Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  দক্ষিন বঙ্গ  >  Current Article

পর্ষদ যে কত অপদার্থ, ফের বোঝা গেল

By   /  February 1, 2017  /  No Comments

রক্তিম মিত্র

দুর্নীতি সব জমানাতেই কম–‌বেশি থাকে। স্বজনপোষণ থাকে। দলের লোকেদের, আত্মীয়দের প্রতি একটা পক্ষপাতিত্ব থাকে। এমনকি টাকা পয়সার খেলাও থাকে। ছবিটা আটের দশক বা নয়েক দশকেও ছিল। এসব ছিল বলেই স্কুল সার্ভিস কমিশন আনতে হয়েছিল। এটা সবাই স্বীকার করবেন, এস এস সি চালু হওয়ার পর এই দুর্নীতি ও টাকা–‌পয়সার খেলা সেভাবে শোনা যেত না। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে হয়ত অভিযোগ আসত। তবে তা নেহাতই সামান্য।

এখনও একটু আধটু দুর্নীতি থাকবে, এতে বিরাট আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু এখন নিয়োগ নিয়ে এমন এমন কাণ্ড ঘটছে, যা সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। প্রতিটি পদক্ষেপেই পরিষ্কার, স্বছতার ন্যূনতম আবরণটুকুও নেই। এই নিয়োগ নিয়ে আবার যদি আইনি জট তৈরি হয়, অবাক হওয়ার কিছু নেই। হয়ত সেটাই হতে চলেছে।

school teacher

বারো লাখের উপর ছাত্র ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। তাদের মধ্যে কতজন কোন জেলার, কত পার্সেন্ট পাস, কত পার্সেন্ট রেগুলার, কত পার্সেন্ট ফার্স্ট ডিভিশন, কত পার্সেন্ট স্টার— সব বলে দেওয়া যায়। অথচ, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ টেটের রেজাল্টের পর এটাই বলতে পারল না কতজনের ট্রেনিং আছে, কতজনের নেই। আদালত বারবার জানতে চাওয়ার পরেও জানানো গেল না। টাকা তোলার রাস্তাটা তো এখানেই দেখিয়ে দেওয়া হল।

হঠাৎ করে প্রথম দফার বারো হাজেরর পল ঘোষণা হল। কিন্তু আগাগোড়াই ধোঁয়াশা। বারো লাখ ছাত্র–‌ছাত্রী জানতে পারে, তারা পাস করেছে কিনা। আর এখানে মাত্র বারো হাজার । তাঁদেরও জানার উপায় নেই। কবে তার মোবাইলে মেসেজ আসবে, কবে তার ইনবক্সে ইমেল আসবে, সেই অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে। অনেকে হয়ত নম্বর বদল করেছেন। অনেকের হয়ত সিম হারিয়ে গিয়েছে। তাঁরা কী করে জানবেন?‌ পর্ষদের ওয়েবসাইটে রোল নম্বর দিয়ে কেন একজন পরীক্ষর্থী তাঁর ফলাফল জানতে পারবেন না?‌ এটুকু পরিকাঠামো পর্ষদের নেই?‌

বলা হচ্ছে, প্রশিক্ষণ থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাঁদের প্রশিক্ষণ আছে এবং যাঁরা টেট উত্তীর্ণ, তাঁদের সবাইকে নেওয়া হয়েছে?‌ পরিষ্কার করে কিছু বলা হচ্ছে না। অন্তত কোনও কাগজে চোখে পড়ল না। কারণ, প্রশিক্ষণ পাওয়া কজনকে ডাকা হয়েছিল, সেই সংখ্যাটাই তো পর্ষদ জানাতে পারেনি।

দ্বিতীয় তালিকায় কাদের নাম আছে, তা কি পর্ষদ গোপন রাখতে পারবে?‌ সেই বিশ্বাসযোগ্যতা পর্ষদ সভাপতির আছে?‌ সেই তালিকা অনেকের কাছেই হয়ত পৌঁছে গিয়েছে। আবার টাকা তোলার পর্ব শুরু হয়ে যাবে না তো?‌ যারা বারো হাজার নাম জানাতে পারল না, তারা কাউন্সলিং ঠিকঠাক করতে পারবে?‌ সেই ব্যবস্থা আছে তো ?‌

কাদের হল, কীসের বিনিময়ে হল, এখনই হয়ত জানা যাবে না। যাঁদের টাকা দেওয়া সত্ত্বেও হল না, সেই বিক্ষোভটাও এখনই সামনে আসবে না। যাঁদের প্রথম তালিকায় নাম নেই, তাঁদের আশ্বস্ত করা হবে, পরের তালিকায় থাকবে। সেখানেও যাঁদের থাকবে না, তাঁদের বলা হবে, আরও অপেক্ষা করো। এই তালিকায় অনেক প্রভাবশালীর আত্মীয়দের নাম হয়ত রইল না। তাঁদের চাপ আরও জোরালো হবে। নানা প্রভাবশালীর ফোন আসবে। তখন পর্ষদের দ্বিতীয় তালিকা বদলে যাবে না তো ?‌ যে পর্ষদ সভাপতি প্রকাশ্য সভায় ঘোষণা করতে পারেন, আগে বামেদের চাকরি হয়েছে, এখন তৃণমূলেরই চাকরি হবে, তাঁর কাছে কতখানি স্বচ্ছতা আশা করা যায়?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + seven =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk