Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

নরেন মুদির মন কি বাত

By   /  May 5, 2015  /  No Comments

আনন্দ সংবাদ। আনন্দ সংবাদ। কলকাতায় আসছেন নরেন মুদি। সেদিন আবার রবি ঠাকুরের জন্মদিন। সব বিষয়েই এত বকবক করেন। রবি ঠাকুর নিয়ে বলবেন না ? কলকাতায় আসার আগেই হয়ে গেল ‘মন কি বাত’। মুদির সেই ভাষণের স্ক্রিপ্ট লিখলেন  রবি  কর।।

 

মিত্রোঁ,

মে মাসের ৯ তারিখে কলকাতা যাচ্ছি। কেন যাচ্ছি, জানি না। যাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে, যাচ্ছি। আমি তো আর অন্যদের মতো নই, যে ঘরে বসে মাথা খাটিয়ে কাজ করব।আমার মাথার থেকে মুখ বেশি কাজ করে। আর মুখের বুলি দিক দিগন্তে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আজ অস্ট্রেলিয়া, তো কাল পুরুলিয়া ঘুরে বেড়াই। ঘুরে ঘুরে বুলি ঝাড়ি। আর যখন ঘরে থাকি, তখন ‘মন কি বাত’ বলতে থাকি।

সেদিন একটা বাঙ্গালি প্রবাদ শুনলাম, ‘ সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর’। এর মানে কী, জানি না (আমার রাজ্যে হেঁটো ধুতি পরা টাক মাথা, চরকা কাটা একটা বুড়ো ছিল। সে নাকি বাংলাকে ভালবেসে ভাষাটা একটু আধটু শিখেছিল। আমার অত সময় নেই)। কিন্তু শুনে বেশ ভাল লাগল। ভাবলাম, অনেকদিন বাংলায় যাইনি। যাই, ঘুরে আসি। কেন যাইনি, চুপি চুপি বলে রাখি, দিদি বলেছিল, কোমরে দড়ি বেঁধে আমাকে জেলে ঢোকাবে। বিশ্বাস নেই বাবা, সত্যিই যদি এমন কান্ড করে দেয়! তবে এখন দিদি বেশ নরম। এখন আর আমাকে অচ্ছুৎ মনে করছেন না। আমার সঙ্গে মিটিং করেছে। এবারও করবে। চিৎকার করে তাঁর দলবল সংসদ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এটাও তো পাশে থাকা। তাই এখন একটু সাহস হয়েছে। এবার বোধ হয় যাওয়া যায়।

modi2

যখন দিনক্ষণ ঠিক হয়, তখন জানতাম না, ৯ মে কী । এখন শুনছি, ওইদিন পঁচিশে বৈশাখ। রবি ঠাকুরের জন্মদিন। আরিস্সালা, রবি ঠাকুরের জন্মদিনে রবি ঠাকুরের শহরে আমি ?

আমার একটা আফশোস আছে, জানেন। আমি আমার সব পূর্বসূরীদের থেকে বেশি কথা বলি। দিনরাত কথাই বলি, তবু সবাই আমাকে বাগ্মী না বলে বাচাল বলে। আমি সবার থেকে বেশি পণ্ডিত, বেশি জ্ঞানী, কিন্তু কেউ আমাকে কোনও সাংসস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে ডাকে না। এমনকি বিশ্বভারতী, যা কেন্দ্রের টাকায় চলে, সেখানেও আমাকে  সমাবর্তনে ডাকে না।

কিন্তু এবার  মওকা পেয়েছি। পঁচিশে বৈশাখ শহরে গিয়ে এমন ভাষণ দেব, যে ট্রাফিক সিগনালের রবীন্দ্র সঙ্গীত ভুলে লোকে আমার বাণী শুনবে। সেই ভাষণ দেওয়ার জন্য এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু করেছি। আমার দলের যারা বাংলা বোঝে, তাদের বলেছি, রবীন্দ্রনাথের ছোটদের ছড়া দিয়ে শুরু কর। বড়গুলো পরে হবে।

একটা ছড়া শুনে, মিত্রোঁ, আমি চমকে উঠেছি। দামোদর শেঠ। লিখেছে, ্ল্পেতে খুশি হবে দামোদর শেঠ কি ! আরে, আমার নামে তো দামোদর আছে। আমার রাজ্যের লোকেদেরই তো শেঠ বলে। আমি অল্পে খুশিও হই না।  তাহলে কি রবীন্দ্রনাথ আমাকে নিয়েই কবিতা লিখেছিলেন! এই তো, লিখেছেন, কাঁকড়ার ডিম চাই, চাই যে গরম চা। কী কাণ্ড, আমি যে চা বিক্রি করি, তাও রবি ঠাকুর জানতেন। জয় হো গুরুদেব, জয় হো। আগে জানলে, প্যাটেলের বদলে রবি ঠাকুরের ২৮২ ফুট উঁচু মূর্তি বসাতাম।

ভাবছি, আপনাদের বাপ্পিদাকে বলে, দামোদর শেঠ কবিতাটায় সুর লাগিয়ে, স্কুলে স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীত করে দেব। বাপ্পিদার সুরে রবীন্দ্রনাথের গান, হেব্বি জমবে।

‘উলালা উলাল্লা উল্লালা উল্লালা

তু হি  সন্ধ্যার মেঘমালা’

যাই হোক, গানের কথা পরে হবে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার মিল নিয়ে আগে আলোচনা করি। রবীন্দ্রনাথের গালে দাঁড়ি, আমারও গালে দাঁড়ি। কানাঘুসো শুনেছি,  রবীন্দ্রনাথের এক জামাইয়ের নাম ছিল নরেন। তা, রবীন্দ্রনাথের কবিতায় বরের বর্ণনার সঙ্গে আমার চেহারার বেশ মিল আছে।

‘বর এসেছে বীরের ছাঁদে

বিয়ের লগ্ন আটটা

পিতল আঁটা লাঠি কাঁধে

গালেতে গাল পাট্টা।’

হেঁ হেঁ, আমারও তো গালে গালপাট্টা আছে। মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ স্বপ্নে আমার কথা জানতে পেরেছিলেন।

আবার ধরুন, রবীন্দ্রনাথ স্বচ্ছ ভারত মিশনের সমর্থক ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আজ মঙ্গলবার। পাড়ার জঙ্গল সাফ করার দিন।’ এবার থেকে এটাকেই স্বচ্ছ ভারত মিশনের স্লোগান করে দেব।

একজন গোঁড়া হিন্দু আমার কানে বিষ ঢালতে এসেছিল। বলে, রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষরা একসময় মুসলমান ছিলেন। দিয়েছি তাকে ঘাড়ধাক্কা। মুসলমান ছিল! এখন তো নেই। এ তো ঘর ওয়াপসি হল, না কি!

আসলে, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কতরকমের ভুল প্রচার যে চলে! আমি যখন সাদা জামা আর খাঁকি হাফ প্যান্ট পরতাম, তখন গুরুজি, হেগড়ে, নেকড়ে এরা শেখাতো, জনগণমন গানটা নাকি ইংল্যান্ডের রাজাকে নিয়ে লেখা। তাই গানটা জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার উপযুক্ত নয়। গানটার মানে আমি আজও বুঝি না। কিন্তু ভাবি, ইংল্যান্ডের রাজাকে নিয়ে লেখা বলেই তো জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার যোগ্য। আমিও তো চাই, ইংল্যান্ড- আমেরিকা আমাদের ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠুক।

রবি ঠাকুরের সব লেখার সঠিক ব্যাখ্যা চাই, বুঝলেন, সঠিক ব্যাখ্যা। এই যে বিসর্জন নাটকে পশুহত্যা বন্ধ করতে বললেন, এর উদ্দেশ্য কী ছিল ? আসল উদ্দেশ্য ছিল, মুসলমানদের গো হত্যা বন্ধ করা।

রবি ঠাকুর ‘আর্য ও অনার্য’ প্রহসনে লিখেছিলেন, ইংরেজরা যে স্নানের পরে গায়ে তোয়ালে ঘসে, তা আসলে আর্যদের আবিষ্কার।’ ‘প্রত্নতত্ব’ প্রহসনে , প্রাচীন ভারতে গ্যালভানিক ব্যাটারি ও অক্সিজেন বাষ্প ছিল কিনা তা নিয়ে লিখলেন। বিশ্বভারতী ভুল করে এই লেখাগুলিকে ব্যঙ্গকৌতুক বলেছে। কিন্তু আমি বলছি, এগুলি সিরিয়াস লেখা। আগামী বিজ্ঞান কংগ্রেসে আমি এগুলোই পড়ব।

একটাই ভুল করেছেন রবি ঠাকুর। দুই বিঘা জমিতে যে জমিদার উপেনের জমি কেড়ে নিয়েছিল, তার নামটা লিখে যাননি। আচ্ছা, আপনারা তো এত রবীন্দ্রনাথ পড়েছেন, বলুন তো, সেই জমিদারের নাম কী ছিল ? আরে, সেই জমিদার ছিলাম আমি। উপেনের ইচ্ছা থাক বা না থাক, ও জমি লইব কিনে। এ তো আমারই কথা। এই জন্যই তো আমি বিল আনছি। সবাই বুঝছে, আপনাদের দিদি বুঝছে না। বলছে বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী। দিদি আসলে, বিলটার মানেই বোঝেনি। এবার একান্তে একটা বৈঠক হওয়ার কথা। দিদিকে বুঝিয়ে দেব। আরে বাবা, আমি উপেনের জমি নেব, তোমার জমি তো নেব না। তোমার জমি তো ছেড়েই রেখেছি। তাই তো হারুল সিনহাকে এখানে বসিয়ে রেখেছি, যে কাজের কাজ কিছুই করবে না, শুধু প্রেস কনফারেন্স করবে। তাই তো সিবিআইকে বলেছি, শীত ফুরোলেও ঘুমিয়ে থাকা যায়। তাই তো গাছে গাছে মুকুল এলেও আমরা ওদিকে তাকাইনি। তাই তো, ইচ্ছে করেই ভোটে বাহিনী পাঠাইনি। আর কীভাবে সিগনাল দেব, দিদি! এত বুদ্ধিজীবী তবু এই সামান্য বুদ্ধিটুকু কেউ দিতে পারছে না!

দেখি, রবি ঠাকুরের জন্মদিনে ভাল করে বোঝাতে হবে। বোঝাব, দিদি, তোমার জমি আমি নেব না।

না বুঝলে ভরসা সেই রবীন্দ্রনাথ। গুরুদেবের ভাষাতেই বোঝাব, ‘দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে।’

দিদি রবি ঠাকুরের এই কবিতা বলে। এটা কখনও বলে না। আমি বুঝিয়ে দেব। তারপর দেখবেন, দিদি শুধু এই কবিতাটাই মনে মনে বলছে।

জয়, রবি ঠাকুরের জয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 4 =

You might also like...

amitabh2

কী ভেবেছিলেন, গুরুং খাদা পরিয়ে বরণ করবেন!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk