Loading...
You are here:  Home  >  নিয়মিত বিভাগ  >  খোলা চিঠি  >  Current Article

মহুয়া, আপনি সত্যিই বড় বেরসিক

By   /  January 11, 2017  /  No Comments

দিব্যেন্দু দে

হায় নদীয়া হায়।
নদীয়া জেলা বলতে প্রথম কার কথা মনে পড়ে?‌ না, শ্রীচৈতন্য নন। কারণ, তাঁর নাম, তাঁর কীর্তি জানতে অন্তত আট দশ বছর বয়স হওয়া প্রয়োজন। অনেক কম বয়সেই বাংলার শিশুরা গোপাল ভাঁড়ের নাম জেনে যায়। এখন অ্যানিমেশনের সৌজন্যে আরও ছোট বাচ্চারাও জেনে যাচ্ছে গোপালের কথা।
সেই রসরাজ গোপাল ভাঁড়, যিনি রসিকতা করার সময় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকেও ছেড়ে কথা বলতেন না। মহারাজ স্বপ্নে দেখেছিলেন, গোপাল পায়খানার মধ্যে পড়ে গেছে। গোপাল পাল্টা বলেছিলেন, মহারাজ, আপনি আমার গায়ের পায়খানা চেটে পরিষ্কার করছিলেন।
রেগে যাওয়ারই কথা। কিন্তু রাজা রাগ করেননি। কারণ, রাজার উদারতা ছিল। রসিকতা বোধ ছিল। নদীয়া মানুষের রসিকতা বোধ ছিল। সেই নদীয়ার করিমপুর কেন্দ্রের বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। তাঁর আর যাই থাক, রসবোধ নেই। থাকলে বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতেন না।
বাবুল কী এমন অন্যায় কথাটা বলেছিলেন ?‌ আপনার আজগুবি ও অসার যুক্তি শুনে বলেছিলেন, মহুয়া, তুমি কি মহুয়া খেয়েছো?‌ কথাটির মধ্যে মজা থাকতে পারে। কথাটির মধ্যে দুষ্টুমি থাকতে পারে। কিন্তু এমন কিছু নেই, যার জন্য মানহানির মামলা করতে হবে। টিভির বিতর্কে এমন টুকটাক চাপান–‌উতোর হয়েই থাকে। একে এত বড় ইস্যু করতে হবে?‌ ইস্যুর বুঝি এত আকাল পড়ে গেল?‌ আপনার মান বুঝি এতই ঠুনকো যে এই সামান্য রসিকতায় তা হানি হয়ে যায়?‌ একটু কেশব রাওয়ের কাছে খোঁজ নিন তো। ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে আপনার দলনেত্রী আপনার সম্পর্কে ঠিক কী বলেছিলেন?‌
হায় মহুয়া, গোপাল ভাঁড়, কৃষ্ণচন্দ্রের জেলার এম এল এ হয়েও আপনার এইটুকু উদারতা নেই, এইটুকু রসিকতাবোধ নেই। হায় মহুয়া, আপনি জানেন না, আপনার নামটা কতটা সুন্দর। জানতেন কাজি নজরুল। তাই তিনি গান লিখেছিলেন ‘‌মহুয়া বনে মন পাপিয়া’।‌ আর জানতেন আপনার বাবা–‌মা। মহুয়া খেলে নেশা হয়, একথা জেনেও তাঁরা মেয়ের নাম রেখেছিলেন মহুয়া। বাবা–‌মার সেই রসবোধ যদি আপনার মধ্যে থাকত, তাহলে বাবুলের কথায় আপনি মজা পেতেন। বাইরে থেকে কপট রাগ হয়ত দেখাতেন, কিন্তু কখনই মামলা বা এফ আই আর করতেন না।
অথবা, হয়ত আপনার মধ্যেও রসবোধ আছে। বাবুলের মন্তব্যে হয়ত আপনিও মজা পেয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল করেন তো। তাই সেই মজা প্রকাশ করতে পারছেন না। বেরসিকের মতো রেগে ওঠা, তেড়ে যাওয়া, অন্যকে মাঝখানে থামিয়ে দেওয়া এই দলের দস্তুর। তৃণমূলের নীতিই হল অন্যকে যা খুশি বলব, কিন্তু অন্যের কথা সহ্য করব না।
mahua-moitra2

জ্যোতিপ্রিয়, অনুব্রত থেকে কল্যাণ ব্যানার্জি— যে যা খুশি বলবে, তাতে কারও মানহানি হবে না। সিদ্ধার্থনাথ সিংহের নাম বিকৃতি করে পার্থ চ্যাটার্জি বলেন সিদ্ধিনাথ। একে তো নাম বিকৃতি, তার উপরে সিদ্ধিও কিন্তু নেশার জিনিস। কই, তিনি তো মানহানির মামলা করেননি।
কিন্তু আপনি করলেন। কারণ, আপনি তৃণমূল করেন। যুক্তিহীন কাজকর্ম করলে আপনার দলে নম্বর বাড়ে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার রসবোধ আছে, আপনার মানও যথেষ্টই আছে। শুধু দলীয় নেতৃত্বের বাহবা পাওয়ার জন্যই আপনি মামলা করেছেন।
বাইরে যা করছেন, করুন। দিনের শেষে ঘরে ফিরে অন্তত রসিকতাটা উপভোগ করুন। ঘরের দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসুন। তৃণমূলের বেঞ্চে বুদ্ধিদীপ্ত ও সুন্দরী মুখের সত্যিই অভাব। দলে নায়িকার অভাব নেই। কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক চেতনা বা পড়াশোনা একেবারেই নেই। আপনার মধ্যে দুটোই আছে। খামোকা নিজেকে তাঁদের স্তরে নামিয়ে আনছেন কেন?‌ হাসলে আপনাকে সত্যিই সুন্দর দেখায়। হ্যাঁ, আপনার দলের বাতিল অভিনেত্রীদের থেকেও সুন্দর।

flipkart-tvdays

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 5 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk