Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

বাইচুংয়ের সুরেই সুর মেলালেন অভয় কুমার

By   /  January 16, 2017  /  No Comments

মনে পড়ে অভয় কুমারকে?‌ এক সময় মোহনবাগানে খেলে গিয়েছেন। আপাতত তিনি বাগানের অনূর্ধ্ব ১৪ দলের দায়িত্বে। কোন খাতে বইছে ভারতীয় ফুটবল?‌ দুই লিগ কি মিলিয়ে দেওয়া উচিত?‌ এমন নানা বিষয়ে খোলামেলা মতামত জানালেন সেই অভয় কুমার। তাঁর মুখোমুখি শান্তনু ব্যানার্জি।।
অনূর্ধ্ব-১৪ মোহনবাগান ক্ষুদেদের ফুটবল প্রশিক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রাক্তন ফুটবলার অভয় কুমার। একান্ত এক সাক্ষাৎকারে অকপটভাবে বর্তমান ভারতীয় ফুটবল নিয়ে নিজের অভিমত রেখেছেন প্রাক্তন এই সবুজ মেরুন ফুটবলার।

প্রশ্নঃ ইন্ডিয়ান সুপার লিগ এবং আই লিগ এর সংযুক্তিকরণের বিষয়ে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের চিন্তা ভাবনা নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া?
অভয় কুমারঃ এ্যাট প্রেজেন্ট আমাদের দেশে আই এস এল লিড করছে। আই এস এলে গ্ল্যামার, অর্থ দুটোই বেশি। এর পাশাপাশি নিজেকে এক্সপোজারের সুযোগ বেশি ভারতীয় ফুটবলারদের ক্ষেত্রে। কারণ ভারতীয় ফুটবলারেরা বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে এবং বিদেশি কোচদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণের সুবিধা পাচ্ছে। যা একটা পজিটিভ দিক। আমার মনে হয় বর্তমান সময়ে এ আই এফ এফ ইন্ডিয়ান সুপার লিগকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফেডারেশন আই এস এলের সঙ্গেই আই লিগের ওপরেও গুরুত্ব রেখে চলেছে। আই লিগ আমাদের পুরনো সেট আপ। আই লিগকে হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়। ফেডারেশন আই এস এল এবং আই লিগ দুটোকেই সঙ্গে করে নিয়ে চলছে। দুটো টুর্নামেন্টেরই গুরুত্ব রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ আই এফ এফ এই দুটো লিগকেই ভালভাবে চালাচ্ছে। আগামী দিনে এর রেজাল্ট কি হয় এখন সেটাই দেখার।

Abhay_Kumar_3129-57aae9909a96a

প্রশ্নঃ ওয়ান সিটি ওয়ান টিম এই বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
অভয় কুমারঃ এই শহরে অনেক ক্লাব রয়েছে। ফলে সমর্থকেরা বিভিন্ন ক্লাব ব্যানারে ভাগ হয়ে যায়। এ আই এফ এফ এই বিষয়টির ওপরেও গুরুত্ব দিচ্ছে, “ওয়ান সিটি ওয়ান টিম”। কারন প্রত্যেক শহরে যদি একটি করে টিম থাকে তাহলে সমর্থকদের মেজরটি থাকবে ওই নির্দিষ্ট শহরের নির্দিষ্ট টিমের ওপরেই। আর ওই মেজরটি সমর্থক মাঠে আসবে ম্যাচ দেখতে। ওয়ান সিটি ওয়ান টিম এই থিওরি ইউরোপেও চলে আসছে। ফলে ফেডারেশন এইসব দেখেই একটা সিদ্ধান্তে পৌছতে চাইছে। আর এই কারণেই এ আই এফ এফ “ওয়ান সিটি ওয়ান টিম” এই বিষয়টিকে কভার করতে চাইছে। আমার মনে হয় ফ্যান ফলোয়িং কভার করার জন্য এই বিষয়টি ঠিক আছে।
প্রশ্নঃ কলকাতার মতো শহরে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের মতো লক্ষাধিক ফ্যান ফলোয়ার রয়েছে সেই শহরে ওয়ান সিটি ওয়ান টিম এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হবে?
অভয় কুমারঃ আই এস এলে এটিকের ম্যাচে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোটিং এর সমর্থকেরা এটিকেকে সমর্থন জানায়, এটা আমার মনে হয়। আর এটিকে যেহেতু আমাদের শহরের দল তাই এই টিমকে সমর্থন করা উচিত। আমার মনে হয়, ওয়ান সিটি ওয়ান টিম থাকলে ফ্যান ফলোয়িং এক জায়গায় আসবে। স্টেডিয়ামে ভিড় হবে। ওয়ান সিটি ওয়ান টিম এই থিওরি না থাকলে মোহনবাগান ম্যাচে সবুজ মেরুন সমর্থকেরাই যাবে। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে শুধু লাল হলুদ সমর্থকেরাই যাবে। কিন্তু ওয়ান সিটি ওয়ান টিম থাকলে কলকাতার সমস্ত ক্লাবের সদস্যরা মাঠে যাবে এবং এটিকের জন্য গলা ফাটাবেন।
প্রশ্নঃ ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান নামের সঙ্গে “আবেগ” জড়িয়ে আছে। ওয়ান সিটি ওয়ান টিম বিষয়টি উঠে আসলে আবেগের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়ে যাবে না কি?
অভয় কুমারঃ নতুন জিনিসকে এ্যাডপ্ট করার বিষয়ে কিছু অসুবিধা থাকবে। সময় লাগবে নতুন জিনিসকে গ্রহণ করে নিতে। আমি মনে করি ফেডারেশনের লজিক হল ওয়ান সিটি ওয়ান টিম হলে যে শহরের টিম ম্যাক্সিমাম সার্পোট ওই শহর থেকে পেয়ে যাবে। কিন্তু একই শহরে অনেক টিম থাকলে সমর্থকেরা বিভিন্ন ক্লাব দলে ভাগ হয়ে যায়। ওয়ান সিটি ওয়ান টিম থাকলে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান আর মহামেডান স্পোটিং এর সমর্থকদের মিলিয়ে দিলে কম করে স্টেডিয়ামে দেড় লক্ষ দর্শক চলে আসবে। আমার মনে হয় ফেডারেশন এইসব চিন্তা করেই ওয়ান সিটি ওয়ান টিম বিষয়ে এগোচ্ছে। এই বিষয়টিতে সময় লাগবে। “বেটার রহেগা, নট এ ব্যাড আইডিয়া”।
প্রশ্নঃ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারতের সম্ভাবনা কতদূর?
অভয় কুমারঃ যুব বিশ্বকাপে ভারতে সম্ভাবনা নিয়ে এখনও বলার সময় আসেনি। তবে এই ইন্ডিয়া টিম থেকে এইটুকু আশা রাখি টিমের ছেলেরা পজিটিভ ফুটবল খেলবে। ছেলেদের খেলায় একটা ফাইটিং স্পিরিট দেখা যাবে। নিজেদের দেশের মাটিতে টিম ইন্ডিয়ার ছেলেরা খেলবে তাই হোম অ্যাডভান্টেজ ছেলেরা পাবে, পাবলিক সার্পোট পাবে। আর তাই ছেলেরা ম্যাচে ফাইটিং স্পিরিট দেখাবেই। আর তাছাড়া অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ভারতীয় ফুটবলের কাছেও একটা বড় বিজ্ঞাপন। আমাদের দেশেও ইয়ুথকে সঙ্গে করে নিয়ে ফুটবল নিয়ে চর্চ্চা চলছে। টিম ইন্ডিয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে কিছু বলতে না পারলেও দেশের মাঠে ছেলেরা ভাল খেলা প্রদর্শন করবে আশা রাখি।
প্রশ্নঃ চলমান আই লিগে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে এমন দল হিসেবে আপনি কাদের দেখছেন?
অভয় কুমারঃ বেঙ্গালুরু এফ সির স্ট্রং সেট আপ রয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিএফসি খেলায় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে। বিগত টুর্নামেন্টে বেঙ্গালুরু এফ সি নিজেকে প্রথম দুইয়ের তালিকায় রেখেছে। এছাড়া মুম্বই এফ সি রয়েছে। মিনার্ভা পাঞ্জাব এফ সি আই লিগে নতুন টিম। শোনা যাচ্ছে, এই টিম আই লিগের জন্য বেশ ভালই প্রস্তুতি নিয়েছে। এই দলের ফুটবলারেরা বেশ ভালোই খেলছে। আগামী দিনে এই টিমগুলো ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানকে আই লিগে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে এটা আমার মনে হয়।
প্রশ্নঃ পরিকাঠামোগত দিক দিয়ে মোহনবাগান ক্লাবের ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট পোগ্রাম কতটা এগিয়ে আর কতটা উন্নতির প্রয়োজন?
অভয় কুমারঃ ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরে মোহনবাগান আকাডেমি চলছে। ওই আকাডেমিতে অনূর্ধ্ব-১৭ এবং ১৯ দুটো বয়স ভিত্তিক ছেলেদের নিয়ে কাজ চলছে। এর বাইরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কলকাতায় একটা সেট আপ তৈরির চেষ্টায় রয়েছে। কলকাতায় অনূর্ধ্ব- ১৩ এবং ১৬ বয়স ভিত্তিক ছেলেদের ফুটবল প্রশিক্ষণের কাজ করতে চাইছে। তবে এই বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যেই আটকে আছে। ইয়ুথ ডেভলপমেন্টকে কেন্দ্র করে মোহনবাগান ক্লাব কর্তৃপক্ষ চিন্তা ভাবনা করে চলেছে।
প্রশ্নঃ ফেডারেশনের লিগ সংযুক্তিকরণের বিষয়ে নীল নকসায় নয়া লিগ ইন্ডিয়ান সুপার কাপে অবনমন থাকবে না। কিন্তু আই লিগ-১ এবং আই লিগ-২ এই দুই টুর্নামেন্টে অবনমন থাকবে। এই বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া?
অভয় কুমারঃ আই এস এলে খেলার জন্য একটা টিমের যে ধরনের পরিকাঠামো এবং ব্যাক আপ থাকা প্রয়োজন তা যদি থাকে তাহলে আই লিগ-২ থেকে আই লিগ-১ এবং নয়া লিগ ইন্ডিয়ান সুপার কাপে খেলার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা থাকবে না। যদি টিমগুলোর নয়া লিগে খেলার মতো সেট আপ ও ব্যাক আপ না থাকে তাহলে নয়া লিগ খেলতে নেমে টিমগুলো টেকনিক্যাল সমস্যায় পড়ে যেতে পারে। আর এই কারনেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন নয়া লিগে অবনমনের বিষয়টি রাখছে না। আমি বাইচুং ভুটিয়ার কথার সূত্র ধরেই বলছি, বাইচুং ভুটিয়া নিজের জায়গায় সঠিক। কারণ মোটিভেশন না থাকলে আমরা এগিয়ে যাব কীভাবে? আমরা আই লিগে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছি, কিন্তু আর এগিয়ে যেতে পারছি না। তাহলে আমার মোটিভেশন লেভেল কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেখা যাচ্ছে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকছি। আমার মনে হয় এ আই এফ এফ নয়া লিগে কয়েক বছরের জন্য অবনমন রাখবে না। তারপর ৫-৬ বছর পরে ফেডারেশন আই লিগ-২ এবং আই লিগ-১ থেকে টিমগুলোকে ওপরে উঠে আসার সুযোগ তৈরি করে দেবে। কারণ নয়া লিগ খেলার মতো সেট আপ ও ব্যাক আপ ততদিনে গরে নিতে পারবে আই লিগ-২ ও আই লিগ-১ টুর্নামেন্ট খেলা ফুটবল টিমগুলো। এখন যদি হঠাৎ করে নয়া লিগে সমস্ত টিমগুলোকে নিয়ে আসা হয় তাহলে হয়তো টিমগুলো নয়া লিগে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে না। সেট আপ ও ব্যাক আপের অভাবের জন্য। আর এই কারণেই এ আই এফ এফ নয়া লিগে অবনমন রাখছে না। আর বাইচুং ভুটিয়া নিজের অবস্থানে সঠিক। কারণ নীচের টিম ওপরে উঠতে না পারলে তারা মোটিভেশন পাবে কোথা থেকে। খেলার নিয়ম কানুনের মধ্যেও সমতা বিধানের জন্যেও নয়া লিগে অবনমন না থাকাটা সঠিক। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে একটা টিমের যা বাজেট হয়, প্রথম ডিভিশনের একটা টিম নয়া লিগে থাকলে কোন অবস্থাতেই দাঁড়াতে পারবে না। রিটার্নে সবকিছু চাই। তাই আমার মনে হয় নয়া লিগে অবনমনের বিষয়ে এ আই এফ এফ সঠিক এবং বাইচুং ভুটিয়া নিজের অবস্থানে সঠিক।
প্রশ্নঃ নিজের ফুটবল কেরিয়ারে আপনার সেরা মূহুর্ত?
অভয় কুমারঃ সবার আগে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই একটা আলাদা অনুভূতি হত। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব ‘ওয়ান অফ দ্য বেস্ট মোমেন্ট’। যেখানে আমার রিটার্ন কিছু চাই না। শুধুমাত্র জাতীয় দলের জার্সি পরে খেলতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + two =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk