Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

চন্দন পান্ডে কি নিজেকে চুলবুল পান্ডে ভাবেন ?

By   /  May 30, 2015  /  No Comments

রবি কর

যত গোলমাল, সব ওই সলমন খানের জন্য। আর ওই সর্বনেশে পদবীর জন্য।

কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক কনস্টেবল চন্দন পান্ডের কথা হচ্ছিল। ব্যাটা বেয়াদপ! ঘুসখোর। ট্রাফিক পুলিশের চাকরি করছে, অথচ, এইটুকু জানে না যে, বাচ্চা মেয়েদের লাইসেন্স সিজ করতে নেই। ব্যাটা পুলিশ না ফুলিস?

ঘটনাটার পর থেকেই ভাবছি, এই ফুলিশটার একটা ইন্টারভিউ নেব। এমন চোখা চোখা প্রশ্ন করব যে, পেটের কথা সব বেরিয়ে আসবে। ফাঁস হয়ে যাবে, কং + বিজেপি + সিপিএম + মাওবাদী + সাম্রাজ্যবাদি শক্তি + পুঁজিবাদী শক্তি + সাম্প্রদায়িক শক্তি + দালাল মিডিয়া + কু চক্কুরে বুদ্ধিজীবী, সবার মদতে চন্দন পান্ডে এই সাজানো ঘটনা ঘটিয়েছে।

কিন্তু ইন্টারভিউ নেব কী করে ? বাংলার অগণিত বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের জাল বুনে সেই ভীরু, কাপুরুষ ফুলিশ ছুটিতে গেছে। সোজা কথায়, পালিয়েছে। এদিকে তো মোস্ট ব্যাকডেটেড। ক্যাবলাকেষ্ট কিনা ভাইজির সঙ্গে টক্কর নিতে আসে। অথচ, ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস আপ-কিছুই নেই। তাই তার ইন্টারভিউ নেওয়ার কোনও উপায় নেই। কাজেই সরাসরি কথা না বলেও অনুমান করার চেষ্টা করছি, সামান্য একটা পিপিলিকার এতবড় ডানা উঠল কী করে ?

chandan pandey

অনেক ভেবে দেখলাম, লোকটার মাথা খেয়েছে সলমন খান। দাবাং সিনেমাটা দেখা পর থেকেই মাথা ঘুরে গেছে। সেই সিনেমায় সলমন খানের নাম ছিল চুলবুল পান্ডে। ব্যাটা ভেবেছিল, সলমন খানও পান্ডে, আমিও পান্ডে। চুলবুল পান্ডেও পুলিশ, চন্দন পান্ডেও পুলিশ। একই বৃন্তে দুটি ফুল, চন্দন আর চুলবুল। ভেবেছিল, ভাইজিকে থানায় নিয়ে গিয়ে এমন ভয় দেখাবে যে, মুন্নির মতো নাচতে শুরু করবে। আরও ভেবেছিল, এইসব করে মুন্নিকে, মুন্নির কাকাকে, কাকার দিদিকে বদনাম করবে।

কী হল! ভাইজির গায়ে একটা আঁচড় কাটতে পারলি ? ভাইজির নামে কত মিথ্যা অভিযোগই না আনলি! মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, পথচারীকে ধাক্কা দেওয়া, পুলিশের গায়ে হাত তোলা, নোট বই কেড়ে নেওয়া – একটাও প্রমাণ করতে পারলি ? পারলি না। অবশ্য, প্রমাণ করতে পারলেও কিছু করতে পারতিস না। ওরে, মাথার ওপর ভগবান আছেন। আর ভগবানের ওপর দিদি আছেন। তিনি সব দেখেন, সব শোনেন। দিদি ঠিক জানতে পেরেছেন, এক পারসেন্ট পুলিশ করাপ্ট (তুই তাদের মধ্যে একজন), তাদের জন্য পুলিশের ফেস নষ্ট হয়।  দিদি আরও বলে দিয়েছেন, বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের লাইসেন্স সিজ করতে নেই।

তুই নিশ্চয় ভাবছিস, রাতের বেলা যে মেয়ে গাড়ি চালায়, সে মেয়ে বাচ্চা হবে কী করে ? আঠারো বছর বয়স না হলে তো লাইসেন্স পাওয়া যায় না। ওরে গাড়ল, কে বাচ্চা, কে বাচ্চা নয়, সেটা বয়স দেখে ঠিক হয় না। মানুষের বাচ্চা আঠারো বছরে সাবালক হয়। মা মাটি মানুষের বাচ্চা কোনওদিন সাবালক হয় না। অধ্যক্ষকে চাঁটা মারুক, পুলিশকে লাঠি মারুক, বিরোধীদের ধর্ষণের হুমকি দিক, যাই করক, তারা সবসময়ই বাচ্চা। ‘‘দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি’’। সরকার কী করবে ? আই কিল হিম ?

আচ্ছা বেশ, মেনে নিলাম, তুই গোমুখ্খু। তাই এসব ধর্মের কথা জানিস না। কিন্তু পুলিশ যখন হয়েছিস, দুটো চোখ তো আছে। দেখে বুঝিস না, যে মেয়ে হাপ পেন্টুল, আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে রাস্তায় ঘোরে, সে বাচ্চা নয় তো কী ? একটু টলমল করছিল বলে, ভাবলি মদ খেয়েছে। ওরে আসলে, খুকি এখনও ভাল করে হাঁটতে শেখেনি। এমন বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের আবার ট্রাফিক আইন কী ? এর পরে তো হাগিস পরা বাচ্চারা প্যারাম্বুলেটরে চড়লে লাইসেন্স দেখতে চাইবি।

আসলে, যে কথা শুরুতেই বলছিলাম, হিন্দি সিনেমা দেখে দেখেই বাঙালি জাতটা উচ্ছন্নে গেল। সাহিত্য চর্চা একেবারেই করছে না। আচ্ছা, লাইসেন্সের বাংলা কী বল তো ? ছাড়পত্র। ছাড়পত্র নামে সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটা কবি আছে, জানিস ? ‘কাল রাতে ভূমিষ্ঠ হল যে শিশু, তার কাছে খবর পেলুম, পেয়েছে সে ছাড়পত্র এক।’ এই কবিতার মানে কী ? যে শিশু কাল রাতে ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাকে আজকেই লাইসেন্স দিয়ে দাও।

chulbul pande

সাহিত্যের কথা ছাড়। ইতিহাসের গল্প শোন। মিরজাফরের আমলে ক্লাইভের এক অনুচরের সঙ্গে এক ওমরাহ-র ঝামেলা লেগেছিল। ক্লাইভের অনুচর সোজা নবাবের কাছে নালিশ করে। তখন ওমরাহ বলেছিল, আমি ক্লাইভ সাহেবের গাধাটাকে দিনে তিনবার কুর্নিশ করি। তাহলে ক্লাইভ সাহেবের অনুচরকে কী করে অপমান করব ? এই গল্প থেকে কী শিখলি ? শাসকের গাধাকেও সেলাম করতে হয়। আর তুই কিনা ভাইজির পেছনে লাগলি!

শোন বাবা চন্দন পান্ডে, যে কোনও কারণেই হোক, তোমার ফাঁড়াটা অল্পের উপর দিয়ে গেছে। যে অপরাধ তুমি করেছো, তাতে থানায় ঢুকে তোমাকে আড়ং ধোলাই দেওয়া উচিত ছিল। টেবিলের তলায় ঢুকে হাতে ফাইল নিয়েও মাথা বাঁচাতে পারতে না। ইট দিয়ে থেঁতলে, কিংবা গুলি করে তোমাকে মারা উচিত ছিল (তারপর অবশ্য বউ বা ছেলেকে চাকরি দেওয়া হত)।

কিন্তু কিছুই না করে, তোমাকে লম্বা ছুটি দেওয়া হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ছুটিতে নাকি তুমি কাশ্মীর গিয়েছো। এই যে ছুটি দেওয়া হল, এটা কিন্তু শিক্ষামূলক ভ্রমণ, যাকে বলে এক্সকারশন। এই মুহূর্তে সলমন খান কাশ্মীরে শুটিংয়ে ব্যস্ত। তুমি সোজা গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবে। তিনি তোমাকে বুঝিয়ে দেবেন , মদ খেয়ে গাড়ি চালানো, চালাতে চালাতে কাউকে ধাক্কা দেওয়া, মেরে ফেলা কোনও অপরাধই নয়। যারা কুকুরের মতো ফুটপাথে শোয়, যারা গাড়ি ছাড়া রাস্তায় বেরোয়, তাদের জীবনের মূল্য সলমন খানের কাছেও নেই, ভাইজির কাছেও নেই।

rachpal sing

এই শিক্ষাটা গ্রহণ করে তুমি আবার কলকাতায় ফিরে আসবে। ফিরে এসে মন্ত্রীদের জুতোর ফিতে বাঁধা প্র্যাকটিস করো।

কী বললি? ফিতে ওয়ালা জুতো পরাবি না ? ডাইরেক্ট হাওয়াই চটি পরাবি ? আচ্ছা, আচ্ছা, কী বলতে চাইছিস, তা বুঝতে পারছি। তোর হবে বাবা তোর হবে। আমি আশীর্বাদ করছি, তোর এই দুর্যোগ কেটে যাবে। শুধু তুই হাওয়াই চটিতে আস্থা রাখ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − seven =

You might also like...

shimultala2

শীতের ছোট্ট ছুটিতে শিমূলতলা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk