Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  জাতীয়  >  Current Article

কুণালরা ছাড়া পাক, ধরা হোক সিবিআই কর্তাদের

By   /  October 4, 2016  /  No Comments

রক্তিম মিত্র

সিবিআই নাম শুনলে কেমন একটা ভক্তি আসত। মনে হত, তারা বোধ হয় সব খুঁজে বের করতে পারে।
তাই কোথাও কিছু একটা ঘটলেই দাবি উঠত সিবিআই তদন্ত হোক। লোকে ভাবত, পুলিশ হয়ত বের করতে পারছে না। পুলিশের উপর হয়ত চাপ আছে। কিন্তু সিবিআই ঠিক খুঁজে বের করবে।
গত কয়েক মাসে এই রাজ্যে আর সিবিআইয়ের দাবি উঠেছে বলে মনে পড়ছে না। কারণ, যাঁরা একটু খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা বুঝে গেছেন, সিবিআই তদন্ত আসলে একটা প্রহসন। একটু ঠিকঠাক কলকাঠি নাড়তে পারলেই তাদের থামিয়ে দেওয়া যায়। বিস্তর সময় নিয়ে তারা অশ্বডিম্বই প্রসব করে।
জামিন পেয়ে গেছেন মদন মিত্র। পুজোর আগেই জামিন পেয়ে যাবেন কুণাল ঘোষ। রোজভ্যালির গৌতম কুণ্ডু বা সারদার দেবযানীও যে কোনওদিন জামিন পেলেন বলে।
আদালতে তোতাপাখির মতো সিবিআইয়ের একটাই যুক্তি, ‘আসামী একজন প্রভাবশালী।’ এই একঘেয়ে ভাঙা রেকর্ড শুনে শুনে বিচারপতিদেরও কান পচে গেছে। তাঁরাও বোধ হয় বিরক্ত হয়ে গেছেন।

cbi

কোনও সন্দেহ নেই, সারদা তদন্ত প্রথমে বেশ ভালভাবেই শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারি সংস্থা। আজ একে, কাল তাকে ডেকে পাঠাচ্ছিল। নানা অজানা তথ্য উঠে আসছিল। কার কী ভূমিকা, তা অনেকটাই পরিষ্কার। হয়ত তদন্তে আরও বড় মাথাদের সন্ধান পাওয়া যেত।
কিন্তু তারপরই কী যে হল! রহস্যজনক কারণে প্রায় সবকিছুই থমকে গেল। পাড়ার পাঁচুও জেনে গেল কী কী হয়েছিল। সাদা চোখেই অনেকটা পরিষ্কার। কিন্তু সিবিআই বাবুরা কোন সুতোর টানে থেমে গেলেন, কে জানে!
হ্যাঁ, তদন্তের দফারফাই করেছেন সিবিআই কর্তারা। উচ্চস্তরের রাজনৈতিক নির্দেশ ছাড়া এটা কখনই সম্ভব নয়। শুরুতে প্রভাব তৈরি করার জন্য এক প্রভাবশালী আমলাকে সরিয়ে দেওয়া হল। মনে হয়েছিল, সিবিআই হয়ত ঠিকঠাক পথেই এগোবে। কিন্তু কোথায় বা কী ? আর অপরাধী খুঁজতে নয়, সিবিআই যেন আড়াল করতেই ব্যস্ত। বিধাননগর কমিশনারেটের সঙ্গে তাঁদের তফাত কোথায় ?
মদন মিত্র নাকি প্রভাবশালী। কিন্তু তদন্ত থেমে গেল কাদের নির্দেশে ? তার মানে, মদন মিত্রর থেকেও বড় প্রভাবশালী আছেন, যাঁর নির্দেশে তদন্ত থমকে যায়। মদন মিত্র কাকে প্রভাবিত করতেন ? কয়েকজন সাক্ষীকে ? দরকার কী ? সিবিআইয়ের আধিকারিকদেরই তো সহজে প্রভাবিত করা যায়।
কুণাল ঘোষ দিনের পর দিন দাবি করলেন, তিনি তদন্তকারিদের হাতে অনেক তথ্য তুলে দিতে চান। তাঁকে জেরা করা হোক। কিন্তু সিবিআই তিন বছরে জেরা করার সময়ও পেল না! একজন তদন্তে সাহায্য করতে চাইছেন, সব অজানা তথ্য জানাতে চাইছেন। সিবিআই জানার আগ্রহই দেখাল না ? পাছে কুণালের বয়ান রেকর্ড থাকে ! পাছে অভিযোগ ওঠে, জানার পরেও সিবিআই কেন ব্যবস্থা নেয়নি ?
মদন মিত্র বা কুণাল ঘোষ বা সুদীপ্ত সেনদের কাছে আমাদের বিরাট কিছু প্রত্যাশা নেই। কিন্তু সিবিআইয়ের উপর তো বিশ্বাস রাখা যেত। কিন্তু সেই বিশ্বাসকে ভেঙে দিলেন সিবিআই কর্তারা। এখন মনে হচ্ছে, মদন মিত্র বা কুণাল ঘোষদের চেয়ে এই তদন্তকারি অফিসারদের অপরাধ কোনও অংশে কম নয়। কারণ, তাঁরাও দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
তাই এবার কুণাল ঘোষ বা সুদীপ্ত সেনদের বরং ছেড়ে দেওয়া হোক। তার বদলে সেই সিবিআই কর্তাদের ফাটকে পোরা হোক যাঁরা দেশবাসীর বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + eight =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk