Loading...
You are here:  Home  >  ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৫  >  Current Article

নতুন ইতিহাস লেখার হাতছানি

By   /  March 24, 2015  /  No Comments

শুভেন্দু মণ্ডল

প্রত্যাশামতোই কাপ যুদ্ধের শেষ চারে চার মহারথী। বিশেষজ্ঞদের একেবারে অভ্রান্ত প্রমাণিত করে। লক্ষ্মীবারের সিডনিতে কি সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে ? অস্ট্রেলিয়ার হাতে সেমিফাইনালে বিদায় নেবে গতবারের বিশ্বজয়ীরা ? নাকি চার বছর আগের মতো এবারও উড়বে তেরঙা পতাকা ? একনজরে সেই বিশ্লেষণ—

ইতিহাস

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অবশ্যই এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। চারবারের চ্যাম্পিয়ন। গতবার ওয়াংখেড়েতে ভারতের বিশ্বজয়ী হওয়ার আগে টানা তিনবারের বিশ্ব চাম্পিয়ন । বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনও না হারার রেকর্ডও রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দশবারের মুখোমুখি সাক্ষাতে মাত্র তিনবার জিতেছে ভারত। যে তথ্য চরম অস্বস্তির। শুধু তো বিশ্বকাপের ইতিহাসেই নয়, হালফিলের সাক্ষাতেও অনেক এগিয়ে ব্যাগি গ্রিন জার্সি। নভেম্বরের শেষদিক থেকে চলমান লম্বা সফরে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি ভারত। টেস্ট সিরিজে হার। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে না উঠতে পারা। ক্রমাগত ব্যর্থতা সঙ্গী। স্টিভ ওয়া সেই জন্যই বলেছেন, টানা ব্যর্থতাকে মানসিক সিস্টেম থেকে ভারতের মুছে ফেলা দরকার। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও ছুঁড়েছেন হুঙ্কার। মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, গ্রীষ্মজুড়ে ব্যর্থতার কাহিনী। তবে এই নব্য ভারত জাবর কাটায় বিশ্বাসী নয়। ‘রিওয়াইন্ড’ বাটন পুশ করে অতীতে ফিরতেও আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না। বরং নতুন ইতিহাস লিখতেই বেশি মনযোগী।

 

মওকা

মহেন্দ্র সিং ধোনির রণকৌশলে শর্ট পিচ বোলিং প্রচন্ড গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজের দেখানো মডেল অবশ্যই অনুসরণ করা দরকার। মুশকিল হল, এই ভারতের কোনও বাঁ হাতি পেসার নেই। ফলে রিয়াজ যে লাইনে বল তুলে বিভ্রান্ত করছিলেন মাইকেল ক্লার্কের দলকে, তা হুবহু তুলে আনায় সমস্যা রয়েছে।  তবে, এই ভারতের সুবিধা হল, বাউন্সারের ঝোঁক এমনিতেই রয়েছে পেসারদের। বিশ্বকাপে মহম্মদ সামি , উমেশ যাদব ও মোহিতশর্মার পেস আক্রমণই বাউন্সারে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছে। যা অকল্পনীয়ই। ঠিকঠাক নিশানায় বাউন্সার আছড়ে পড়তে পারে সেজন্যই। যা শন ওয়াটসনের কানের কাছে ‘চিন মিউজিক’ শোনাবে। বাউন্সারের পরর বলেই ব্যাটসমম্যানকে ফ্রন্টফুটে খেলাতে হবে। যাতে আগাম লেংথ আন্দাজ না করা যায়।

 

ট্যাকটিক্স

এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপের গভীরতা সবথেকে বেশি। দশ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান। দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। তিন থেকে ছয় স্টিভ স্মিথ, মাইকেল ক্লার্ক, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ওয়াটসন। প্রত্যেকে একাই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। সাতে আরেক ম্যাচ উইনার জেমস ফকনার। আটে ব্র্যাড হ্যাডিন। নয় ও দশে মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক। এই গভীরতা কোনও  ব্যাটিংয়ে নেই। সাত ম্যাচে সত্তর উইকেট নেওয়া উইকেট নেওয়া ভারতীয় বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ এখানেই। সুবিধা হল, সিডনির পিচে দুই স্পিনারর রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার জন্য মজুত থাকবে সাহায্য। ভারতীয় স্পিনারদের মিডল ওভারে কার্যকরী থাকার মানে অবশ্য রান আটকানো নয়, উইকেট নেওয়াও। অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলতে গেলে নিয়মিত আঘাত হানাই চাবিকাঠি। বড় জুটি যেন না হয়। একটা জুটি দাঁড়িয়ে গেলেই সর্বনাশ।

 

কোহলি-ফ্যাক্টর

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাপ অভিযানের শুরুতে শতরান পাওয়ার পর ব্যাটে গর্জন নেই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাইরের বল তাড়া করে আউটও হয়েছেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাইশ গজে ‘বিরাট’ ইনিংসই চাহিদা। অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবেই স্লেজিং করবে বিস্তর। চাইবে রাগিয়ে দিতে, মাথা গরম করতে। যা কোহলিকে উদ্দীপ্ত করারর সেরা টনিক। তিনি চান, কেউ কিছু বলুক। আগ্রাসনের ফুলকি বের করতে তখনই সুবিধা। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ তাই রাগী যুবকের মেজাজে ফেরার সুযোগ। স্টার্ক, জনসন, হ্যাজলেউডদের সীমানায় পাঠাতে দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে গান্ডীব ধরতেই হবে বৃহস্পতিবার।

team india2

অজিদের দুর্বলতা

সিডনি হল অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে স্পিন সহায়ক মাঠ। যেখানে ঐতিহ্যগতভাবেই অন্য মাঠের তুলনায় স্পিনাররা বেশি সুবিধা পান। বল ঘোরান। কিন্তু মাইকেল ক্লার্কের দলে এখানেই কাঁটা। বিশেষজ্ঞ স্পিনার বাঁহাতি জেভিয়ার ডোহার্টির উপরে ভরসা নেই দলের। স্পিনারের কাজটা চালিয়ে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ক্লার্কও কয়েক ওভার হাত ঘোরাতে পারেন। সিডনিতে কি ডোহার্টিকে নামানো হতে পারে ? সম্ভাবনা কম। কাকে বসিয়ে দলে আসবেন তিনি ? ভারতকে তাই পঞ্চম বোলারের দশ ওভার টার্গেট করতে হবে। মাথায় রাখতে হবে, জনসনও আগের ছন্দে নেই। কয়েক গজ গতি কমেছে তাঁর। একমাত্র স্টার্কের বল দেখে খেলতে হবে। কারণ, গতির সঙ্গে সুইংও মেশান তিনি। ফকনার, ওয়াটসনকে কিছুতেই থিথু হতে দেওয়া যাবে না মিডল ওভারে। সিঙ্গলস নিয়ে, আলগা বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে সচল রাখতে হবে স্কোরবোর্ড। ব্যাটসম্যানরা রানে আছেন প্রত্যেকেই। এটা প্লাস পয়েন্ট।

 

ম্যাক্সওয়েল ঝড়

ইনি এমন একজন , যিনি বল দেখে খেলেন না। খেলেন ফিল্ডার দেখে। টার্গেট করেন অরক্ষিত জায়গা। ফলে, থামানো কঠিন। আগাম সতর্ক থাকতেই হবে বোলারদের। থার্ডম্যান ও ডিপ ফাইন লেগে রখে শরীরে শর্টপিচ বল করা যায়। ইয়র্কার যেন ফুলটস না হয়। মোহিতের স্লোয়ারের বৈচিত্র কাজে আসতে পারে।

 

পজিটিভ স্ফুলিঙ্গ

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টক্করের জন্য আগাগোড়া থাকতে হবে ইতিবাচক। প্রথমে ব্যা করে হোক বা রান তাড়া, এই ভারত দুটোই পারে। কিন্তু মানসিক লড়াইটাও খেলতে হবে পাশাপাশি। চোখে চোখ রেখে পাল্টা দিতে হবে। তবে তা যেন সেঞ্চুরিয়ান ফাইনালে জাহির খানের মতো মাত্রাতিরিক্ত না হয়। অধিনায়কের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ‘ক্যাপ্টেন কুল’ বিশ্বকাপে শানিত  নেতৃত্বের পরিচয় রাখছেন। বোলার পরিবর্তন থেকে দুরন্ত ক্যাচে উদাহরণ হয়ে থাকা বা ব্যাট হাতে ফিনিসারের দায়িত্ব পালন, ধোনি স্বমহিমায়। শীতল ঔদ্ধত্যের পরিচয় রাখছেন আগাগোড়া। যা একসূত্রে বেঁধেছে দলকে।

পুনশ্চ

বিশ্বকাপে এখনও অপরাজেয় ভারত দাপটে একদিক থেকে এগিয়ে। অস্ট্রেলিয়াও হেরেছে, রিয়াজের স্পেলে দিশেহারা দেখিয়েছে। ধোনির ভারতকে কিন্তু চ্যাম্পিয়নের মতোই দেখাচ্ছে। দেখাচ্ছে ধারাবাহিক এবং আক্রমণাত্মক। তাই ক্লার্করা হারলে সেটা অন্তত অঘটন হবে না। তাছাড়া ঘরের মাঠ সিডনিতে অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলার চাপও সামলাতে হতে পারে অস্ট্রেলিয়াকে । এতটাই সমর্থন থাকবে ভারতের জন্য। যা দাঁড়াচ্ছে, ইতিহাসে নতুন য়অধ্যায় যোগ করার হাতছানি ধোনিদের সামনে । আট ম্যাচে আট জয়, আশি উইকেট হবে কি ?

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 18 =

You might also like...

land phone

এভাবে মজা করা ঠিক হয়নি

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk