Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  রাজ্য  >  Current Article

দিদিমণি ডিএ দিচ্ছেন না, বেশ করছেন

By   /  September 10, 2015  /  No Comments

সরকারী কর্মী আর শিক্ষকদের মন খারাপ। কেন্দ্রের ডি এ বেড়ে গেল, তাঁদের বাড়ল না। তাঁরা ব্যস্ত দিদিমণিকে গালাগাল দিতে। এমন নিন্দুক সব যুগেই থাকে। দিদিমণি কী বার্তা দিলেন, ‘মাথা মোটা’ মাস্টারগুলো বুঝলই না। বুঝিয়ে দিলেন রবি কর।

রাজ্য সরকারি কর্মীরা ডি এ পাচ্ছে না বলে সবার বড্ড দুখখু হচ্ছে, বড্ড দুখখু। সবাই কর্মচারীদের কত পারসেন্ট বকেয়া তার হিসাব কষছে আর দিদিমণিকে গাল দিচ্ছে।
আরে মাথামোটার দল, শুধু দুঃখ করলে হবে? এটাও জানিস না যে কবি বলে গেছেন, ‘দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?’ সুখ মানে কী? মানে সৃষ্টি সুখ। আমাদের দিদিমণি, তিনি কি শুধু একজন প্রশাসক? তিনি কি একজন সৃষ্টিশীল মানুষ নন? তাঁর সৃষ্টিতে সাহায্য করা কি কর্মচারীদের পবিত্র কর্তব্য নয়?

nabanna6

কিসসু বুঝছেন নাতো? জানি, বুঝবেন না। বেশ আমিই বুঝিয়ে দিচ্ছি। আচ্ছা, নবান্ন বলতে আপনারা কী বোঝেন? নবান্ন মানে কি শুধুই একটা ১৫ তলা বাড়ি? না মশাইরা না। নবান্ন হল একটা বিখ্যাত নাটক। লিখেছিলেন মহাশ্বেতা দেবীর স্বামী বিজন ভট্টাচার্য। অভিনয় করেছিলেন শাঁওলি মিত্রের বাবা শম্ভু মিত্র। সেই নাটকের কথা ভেবেই আমাদের সৃষ্টিশীল, মননশীল, সংস্কৃতিবান দিদিমণি বাড়িটার নামকরণ করেছেন নবান্ন।
কিন্তু শুধু এটুকুতে কি একজন সৃষ্টিশীল মানুষের আশ মেটে? দিদিমণির চারপাশে এখন নাটকের লোকজনের ভিড়। ব্রাত্য, অর্পিতা, দেবেশ, মনীশ, শাঁওলি, মনোজ, বিভাস- এদের সঙ্গে থেকে থেকে তাঁর মনে সর্বদাই নাট্যচিন্তা বুড়বুড়ি কাটছে। কিন্তু শম্ভুবাবু আর বিজনবাবু মারা গিয়ে তাঁর সঙ্গলাভে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই দিদিমণি ঠিক করেছেন, নবান্ন নাটকটা নতুন করে মঞ্চস্থ করবেন। সত্যি সত্যি মঞ্চস্থ করার অনেক হ্যাপা, অনেক খরচ। তাই তিনি রাজ্য জুড়ে একেবারে বাস্তবের নবান্ন নাটক তুলে আনছেন।
সেই নাটকে ছিল খেতে না পেয়ে গ্রামের কৃষক প্রধান সমাদ্দার আর তার পরিবার শহরে ভিক্ষা করছে। শহরের রাস্তায় রাস্তায় তারা চিৎকার করে বলছে “বাবুরা একটু ফ্যান দাও। তোমাদের মনে কি একটুও দয়া নেই গো বাবুরা।” দিদির রাজত্বে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ঠিক সেই দশা। ডি এ নেই, পে কমিশন নেই, একেবারে হাঁড়ির হাল। কিছুদিন এভাবে চললেই দেখা যাবে, কর্মচারীরা নবান্নের সামনে বাটি হাতে চিৎকার করে বলছে, “একটু ডি এ পাই, তোমাদের মনে কি একটু দয়া নেই গো বাবুরা, থুড়ি দিদিরা।”
আর অভিনয় যা হবে না! কোনও রিহার্সালের দরকার হবে না। একেবারে রিয়্যালিটি শো। দেখে শাঁওলি মিত্রের মনে পড়বে বাবার কথা, মহাশ্বেতা দেবীর মনে পড়বে স্বামীর কথা। বলা যায় না, তাঁরা সবাই মিলে দিদিমণির নাম সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করে পাঠাবেন। সত্যি বাংলায় এমন নাটক এর আগে কখনও হয়নি, হবেও না। দিদিমণির এই সৃষ্টিসুখের জন্য কর্মচারীরা না হয় একটু দুঃখভোগ করলেন।
আসল নাটকটার সঙ্গে এই নতুন নাটকের পদে পদে মিল। আসল নাটকে আছে, শহরে যখন বিয়েবাড়ির ভোজ হচ্ছে, তখন বাইরের আস্তাকুড়েতে কুকুরের সঙ্গে মারামারি করে খাবার খাচ্ছে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষ। এখানেও তাই, শহরে যখন চলচ্চিত্র উৎসব, মাটি উৎসব, গান উৎসব, কবিতা উৎসব, নাটক উৎসব, বঙ্গবিভূষণ উৎসব- বাইরে তখন সামান্য কয়েক হাজার টাকার জন্য কুকুরের সঙ্গে মারামারি করছেন সরকারি কর্মচারীরা। কুকুর কারা ? কেন ওই যে ক্লাবগুলো বছর বছর লাখ লাখ টাকা পাচ্ছে! কেন পাচ্ছে কেউ জানে না। কুকুরের মুখ থেকে খাবার কেড়ে আনা যেমন দুঃসাধ্য, তেমনই ক্লাবের জন্য বরাদ্দ টাকা কমিয়ে ডি এ পাওয়াও দুঃসাধ্য। এমনকি এই লেখাটা পড়ে ক্লাবগুলো খ্যাঁক করে আমাকে কামড়েও দিতে পারে। আসল নাটকেও এমন দৃশ্য ছিল মশাই, কুকুরের কামড়ে মানুষের হাত থেকে ঝরঝর করে রক্ত পড়ছে। তফাত একটাই, সেই দৃশ্য দেখে দর্শকরা কান্নায় ভেঙে পড়তেন, আর এখানে নবান্নের ওপরতলা থেকে দিদিমণি উল্লাসে ফেটে পড়বেন।

bijan bhattacharja
বাইরে যখন মানুষে-কুকুরে লড়াই চলছে, ভিতরে তখন কী হচ্ছে? আসল নাটকে আছে, ভিতরে তখন জমজমাট ভোজ চলছে। এখানেও তাই। ফিলিম উৎসবে শাহরুখ আসছে। শাহরুখ যে সে লোক নন, সামান্য মাছভাজা খেয়ে রাজ্যের জন্য ক্রিকেট দল চালান। তাই দিদিমণি তাঁর থেকে ট্যাক্স নেন না। কিন্তু কর্মীগুলো এমন বেয়াড়া, তাঁকে দেখেও শেখে না। বলে, ওই মাছ আমাদের তেলে, মানে আমাদের ডি এর টাকায় ভাজা হয়েছে।
ভিতরে আর কী কী হচ্ছে? কেন, সৌরভ গাঙ্গুলির রিয়্যালিটি শো হচ্ছে! ‘এগিয়ে বাংলা’। কর্মচারীরা বলে, বকেয়া ডি এ ছাড়া আর কোনও কিছুতে রাজ্য এগিয়ে নেই।
তা ওঁরা যা খুশি বলুক, দিদিমণি কিছু মনে করেন না। আসল নাটকে আছে খেতে না পেয়ে প্রধান সমাদ্দার অর্ধোন্মাদ হয়ে গেছিল। ভুলভাল বকত। ডি এ না পেয়ে পেয়ে কর্মচারীরাও হাফ-পাগল হয়ে গেছে। ফুলপাগল হয়ে গেলেই কাজ হাসিল। পাগলরা তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভোট দেয় না। অথবা বলা যায়, পাগল ছাড়া তাঁকে কেউ ভোট দেয় না। তার ওপর যদি ১/২ পারসেন্ট ডিএ দেওয়া যায়, এরাই ল্যা ল্যা করে জয়ধ্বনি দেবে।

sarkari office2
তাই বলি দিদি, বেশ করছেন, বেশ করছেন। এই মালগুলোকে ডি এ দেবেন না। অন্য রাজ্যগুলো ডি এ দেয়, কারণ তাঁদের রাজ্যে বিজন ভট্টাচার্যও নেই, নবান্নও নেই। আমাদের কর্মচারীরা ডি এ পাচ্ছে না বলেই, হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে নবান্ন কী জিনিস।
কিন্তু ডি এ দিলেই এরা ভোগবাদি হয়ে উঠবে। মা মাটি মানুষের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে। এদের বাধ্য করা হোক, যেন সবাই হাওয়াই চটি পরে অফিসে আসে, সবাই যেন টালির বাড়িতে থাকে, সবাই যেন বাড়ির পোষা কুকুরকে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে ডায়ালিসিস করায়। আর একান্তই যদি টাকার দরকার হয়, চিন্তা কী? ছবি এঁকে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করুক।

তবে হ্যাঁ, আসল নাটকের সঙ্গে দিদিমণির নাটকের একটা তফাত আছে। আসল নাটকে, কৃষকরা সবাই জোট বেঁধে নতুন করে বাঁচার শপথ নিয়েছিল। এখানে ওসব চলবে না। জোট বাধতে গেলেই, চাকরি থেকে একদিন কাটা যাবে। তাতেও কাজ না হলে ………………, আসল নাটকে কিন্তু গুলিও চলেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 8 =

You might also like...

chalo lets go

অঞ্জনের একটা ছবিই চোখ খুলে দিল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk