Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

ডার্বির এই আনন্দেও একটু দীর্ঘঃশ্বাস

By   /  September 8, 2015  /  No Comments

দেবায়ন কুণ্ডু, বার্মিংহাম

এই প্রথম ডার্বিতে দেশের বাইরে।
এর আগে রাজ্যের বাইরে অনেকবার থেকেছি। কিন্তু দেশের বাইরে এই প্রথম।
কলকাতা থেকে যখন প্রথমবার বিদেশে পাড়ি দিলাম, তখন ডার্বির গন্ধ ময়দানে ভেসে বেড়াচ্ছে। লিগ খেতাব তখন অনেকটাই কাছাকাছি। হয়ত ডার্বি না জিতলেও আমরা লিগ জিততাম। তবু বারবার মনে হচ্ছিল, আমি থাকি আর নাই থাকি, ডার্বি দিয়েই যেন লিগ জেলা হয়। ডার্বিতেই যেন লিগের ফয়সালা হয়।
সেই কারণেই চাইনি, ডার্বির আগে মোহনবাগানের পয়েন্ট কেটে নেওয়া হোক।
east bengal3

টালিগঞ্জের বিরুদ্ধে অনূর্ধ ২৩ ফুটবলার না থাকায় কী শাস্তি হবে, জানি না। তা নিয়ে বিশেষ উৎসাহও নেই। আই এফ এ চেয়েছিল, ডার্বির আগে যেন পয়েন্ট না কাটা হয়। ডার্বির উন্মাদনা হয়ত ধরে রাখতে চেয়েছিল। অন্য সময় হলে হয়ত রাগ হত। কিন্তু এগিয়ে থাকলে মানুষ অনেক উদার হয়ে যায়। মনে পড়ছিল, ধন্যি মেয়ে ছবিতে উত্তম কুমারের কথা। পেনাল্টি পাওয়ার পরেও ভাই বগলাকে বাইরে মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, পেনাল্টি থেকে জিততে চাননি। কেন জানি না, দেশ ছাড়ার আগে আমারও মনে হচ্ছিল, মোহনবাগানের পয়েন্ট কাটা যাবে, তার দৌলতে আমরা লিগ জিতব, এমনটা যেন না হয়। আমরা নিজেদের যোগ্যতাতেই জিতব। আগেই যদি তিন পয়েন্ট কেটে নিত, তাহলে তো ডার্বির সেই উন্মাদনাই থাকত না। তখন ডার্বির এই দুরন্ত জয়কেও কেমন নিষ্প্রাণ মনে হত।

east bengal3
টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের দিকে যাব না। সেটা করার জন্য অনেক যোগ্য লোক আছেন। লাল হলুদের সঙ্গে সম্পর্কটা যতটা না যুক্তির, তার থেকে বেশি আবেগের। আমি জন্মসূত্রে পূর্ববঙ্গীয় নই। ফলে, আমার অন্তত লাল হলুদ সমর্থক হওয়ার তেমন জোরালো যুক্তি ছিল না। ১৯৯২। সেবার আই এফ এ শিল্ডে বাইচুংয়ের জোড়া গোল। দুরন্ত ব্যাকভলি। শিশু মনে কেন জানি না, ভাল লেগে গেল। কারা ঘটি, কারা বাঙাল, ইলিশ না চিঙড়ি- এসব কোনও কিছুই বোঝার মতো বয়স তখন ছিল না।

east bengal5
বুঝেছিলাম শুধু দুরন্ত দুটো গোল। গোলের সুবাদে বাইচুং, আর তাঁর গায়ের লাল হলুদ জার্সি। পরে বাইচুং অন্য ক্লাবে চলে গেলেও লাল হলুদের প্রতি ভালবাসাটা থেকেই গেছে। আমার পাশাপাশি আমার ভাই। দুজনেই হয়ে উঠলাম লাল হলুদের সমর্থক। চাকরিসূত্রে লম্বা একটা সময় দক্ষিণ ভারতেও কাটাতে হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের খেলা থাকলেই সেদিন কাজে মন বসত না। বারবার এস এম এস করে বা ফেসবুকে চোখ রেখে খবর নেওয়ার চেষ্টা করতাম। তারপর ফিরে এলাম কলকাতায়। শনিবার বা রবিবার খেলা হলে মাঠে যাওয়া তেমন সমস্যা নয়। কিন্তু অন্যদিনগুলোয় খেলা পড়লেই সেই হাহুতাশ।
আই লিগ না আসার দুঃখ তো আছেই। কিন্তু কলকাতা লিগ পেলে, সেই উন্মাদনাও কম নয়। ঠিক পুজোর আগে লিগ শেষ হত। পুজো যেন বাড়তি আনন্দ বয়ে আনত। কেনাকাটার পাশাপাশি লিগ জয় যেন বাড়তি এক উপহার। পুজো ভালো কাটার বড় একটা কারণ হল, লিগ ঘরে আসার। এবার লিগ পুজোর অনেক আগেই শেষ (শেষ ম্যাচ বাকি থাকলেও নিষ্পত্তি হয়ে গেল)। তবু এই রেশ পুজো পর্যন্ত নিশ্চয় থাকবে। সুদূর ইংল্যান্ডে বসেও ডার্বিতে প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে উৎকণ্ঠায়। জয়ের পর সত্যিই খুব মিস করেছি আমার শহরকে, আমার ক্লাবকে। ইসস, এমন ডার্বিতে যদি মাঠে থাকতে পারতাম!
এত আনন্দের মাঝেও কোথাও একটা দীর্ঘশ্বাস যেন থেকেই যাচ্ছে।
(debayankundu19@gmail.com)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 8 =

You might also like...

amitabh2

কী ভেবেছিলেন, গুরুং খাদা পরিয়ে বরণ করবেন!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk