Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  রাজ্য  >  Current Article

প্রশান্তরঞ্জনের পেছনে একদম লাগবেন না

By   /  April 30, 2015  /  No Comments

 

প্রশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়। নামটা চেনা চেনা। তবে কাল্পনিক। হোক না কাল্পনিক, সবাই তাঁকে দুষছেন। কেউ বলছেন মেরুদন্ডহীন। কেউ বলছেন অযোগ্য। সেসব কুৎসায় ছাই ঢেলে প্রশান্তরঞ্জনের পাশে দাঁড়ালেন শুধুমাত্র রবি কর।

 

হল তো ? ভাল হল ? কত করে সবাইকে বলেছিলাম, দুধের বাছার পেছনে এমন করে লাগিস না। তা না, কর্তাভজা, মেরদন্ডহীন, পাল্টিবাজ, অযোগ্য- যে যা পারল, বলে গেল। নেহাত ভাল মানুষ বলে এতদিন কিছু বলেননি। রেজাল্ট বেরোনোর পরেই বললেন, পদত্যাগের কথা ভাবছি। নে, একবার পদত্যাগ করলে, কার পেছনে লাগবি লাগ। কার কথার খুঁত ধরবি, ধর।

এই যেমন বেঙ্গল টাইমসের এডিটর। বারবার বললাম, স্যার, প্রশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়কে নিয়ে বাঁকা-ট্যারা কিছু লিখবেন না। হাজার হোক, তিনি নির্বাসন কমিশনার (মানে, যে কমিশনারের নির্বাসনে গেলেই হয়, থাকা না থাকা সমান)। কে কার কথা শোনে! অফিসে আসা মাত্রই রবিবাবু, ব্যর্থ চট্টোপাধ্যায়ের পেছনে যেভাবে লেগেছিলেন, প্রশান্তরঞ্জনের পেছনেও তেমন লাগুন।

পরদিন বললেন, ও রবিবাবু, বদন মিত্র, অরিজিৎ করকায়স্থকে যেমন হ্যাটা করলেন প্রশান্তরঞ্জনকেও তেমন করুন।

vote symbol1

 

কেন রে ? আমি সাংবাদিক না ছারপোকা, যে দিনরাত লোকের পেছনে চিমটি কাটব ? আমার কলমটা কলম না বাঁশ, যে সবার পেছনে গুঁজতে হবে। তাও চাকরি বাঁচানোর দায়ে মন দিয়ে শুনলাম নির্বাসন কমিশনার কী বলেন। বললেন, আদর্শ পরিবেশ ছিল না। লিখে ফেললুম। কিন্তু লেখা দেখেই এডিটর বললেন, সে কী ! উনি তো বলেছেন, কোনও অভিযোগ নেই। টিভি চ্যানেলে দেখি, সত্যিই তো, প্রশান্তবাবু বয়ান বদলে ফেলেছেন। আমিও লেখাটা পাল্টে ফেললাম।

ও মা, লেখা শেষ হতে না হতে দেখি, আবার বয়ান বদল হয়েছে। এডিটর বললেন, লিখুন, রবিবাবু, লিখুন। আবার পাল্টি  খেলেন সুশান্ত, থুড়ি প্রশান্ত।

মাথা গরম হয়ে গেল। এতে আবার পাল্টি খাবার কী আছে ? যে কোনও সত্যনুসন্ধানী ব্যক্তি পূর্বের ভুলকে ঝেড়ে ফেলে নতুন সত্যের পথে এগিয়ে যায়। এই যে ভগবান বিষ্ণু, একবার মাছ, একবার শুয়োর, একবার নৃসিংহ নানান মূর্তি ধরেন, একে কি পাল্টি খাওয়া বলে ! আসলে, ধর্মের কথা আপনারা কিছুই বোঝেন না। এই যে সারাদিন সারদা সারদা করেন, রামকৃষ্ণকে নিয়ে কখনও ভেবেছেন ! তিনি বলেছেন, যত মত, তত পথ। মত মানে কী ? হিন্দিকে মত মানে ভোট। অর্থাৎ, মালকিন যত ভোট চাইবে, তত পথ করে দিতে হবে। তাতে ভোটের হার ১৪০ পারসেন্ট হলেও কিছু করার নেই।

আচ্ছা, ধর্মের কথা বাদ দিন। বিজ্ঞানের কথা ভাবুন। অভিযোজন মানে কী ? পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। এটা যে প্রাণী যত ভাল করতে পারে, তার যোগ্যতমের উদ্বর্তন হয়। এটাই অ্যানিম্যাল কিংডমের নিয়ম। আমাদের কিংডম না কুইনডমে প্রশআন্তরঞ্জনের থেকে যোগ্য অ্যানিম্যালে নেই। কারণ, তিনি প্রতিদিন নিজেকে অভিযোজিত করেন। এতে পাল্টি খাওয়ার কী আছে ?

কিন্তু মাথামোটা এডিটরগুলো না বোঝে ধর্ম, না বোঝে বিজ্ঞান। আর কী ভাষা! বলে নাকি, রাজ্যপালকের কাছে সব খুলে বললেন প্রশান্ত। আরে অসভ্য, অশ্লীল। প্রশান্তরঞ্জন কি সানি লিওন যে সব খুলে বলবেন ! যে কোনও ভদ্রসন্তানই যা বলে, ঢাকাঢুকি দিয়ে বলে।

আমাদের ইস্কুলে একবার এক কান্ড হয়েছিল। একটি ছেলে আমাকে বলেছিল হারামজাদা। আমি স্যারের কাছে শব্দটি উল্লেখ করে নালিশ করেছিলাম। স্যার আমাকেই স্ট্যান্ড আপ অন দি বেঞ্চের উপর’ করে দিয়েছিলেন। একেই বলে সুশিক্ষা, বুঝলেন! সুশিক্ষা। নিজেদের মধ্যে কী হয়েছে, তা নিয়ে হাটে হাড়ি ভাঙতে নেই। একবার ভুল করে বলে ফেলেছিলেন, অনিয়ম হয়েছে। তারপর সুশিক্ষা পেয়েই পি ডব্লু ডি, মানে পাছা উল্টে ডিগবাজি।

তা এমন সুশিক্ষা কে দিলেন ? কেন, ব্যর্থ চাটুজ্জে। ব্যর্থবাবুর শিষ্য কে জানেন তো ? ছাড়াবুল ইসলাম। অধ্যাপকদের জলের জগ ছোঁড়া তাঁর  হবি। ব্যর্থবাবু অভিধান খুলে প্রশান্তরঞ্জনকে বুঝিয়ে দিলেন, তোমার পদবী উপাধ্যায়। মানে অধ্যাপক। ছাড়াবুল ছাড়া পেয়ে যদি তোমার দিকে জলের জগ ছুঁড়ে মারে, তখন কিন্তু আমি সামলাতে পারব না। এর পরে সুর বদলে না করে প্রশান্তবাবুর কিছু করার ছিল ?

এডিটরগুলো এমন গাধা, বলল নাকি চাপে পড়ে সুর বদল। ওরে চাপ নয়, চাপ নয়, একে বলে কৃতজ্ঞতা। কথায় আছে, জন্মদাতা, অন্নদাতা আর শিক্ষাদাতা সমান মর্যাদার  অধিকারি। এই যে প্রশান্তবাবু রাজ্যস্তরের অফিসার হয়েও নির্বাসন কমিশনার হলেন। এই রীতির জন্মদাতা কে ? ব্যর্থবাবুরা। চাকরিসূত্রে তিনি কাদের অন্ন  খান ? ব্যর্থবাবুদের ? আর সুশিক্ষার কথা তো আগেই বলেছি। তাহলে ? কৃতজ্ঞতা শুধু নয়, ট্রিপল কৃতজ্ঞতা। যেন ঘাসফুলের তিনটে পাপড়ি।

vote symbol2

এত করে বোঝানোর পরেও মুখপোড়া এডিটর হাল ছাড়ে না। বলে, লোকদেখানো কেন্দ্রীয় বাহিনী আর ছত্রিশটা বুথে নতুন করে চু কিতকিত খেলার কী দরকার ছিল বুঝি না।

আরে বাবা, সেটা বুঝলে তো আপনিই নির্বাসন কমিশনার হয়ে যেতেন । প্রশান্তবাবুর হিসেব ছিল, সাপও মরবে না, অথচ, লাঠিও ভাঙবে। মাত্র ৩১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, তাও শুধু টহল দেবে। এতে কোনও সাপই মরবে না। আবার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও অকেজো হবে । অর্থাৎ, লাঠি ভাঙবে। কিন্তু মানুষের কপালে সুখ সয় না। এত সাবধানী হওয়া সত্ত্বেও তরমুজ মুখার্জির বোন, গণবিবাহ পাল, ইত্যাদি কিছু সাপ মরে গেল। শিলিগুড়িতেও হামাগুড়ি দিতে হল। এই নিয়ে ব্যর্থবাবু, ববি জালিমরা নিশ্চয় দু কথা শুনিয়েছেন।

বিরোধীদের গালাগাল তবু সহ্য হয়। ঘরের লোক যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়! একদিকে মিডিয়ার সমালোচনা। মিডিয়ার একটানা অপপ্রচার তো আছেই। সব মিলিয়ে উপাধ্যায় ইস্তফার কথা ভাবছেন।

এদিকে, এডিটরও তাড়া দিচ্ছে। ইস্তফা দেওয়ার আগেই লেখাটা লিখে ফেলি। একবার ইস্তফা দিয়ে দিলে লেখাটার আর কোনও ভ্যালুই থাকবে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + twelve =

You might also like...

land phone

এভাবে মজা করা ঠিক হয়নি

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk