Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

বড় ম্যাচে ঘন্টুদা নেই!

By   /  March 27, 2015  /  No Comments

সবুজ সরখেল

 

শনিবার মাঠে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা মেটাডোরটার অ্যাডভান্স দিয়ে ফিরছি। ঘন্টু দা’র সঙ্গে দেখা। অফিস থেকে ফিরে কেষ্টদা’র চায়ের দোকান থেকে ভাঁড় হাতে বেরোচ্ছে। বুঝলাম, গন্তব্য আড্ডা জোন।

বললুম ‘কী গো, শনিবার মাঠে যাচ্ছ তো ? নির্লিপ্ত মুখে ঘন্টুদা বলল ‘কোন মাঠ ? তেপান্তরের?’ বললুম ‘ সেকি গো! যুবভারতী! বড় ম্যাচ না!’ ঘন্টুদা বলল ‘ তা ভুল কী বললাম? ওটা কলকাতাবাসী’র কাছে তেপান্তরে মাঠই। গড়ের মাঠ থেকে ফুটবল ম্যাচের পালা কবেই চুকে গেছে ভাই! প্রতিবারই মরশুমের শুরুতে শুনি আই লিগে নাকি নিজেদের মাঠে ম্যাচ খেলবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই প্রধান। আর প্রতিবারই দেখি যুবভারতীকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে দেখিয়েছে দুই প্রধান। ময়দান থেকে খেলাধুলোর পাট তো চুকেই গেছে রে!’

 

কথাটা খুব ভুল বলেনি ঘন্টুদা। আর ঘন্টুদা’র মতো যে অনেকেই এভাবে ভাবে তাও জানি। তবু হতাশ হয়ে বললুম ‘মানে টিভিতেই ম্যাচ দেখবে তো ? নাঃ ঘন্টুদা,  বয়স হয়ে গেছে তোমার।’ বয়সের খোঁটাটা গায় লাগলো কিনা জানিনা।  তবে উত্তরে ঘন্টু দা’র যুক্তি কিন্তু অকাট্য। বলল……

mohanbagan

‘হ্যাঁ রে বাচ্চু, বয়স হয়েছে বলেই তো আর মাঠে যাই না। তোদের মতো অল্প বয়সীরা কি আর আমাদের মতো মাঝ বয়সীদের মাঠে যাওয়ার উপায় রেখেছে ? নিজেদের দল জিতলে বিপক্ষের ফুটবলার কোচেদের অশ্রাব্য গালাগাল দিবি, আর হারলে নিজের দলের কোচ ফুটবলারদের। আর রেফারি তো মনে হয় ওই যুবভারতী স্টেডিয়ামের মতই, উভয় পক্ষের কমন টার্গেট। দু’দলেরই গালাগাল যেন ওঁর পারিশ্রমিকের সঙ্গে বোনাসের মত, ওটা যেন ওনার চুক্তিতেই ছিল। আসলে তোরা খেলা দেখতে যাস, না একটু বর্বর হওয়ার সুযোগ খুঁজতে যাস, তাই তো বুঝিনা। মানছি সবাই এক রকম নয়, বাকিদের অবশ্য এখানেই সুযোগ নিজেদের স্টক কিছু বাড়িয়ে নেওয়ার’।

 

লজ্জায় পড়ে সামাল দিতে গিয়ে বললাম ‘ দেখ ঘন্টু দা, খেলার মাঠে একটু খিস্তাখিস্তি হবেই বস! ওটা উত্তেজনায় এসে যায়! একটু চিৎকার চ্যাচামিচি, টুকটাক কথাকাটাকাটি হবেনা!’ ঘন্টু দা বলল…।।‘সেই তো দু-একটা ১৬ই অগাস্ট, মাঠে ইট বৃষ্টি, বোমা ফাটা, একটা দুটো হসপিটাল কেস হবেনা ! না হলে কীসের খেলা বল ? তাই তো?’ ঘটনাগুলো মনে পড়তেই ভেতরটা শিউরে উঠলো। ৮০’র ১৬ অগাস্ট দেখিনি। কিন্তু  বাবাদের মুখে শুনেছিলাম, ইডেনের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি। আর পরের ঘটনাগুলো তো চোখে দেখা। তবু মনে সাহস এনে বললাম ‘ওরকম সব দেশেই হয়। দেখনি ইংল্যান্ড, স্পেন, ইটালি,জার্মানি, লাতিন আমেরিকা’র দেশগুলোতেও বিভিন্ন লিগে এমন ঘটনা প্রায়ই তো ঘটে, তা বলে কি কেউ মাঠে যাওয়া ছেড়ে দেয়? আর তাছাড়া এখন কেউ অত সাহস পায় না, স্টেডিয়াম চত্তরে কত ক্যামেরা থাকে বলতো! সব টিভি’তে দেখিয়ে দেওয়ার ভয় থাকে’।

east bengal gallery

ঘন্টুদা এবার একেবারে পারসোনাল অ্যাটাক করে দিল! বলে ‘ বাচ্চু, তোর ওই থুত্নিতে একটু ভুল আর এক কানে দুল দেখে তুই বাঙালি কিনা সন্দেহ ছিল, আজ তোর কথা শুনে তোর বাঙালিয়ানা নিয়ে আমি নিশ্চিন্ত হলাম রে। সব দেশের সব জাতি’র ভালটুকুকে বাদ দিয়ে খারাপটাকে এভাবে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা বাঙালি ছাড়া আর কোনও জাতির বোধহয় নেই রে। তুই সত্যি বাঙালি। অরে, যাদের নাম করলি তাদের ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংটা একবার দেখ। আর তোর দেশ ১৭৩। ওঁদের ফুটবলটা নে না আগে। আর কি বললি ক্যামেরার ভয়! ক্যামেরা দেখলে তো তোদের মারদাঙ্গা আরও বেড়ে যায় রে। টিভি’তে সে’সব ছবি দেখালে লোকজন পাড়ায় মিষ্টিও নাকি বিলি করে শুনেছি, স্রেফ টিভি’তে মুখ দেখাতে পারার আনন্দে’।

 

ঘন্টু দা’র সঙ্গে কথায় পারা শক্ত। বাধ্য হয়েই বললুম ‘আমায় এ’সব বলছ কেন? আমি কি মারপিট করতে মাঠে যাই ? আমি তো খেলাই দেখি। কত কষ্ট করে ভিআইপি’র টিকিট জোগাড় করেছি আমরা, সে তো জানো না! কলেজ কেটে ক্লাবে গেছিলাম টিকিট কিনতে’। ঘন্টু দা’র মনটা বোধহয় একটু নরম হল এবার। বলল ‘সে জানি, এক কালে আমরাও ওরকম কত কলেজ কেটেছি, যাক বাদ দে। টিভি’তেই খেলাটা দেখে নেবো। তাছাড়া বাড়িতে বসে দেখলে ছেলেটাও যদি ইন্টারেস্ট পায়’।  আমি বললুম ‘ তোমার ছেলে মানে পাপাই তো? ও ফুটবল খেলে না?’ ঘন্টু দা বলল ‘ খেলে, তবে হাত দিয়ে। মানে দিনরাত কম্পিউটারে ফিফা গেম।’ বলে বাড়ি’র দিকে রওনা দিলো ঘন্টু দা।
ঘন্টুদা না হয় চলে গেল। কিন্তু আমার মনে হাজার প্রশ্নের ঝড় তুলে দিয়ে গেল। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত বিদায় নিয়েছে, ঘন্টুদার তো খুশি হওয়ারই কথা। তাহলে কি মনে মনে কোথাও একটা লুকোনো যন্চ্রণা! কী জানি, হতেও পারে। তার মানে ঘন্টুদার ভেতরেও কোথাও একটা ‘ভারত’ বাস করে।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সৃঞ্জয় বসু আসছে, নিতু সরকার আসছে। আর ঘন্টুদা যাবে না! ঘন্টুদার ফুটবলপ্রেম কি ওদের থেকে কম নাকি! আচ্ছা, দুই কোচ জয়েন্ট প্রেস কনফারেন্স করে ঘন্টুদাকে আসার আবেদন জানাতে পারে না! এসব নানা প্রশ্ন শুধু ঘুরপাক খায়।

আজ যা বলল, সেটা কি মনের কথা ! নাকি হঠাৎ করে ১৯৮০-র ১৬ আগস্ট মনে পড়ে গেল ! কী জানি। আজকের দিনটা যাক। কাল সকালে আবার পাকড়াও করব ঘন্টুদাকে। বলুন তো, ঘন্টুদা ছাড়া বড় ম্যাচ হয় !

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + eighteen =

You might also like...

yeti abhijan

ইয়েতির চেয়ে ঢের ভাল ছিল মিশর রহস্য

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk