Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

বুদ্ধিজীবী ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট

By   /  March 27, 2015  /  No Comments

অবশেষে তাঁর সন্ধান পাওয়া গেল। এতদিন কোথায় ছিলেন রবি কর ? জানা গেল, তিনি নাকি বুদ্ধিজীবী ম্যানেজমেন্ট স্কুল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সাংবাদিকতায় তাঁর মন নেই, তিনি নাকি চ্যানেলে চ্যানেলে বুদ্ধিজীবী সাপ্লাই করতে চান। বিশ্বাস হচ্ছে না ? তাহলে, তাঁর মুখেই শুনুন।

 

রবি কর

 

যা দিনকাল পড়েছে না, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-বহুজাতিক সংস্থার কর্মচারী, সবাইকে নিব্বংশ হয়ে মরতে হবে। নিব্বংশ- কারণ, যতই রোজগার করুক, গাড়ি-বাড়ি হাঁকাক, আগামি দিনে বিয়ের বাজারে এদের কেউ পাত্তা দেবে না। আর বিয়েই যদি করতে না পেলি, তাহলে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা কোন ভূতের বাবার শ্রাদ্ধে লাগবে শুনি?

একটু গুছিয়ে বলি। বেঙ্গল টাইমসে লিখে যা টাকা পাওয়া যায় তাতে সংসার চলে না। তাই ঠিক করেছি নতুন কিছু করব। এমন কিছু, যা কেউ কখনও করেনি, কিন্তু করলে সুপারহিট হবেই। অফিস থেকে মাস দুয়েক ছুটি নিয়ে নানান পরিকল্পনা করে শেষমেশ একটা মোক্ষম পথ খুঁজে পেয়েছি। আচ্ছা বলুন তো, আজকের দিনে বাঙালির সব থেকে বড় কেরিয়ার অ্যাম্বিশন কী? শিবরাত্রিতে বাঙালি যুবতী কেমন স্বামী কামনা করে ? কার্তিক পুজোর দিন তারা কেমন সন্তান চায় ? বছর কয়েক আগেও এর উত্তর ছিল সৌরভ গাঙ্গুলি। তার আগে উত্তমকুমার। তার আগে নেতাজি। কিন্তু ঠেকে শিখে বাঙালি  বুঝেছে, নেতাজি-উত্তম-সৌরভ হতে গেলে বিস্তর খাটুনি। ননীর শরীরে অত পোষাবে না। বিনা খাটুনিতে রমণীকুলের মন জয় করার একটাই উপায়, বুদ্ধিজীবী হওয়া।

 

এমনিতে বাঙালি মায়ের পেট থেকে বেরিয়েই বুদ্ধিজীবী হয়। চায়ের দোকানে, মাছের বাজারে, কমনরুমে, ক্যান্টিনে, সর্বোপরি ফেসবুকে বুদ্ধিজীবী গিজগিজ করছে। কিন্তু পাড়ার বুদ্ধিজীবী হলে তো সমাজে কলকে পাওয়া যাবে না, হতে হবে প্রকৃত বুদ্ধিজীবী। প্রকৃত বুদ্ধিজীবী হলেন তাঁরা, যারা সকাল-বিকাল টিভিতে মুখ দেখান। যে কোনও বিষয়ে বক্তব্য রাখার জন্য যাঁদের কোনও প্রস্তুতির দরকার হয় না, নিন্দুকে বলে বিষয়টি জানার প্রয়োজন হয় না, অন্যের কথা শেষ হওয়ার আগেই নিজের কথা বলতে যারা সুদক্ষ, হার নিশ্চিত জেনেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যারা হাঁউমাউ করে চেঁচাতে পারেন, তাঁরাই প্রকৃত বুদ্ধিজীবী। সমাজে এই বুদ্ধিজীবীদের কী দাপট!! সুমিতবাবু মস্তবড় লোক, চাইলে দশজনকে চাকরি দিতে পারেন। কিন্তু পাড়ার টেঁপা মস্তান চাইলেই তাঁর মাথায় চাঁটা মারতে পারে। অথচ আমাদের সৃজন সরকার, সামান্য স্কুল মাস্টার, কেউ তাঁর গায়ে হাত তুলুক তো! হ্যায় কোই মায়ি কা লাল ? এই যে কলেজে, কলেজে অধ্যাপকরা এত মার খায়, নির্মলশঙ্করবাবু বা দেবপরায়ণবাবুকে কেউ কিছু বলে? বলে না, কারণ তাঁরা টিভিতে বসেন।

buddhi jibi sketch2

সেদিন খবরের খোঁজে গেছি একটা জেলার স্কুলের স্পোর্টসে। দেখি go as you like-এ তিন-তিনজন বুদ্ধিজীবী সেজেছে। একজন মোমবাতি হাতে মিছিল করছে, একজন টেবিলে বসে চেঁচাচ্ছে, আর একজন “রাজ্যসভায় যাব, রাজ্যসভায় যাব” বলে কাঁদছে। বিচারক কনফিউসজড হয়ে গিয়ে তিনজনকেই ত্রুগ্মবিজয়ী ঘোষণা করে দিয়েছে। ফেরার পথে সেই স্কুলের এক ছাত্রের বাবা এসে বললেন, রবিবাবু আপনার চেনাশোনা কোনও টি ভি চ্যানেল আছে?

  • অনেক আছে। কেন বলুন তো?
  • এবার এই স্কুলে বাংলায় রচনা এসেছিল ‘বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও’। আমার ছেলে লিখেছে সে বড় হয়ে বুদ্ধিজীবী হবে। মাস্টার তাঁকে ১২তে মাইনাস ২ দিয়েছে। এই মাস্টারের বিরুদ্ধে একটা প্যানেল ডিসকাশন করা যায় না? আমি সেখানে যাব।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেছে আমাদের পাড়ার ক্লাব। তাদের এবছরের পূজার থিম ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে থাকুন’। প্যান্ডেল ফ্যান্ডেলের ঝামেলা নেই। থাকবে শুধু তিনটে টেবিল, প্রথম টেবিলে দুর্গা আর অসুর, দ্বিতীয়তে লক্ষ্মী- সরস্বতী, তৃতীয়তে কার্তিক-গণেশ। পুরুত ঠাকুর একবার এ টেবিলে, একবার ও টেবিলে ঘুরে ঘুরে পূজা করবে। ক্লাবের সেক্রেটারি বলেছে, ‘রবিদা, এমন একটা থিম। একটু বলে দেখুন না আমাকে যাতে ‘সজোরে সাতটা’ অনুষ্ঠানে ডাকে।’

 

অর্থাৎ সকলেই চাইছে বুদ্ধিজীবী হতে, টি ভি-তে মুখ দেখাতে। প্রাইভেট টিউটর থেকে শুরু করে সিরিয়ালের নায়িকা, ব্যান্ডের গায়ক, পাড়ার জলসার চুটকিশিল্পী সবাই বুদ্ধিজীবী হওয়ার জন্য হেদিয়ে উঠেছে। ভেবে দেখলাম ‘মানুষ মানুষের জন্য। রবি কর বুদ্ধিজীবীদের জন্য’। মানে, যারা বুদ্ধিজীবী হতে চায় তাদের জন্য। পাড়াটে বুদ্ধিজীবী আর ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর যেটুকু তফাত তা দূর করব আমি। আমি চালু করব দুনিয়ার প্রথম বুদ্ধিজীবী ম্যানেজমেন্ট কোর্স। আমার প্রতিষ্ঠানে যে কোনও বোকা-হাবাকে ঝাঁ চকচকে বুদ্ধিজীবীতে পরিণত করা হবে। তারপর তাদের টি ভি চ্যানেল, মেট্রো চ্যানেল, ইংলিশ চ্যানেল প্রভৃতি নানা জায়গায় সাপ্লাই করা হবে। একবার যদি এই পরিকল্পনা ক্লিক করে, বেঙ্গল টাইমসের মুখে নুড়ো জ্বেলে চলে যাব।

 

আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই পরিকল্পনা সফল হবেই। ভেবে দেখুন, পশ্চিমবঙ্গ হল মিডিয়ামাতৃক রাজ্য। এখানে চালু না হওয়া মিডিয়া চ্যানেলে কাজ করেও বছরের পর বছর মাইনে পাওয়া যায়। বর্তমানে বাংলায় ডজনখানেক নিউজ চ্যানেল। নামেই নিউজ চ্যানেল, খবর মেরে কেটে ৪ ঘণ্টা, বাকি ২০ ঘণ্টা বুদ্ধিজীবীদের বক্তিতে। মুশকিল হল, রাজ্যে প্রকৃত বুদ্ধিজীবী মানে টিভি-বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মেরেকেটে ২০, অথচ ঘটনার শেষ নেই। প্রতিমাসে গণ্ডা ছয়েক ধর্ষণ, ডজন বিশেক খুন, শ’দুয়েক দাঙ্গা আর  হাজারখানেক ডাকাতি ছাড়াও, কার মালা, কার লকেট কোথায় গেল? কার গালে দাড়ি গজাল? কার ভাইপো চড় খেল? কার ছেলে প্রণাম করল? আলোচনা করতে করতে বুদ্ধিজীবীদের মুখে ফেনা উঠে গেল। একই লোক একবার এ-চ্যানেলে একবার ও-চ্যানেলে, একবার শশী থারুর নিয়ে, একবার শশী কাপুর নিয়ে আলোচনা করছেন। একে রাজ্য শিল্প নেই, এস এস সি, প্রাইমারি কোনও পরীক্ষাই হচ্ছে না। বেকার যুবকরা যাবে কোথায় ? কর্মসংস্থানের দিকটা ভেবে দেখুন। কোথায় কোথায় বুদ্ধিজীবীর কর্মসংস্থান হতে পারে, একটু বুঝে নেওয়া যাক।

 

১) ছোট, বড়, মেজো- প্রায় সব চ্যানেলেই বুদ্ধিজীবী লাগে। আগে ছোট চ্যানেল দিয়ে শুরু করে, একটু লবি করলেই বড় চ্যানেলের ডাক আসতে পারে। ২) রাজনৈতিক দলে বুদ্ধিজীবী প্রার্থীর একটা চাহিদা আছে। সব দলে যা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আগামীদিনে সব দলই বুদ্ধিজীবীদের প্রার্থী করতে বাধ্য হবে। তাছাড়া, কয়েকবছর পরে বুদ্ধিজীবীদের জন্য আলাদা কোটা থাকতেই পারে। পাড়াটে বুদ্ধিজীবীরাও পঞ্চায়েত বা পুরসভায় টিকিট পেতে পারেন। ৩) মোমবাতি মিছিল, হোক কলরব, হোক চুম্বন- এমন কত সামাজিক আন্দোলন। এখানেও বুদ্ধিজীবীদের খুব চাহিদা। ৪) পুজো উদ্বোধনে বাজার বেশ ভাল, আগামীদিনে গৃহপ্রবেশেও বুদ্ধিজীবী লাগবে। ৫) বিয়ের কথা তো আগেই বলেছি, এমনকি প্রেমের ক্ষেত্রেও বুদ্ধিজীবীদের অগ্রাধিকার। ৬) সিনেমা, সিরিয়ালেও আগামীদিনে বুদ্ধিজীবীদের ডাক পড়বে।এই বাংলায় পোসেনজিতের থেকে শিক্ষক সৃজন সরকার কি কম জনপ্রিয় ? কিছু সিক্রেট থাকা দরকার। তাই, বাকি পরিকল্পনাগুলো আর বলছি না। তবে জেনে রাখুন, সেইদিন আসছে, যেদিন সর্বঘটে কাঁঠালি কলার মতো, রণে বনে জলে জঙ্গলে সর্বত্রই বুদ্ধিজীবী দরকার পড়বে।

buddhijibi sketch4

তাই বাজারে চাই নতুন বুদ্ধিজীবী। চাই বুদ্ধিজীবী তৈরির স্কুল। স্কুল বললে ব্যাপারটা ঠিক স্মার্ট হয় না। তাই ইনস্টিটিউশন বলাই ভাল। আমার ইনস্টিটিউশনে কে কোন বিষয় পড়াবেন মোটামুটি ভেবে রেখেছি। বুদ্ধিজীবী হওয়ার প্রথম ধাপ হল, অনর্গল কথা বলা, থুড়ি চেঁচানো। আয়ারল্যান্ডে এডমুণ্ড বার্ক নামে এক বাগ্মী ছিলেন, বিপিনচন্দ্র পালকে বলা হত ‘বাংলার বার্ক’। কিন্তু আজকের দিনে বাগ্মিতার কোনও প্রয়োজন নেই, শুধু ‘বার্ক’ করলেই হবে। এব্যাপারে আমার পছন্দের শিক্ষক হলেন প্রফেসর বঙ্কু। এমনিতে ‘প্রচার বিমুখ’। টিভিতে আসেন কম। কিন্তু যখন আসেন আসর মাতিয়ে দেন, অন্য কেউ বলার সুযোগই পান না। এরসঙ্গেই থাকবেন দিব্যজ্যোতি। তিনি আলোচনায় থাকেন সাংবাদিক হিসাবে। কোনও সাংবাদিক যে এত জোরে এবং এত বেশি কথা বলতে পারেন, না দেখলে পেত্যয় হয় না। অতিথি বুদ্ধিজীবীদের থামিয়ে দিয়ে পাগলা দাশুর নাটকের মতো একাই সব ডায়লগ বলে যান। নিজেই প্রশ্ন করেন, উত্তরটাও নিজেই দিয়ে দেন, একেবারে ধমক সহযোগে।

 

অধ্যাপক দেবপরায়ণ বাবুর সঙ্গেও সুকুমার রায়ের একটা চরিত্রের মিল আছে। তিনি এমনিতে চুপচাপ থাকেন। হঠাৎই ‘না, না, গত ৩৪ বছরে’ বলে এমন হাত পা ছুঁড়ে ওঠেন যে হেড অফিসের বড়বাবুর কথা মনে পড়ে। আমার ইন্টিটিউশনে তিনি ফিজিক্যাল অ্যাকটিং শেখাবেন। বুদ্ধিজীবীদের প্রতি মুহূর্তে মেগা সিরিয়ালের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়। খবরের চ্যানেলে যখন তাঁরা আসর সাজিয়ে বসেন, সেটা সিরিয়ালের পিক আওয়ার। অ্যাকটিং না জানলে লোকে খবরের চ্যানেল দেখবে কেন?

তাছাড়া নাটক-সিরিয়ালের অভিনেতা অভিনেত্রীরাও আজকাল বুদ্ধিজীবীর খাতায় নাম লিখিয়েছে। শুধু অভিনয়ে নয়, রূপেও তাদের টেক্কা দিতে হবে। আমার স্কুলে এই বিষয়টি দেখবেন বৈশালীদেবী। তিনি কোন কাননের ফুল, কোন গগনের তারা, কিছুই জানি না। হঠাৎ দেখি, যু্ক্তি তর্ককে, এমনকি সঙ্গে অর্ককেও, ম্লান করে দিয়ে তাঁর উদয় হয়েছে। সবার ফোকাস তাঁর দিকে। মন্দিরা বেদি যদি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হতে পারেন, তিনিই বা রাজনীতি বিশারদ হবেন না কেন! তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নেবে আমার স্কুলের ছাত্রীরা। সিনেমার নায়িকাদের মতো তাদের গয়না স্পনসর করবে মাসিচন্দ্র জুয়েলার্স। যখন কথা কয় না, তখন গা ভর্তি গয়না। অডিওর সঙ্গে ভিস্যুয়ালটা রাখতে হবে না!

 

তবে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সেরা হল যারা সুযোগ বুঝে পালটি খেতে পারে। কিন্তু পালটি খেলেও তাদের গলার জোর কমে না। শুনেছি  বড় বড় উকিলরা থেকে ভেবে রাখেন, বিরোধী পক্ষের উকিল কী যুক্তি দেখাতে পারে। সেই মতো তাঁরা পাল্টা যুক্তি তৈরি রাখেন। পালটি খাওয়া বুদ্ধিজীবীরাও তেমনি। সাদা দলে থাকার সময় যেসব কথা বলেন, তার পাল্টা বক্তব্য রেডি রাখেন। তাই কালো দলে গেলেও তাঁদের কোনও অসুবিধা হয় না। নিজের আগের কথা নিজেই তারস্বরে খণ্ডন করতে থাকেন। এব্যাপারে মাস্টারপিস হলেন জয়বিকাশবাবু। তিনি হবেন আমার স্কুলের অন্যতম শিক্ষক (সুর্বেদ রায় কি সেই তালিকায় নাম লেখাবেন! তখন তাঁকেও গেস্ট লেকচারার করা যাবে)। একইদিনে একসঙ্গে তিনটে চ্যানেলে দাপিয়ে বেড়ানোর প্রতিভা এই বাংলায় আর কজনের আছে! উনি ঠিকঠাক গ্রুমিংটা করতে পারবেন। বলতে পারবেন, বাম শিবিরে অনেক বুদ্ধিজীবী, ভ্যাকেন্সি নেই, তুমি বরং রাম শিবিরে যাও। হয়ত যোগাযোগও করিয়ে দেবেন।

 

কিছু কিছু বিষয় নিয়ে অবশ্য সমস্যায় পড়েছি। যেমন আইনজীবী, সমাজকর্মী। আইনজীবী কাম বুদ্ধিজিবি হতে হলে আগে আইন পাস করতে হয়। অবশ্য, একটা ভরসার কথা, আইন পরীক্ষায় নাকি কেউ কখনও ফেল করে না। অন্তত এমন দুর্লভ প্রজাতির কোনও মানুষ আমার চোখে পড়েনি। যদি আপনাদের চোখে পড়ে, জানাবেন, এক বিরল প্রজাতির বুদ্ধিজীবী পাওয়া যাবে।

 

এদিকে সমাজসেবী ঠিক কারা এবং তাঁরা কোন সমাজের কী সেবা করেন সেটাও ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মোটামুটি দেখা যায়, এরা সাদামাটা পোশাক পরে, এলোমেলো চুলে, চুপচাপ বসে থাকেন। বলার সুযোগ পেলে দাদা-দিদি-ভাই-ভাইপো- মাসি-মামা সবার নিন্দে করেন। সবাই ভুল। ঠিকটা যে কী তা নিজেরাও জানেন না।  দেখি যদি এমন কাউকে পাওয়া যায়।

 

যদি কাউকে না পাই, নিজেই যাব। আমার থেকে বড় সমাজসেবি কে আছে? আমার এই স্কুল তৈরি হলে এতদিনকার বুদ্ধিজীবীদের ওপর থেকে কত চাপ কমে যাবে ভাবুন তো! বঙ্গসমাজ তখন তরতর করে এগিয়ে যাবে। তখন নাট্যকাররা মনের সুখে ‘স্বজনখামার’ পালার রিহার্সাল দিতে পারবেন, কবি মন দিয়ে চেয়ার মুছতে পারবেন, সৃজন সরকার বনের মোষ না তাড়িয়ে দুবেলা টিউশন করতে পারবেন, সর্বোপরি হিতব্রত এবং হতরূপ মন দিয়ে ফেসবুক করতে পারবে। আহা এই টি ভি চ্যানেলগুলোর জ্বালায় তারা একটু মার্কসবাদী কায়দায় ফেসবুক করতেও পারছে না। আমি না দেখলে তাঁদের কে দেখবে?

 

তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সদর দপ্তরে প্রার্থীপদ নিয়ে কোনও মারামারিই হবে না। লোকসভা, বিধানসভা, পুরসভা, পঞ্চায়েত যে আসনে একাধিক দাবীদার সেখানেই বুদ্ধিজীবী প্রার্থী। উপরমহলের পাঠানো অতিথি প্রার্থী, সব গোষ্ঠীকে এক হয়ে কাজ করতেই হবে। আর আমার স্কুল ছাড়া এতো বুদ্ধিজীবী কোথায় পাবে পার্টিগুলো? সিন্ডিকেট শুনেছেন তো ? রড, বালি, সিমেন্ট সব তাদের কাছেই নিতে হবে। অন্য কোথাও নেওয়া চলবে না। সবকিছুর সিন্ডিকেট থাকলে বুদ্ধিজীবী সিন্ডিকেট হবে না কেন ? যার যত বুদ্ধিজীবা লাগবে, যে ক্যাটাগরির বুদ্ধিজীবী লাগবে, সব আমার স্কুল থেকেই নিতে হবে।

যাই হোক, বিশ্বাস করে আপনাদের সব বললাম। দেখবেন আমার আগে যেন আপনারা কেউ বুদ্ধিজীবী ইন্সটিটিউশন খুলে বসবেন না। তা হলে কিন্তু ফেসবুকে আপনার নামে যা তা লিখব। আদালত বলে দিয়েছে, ফেসবুকে লিখলে পুলিশে কিছু করতে পারবে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + 3 =

You might also like...

yeti abhijan

ইয়েতির চেয়ে ঢের ভাল ছিল মিশর রহস্য

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk