Loading...
You are here:  Home  >  নিয়মিত বিভাগ  >  খোলা চিঠি  >  Current Article

ঘৃণারও অযোগ্য হয়ে উঠছেন মুখ্যমন্ত্রী

By   /  June 3, 2015  /  No Comments

স্বরূপ গোস্বামী

ভাগ্যিস আপনি এসেছিলেন। নইলে আমরা জানতাম না, একটা সরকার এত নির্লজ্জ হতে পারে। ভাগ্যিস আপনি এসেছিলেন, নইলে আমরা জানতাম না, একজন মুখ্যমন্ত্রী এত ঘনঘন এতবেশি মিথ্যে বলতে পারেন। ভাগ্যিস আপনি এসেছিলেন, নইলে আমরা জানতাম না পুলিশের শীর্ষকর্তারা এতখানি নির্লজ্জ স্তাবকতার রাস্তা নিতে পারেন। ভাগ্যিস আপনি এসেছিলেন, নইলে এমন মুর্খ শিক্ষামন্ত্রী ও এমন অযোগ্য স্পিকারকে আমরা পেতামই না।

প্রতিদিন মিথ্যাচার আর নির্লজ্জতার নতুন নতুন উদাহরণ রেখে যাচ্ছেন। উদাহরণ বাড়িয়ে লাভ নেই। শুধু খড়্গপুর কান্ডের কথাই বলা যাক। গত কয়েকদিন সেখানে কী অরাজকতা চলছে, তা কি আপনি সত্যিই জানেন না ? বেশি পেছনে যাওয়ার দরকার নেই। শুধু গত সাতদিনের খবরের কাগজ পড়ুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন। একটা পাড়ার নালাও আপনি উদ্বোধন করেন। একজন ট্রাফিক কনস্টেবল নিয়েও আপনি বিধানসভায় মন্তব্য করেন। তাই খড়্গপুরের এতকিছু কান্ড আপনার অজান্তে হচ্ছে, এটা বিশ্বাস করি কী করে ? শুধু স্থানীয় গুন্ডারা করছেন, এমন সরলীকরণ করতে রাজি নই। আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছাড়া কোনওভাবেই এটা সম্ভব ছিল না।

কীভাবে ভোট হয়েছে, সেকথা না হয় ছেড়েই দিলাম। কিন্তু এতকিছুর পরেও ৩৫ আসনের খড়্গপুরে তৃণমূল পেল মাত্র ১১ আসন। না, কম আসন পাওয়াটা অপরাধ নয়। কোনও একটা শহরে খারাপ ফল হতেই পারে। সেই বাস্তবতাটা মেনে নিতে আপত্তি কোথায় ? এরপরেও যেন তেন প্রকারেণ বোর্ড গড়তেই হবে ? বোর্ড গড়তে দরকার ছিল আরও সাতজনের সমর্থন। কোনও দল যদি আপনাদের সমর্থন করে, তাতেও আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু কংগ্রেস, বিজেপি বা সিপিএম কোনও দলই আপনাদের পাশে দাঁড়াতে চাইছে না। তারপরেও বোর্ড গড়তেই হবে, যেভাবেই হোক। তাই শুরু হল, মিথ্যে মামলা দেওয়া, গ্রেপ্তার করা, হুমকি ও ভয় দেখানো। এবং এই অপকর্মগুলো কোনওটাই গোপনে হচ্ছে না। একেবারে প্রকাশ্যে, দিনের আলোয় বাইক বাহিনী এসে শাসিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ চড়াও হচ্ছে মাঝরাতে। এগুলো বিরোধীদের অভিযোগ বা কুৎসার জায়গায় আর দাঁড়িয়ে নেই। খড়্গপুরের প্রায় সবাই জানেন। কারণ, তাঁদের চোখের সামনেই সবকিছু হচ্ছে।

mamata6

এই রেলশহরের পরিস্থিতি হঠাৎ খারাপ হয়েছে, এমনটা বলছি না। বাম জমানাতেও প্রকাশ্যে কুড়ি-পঁচিশটি গাড়ির কনভয় নিয়ে শহরে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন কুখ্যাত রামবাবু। সঙ্গে থাকা রক্ষীদের হাতে অত্যাধুনিক সব অস্ত্রশস্ত্র। পুলিশ তেমন কিছু করতে পারেনি। সত্যের খাতিরে এটাও স্বীকার করতে হবে, এক বাম দলের ছত্রছায়া পেয়েছিলেন রামবাবু। তাঁর এই উত্থানের পেছনে তখনকার এক বাম মন্ত্রীর মদত ছিল, একথাও স্বীকার না করলে সত্যের অপলাপ হবে ( সেই কুখ্যাত বাম মন্ত্রীর পুত্র এখন ‘উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে’ সামিল হতে আপনার দলে নাম লিখিয়েছেন)। নারায়ণ চৌবের দুই ছেলে গৌতম ও মানস চৌবেকে কারা খুন করল, সেটাও খড়্গপুরের প্রায় সবাই জানেন। সেই রামবাবুর কিন্তু জেল হয়েছিল। ছাড়া পেয়ে তিনি গেলেন কোথায় ? কোথায় আবার, আপনার দল ছাড়া এমন ‘আদর্শ দল’ আর পাবে কোথায় ! এখনও ছুটে যায় তাঁর কনভয়। এই কদিন তাঁর গুন্ডারা দিনে রাতে হুমকি দিয়ে গেছে।

রেল শহরে নিজের দাদাগিরি বজায় রাখতে রামবাবু তৃণমূলের বোর্ড চাইতেই পারেন। কিন্তু আপনার পুলিশও কিনা রামবাবুর সুরে সুর মিলিয়ে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে! তাঁরাও জয়ী কাউন্সিলরদের ডেকে পাঠিয়ে বা ফোন করে বলছেন, তৃণমূলকে সমর্থন করুন, নইলে টিকতে পারবেন না। ভোটের রেজাল্টের পর হঠাৎ করে ৬ জন কাউন্সিলারের নামে মামলা হয়ে গেল ? আপনার শিক্ষামন্ত্রীর একটা ডায়লগ মুখস্থ আছে, ‘আইন আইনের পথে চলবে।’ ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক, এটা মুখস্থই থাকে।

ভোটের পর কারা সন্ত্রাস চালালো, আর কাদের নামে মামলা হল! এই নির্লজ্জ মিথ্যাচারটা যে সাদাচোখেই ধরা পড়ে যাচ্ছে। ভয় দেখিয়ে, লোভ দেখিয়ে প্রথমে বিজেপি-র চার কাউন্সিলরকে দলে টানলেন। সোমবার রাত থেকে দুই কাউন্সিলর নিখোঁজ। বাড়ির লোকের অভিযোগ, তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে। পুলিশে অভিযোগও জানানো হল। পুলিশ আর কী করবে ? শোনা যাচ্ছে, অপহৃত এক কাউন্সিলরকে নাকি তোলা হয়েছিল এক পুলিস কর্তার বাংলোতে। এই অভিযোগটাও উড়িয়ে দিচ্ছি না। বেশ বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে হচ্ছে। ভাবা যায়, যাঁকে অপহরণ করা হল, গুন্ডাদের হুমকি যথেষ্ট নয়, তাঁকে একইসঙ্গে পুলিশকে দিয়েও হুমকি দেওয়ানো হল। সেই দুই কাউন্সিলরকে আনা হল তৃণমূল ভবনে। পতাকা তুলে দিলেন আপনার মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় আর আপনার কীর্তিমান ভাইপো শ্রীমান অভিষেক। যথারীতি, তাঁদের দিয়েও বলানো হল, তাঁরাও নাকি  ‘উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে’ সামিল হতে চান।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, একটু লজ্জা হয় না ? যাঁরা একমাস আগে আপনার বিরোধীতা করে ভোটে জিতলেন, আপনাদের মিথ্যাচার আর সন্ত্রাসের কথা বলে যাঁরা এলাকার মানুষের সমর্থন পেলেন, তাঁরা আপনাকে উন্নয়নের কান্ডারি মনে করেন ? তাঁদের হাতে পতাকা তুলে দেওয়ার আগে, তাঁদের চোখেমুখের সেই ঘৃণাটা দেখতে পাননি ? এক মাস আগে একদলের নির্বাচিত কাউন্সিলরকে দল ভাঙিয়ে নিজের দলে নিতে আপনার ‘সততা’য় বাধল না ? তাঁরা কোনও আদর্শের টানে আপনার কাছে গেলেন, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে ? দলে টানার দুটোই উপায়, হয় ভয় দেখিয়ে, অথবা ভয়মিশ্রিত লোভ দেখিয়ে। দুটোর কোনওটাই কি খুব গৌরবের ? জেনে রাখুন, এমন নির্লজ্জ মিথ্যা যাঁরা বলেন, তাঁরা কারও আদর্শ হতে পারেন না। প্রথমে চার, পরে দুই, এই ছজনকে টেনেও নিশ্চিত হতে পারছেন না। দরকার আরও একজন। একজন হলেও মুশকিল। যদি দলের দু একজন চেয়ারম্যান না হতে পেরে বিগড়ে বসেন! তাই আরও কয়েকজনকে দলে টানতে হবে। তাই এখনও চলছে লাগামছাড়া সন্ত্রাস আর হুমকি।

gyan sing sohonpal

খারাপ লাগছে সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রবীণ বিধায়ক জ্ঞান সিং সোহনপালের কথা ভেবে। এখনও বিধানসভায় তাঁকে দেখলে, সব দলের বিধায়কদের মাথা নত হয়ে আসে। ফিরে চলুন পঁচিশ বছর আগে। দীর্ঘদিন প্রবীণ এই সর্দারজির সঙ্গে আপনিও তো ছিলেন। একটু সৌজন্য, ভদ্রতা শিখতে পারলেন না ! এই মানুষটা মিথ্যে অভিযোগ করার লোক! এই অশক্ত শরীরে, তাঁকে একবার আক্রান্ত কাউন্সিলরের বাড়ি, একবার থানা, একবার এস পি-র কাছে ছুটে যেতে হচ্ছে। কোথাও সুবিচার পাচ্ছেন না।

বিধানসভায় কংগ্রেস সদস্যরা বিষয়টা তুলতে যাচ্ছেন। এমন গুরুতর অভিযোগের পরেও স্পিকার আলোচনা করতে দিচ্ছেন না। এমনকি মুলতুবি প্রস্তাবটুকু পড়তেও দিচ্ছে না। আপনার হল্লাবাহিনী সমানে চিৎকার করে যাচ্ছে। কেউ কিছু প্রশ্ন তুললেই স্পিকার খালি ডানদিকে তাকাচ্ছেন। প্রভুরা চটে যাচ্ছে না তো ! বৃষ্টি পড়লেও বৃষ্টি পড়ছে বলার আগে তাঁকে দশবার ভাবতে হয়, পাছে আপনি রেগে যান। এমন মুখ্যমন্ত্রী হলে, তিনি এমন স্পিকারই পছন্দ করেন।

partha6

আরেকজন। যিনি আপনার দলের মহাসচিব, সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও পরিষদীয় মন্ত্রী। তাঁর আবার অদ্ভুত যুক্তি। তিনি বলছেন, ‘খড়্গপুরের বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা হবে কেন ?’ আপনার দলের মহাসচিব মুর্খ হলে, আপত্তির কিছু নেই। কারণ, সেটাই বোধ হয় সেই পদে বসার যোগ্যতা। কিন্তু রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও পরিষদীয় মন্ত্রী যখন এমন আজগুবি কথা বলেন, তখন আরও বেশি খারাপ লাগে। খড়্গপুর কি রাজ্যের বাইরে ? আইন শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে আলোচনা চাওয়া যাবে না ? কাউন্সিলররা যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, বিধানসভায় এই আবেদনটুকু করা যাবে না ? পরিষদীয় মন্ত্রী হতে গেলে, পরিষদীয় কিছু শিষ্টাচার ও নিয়ম কানুন জানতে হয়। কিন্তু পার্থবাবু প্রতিনিয়ত প্রমাণ করছেন, তিনি কতটা অজ্ঞ। শিক্ষামন্ত্রীকে অজ্ঞ বলা শোভনীয় নয়। কিন্তু আর কীই বা বলি! কারণ, এঁদের ‘ছাগল’ বললে বোধ হয় ছাগলদের শিক্ষাদীক্ষাকে অপমান করা হবে।

যে সব কান্ড করে চলেছেন, তাতে মাননীয় লেখা উচিত নয়। তবু লিখছি, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, একটু আয়নার সামনে দাঁড়ান। অন্য সবকিছু বাদ দিলাম। শুধু খড়্গপুর নিয়েই ভাবুন। আপনার দলের, আপনার পুলিশের, আপনার মন্ত্রীদের, আপনার স্পিকারের ভূমিকা কি যথার্থ ? এরপরেও নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেন, এরপরেও যদি বলেন কিছুই হয়নি, তাহলে আপনাকে কী হিসেবে চিহ্নিত করব ?

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, ইতিহাস বড় নির্মম। পেশীশক্তি দিয়ে, প্রশাসন দিয়ে, বিরোধী ভোট বিভাজনের অঙ্কে হয়ত আবার জিতবেন। কিন্তু এই যদি চলতে থাকে, একদিন ঘৃণারও অযোগ্য হয়ে উঠবেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 5 =

You might also like...

priyaranjan4

যাক, হাইজ্যাক অন্তত হল না

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk