Loading...
You are here:  Home  >  সাহিত্য  >  রম্য রচনা  >  Current Article

গামছার রিভাইভাল প্যাকেজ

By   /  July 14, 2017  /  No Comments

অম্লান রায়চোধুরী

গামছা মানে গা- মোছা, সত্যিই এর মতন গা মোছার আনন্দ আর কিছুতে আছে কি। সেই গামছারা চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। বেশ কিছু দিন ধরে– অনবরত। বস্তির ছেলেটার পয়সা হল প্রোমোটারিতে। পাড়ার ঘোষবাবুর এমন জায়গায় পোস্টিং হল, দু হাতে পয়সা, বোঝা গেল যেদিন মেয়েকে অ্যাপল সেভেন এস মোবাইল কিনে দিল। সেদিনই গামছারা পাড়া ছাড়া হল। সমীকরণটা বেশ ভাল। সামাজিক উন্নতি, পয়সায়। ট্র্যাডিশনের উপর ধাক্কা তো আসবেই। গামছা দিয়েই শুরু– আরও আছে লিস্টে।

এ পাড়াটা, ধীরে ধীরে সারা শহরটা, আর ওদের উপযুক্ত বা নিরাপদ মনে হল না। মফস্বলে বেচা কেনা হলেও, শহুরে কলকাতায় তেমন দেখা মেলে না ওদের আজকাল। নকুলদার চায়ের দোকানের সামনের কলটাতে এক সময় গামছার প্রদর্শনী হত। চা খেতে খেতে আমরা দেখতাম। নানান জাতের গামছা পরে, সেই গোপেশ গোয়ালা থেকে আরম্ভ করে ঘনশ্যাম মুচির লাইন পড়ে যেত। স্নান সারতে হবে খদ্দের আসার আগে। সকলেরই ফুটপাতের ব্যবসা। বেশি দেরি করলে ফুটপাথ দখল, কাজেই তাড়াতাড়ি লাইনে দাঁড়াতে হবে। সমস্যা হত প্রায়ই যখন পদী পিসি এসে পড়ত। বিখ্যাত একমাত্র প্রাগৈতিহাসিক বিধবা, কবে বিধবা হয়েছিলেন মনে নেই। সধবা–‌ বিধবার তফাতটা ওনাকে দেখলেই বোঝা যায় এখনও। সবাই তটস্থ হয়ে পড়ে, মাথায় সেই আধ-ভেজা গামছা দিয়ে, সারা গায়ে সাদা থানের উপর গামছা জড়িয়ে, কলের হাতল ধরতেন এসে। কাউকে ছুঁতে দেবেন না।
গামছার কি সব বাহার। কোনওটা বাঁদি পোতা কাটিং, কোনওটা সবুজ আর লালে আড়া আড়ি বাঁধা যেন, কোনওটার আবার আসল রঙটাই বোঝার উপায় নেই। তেল চিটে, কালো-ছোপ। মনে হয়, কেনার পর কাচা হয়নি ।

gamchha2
সাধারণত গামছার বুনটের উপর ঠিক করা হত গামছার ভিতরের পোশাকের প্রকৃতি । ভারি বুনট– হ্রস্ব দৈর্ঘ্যের বসন, হালকা বুনট, দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের বসন । অবশ্য ঠিক হত না সব সময়। বিপদের থেকে বাঁচতে চাইতো অনেকে । সেই গোলগাল জ্যাঠামশাই, কোনওদিনই গামছার তলায় তেমন কিছু পরলই না, ফলে নিজের অন্তর্বাসটা, একেবারেই পাবলিক হয়ে যেত মাঝেমাঝে । প্রাণ খুলে হাসা যেত। এখনও যায় বিষ্টু-দার লাফিং ক্লাবে বাঁধা সময়সীমাতে।
গামছার বড় ম্যাচ হত পুকুর পাড়ে । পুকুর পাড়ের বাড়িগুলো তখন ইডেনের ক্লাব হাউস। কোন বলের স্যুইং কতটা, সব চাইতে ভালো বোঝা যায় ক্লাব হাউস থেকে। তেমনই গামছার পুরো কাহিনীটা, সেইমছা পরে জলে নামা, গামছার ফুলে ওঠা, জলকে অগ্রাহ্য করে, দুহাতে মুখ বেঁকিয়ে সেটাকে চাপা দেওয়া। শেষ পাঁচ ওভারটা মারাত্মক। শুরু হয় ভেজা গামছা পরে পাড়ে উঠে আসাটা । ক্লাইম্যাক্স সেটাই । খেলা শেষ।
তামাম কেরানিদের যেমন পকেটে একটা writer Pen, বিহার থেকে আসা কুলি , মজুরদের কাঁধেও একটা গামছা থাকবেই। ওটাই পরিচিতি। তবে হ্যাঁ, ব্যবহার পাতাবাহারী গাছের মতন–কখনও ঘাম মোছার কাজে, কখনো ঠাণ্ডায় কান ঢাকা দেওয়ার কাজে। বৃষ্টিতে মাথা ঢাকার কাজে কিংবা রাতের বেলায় বালিশের পরিবর্তে– গোল পাকিয়ে। অনেকটাই আজকালকার শপিং মলের মতন– কিনতে গেলাম পাঞ্জাবি– সাথে করে এল কিছু সয়াবিনের তেল, কুকুরের একটা বেল্ট, একটা ছবির এস্প্রেসো, একটা হুইস্কির বোতল, এছাড়াও ফুডকোর্টে বসে বেশ কিছুক্ষুন আড্ডা ও খাওয়া।

gamchha3
সেই গামছাকুলই আজ আতঙ্কিত, সরকার ও চিন্তিত। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী কুলের মতন । এরা, আগামী প্রজন্মের কাছে– মিউজিয়ামে থাকবে নাকি কিছু পরিবর্তিত রূপে তাদের ধরে রাখা হবে সেই নিয়েই সেমিনার। সুশীল সমাজ অনেক কথা বলছে এর উপরে। নানান ভাবে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে। গামছার গুনাগুণ সম্বলিত পুস্তিকা বিকোচ্ছে। উপস্থিতির হারও খারাপ নয়– কি হয় দেখা যাক ।
সরকার বুঝে গেল যে সংরক্ষণ ভিন্ন এদেরকে বাঁচানোর কোনও রাস্তাই নেই । ডাকা হলো– গামছা প্রস্তুতকারী সমস্ত সংস্থাকে। কুমীর প্রকল্পে যেমন নানান জাতের কুমীরকে নিয়ে এসে তাদের বংশ বৃদ্ধি করানো হয়– তেমনই গামছার একটা অঞ্চল হবে যেখানে নানান প্রকারের গামছারা বেড়ে উঠবে । গামছারা মাথা তুলে বাঁচবে। জনগণকে রেশনের মারফত গামছা দেওয়া হবে, অবশ্য জানি ঘোষ বৌদিরা ওটা দিয়ে দেবে বাড়ির কাজের মেয়েটাকে–সে সপ্তাহের রেশনের চিনিটা এনে দেবে ফ্রিতে।
এরই মাঝে ঠাকুর মশাইদের বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তারাই তো এই গামছার লেনদেনটাকে এখনও অব্যাহত রাখছে। পুজো পিছু বেশ কয়েকটা গামছা বাঁধা । বারোয়ারি ছাড়াও এমনি পুজোর বাজারটাতে ঘাটতি নেই তেমন । তাছাড়া পাড়ার প্রতি মোড়ে– রিক্সা স্ট্যান্ড, অটো স্ট্যান্ড– এখন আবার টোটো স্ট্যান্ড– সপ্তাহে একটা করে শনি পুজো তো চলছে, চলবে । জানি, পুরুতের বাড়িতে এই নিয়ে অশান্তি চলছে। ছেলের বৌ তো বহুবার বলেই দিয়েছে– কেন বাবা আপনি গামছার বদলে তোয়ালে চাইছেন না ক্লায়েন্টের কাছ থেকে। পুরোহিত-কূলের এই আত্মত্যাগ সরকারকে মুগ্ধ করেছে। সরকার সমস্ত পুরোহিত কূলকে– মাসিক ভাতার বন্দোবস্ত করে দেবার কথা ভাবছে।
পাড়ার ভুতোদা অবশ্য এই ব্যাপারগুলোতে খুবই খুশি, গামছা দিয়ে গা ডলে ডলে স্নান করতে আজও তার ভাল লাগে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 5 =

You might also like...

amstrong3

চাঁদে কি সত্যিই মানুষ গিয়েছিলেন ?

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk