Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

মাসুদুর নেই! বিশ্বাস হচ্ছে না

By   /  April 26, 2015  /  No Comments

বুলা চৌধুরি

মাসুদুর নেই! এখনও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। কী এমন বয়স হয়েছিল ? ৪৬ আবার কোনও বয়স নাকি! দুপুরে প্রথম শুনলাম একটি চ্যানেলের ফোনে। তারা আমার কাছে কনফার্ম করতে চাইছিল। কিন্তু বিশ্বাস করুন, তখনও আমি কিছুই জানতাম না। শোনার পরেও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল না।

bula choudhury

পুরানো কত টুকরো টুকরো ঘটনা মনের মধ্যে ভিড় করছে। আমি ছিলাম ওর বড় দিদির মতোই। নানা রকম আবদার করত। কেন জানি না, আমি হাসিমুখে সেই আবদার মেটাতাম।

আমার ততদিনে ইংলিশ চ্যানেল পেরোনো হয়ে গেছে। মাসুদুরের ইচ্ছে হল, সেও ইংলিশ চ্যানেল যাবে। ইংলিশ চ্যানেল জয় করা কতটা কঠিন, যাঁদের অভিজ্ঞতা আছে, শুধু তারাই জানেন। ওর তো দুটো পা-ই নেই। পারবে তো ! সংশয় হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু ও একেবারে অন্য ধাতুতে গড়া। মনের জোর ছিল সাঙ্ঘাতিক। ভয় হচ্ছিল, এত প্রতিকূল অবস্থায় সাঁতার কাটতে পারবে তো ? এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় এতদূর সাঁতার কাটতে গিয়ে কোনও বিপদ ডেকে আনবে না তো ? ও কিন্তু বারবার বলত, বুলাদি, আমাকে আশীর্বাদ করো। আমি ঠিক পারব।

ইংলিশ চ্যানেল পেরোনো কতটা কঠিন, এটা যাঁদের অভিজ্ঞতা আছে, শুধু তাঁরাই জানেন। তখন না ছিল ইন্টারনেট, না ছিল তেমন বইপত্র। ফলে, ইংলিশ চ্যানেল মানে সম্পূর্ণ অজানা এক জগৎ। কোথায় কী বিপদ আসতে পারে, তেমন ধারণাও ছিল না। নিজে পার হতে গিয়ে কিছুটা ধারণা হয়েছিল। তাই ও আমার কাছে বারবার ইংলিশ চ্যানেলের কথা জানতে চাইত। আমি নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা ওকে বলতাম। না, ও ভয় পেত না। বরং, চ্যানেল পেরোনোর জেদটা আরও বেড়ে যেত।

ইংলিশ চ্যানেল পেরোতে গেলে স্থির জলে সাঁতার কাটলে হবে না। ওকে বললাম, পুরীতে গিয়ে প্র্যাকটিস করতে হবে। ও বলল, তোমাকেও যেতে হবে। ওর আবদারে আমাকেও যেতে হল। এমনকি লন্ডন যাওয়ার আগে ভিসা লাগে। সেই ভিসা অফিসেও আমাকেই সঙ্গে যেতে হল।  মনে হত একটা ছেলে এত কঠিন একটা লড়াই করতে যাচ্ছে, আমি একটু পাশে থাকব না ?

masudur3

সেই সময় আরও অনেকে ওর পাশে দাঁড়িয়েছিল। একজনের নাম না বললে অন্যায় হবে, তিনি সুভাষ চক্রবর্তী। নানাভাবে সাহায্য করেছিলেন মাসুদুরকে। প্রথমবার তেমন সফল হল না। কিন্তু হাল ছাড়েনি। ওর ভেতরে একটা জেদ ছিল, যেভাবেই হোক, চ্যানেল পেরোতেই হবে। হ্যাঁ, একদিন সেই অসম্ভব কাজটাকেই সম্ভব করল ছেলেটা। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, ওর লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন ছিল।

তারপর নিয়মিত দেখা হত না। এমনকি ফোনেও যে খুব বেশি কথা হত, তা নয়। তবে মাঝে মাঝে এখান ওখানে দেখা হয়ে যেত। এই তো, কয়েকমাস আগে, একটা অনুষ্ঠানে দেখা। দেখলাম, খাচ্ছে। আমি বললাম, ‘এত খাচ্ছি কেন ? কত মোটা হয়ে গেছিস, দেখেছিস ? বেশি খেলে আরও মোটা হয়ে যাবি।’ ও শুধু হাসল। আমার সব ধমকই ও হাসিমুখে মেনে নিত। আরও একদফা ধমক দিয়ে বললাম, ‘শুনলাম নাকি চুপি চুপি বিয়ে করেছিস। খাওয়াতে হবে বলে কাউকে জানাসনি ? বউ দেখাবি না ?’ ও বলল, ভুল হয়ে গেছে। একদিন বাড়িতে যেতে বলল।

ওর বাড়িতে আর যাওয়া হল না। ভেবেছিলাম, পরে কোনও একদিন ওর বাড়িতে গিয়ে খেয়ে আসব। কে জানত, এভাবে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 − 2 =

You might also like...

chalo lets go

অঞ্জনের একটা ছবিই চোখ খুলে দিল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk