Loading...
You are here:  Home  >  ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৫  >  Current Article

ধোনি না হয় কাপ পাবেন, ঘন্টুদার কাচের কী হবে !

By   /  March 23, 2015  /  No Comments

ভারত যদি আবার বিশ্বকাপ জেতে? আপনি, আমি সবাই খুশি হতেই পারি। দেশজুড়ে সংবর্ধনার জোয়ার বইতেই পারে। কিন্তু গ্ল্যামার বৃত্তের বাইরে থাকা খেলাগুলির কী হবে ? তাদের দীর্ঘশ্বাস কি আরও জোরালো হবে ? কাচ ভাঙার আতঙ্কে থাকা ঘন্টুদারই বা কী হবে ? লিখেছেন অর্ঘ্য সেনগুপ্ত।।

পাড়ার শনিবাসরীয় আড্ডায় গোমড়া মুখে বসেছিল ঘন্টুদা। কারণ জানতে চাইলে বলল “ ভয় হচ্ছে রে বাচ্চু, এই সেদিন শখ করে অমন সাধের কাচ লাগালাম জানালাগুলোয়, আবার সব যাবে রে! ইন্ডিয়া যা খেলছে তাতে আবার না চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়! আর তাহলেই তো এক্কেবারে ইল্লি। বেলা দুপুর থেকে ব্যাট বল পেটানো শুরু হয়ে যাবে বুড়ো খোকাদের! আর আমার বাড়িটাই তো মনে হয় বাউন্ডারি লাইন। সব কাচগুলো ভাঙবে রে! উফ জ্বালা্ জ্বালা। তিনটে ম্যাচ জিতে বিশ্ব জয় হচ্ছে।  আর যত ঝক্কি আমার”।

কথাটা খুব ভুল বলেনি ঘন্টুদা। মাঠে ক্রিকেট খেলার সময় বহুবার আক্রান্ত হয়েছে ঘন্টু দা’র বাড়ি। একবার তো জানালার কাচ ভাঙা নিয়ে ঝামেলা এতোদূর গড়ায় যে তাতে রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না কি কোল্ড ওয়ার কী সব সন্দেহ করেছিল লোকজন। মাঠে খেলা অবশ্য বন্ধ হয়েনি। এ যাবৎ ফুটবলটা বেশি চলছিল। শীতকালে মাঝে মাঝে স্কুল স্পোর্টসও হয়। তবে ইন্ডিয়া জিতলে যে আবার ক্রিকেটই স্বমহিমায় মাঠে ফিরবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাই ঘন্টুদা’র চিন্তাটাও অমূলক নয়।

team india2

তবে একা ঘন্টুদা নয়। ময়দানে ঘুরপাক খেলেই জানা যায় ভারতীয় দলে’র বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় আশঙ্কার মেঘ দেখছেন অনেকেই। না, সেটা অবশ্য কখনই প্রকাশ্যে স্বীকার করেন না কেউই, কিন্তু জানা সবার। এমনিতেই এ’দেশে ক্রিকেট পরম ধর্ম। খেলার মাঠের যা কিছু আকর্ষণ তার ৯৯% ক্রিকেটকে ঘিরেই। তার উপর বিশ্বকাপ জিতলে তো কথাই নেই। লোকজন পিলপিল করে ছুটবে ওই ওদিক পানেই। সাতসকালে বাচ্চাকে তুলে ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পে ঠেলে পাঠানোর বাবা মা’দের ইঁদুর দৌড় তো পুরনো ব্যাপার, তাতে আর একটু উদ্যম যোগ হবে। আরে বাবা বিশ্বকাপ না হোক একটা আইপিএল টিমেও যদি কোনও ভাবে একবার ঢুকে পরতে পারে ছেলে তাহলেই ভবিষ্যৎ ‘সেভেন স্টার’। সদ্য হওয়া আইএসএল দেখে, বোরহা ফার্নান্ডেজকে একই মরশুমে সাবিথ আর মেসি মাঠে ল্যাং মারতে দেখে যাদের ভাবনাচিন্তা’র কাঁটা একটু হলেও ঘুরছিল তাঁরাও আবার ছুটবেন নিশ্চিত ভবিষতের খোঁজে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা ক্রিকেটের আতুড় ঘরগুলোয়।

আর বাকি খেলাগুলো! সে তো কবে থেকেই বিপিএল তালিকাভূক্ত। নেহাত বিভিন্ন জেলার কিছু কোচ যুদ্ধ করে চালিয়ে যাচ্ছেন, অ্যাথলেটিক্স হোক বা সাঁতার, খেলোয়াড়ের সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। যারা আসে তাদের অধিকাংশই অভাবের তাড়নায় শেষ অবধি টানতে পারে না। সত্যিই তো পেটে না খেলে কি পিঠে সয়! জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে মেডেল পেলে তবে তো টাকা, পরিচিতি, কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অবধি পৌঁছনোর রাস্তাটা! ক’জন আর পারে! ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত ফাইনালে উঠলে, অতিকষ্টে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কোন কোন অ্যাথলিটের ভারতীয় ক্রিকেট টিমের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা চান সাংবাদিকরা। জনসমক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দিলেও, ব্যক্তিগত পরিসরে অবশ্যই আলোচনা করেন, ‘একটা কমনওয়েলথ বা এশিয়ান গেমস পদক পেতে গেলেও ২০০ কাছাকাছি দেশের সঙ্গে লড়তে হয়। আর এখানে ১৪ টা দেশ, তার বিশ্বকাপ (এর মধ্যে আটটা মোটামুটিউ ঠিকঠাক, বাকি ছটা দল জোর করে জোগাড় করতে হয়।)  সাকুল্যে ওই ১৪ টা দেশের বাইরেও কেউ তেমন খেলেনা।‘ ঘন্টু দা কী আর সাধে বলেন “গ্রুপ লিগে তো হারালি দুধে-ভাতেদের। বাংলাদেশটাকে নিয়ে যা করছিলি তোরা, ভাবলাম বুঝি রেভেলিউশন টিউশন হল বুঝি। তা সেও শেষমেশ দেখলাম কাগুজে বাঘ। ওই দক্ষিন আফ্রিকা ম্যাচটা আর সেমিফাইনাল, ফাইনাল। ৩টে মোটে ম্যাচ খেলেই আমার অমন সাধের কাচগুলোর গয়াগঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটাবে রে! দুর্ভাগ্য!” দুর্ভাগ্যটা যে কার তা খুব বড় প্রশ্ন।

 

নিন্দুকেরা বলে সেই যে ১৯৮৩তে বিশ্বকাপ জিতল ভারত, তখন থেকেই ফুটবলের মক্কা থেকে ফুটবলের গায়েব হওয়া শুরু। এ’রাজ্যে যে হকি খেলা একসময় লাইন দিয়ে  টিকিট কেটে লোকে দেখতো সেই তথ্য আজকের জেন ওয়াই-এর কাছে “ঠাকুরমা’র ঝুলি”। কীভাবে যেন গৃহস্থের রান্নাঘরে ঢুকে গেলো খেলাটা, আর তার সঙ্গেই সব শেষ। আর লোক যেদিকে স্পন্সররাও সেদিকে। সব টাকাও তাই ব্যাটে-বলে গোল। এতো স্পট ফিক্সিং- টিক্সিং-এর পরও মানুষ ওই মোহেই পাগল।

team india 2011

২০১৭ অনূর্ধ-১৭ বিশ্বকাপ (ফুটবল), আইএসএল, যাও বা একটু কর্পোরেটদের ভাবাচ্ছিল, আবার সব ঘেটে না যায়! ঘন্টু দা’র মত অনেকেই চিন্তায়, এই বিপুল হিস্টিরিয়ার সঙ্গে একটা বিশ্বনাথন আনন্দ বা সাইনা নেওয়াল, বা মেরিকম কতটুকুই বা পারবেন! আশঙ্কায় দুর্বলরা, কিন্তু এর উপায় কেউ জানে না। ঘন্টুদার কাচের পাশাপাশি হয়তো অনেক স্বপ্লও ভেঙে যাবে, তার অবশ্য শব্দ হয় না তেমন। আর হলেও ১০০কোটি’র আনন্দের চিৎকারে কোথায় হারিয়ে যায় সে স্বপ্ন……

‘তাবলে কি ভারত জিতবে না! এই একটা খেলাতেই তো বিশ্বের চালকের আসনে আমরা। নিন্দুকদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে তাই এবারেও বিশ্বকাপটা জিতে আনুন ক্যাপ্টেন কুল’। সিংহভাগ ক্রিকেট লাভার কিন্তু এমনই ভাবছে। ‘আরে বাবা হিংসে না করে ওঁদের গৃহস্থের রান্নাঘরে ঢোকার টেকনিকটা শেখো না’ এমন যুক্তিবাদীরাও আছেন, এবং তাঁরা সংখ্যায় অনেক বেশি। কাজেই ঘন্টু দা’র মত লোকজন জানেন বলে লাভ নেই। বাড়ির কাচ বাঁচানোর দায় তাঁরই! বিসিসিআই-এর নয়। কাচটা যে অনেক শক্তপোক্ত করা উচিত ছিল আগেই।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 15 =

You might also like...

chalo lets go

অঞ্জনের একটা ছবিই চোখ খুলে দিল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk