Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  উত্তর বঙ্গ  >  Current Article

গড্ডালিকা প্রবাহের বাইরে বেরোতে পারল না ফ ব

By   /  October 20, 2016  /  No Comments

শান্তনু দেবনাথ
কোচবিহার উপনির্বাচনে কী হতে চলেছে ? বিরাট কোনও রাজনৈতিক বিশারদ হওয়ার দরকার নেই। এখনই লিখে দেওয়া যায়, তৃণমূল জিততে চলেছে। গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের যে জয়জয়কার, কোচবিহারও সেই মানচিত্রে ব্যতিক্রমী থাকবে না। এবং, জেতার জন্য সন্ত্রাসের তেমন আশ্রয় নিতে হবে না। প্রশাসনকে কাজে না লাগিয়েও জিতে যাবে শাসকদল। এটাই এই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা।
এই সহজ সত্যিটা তৃণমূল জানে। বামেরাও জানেন। তবু ঝুঁকি নিতে এত অনীহা কীসের ? যেদিন থেকে রেনুকা সিংহ মারা গেছেন, সেদিন থেকেই আলোচনার বৃত্তে এসে গিয়েছিল, কে হতে পারেন বাম প্রার্থী ? এই আসনে প্রার্থী দেয় ফরওয়ার্ড ব্লক। এই জেলায় ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি ছিল। অনেকে বলতেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের দুর্গ। সেই দুর্গও নেই। সেই সৈনিকও নেই। সব ব্লকেই ভাঙন ধরেছে। সিপিএমও আগের জায়গায় নেই। জেলায় নটি আসনের মধ্যে মাত্র একটি আসনে জিতেছে বাম। সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে, ফলাফল কেমন একপেশে হতে চলেছে।
তারপরেও ঘুরে ফিরে সেই কয়েকটি মুখই এসে যাচ্ছে। নতুন মুখ তুলে আনার সেই চেষ্টাটাই চোখে পড়ছে না। এবারও দলের এক নম্বর নাম ছিল পরেশ অধিকারী। বাস্তববাদী নেতা। বোঝেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে জেতার সম্ভাবনা নেই। তাই নিজে তেমন আগ্রহ দেখাননি।

forward block
যাঁরা জেলার বাম রাজনীতির খবর রাখেন, তাঁরা জানতেন, তিনজনের মধ্যেই ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ থাকবে। পরেশ অধিকারী, নৃপেন রায়, দীপক রায়। পরেশবাবু প্রাক্তন মন্ত্রী, নৃপেনবাবু প্রাক্তন বিধায়ক ও সাংসদ, দীপক রায় আগেরবার পরাজিত। দলের কাছে নাকি একটাই মানদন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কে টাকা খরচ করতে পারবেন। ফব নেতারা অস্বাকীর করতেই পারেন, কিন্তু ইদানীং শরিক দলে এটাই বড় একটা মানদন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টাকা খরচই যদি মানদন্ড হয়, তাহলে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও ভাবেই টেক্কা দেওয়া যায় না। একশো মাইলের মধ্যেও আসা যায় না। এই সহজ সত্যিটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরেও শিক্ষা হয়নি। সেখানেও টাকা খরচ করতে পারবেন, এই যুক্তিতে এক ঠিকাদারকে দলের টিকিট দেওয়া হয়েছিল। গো হারান হেরেছিলেন। গ্রহণযোগ্যতা নয়, আনুগত্য নয়, রাজনৈতিক চেতনা নয়, টাকা খরচ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মাপকাঠি। ধরা যাক, যদি সেই ঠিকাদার জিতেও যেতেন । কী হত ? কয়েক মাস যেতে না যেতেই ‘উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে’ সামিল হয়ে যেতেন। যেমনটা সামিল হয়েছেন উদয়ন গুহ।
এটাই সুযোগ ছিল নতুন মুখকে তুলে ধরার। ঝকঝকে এক তরুণের কথা উঠেও এসেছিল। যাদবপুর থেকে সদ্য এম সি এ করা সেই তরুণও হয়ত হারতেন। হয়ত লক্ষাধিক ব্যবধানেই হারতেন। কিন্তু মানুষের কাছে একটা ইতিবাচক বার্তা দেওয়া যেত। অন্তত যাঁরা কমিটেড ভোটার নন, তাঁদের কিছু অংশ আকৃষ্ট হলেও হতে পারত। কে বলতে পারে, তৃণমূলের একটা অংশের ভোট এদিকে পড়ত না ?
তৃণমূল প্রার্থীর দিকে তাকিয়ে দেখুন। তুলনায় অনেক নবীন। জেলার অনেক জায়গাতেই তৃণমূল নতুন মুখ তুলে আনার সাহস দেখাচ্ছে। অথচ, বামেরা সেই বাতিল ঘোড়াগুলোকেই ছুটিয়ে যাচ্ছে। সবিনয়ে জানতে ইচ্ছে করে, নৃপেন রায়কে আগেরবার প্রার্থী করা হল না কেন ? একজন সিটিং এম পি-কে বসিয়ে দেওয়া হল। আজ যদি নৃপেনবাবুকে যোগ্য মনে হয়, তাহলে সেদিন বাতিল করা হয়েছিল কেন ?
নৃপেনবাবু হয়ত যোগ্য প্রার্থী। প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে হয়ত অনেকেই চেনেন। সেই চেনা-র তো কিছু নেতিবাচক দিকও থাকে। নতুন মুখ আনলে হয়ত সেই নেতিবাচক প্রচারগুলোকে এড়ানো যেত। ভবিষ্যতের জন্য নতুন মুখ তুলে ধরাও হত। আবার সাধারণ মানুষের কাছে বার্তাও দেওয়া যেত।
হার হত। সেই হারের মধ্যে অন্তত গৌরব থাকত।
কিন্তু নেতাজির দল সেই গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি। পারবেও না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × four =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk