Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

ঘন্টুদা বনাম কার্তিক

By   /  May 28, 2015  /  No Comments

সবুজ সরখেল

সারা দুপুর গরমে সেদ্ধ হওয়ার পর সবে কেষ্ট দার চায়ের দোকানের সামনে রকে গিয়ে বসেছি। দেখলাম তোতোনদা  গুছিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে আই লিগ জিততে গেলে সঞ্জয় সেনকে, বোয়াকে ঠিক কী কী করতে হবে। টকাইদা দেখলাম  গায়ে গামছা দিয়ে বেক্ষাপ্পাভাবে বেঁকেচুরে দেখাচ্ছে সোনি নর্ডি গোলটা ঠিক কীভাবে করল। গরমের পারদ চড়ছে আর তার সঙ্গেই চড়ছে ফুটবল জ্বর। এমন সময় ঘন্টুদা রকে এসেই টকাইদাকে ডাইরেক্ট হিট– “ টকাই, তোরা শেষে ক্লাবটাকে শ্মশান বানিয়ে ছাড়লি?”

বলে কী ঘন্টুদা!  টকাইদা বীভৎস চোটে গিয়ে বলল “ ঘন্টু দা এতদিনে বুঝে গেছি তুমি আসলে ও’দিকের লোক। তাই তো এমন ভরা সময় আমাদের ক্লাবকে শ্মশান বলছ!”

ঘন্টুদা দেখলাম একেবারে নিরুত্তাপ ভাবে বলল “ বেকার আমাকে নিয়ে কাল্টিভেট করে কী হবে ভাই, তুই নিজেই ভাব না, তান্ত্রিকদের কাজ কারবার তো সব ওই শ্মশান টসানেই হয় নাকি ? আর তোদের ক্লাব তো নাকি এখন তান্ত্রিকেই চালাচ্ছে! তাই  তান্ত্রিকের কর্মস্থলকে শ্মশান ছাড়া আর কী বলবো ভাই?”

টকাইদা এবার একটু সুর নরম করল, আমিও বুঝলাম ঘন্টুদা’র ইঙ্গিত কোন দিকে। টকাই দা আত্মরক্ষার  ভঙ্গিতে বলল – “ তা সে আমাদের ক্লাবের কোটি কোটি সমর্থক আছে, কার্তিক তান্ত্রিকও তেমনই। কেউ যদি এসব করে তো বাকিরা কী করবে?”

tantrik3

আমি জানি,  এরপর টকাইদা আর একটাও কথা বলতে পারবে না, কারণ বিরাট ফাউল করে ফেলেছে। ঠিক তাই হল। ঘন্টুদা সঙ্গে সঙ্গে টকাইদার কথাটা লুফে নিয়ে বলল – “ টকাই, এই তুই  নিয়মিত মাঠে যাস! দু’বছর আগে এই কার্তিকই হাড়গোড়ের মালা পরে ইস্টবেঙ্গলে ঘুরপাক খাচ্ছিল, নিজেকে ইস্টবেঙ্গলের শুভাকাঙ্খি দাবি করছিল। ভুলে গেলি? সেবার নাকি ও-ই ডার্বি জিতিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে, আর এবার ও রাতারাতি বদলে গিয়ে শিল্টন পালের আটকানো বল মন্ত্র দিয়ে আটকে দিলো!!!” টকাই দা আমতা আমতা করার চেষ্টা করছিল, পারল না, ঘন্টু দার মেশিনগান তখনও চলছে – “ হ্যাঁরে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার বদলাতে পারে, কোচ বদলাতে পারে কিন্তু সমর্থক কি কখন বদলায় ? আর ওকে তো নাকি ক্লাবের কোনও  কর্তাই ম্যাচের দিন মাঠে আসতে বলেছে! অন্ততঃ তোদের ভন্ড তান্ত্রিক তো তেমনই বলে বেড়াচ্ছে রে! আর যদি ও নিজেই এসে থাকে তোদের মতো ফুটবল লাভারদের উচিৎ ছিল না ওকে ওই ভন্ডামিগুলো থেকে আটকানো ? কথায় কথায় তো গ্যালারি তে কাচা খিস্তির বন্যা বইয়ে দাও, এর বেলা বেরোল না কেন দু-একটা ? ভয় ?”

তোতোনদা ব্যাপারটা সামাল দিতে বলল – “ আহা ছাড় না,  মাঠে ঝামেলা করেই বা কী হবে!”

ঘন্টু দা বলল “ এটাই তো সমস্যা তোতোন, দল এক গোলে হারলে তখন ঝামেলা করার সময় এমন শান্তিকামী তো কেউ হয়ে ওঠে না ভাই! তখন তো ফুটবলারদের  পরিবার তুলে অন্যায় কথা বলতেও মুখে আটকায় না তোমাদের। আর আজ যখন ফুটবলাররা ভাল খেলে দলকে চ্যাম্পিয়নশিপের দোর গোড়ায় নিয়ে এসেছে তখন কোথাকার কে একটা ভন্ড এসে তাদের কৃতিত্বে ভাগ বসাচ্ছে, শুধু ভাগ নয় তাদের অগ্রাহ্য করে নিজেরই  সব কৃতিত্ব  বলে দাবি করছে, তখন তোদের মুখে রা সরছে না।বাঃ বাঃ বাঃ!”

সত্যিই তো, লোকটা যে  ব্যবসা বাড়াতে খেলোয়াড়দেরই অপমান করছে এটা তো মাথায় আসে নি! বুঝলাম আমার মতই বাকিরা স্পিকটি নট। টকাই বলল “বিদেশেও তো মানে ইয়ে, এমন হয় টয় শুনেছি!”

tantrik2

ঘন্টু  দা’র পত্রপাঠ উত্তর “ বিদেশে ওয়ার্ল্ড কাপ হয়, তোর দেশে হয় ? এই হচ্ছে বাঙালি।  বিদেশে যা যা খারাপ হয় সবটা নিবি,  ভালোটা নিবি না। জিদানের গোল নকল করতে পারবি না, ঢুসোটা নকল করবি। বেকহ্যামের সেটপিস ঘটেও ঢুকবে না, কিন্তু কোন ম্যাগাজিনে কটা ট্যাটু দেখেছিস সেটা নকল করবি। ব্রাজিলের পেলে গ্যারিঞ্চা দেখবি না, জুলুদের দেখবি!” ঘন্টু দা আজ পুরো মুডে।  বলে চলল “ শেষ যেবার জাতীয় লিগ কলকাতায় এসেছিল তখন এই বাচ্চু হাফ প্যান্ট পরে ল্যাবঞ্চুশ কিনতে আসতো, আর আমাদের ছেলেপুলেরা তো বিছানায়! আই লিগ তো ছেড়ে দে আসেই নি কখনও । এই প্রথম যদি আসে, সেটাও যদি ওই ওঝার খাদ্য হয় তাহলে আর কি বলবো, সব ছেড়েছুড়ে গঙ্গার ঘাটে সবাই টিয়া, হাড়গোড় নিয়ে বসে পড়। এম বি এ টেমবিএ পড়ে আর কি হবে ! বিজ্ঞানী তো কেউ হোসই না! আর পরীক্ষায় শুধু শ্মশানের রচনা লেখ।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × three =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk