Loading...
You are here:  Home  >  নিয়মিত বিভাগ  >  খোলা চিঠি  >  Current Article

মানস ভুঁইয়া সমীপেষু

By   /  July 5, 2016  /  No Comments

স্বরূপ গোস্বামী

যেটা বিশ্বাস করি, সেটা শুরুতেই জানানো যাক।
গভীরভাবে বিশ্বাস করি, বিরোধী দলনেতা পদে আপনিই ছিলেন যোগ্যতম। এখনও সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরেনি।
না আব্দুল মান্নানকে অশ্রদ্ধা করার বা তাঁকে ছোট করার কোনও অভিসন্ধি নেই। কিন্তু পরিষদীয় রাজনীতি নিয়ে একটু-আধটু চর্চা করি বলেই আপনার সঙ্গে অন্যদের দক্ষতার তফাত হয়ত একটু বুঝতে পারি।
আরও একটা আর্জি এই সুযোগে জানিয়ে রাখি। যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার অবসান ঘটাতে আপনিই পারেন। তৃণমূল যে ফাঁদ পেতেছে, প্লিজ সেই ফাঁদে পা দেবেন না। হয়ত সুরটা অধীর চৌধুরির মতো শোনাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বাস করি, অধীর চৌধুরি অহেতুক পরিস্থিতিকে জটিল করছেন। ভেবেছিলাম, মান্নান সাহেবের অন্তত দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা আছে। কিন্তু তিনিও হতাশ করলেন। তাই প্রত্যাশা আপনার কাছে। আপনিই পারেন এই বিতর্কের নিষ্পত্তি ঘটাতে। কে কী বলল, ভুলে যান। নিজে সিদ্ধান্ত নিন। জানিয়ে দিন, এই পিএসি চেয়ারম্যানের পদ আপনি নিচ্ছেন না।

manas bhunia six

আপনাকে ঘিরে কতগুলো ভুলভাল ধারণা প্রচলিত আছে। গত কয়েক বছর ধরেই শুনে আসছি, আপনি নাকি তৃণমূলে যেতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে আপনি নিজেও কিছুটা দায়ী, চুপ থেকে জল্পনাকে বাড়তে দিয়েছেন। নিজেও কখনও কখনও বিভ্রান্তও হয়েছি এই জাতীয় প্রচারে।
যখন জোট গড়ার প্রক্রিয়া চলছে, তখন বলা হচ্ছিল, আপনি নাকি জোট-বিরোধী। মনে আছে, এক সন্ধ্যায়, আপনার ঘরে একেবারে একান্তে জানতে চেয়েছিলাম আপনার সত্যিকারের অবস্থান। যা বলেছিলেন, তারপর এই সাংবাদিকের মনে অন্তত কোনও সংশয় ছিল না। মনের মধ্যে পুষে রাখা ভুল ধারনাকে সেই সন্ধ্যায় ঝেড়ে ফেলেছিলাম।
আসলে, আপনার লড়াইটা না বুঝেই আপনাকে হেয় করার একটা ট্র্যাডিশন অনেকদিন ধরেই চলছে। বলা হচ্ছিল, জোট বিরোধী। অথচ, যেই জোট হল, সেই সূর্যকান্ত মিশ্রর সঙ্গে যৌথ সভা করলেন, প্রচারের মুখটা ঘুরে গেল। তখন বলা হল, আপনি সূর্যবাবুর হারিয়ে যাওয়া ভাই। বলা হল, আপনি আসলে সিপিএম পন্থী।
বলেছিলেন, জোট হলে অন্তত পঞ্চাশ হাজার ভোটে জিতব। হ্যাঁ, কথা রেখেছেন। পঞ্চাশ না হোক, উনপঞ্চাশ হাজারে জিতেছেন। কেউ কেউ বলবে, সিপিএমের সমর্থনে জিতলেন। কিন্তু প্রতিবার তো বামেদের হারিয়েই জিতেছেন। সিপিএমের যদি এতই জেতানোর ক্ষমতা, তাহলে পাশের কেন্দ্রে সূর্যবাবু হারলেন কেন ? আশপাশের বাকি কেন্দ্রগুলিতে হারতে হল কেন ?
যাই হোক, সে অন্য প্রসঙ্গ। ভেবেছিলাম, আপনিই হবেন বিরোধী দলনেতা। যোগ্যতার বিচারে সেটাই ছিল অনিবার্য । কিন্তু কেউ কেউ ডালে বসে সেই গাছটাই কাটতে চায়। আপনার দলের রাজ্য সভাপতিটিও সেই গোত্রের। শুধুমাত্র আপনাকে আটকাতেই তিনি আব্দুল মান্নানের নাম ভাসিয়ে দিলেন। আগেরবার বাম পরিষদীয় দল যে রোগে ভুগত, সেই রোগেই ভুগছে এবারের কংগ্রেস পরিষদীয় দল। শুরু থেকেই ওয়াক আউট। প্রায় রোজই কোনও না কোনও অছিলায় ওয়াক আউট। অথচ, বিধানসভার এই মঞ্চটাকে কত সুন্দরভাবে ব্যবহার করা যেত!
পি এ সি বিতর্কই ধরা যাক। একটু বুদ্ধি বা বিচক্ষণতা থাকলেই এই বিতর্ক এড়ানো যেত। আপনার নাম যখন স্পিকার ঘোষণা করলেন, তখনই ওয়াক আউট না করে পরে আপনার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলা যেত। মনে হয়, সেটা হয়নি। মান্নান সাহেবের নেতৃত্বে সবাই ওয়াক আউট করে চলে গেলেন প্রেস কর্নারে। এই বিরোধ প্রকাশ্যে আনার কোনও দরকার ছিল ? প্রকাশ্যে আপনাকে এভাবে হেনস্থা করার কোনও দরকার ছিল ?
আপনার সভাপতিটিকেও বলিহারি। তিনিও চটজলদি বিবৃতি দিয়ে বসলেন। আপনাকে সাসপেন্ড করা হতে পারে, বয়কট করা হবে, এমন জল্পনা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হল। বাচ্চা ছেলের মতো হাইকমান্ডে নালিশ ঠুকে দেওয়া হল। যেটা ওঁরা নিজেরাই মেটাতে পারতেন, সেটা নিয়ে হাইকমান্ডের দ্বারস্থ হয়ে গেলেন। এখনও বিশ্বাস করি, আপনার সঙ্গে যদি মান্নান সাহেব একবার একান্তে কথা বলতেন, তাহলে জল এতদূর গড়াত না। কিন্তু তা না করে তিনিও ছুটলেন মিডিয়া সেন্টার আর হাইকমান্ডের কাছে।

manas bhunia

পিএসি চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার চেয়ে যোগ্যতম আর কে আছে ? সিএজি রিপোর্ট থেকে শুরু করে নানা দপ্তরের কারচুপি ধরতে গেলে সেই দপ্তরগুলোকে জানতে হয়, বুঝতে হয়। স্বাস্থ্য থেকে পূর্ত, সেচ থেকে কৃষি, ভূমি সংস্কার থেকে বন, পর্যটন থেকে সমবায়, পঞ্চায়েত থেকে শিক্ষা – একসঙ্গে সমস্ত দপ্তর সম্পর্কে এতখানি স্বচ্ছ ধারনা এই বিধানসভায় আর কারও আছে ? বিশ্বাস করি, প্রতিটি দপ্তরকে আপনি যেভাবে চেনেন, বিভাগীয় মন্ত্রীরাও তেমনটা চেনেন না। এই বিধানসভায় শাসক-বিরোধী মেলালেও পরিষদীয় মুন্সিয়ানায় আপনার একশো মাইলের মধ্যে কেউ আসবেন না। না, কেউ না।
পিএসি চেয়ারম্যান ! যে হচ্ছে হোক। আপনি যোগ্যতম, এই নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু আপনার দল তা বুঝলে তো! শুধুমাত্র আপনাকে আটকাতেই সুজন চক্রবর্তীর নাম সামনে আনা হল।
আপনার রাগ বা অভিমান হওয়া স্বাভাবিক। তবু বলব, একটু সংযমের পরিচয় দিন। বিভাজনের যে ফাঁদ পাতা হয়েছে, সেই ফাঁদে আপনি অন্তত পা দেবেন না। হ্যাঁ, আপনি পিএ কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি। কিন্তু সরকারের দাক্ষিণ্যে যদি সেই কমিটির মাথায় বসেন, সম্মান থাকবে না। বিশ্বাসযোগ্যতাও থাকবে না। বরং, দেখিয়ে দিন, এই পদ আপনি স্বচ্ছন্দে ত্যাগ করতে পারেন।
অনেক কঠিন লড়াই জিতেছেন। আপনাকে হারাতে সিপিএমও সর্বশক্তি প্রয়োগ করত। তৃণমূলও তাই করেছে। খুনের মামলা, শ্লীলতাহানির মামলা দিতেও কসুর করেনি। অনেক লড়াই জিতেছেন। এই লড়াইয়েও মাথা উঁচু রাখুন। বিতর্ক থেমে যাবে। কিন্তু মানস ভুঁইয়ার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা যেন হারিয়ে না যায়।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে পদত্যাগের চিঠিটা এবার লিখেই ফেলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − four =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk