজ কথা, আপনারাই নিজেদের অজান্তে অক্সিজেন দিচ্ছেন বিজেপিকে। আপনারা ভেবে নিয়েছেন, মুসলিম ভোট তৃণমূলের দিকে চলে যাচ্ছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি মুসলিমদের আস্থা ফিরে পেতেই হয়, সেই এলাকায় অনেক কিছু করার ছিল। সরকারে না থেকেও পাশে থাকা যায়। কিন্তু আপনারাও বেছে নিচ্ছেন সেই ফাঁকিবাজির সহজ রাস্তাটা । কমরেড সূর্যকান্ত মিশ্র, আপনারা বিশ্বাস করেন, ত্বহা সিদ্দিকি যা বলবেন, মুসলিম সমাজ তাই শুনবেন ? এই যদি বিশ্বাস হয়, তাহলে তো মুসলিম সমাজকে আপনারাই অপমান করছেন। যে ত্বহা সিদ্দিকি সকালে তৃণমূলের বিপক্ষে বললে বিকেলেই সুর বদল করে আবার পক্ষে হয়ে যান, তাঁর কাছে নতজানু হওয়া কি খুব জরুরি ছিল ?

furfura3

আপনাদের দলীয় আদর্শের দিক থেকে এটা যেমন বেমানান, তেমনি ভোটের অঙ্কেও এটা আখেরে অনেক বেশি ক্ষতি করবে। মৌলবি বা পীর তোয়াজের রাজনীতি তৃণমূল করছে, করুক। আপনাদের সেই পথ বেছে নিতে হবে কেন ? এই তোয়াজ করতে গিয়ে সংখ্যালঘু ভোট কতগুলো ফিরে আসবে, জানা নেই। কিন্তু তার দশগুন ভোটকে ঠেলে দিলেন বিজেপি-র বাক্সে। যত বেশি ‘সাম্প্রদায়িক সাম্প্রদায়িক’ বলে চিৎকার করবেন, বিজেপি-র ভোট তত বাড়বে। এই সহজ সত্যিটা বুঝতে কেন যে ভুল করছেন!

একমাস আগে হয়ে যাওয়া দিল্লি ভোটের কথা স্মরণ করুন। ভোটের ঠিক তিনদিন আগে বিজেপি-কে হারানোর ডাক দিলেন জামা মসজিদের ইমাম। তিনি মুসলিম সমাজকে ফতোয়া দিলেন, বিজেপি-কে হারাতে আম আদমি পার্টিকে ভোট দেওয়ার জন্য। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। অরবিন্দ কেজরিওয়াল নীরব থাকতেই পারতেন। কিন্তু দু’ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে ইমামকে জানিয়ে দিলেন, ‘আপনার সমর্থন আমার প্রয়োজন নেই। ওটা আপনার কাছেই রাখুন। কোনও সম্প্রদায়কে এভাবে ফতোয়া দেওয়ার আমরা বিরোধী। আমাদের উপর যাদের আস্থা আছে, তারা এমনিতেই আমাদের ভোট দেবেন। তার জন্য ইমামের ফতোয়ার কোনও দরকার নেই। আর যাদের আমাদের প্রতি আস্থা নেই, তারা দয়া করে আমাদের ভোট দেবেন না।’

furfura5

ভারতীয় রাজনীতিতে আপের সবথেকে বড় সাফল্য বোধ হয় এটা। সংখ্যালঘু ভোটের জন্য সবাই যখন হামলে পড়ে (এমনকি বিজেপি-ও ব্যতিক্রম নয়), সবাই যখন ইমাম-পীর তোয়াজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন সাহসী একটা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আমার তো মনে হয়, মুসলিম জনতাকে সবথেকে বেশি সেদিন সম্মানিত করেছিলেন কেজরিওয়াল। মুসলিম জনতার চেতনার প্রতি এতখানি আস্থা এর আগে কেউ দেখিয়েছিলেন ?

দিল্লিতে বিজেপি হারল বলে আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কিছু নেই। বরং, ভোটের মুখে দাঁড়িয়েও কেজরিওয়াল কী সৎ সাহস দেখিয়েছিলেন, সেটা ভাবুন। আত্মসমীক্ষা করুন। বিজেপিকে আক্রমণ করলে বা নজরুলের কবিতা বলে বা পীর সাহেবের দরগায় চাদর চড়িয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা জাহির করা যায়। কিন্তু তা সবসময় বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। বরং, অন্য তকমা এঁটে যায়। আর তাই ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়, এই সহজ সত্যিটা আপনারা বুঝতেও পারেন না। মিডিয়াকে দোষারোপ করাটা খুব সহজ। তাতে হয়ত মিথ্যে সান্ত্বনা পাওয়া যায়। কিন্তু আসল সত্যিটা আড়ালেই থেকে যায়।

সত্যি করে বলুন তো, এই ত্বহা সিদ্দিকির কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে ? সকাল বিকেল একেক সময় একেক রকম কথা বলেন। রাজনৈতিক দলের সমাবেশেও চলে আসেন। বাকিরা তাঁকে ব্যবহার করেন, তিনিও ব্যবহৃত হতে চান ? মুসলিমদের সমাজ সংস্কারে তাঁর যত না ভূমিকা, তার থেকে অনেক বেশি সদর্থক ভূমিকা আল আমিন মিশনের, অনেক বেশি ভূমিকা আই পি এস নজরুল ইসলামের। নজরুলের মতো সৎ ও দক্ষ অফিসারকে যখন চূড়ান্ত অপদস্থ করা হয়, কই, তখন তো সোচ্চার হতে দেখি না। কে বেশি গ্রহণযোগ্য, ত্বহা সিদ্দিকিরা নাকি নজরুলের মতো মানুষেরা ? মুসলিম সমাজের আসল মুখ কে ? মমতার কাছে এই মুখ হতে পারেন ত্বহা সিদ্দিকি। দুঃখ হয়, যখন দেখি আপনারা তাতে সিলমোহর দিচ্ছেন।

আজ থেকে রাজ্য সম্মেলন শুরু। পাঁচদিন ধরে আমেরিকা, সাম্রাজ্যবাদ, ওবামার যতখুশি মুণ্ডপাত করুন। এসব আলোচনা করে সময় বাঁচলে, একটু আত্মসমীক্ষা করুন। কেন বিচ্ছিন হয়ে পড়ছেন, কেন বিজেপি-র পালে হাওয়া লাগছে, একটু ভেবে দেখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 20 =

You might also like...

priyaranjan4

যাক, হাইজ্যাক অন্তত হল না

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk