Loading...
You are here:  Home  >  শিরোনাম  >  Current Article

জনমতের দালাল

By   /  February 12, 2017  /  No Comments

অম্লান রায়চৌধুরী

এ এক অদ্ভুত জীবিকা – জনমতের দালাল। ইন্সুরেন্সের দালাল শুনেছি , জমি-বাড়ীর দালালি শুনেছি , অধুনা প্রোমোটারদের জায়গা খোঁজার দালালিও বেশ শোনা যায়, যারা সব ঝামেলা ঝঞ্ঝাট মিটিয়ে জমি জোগাড় করে দেয়। এই রকম জীবিকার কথা এই প্রথম শুনলাম ।
আড্ডার জায়গায় গিয়ে পরিচয় হল ভদ্রলোকের সাথে । নাম – সুবিমল বসাক । পেশা সম্বন্ধে জানতে চাইলে , বললেন, এটা একটু শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এই পেশায় প্রায় আমরা সবাই কিছু না কিছু ভাবে জড়িয়ে আছি। যেমন ধরুন, আপনি আপনার পাশের বাড়ির দাদার হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে গেলেন, দরকারে হাসপাতালে পাঠানোর বন্দোবস্তও করে ফেললেন , আপনি জনমত কিনলেন আপনার শ্রম দিয়ে। আপনি কতটা সমব্যথী হলেন সেটা বিচার্য নয়। আপনার উপস্থিতি এবং কাজ সেটাই মুখ্য এখানে। দাদার বাড়ির লোকেরা আপনাকে ভাবল সমাজ দরদী হিসাবে। এটা একটা অর্জন। এটাকে ধরে রাখতে হবে। আর এই ধরে রাখার জন্যই আমাদের প্রয়োজন ।
কিন্তু সুবিমল বাবু, এখানে মানবিকতার প্রশ্নটা কি কোনওভাবেই খাটছে না – নাকি মানবিকতাটাকে আপনি একটুও গুরুত্ব দিচ্ছেন না?‌
না না একথা বলবেন না, সুবিমল বাবু, বলে উঠলেন – মানবিকতার বিষয়টাও তো এখন একটু অন্যরকমভাবে ভাবছে লোকে। আগে পাড়ার বয়স্ক মানুষের একটা জায়গা ছিল, মান্যতা পেত। এখন মান হারাচ্ছে সে কথা বলছি না, কিন্তু অবজ্ঞার শিকার যে হচ্ছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই। এ অবস্থা ভাল কি মন্দ – সেটাই বিচার্য । কিন্তু সেই যে উৎসাহ, স্বতস্ফূর্ততা – সেটার অভাব ভীষণভাবে দেখা যায় । কেন, মনে নেই, আপনার পাড়ার ছেলেটা একটা ছোট দুর্ঘটনায় পড়ল, আপনারই সামনে। সামান্য হাত পা ছড়ে গেছে। পারলেন আপনি নিজের থেকে চিকিৎসা শুরু করতে। আপনি তো জানতেন – কী কী করতে হবে – তবুও অপেক্ষা করতে হল – ওর বাড়ির লোকের মতামতের জন্য । বাড়ির লোক এল – তখন চিকিৎসা শুরু হল। অথচ আপনিই দেখেছেন, আপনার বাবা নিজের হাতে আপনার বন্ধুদের মাঠে বসে ওষুধ লাগিয়ে দিত।
সুবিমলবাবু, ওটা তো একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা – পুরো মানবিকতা বোধটাকে তো আর ওই ধারায় মাপা যায় না।
ঠিকই, সুবিমলবাবু বলে উঠলেন, আপনি ওখান থেকে পিছিয়ে এলেন কেন জানেন?‌ আপনার মনে সংশয় ছিল, বাড়ির লোকেরা ঠিকমত বিষয়টা নেবে কিনা। আসলে নানান মতের প্রাধান্য – সকলেই মান্যতা চায়। যত সভ্য হচ্ছি ততই পরিসর খুলে দিয়ে প্রত্যেককে মান্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছি। সরাসরি – প্রতিবাদে যাচ্ছি না । প্রতিরোধের ভাষাটাকেও কেমন যেন মানিয়ে নেওয়ার মতন করে ফেলেছি। কিছুই আর নিজের থেকে করছি না – কেউ যেন করাচ্ছে। এটাকে কি স্বতস্ফূর্ততা বলে! মানবিকতাকেও আমরা এখন নিক্তিতে ওজন করে তবে বাজারে ছাড়ি। আমরা অভ্যস্থ হয়েছি এখন এইভাবে। যতই এগুলোর অভাব হবে আমাদের ব্যবসারও ততটাই রমরমা। দেখছেননা সবাই এখন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মারফত কাজ করায়। আমরাও একটা গোটা নির্বাচন নামিয়ে দেব – মেয়ের বিয়ে দেওয়ার মতন। আমাদের সেই নেটওয়ার্ক আছে । জন বল আছে – পাড়ায় পাড়ায় সংগঠন আছে।
সুবিমলবাবু, আপনি বোধ হয় ভুলে যাচ্ছেন যে পাড়ায় সুস্থভাবে থাকার মানুষ এখনও অনেক আছে — যারা চায় একটা সুস্থ ব্যবস্থা।
সেটাই তো সুবিধা, সুবিমল বাবু বলে উঠলেন, এদের জন্যই তো আমাদের পাড়ায় এত কদর – এদের কাছে ইমেজ রাখাটাই তো আমাদের কাছে মস্তবড় চ্যালেঞ্জ। সেটা আমরা স্টাডি করে দেখে নিয়েছি। আমাদেরও মার্কেট সার্ভের টিম আছে। ওরা আমাদের প্রত্যেক পাড়া সম্বন্ধে – সেই পাড়ার গতিবিধি সম্বন্ধে সব সময় আপডেট রাখে।
আরে, আপনাদের পাড়ার শেষ প্রান্তে — দত্ত বাবু। চেনেন তো। সবারই পরিচিত – এই পাড়ার শুরু থেকেই ওখানে আছেন। এখন একেবারে একা । দুই ছেলে, তারাও বিদেশে। বয়সও হয়েছে । নানান রকমের প্রয়োজন আছে। কতটাই বা শুধু পয়সা দিয়ে হয়, সাহায্য লাগেই মানুষের। এই সার্ভেটা আমাদের করা। কাজটা নেবার কথা ভেবেছিও। যদি চান আপনি নিয়ে নিন। একেবারে টার্ণ-কি বেসিসে । সব দেখাশুনা আপনার – পাকাপাকি ভাবে। স্বনির্ভর মানুষ অতি-নির্ভরশীল হয়ে উঠবে। রাজনৈতিক দলগুলো তো আপনাকে খুঁজে বেড়াবে। চাহিদা যোগানে আপনার দরও বাড়বে। আপনি দর–‌কষাকষি করে মেয়েকে প্রাইমারি স্কুলের চাকরিটা কনফার্ম করিয়ে দিন — বিনিময়ে আপনি দত্তবাবুর পাশে দাঁড়িয়েই বোতামটা আপনার ইচ্ছামতন টেপার প্রতিশ্রুতি দিন। ব্যাস হয়ে গেল ।
তবে হ্যাঁ, এগুলো করতে গেলে আপনাকে একটা নতুন নাম নিতে হবে – যেমন – খাবলু দা, ট্যাঁপা দা, পোকাদা, কচি দা – গুপী দা — এই রকম আর কি । যাদের পাড়ায় উপস্থিতি মানেই যে কোনও সমস্যার সমাধান । পোড় খাওয়া লোক এরা। পাড়ার ভূগোল ইতিহাস সব কণ্ঠস্থ।

এই কচিদাদের শ্রেণিটা সৃষ্টি হয়েছিল অনেক আগে — সেই যবে থেকে বারোয়ারি পুজোর প্রবর্তন ঘটেছে। তখন অবশ্য ওদের কর্মকান্ড বা কর্মফলটা সীমাবদ্ধ থাকত পাড়ার মধ্যেই। ফল হিসাবে – সেই বাড়ির বৌদির কাছ থেকে যখন তখন একটু চা — পান পাওয়া, পুজো বা অনুষ্ঠানে – একটা নিমন্ত্রণ – এই সব আর কি। ওটায় আত্মিকতার ছোঁয়াটা ছিল বলেই কচিদারা আজ উদাহরণ ।
এখন নানান কারনে ও তাগিদে – ওই কর্মফলটা গিয়ে উঠেছে বিধানসভার আঙ্গিনায় – অন্যভাবে । অন্যরূপে।

sahitya
আমরা এই পুরো ব্যাপারটাকেই মাথায় রেখেছি। তাই একটু সুসংহত করি, যাতে বেশ সুষ্ঠুভাবে বিষয়টা পরিচালনা করা যায় – ওই একটু প্রফেসনালিজমের ছোঁয়া দেওয়া। ওটাই এখন পাবলিক চায়।
সুবিমলবাবু বলেই চললেন, দেখবেন লক্ষ করে – সংগঠন ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের একটা মোটামুটি গতি প্রকৃতি আন্দাজ করা যায় । এরা অনেক স্তর পেরিয়ে আসে। এরা বিভিন্ন স্তরে সংগঠনের আঙ্গিকটা বজায় রাখে। যেমন অটো চালকদের সংগঠন — রিক্সা চালকদের সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন। এতে নিজের দলের বাইরে খুব কম সংখ্যক লোক পড়ে থাকে। মুখে বলে অবশ্য প্রত্যেক মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তার প্রতি যাতে কোনও অন্যায় অবিচার না হয় সেটা দেখতে হবে। শোষণ যেন ঝাঁপিয়ে না পড়ে অন্যায়ভাবে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য হল মানুষ গুলোকে একই ছাতার তলায় আনা ও পরবর্তী নির্বাচনে – বোতাম টেপানো নিজের দলের পক্ষে।
এই প্রক্রিয়াটাই এখনও চলছে । তবে অসুবিধা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার ফলিত অবস্থাটা খুব সহজ নয়। কারণ এতে অনেক অনুশীলনের দরকার। প্রথম দিকে মানুষকে একত্রিত করতে – লোভ ও আশার সঞ্চার করতে হবে। আদর্শ বা দর্শনের যদি প্রয়োজন হয় – পরে আসবে। এই যে লোভ সঞ্চার বা আশার কথা আসলে কিন্তু এগুলো পাড়ার বৌদির রান্নাঘর থেকেই উৎপত্তি। বৌদির কথায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রীটা আসছে না। রান্নাঘরের এক্সস্টটা খারাপ হয়ে গেছে। কচিদা’র কথায় একডাকে এসে যাবে। কারণ ওটা কচি’দা। সবাই কথা শোনে। বৌদিও একা থাকে বেশির ভাগ সময়টা। আশ্বস্ত হয়। এই বৌদির কাছে – কচিদাকে হারালে চলবে না । কারণ, অনেক উপকারে আসে। কী রাজনীতি করে, সেটা একেবারেই বিচার্য নয় – লোকটাকে হাতে রাখতেই হবে। এই মানসিকতাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই – দেখা যায় – এই মধ্য/উচ্চবিত্ত পাড়াগুলোতে – অর্থাৎ এই সমস্ত জায়গাতে এটাই বোতামের কাছে যাওয়ার টোটকা। আজ এগুলো আর নেই। হারিয়ে গেছে – কচি’ দারা। কাজেই দর্শন বা সাংগঠনিক বার্তা – আর প্রয়োজন নেই ।
সংগঠনের কারিগরেরাও বুঝে গেছে – সহজ পথগুলো। এগুলোই ধীরে ধীরে সংসদীয় গণতন্ত্রের মোড়কে – এমন একটা আকার নেয় – যার থেকে কেবল একটাই শব্দ বের হয় – নির্বাচনে জয়- যেন তেন প্রকারেণ । তার ব্যবস্থাটাই আসল উদ্দেশ্য ।
আমাদের বাজারটা আরও বেড়ে গেল। আমরাও তাই নিশ্চিত এখন । যতই অসংগঠিত, ততই আমাদের রমরমা। এটাকে করায়ত্ত করতে হবে – প্রফেসনালস দিয়ে, আমাদের মতন মানুষকে দিয়ে – যাদের কোনও পূর্ব পরিচিতি নেই – পাড়ায় নতুন, বিচারেও নতুন। এতে করে সংগঠন কথাটাই থাকবে না। কেনা হবে। আমরাই ভরিয়ে দেব – এঁর অভাবটা ।
কারুর যদি দর্শন বা আদর্শের সাথে এই নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় – সে নিঃস্পৃহ হয়ে পড়ে, হয় সংগঠনের উপর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় অথবা প্রতিবাদ করে – যেটা দাঁড়ায় সেটাতেই চলতে থাকে ।
দর্শন ভিত্তিক সংগঠনে এখনও যাদের বিশ্বাস রয়ে গেল– তারা এতটাই সংখ্যা লঘিষ্ঠ যে বাদই রয়ে গেল । আর একটা ভাগও আছে , যাদেরও আমরা বিচার করেছি আমাদের নিজেদের স্বার্থে। কারণ এরাও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে হয়েছে। যারা সংগঠনে সামিল হয়েছে – আদর্শর ব্যাপারটা মাথায় না রেখে। দর্শন সম্বন্ধে বোঝার সামর্থ্যও নেই। তারা কেমন যেন একে অপরের কাছে অজান্তেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । কারণ তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে – চাওয়া পাওয়ার সাথে এই সংঘবদ্ধতার আকর্ষণটা কেমন যেন মিশে গেছে — না দেখলেই অভাব অনুভূত হয়। কারণ জানে না । এক সাথে বেড়ে ওঠার ফলে – রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটা জায়গায় ওরা আটকে আছে । এরা এখন অনেকেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়। বিরুদ্ধাচরণ করার ক্ষমতা পায় না। আবার মানতেও পারে না । উদাসীন হয়ে পরে। ছেড়ে চলে যায়। এদের সংখ্যাও বাড়ছে । আমাদেরও সংঘবদ্ধতা বাড়ছে ।
কিছু তরুণ চিন্তকের দল ভাবছে এগোনোর কথা। তারা প্রতিদ্বন্ধী হতে পারে ভেবে আমরা দাওয়াই এর বন্দোবস্ত করেছি। ওটাকে আমরা যেমন ভেঙ্গেছি তেমনই ভেঙ্গেছে ওদের অভিভাবকরা। আমরা খালি সমাজটাকে নেড়ে দিয়েছি । জায়গা রাখিনি ওদের জন্য। কাজেই চাপ বেড়েছে। অভাব বেড়েছে। অভিভাবকরা থমকে গেছে। এই চাপে দিশাহারা করেছি, নানান প্রলোভনে । দুয়ার খুলেছি – সারা পৃথিবীর। সহজ লভ্য – এখন মা’ ও। কাজ হয়েছে । এতে ওরা ভুলে গেছে পাশের বাড়ির মানুষকে। অভাব বেড়েছে। আঁকড়ে ধরছে খালি ক্যারিয়ারকে – ভুলে যাচ্ছে পাশের বাড়ির কাকুকে ।
সুবিমল বাবু – না থেমে অন্য প্রসঙ্গে এলেন, বললেন, শুধু বিরোধী হব -বিরোধী হটাবো। মতাদর্শ থাকবে না। ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকবে না। এই সব মানসিকতার কিছু সংগঠন তৈরি হয় কেবল আক্রোশে, মোহর বশবর্তী হয়ে – অথবা এই কথাটা মনে করে – যে কি আরামে আছে ওরা , কত সুখ, কত পয়সা, কত ক্ষমতা ।
আমাদের সমস্যা এদের নিয়েই সব চাইতে বেশি ছিল। কিন্তু সার্ভে টিমের রিপোর্টে বোঝা গেল ঠিক নয়। এখানেও আমাদের প্রয়োজন আছে। কারণ, এদের স্থানীয় প্রতিনিধি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন বিশেষত যে অঞ্চলে – শিক্ষা এবং দীক্ষার প্রভাবটা একটু বেশি। কারণ পাড়ার সংস্কৃতির অবক্ষয়ে – যে বিরাট ফাঁকা জমি , সেটা ভরাট হয়নি, কারণ কচি‘দা রা আর নেই। নতুন কচিদা তৈরি হচ্ছে না। রাজনীতিটা দলের সেবা না সমাজ সেবা – সংশয়টা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে দ্বন্দ্ব। কাটেনি। দলগুলো ভাবতে আরম্ভ করবে অনেক পয়সা খরচ করে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিনিধি তৈরি করতে হয়। তাদের আজ এটা চাই তো কাল ওটা চাই । তার উপর চাই নিজেদের ফায়দা – দলের কোনও কাজে লাগে না। অথচ দল ওদের সাপোর্ট করে – এটা একটা সমস্যা। তার থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে চিরতরে । দলের প্রতিনিধি তৈরি করাটাও একটা বিশাল সমস্যা। পাড়া বুঝে, পাড়ার পালস বিটটা বুঝে সেই ছেলেটিকে বা সেই ছেলের অনুগামীদের ঠিক করা হয় – যে কিনা গোটা পাড়াটাকে প্রতিনিধিত্ব করবে। এতে অনেক সময়ই দেখা যায় – পাড়ার সব চেয়ে কুখ্যাত বা বখে যাওয়া ছেলেটাই প্রতিনিধি হয়। কারণ আর কিছুই নয় – অন্যান্যরা আগ্রহ দেখায় না। কারণ তারা কোনওভাবেই কোনও দলের কাছে নির্ভরশীল নয়। এই বিষয়টা নিয়ে তারা মোটেই ভাবে না । তারা পাড়ার সমস্ত অনুষ্ঠান বা অসুবিধায় কাছে থাকবে, হয়ত বা কিছু শ্রমও দেবে, দরকার হলে পয়সাও খরচা করবে, কিন্তু কারুর বদান্যতা বা দালালি বা প্রভাবকে একদমই পছন্দ করে না – নিজেদের শিক্ষায় বাঁধে, দীক্ষায় বাঁধে ।
আমাদের উপস্থিতিতে এই সমস্যায় আর পড়তে হবে না কোনও রাজনৈতিক দলকে। তারা নিশ্চিন্ত যে একটা এজেন্সি আছে, যারা আমাদের জনমত ঠিক করে দেবে – সেই ভিত্তিতে আমরা প্রার্থী নির্বাচন করব ।
আমি জানতে চাইলাম, কিন্তু এই শ্রেণিটা তো এরকম ছিল না। কেন এই অবস্থা। সুবিমলবাবু বলে উঠলেন – আসলে এখন আদর্শহীন রাজনীতি তো তাই আকর্ষণ খুবই কম ।
একই পাড়ায় নানান ভাগে বিভিন্ন বয়সের ছেলেরা আড্ডা মারে –একসাথে একই জায়গায়। এখানে একজনের দলভুক্তি মানে – অন্যান্যরাও সাথে সাথে ওই সংগঠনের সাথে যুক্ত হবে – এটাই স্বাভাবিক। কারণ এরা তো আড্ডাটা মারবেই – এবং মারবে ওই জায়গাতেই। কাজেই ওটাকে বজায় রাখতে গেলে – কি দল , কি কাজ, কেমন সংগঠন সেটা বোঝা বা জানার প্রয়োজন মনে করে না।
সেই রকমই, শাসক দলের কাছ থেকে কোনও সুবিধা পায়নি বলে অন্য দলে যোগ দেওয়াটাও স্বাভাবিক হল।
এইভাবেই বিভিন্ন দল তৈরি হল। যেটা রইল-না সেটা হল – দল, জনগণ বা দেশ – পাড়ার দাসবৌদি – তার প্রয়োজন – কাছে থাকার আশ্বাস। সবাই যেন এক একটা পৃথক অক্ষে বিচরণ করছে।
প্রশ্ন করলাম, এটাতে আপনার লাভটা ঠিক কী এবং কীভাবে?‌ সব দালালরাই তো বিনিময়ে কিছু পায়, যেটা তাদের জীবিকারই অন্তর্গত। আপনার লাভটা ঠিক কোথায়। সুবিমলবাবু হাসতে হাসতে বলতে শুরু করলেন, জানি এই প্রশ্নটাই স্বাভাবিক। আমি এটাকে দেখি অন্য দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। যেমন ধরুন আমার কাছে কিছু জনমতের ভাণ্ডার আমি তৈরি করেছি ওই নানারকমভাবে – কখনও কারুর হাসপাতালে রাত কাটিয়ে, কারুর বাচ্চাকে চেনা শুনো লোক ধরে ভাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়ে, কিংবা ধরুন – কাউকে খেলার টিকিট পাইয়ে দিয়ে, এমন কি দাদা বৌদির পারিবারিক ঝামেলাও মিটিয়ে দিয়ে অথবা ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পত্তি নিয়ে মারামারি – বন্ধ করে একটা মীমাংসার রাস্তায় নিয়ে এনে। এই যে নানান ভাবে আমি জনমত সঞ্চয় করি – সেগুলোকে একটা মার্কেট দিতে হবে -সেই মার্কেটটাই তো তৈরি আছে। আমার কাজ হল সেই মার্কেটে গিয়ে – সময় মতন দর কষাকষি করে বেচে দিতে হবে – অনেকটা শেয়ার বাজারের মতন – যখন চাহিদা বাড়ে দাম ও বাড়ে – যেমন দেখেন না নির্বাচনের প্রাক্কালে, কেমন পাড়ায় নেতাদের আনাগোনা – সবই জনমতের ধান্ধায়, – ওরা আর আসবে না যদি আমরা একটু সংঘবদ্ধ হই – আমরাই দেব জনমত – নম্বর ধরে ,পয়সার হিসাবে –এটাই তো আমাদের দালালির কমিশন।

তবে সমস্যা একটা আছে, নানা দল আছে, যদিও আমাদের দেশে মূলত দ্বিমুখী প্রতিযোগিতাই আমরা দেখে এসেছি এ যাবৎ কাল, কাজেই দর কষাকষি আসবেই এবং এটাই আমাদের কাম্য। আসলে আমরা তো দালাল, খুঁজি কেবল লোকের অসুবিধা, রাজনৈতিক দলগুলোরও চরম অসুবিধা এই সময়টাতে –ওরা সঠিক প্রতিনিধিত্ব পায় না বিভিন্ন পাড়া থেকে – যেটা পায় সেটা প্রতিফলিত হয় না নির্বাচনে – কাজেই বিশ্বাস চলে গেছে – তাই আমাদের বাজার বাড়ার সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে ক্রমশ।

তাই দাদা আমরা ঠিক করেছি এই দালালি ব্যবসার একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করব -ওই অনেকটা বিভিন্ন কোচিং ক্যাম্পের মতন।
রাজনীতির মানুষ বলতে আলাদা করে কিছু নেই, কারণ রাজনীতিটা এখন অনেকটা শেয়ার বাজারের মতন, কোথায় বিনিয়োগ করলে – ভবিষ্যতটা ভাল হবে – কত টাকা ডিভিডেণ্ড পাব বা – দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে ধরে রাখতে হবে – সেরকমই – রাজনীতিতেও এখন এই দলের বাজার দর খুব ভালো – মিশে যাও , অন্তত পাঁচটা বছর নিশ্চিন্ত, শ্রম দাও সময় দাও – ডিভিডেন্ড পাও – বিনিয়োগের বিভিন্ন রকমের ফায়দা লোটো ।
দেখছেন না – ঘোষাল বাবুকে – এই কিছু দিন আগেও বামপন্থী রাজনীতির একনিষ্ঠ কর্মী – তখন পার্টীর, কত গুরুত্বপূর্ণ কাজে উনি ছিলেন বিশেষ ভরসা – কত গোপনীয় খবর ওনার জানা ছিল – আরে ওগুলোইতো ওনাকে আজ অন্য দলে (অন্য শেয়ারে) বিনিয়োগ করতে সাহায্য করল – অফিসে কোঅর্ডিনেশন কমিটির এক বড় পাণ্ডা, নিজের বদলি কতবার আটকে রাখল – নেতা দের কাছে থেকে – এখন কেমন আবার চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রোমোটারিতে হাত পাকিয়েছে । disputed জমি গুলোকে কেমন করে করায়ত্ত করছে – মোটা টাকার লোনও পেয়েছে ব্যাঙ্ক থেকে। শুধু শেয়ারটা বুঝতে হবে কোন শেয়ার কখন বাজার মাত করবে – তাহলেই আপনি রাজা – আর রাজা হতে কে চায় না বলুন তো ।

flipkart-fashionsale

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk