Loading...
You are here:  Home  >  বিনোদন  >  Current Article

মিঠুনকে দেখে তাপস–‌শতাব্দীরা যদি কিছু শিখতেন!‌

By   /  December 30, 2016  /  No Comments

দিব্যেন্দু দে

মিঠুন চক্রবর্তী মনে মনে কষ্ট পাচ্ছিলেন। কষ্ট পাচ্ছিলাম আমরাও। সত্যিই তো, যে মানুষটা বাংলার জন্য এতকিছু করেছেন, এই অসম্মান তাঁর প্রাপ্য ছিল না। যে কোনও কারণেই হোক, তাঁর নামও জড়িয়ে গিয়েছিল সারদা কান্ডে। অথচ, ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন, এর জন্য কোনও ভাবেই মিঠুনকে দায়ী করা যাবে না। তিনি একটি রিয়এলিটি শোয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। শুটিংয়ের বিনিময়ে টাকা নিয়েছিলেন। এমন নয় যে খুব বেশি নিয়েছিলেন। যা নিয়ে থাকেন, তাই নিয়েছিলেন। চুক্তি হয়েছিল ৫২ এপিসোডের, তিনি পেয়েছিলেন ২৫ এপিসোডের টাকা। অর্থাৎ, যা প্রাপ্য, তার অর্ধেকেরও কম। তবু তাঁর গায়ে কলঙ্ক চাপিয়ে দেওয়া হল। বাকিদের সঙ্গে তাঁকেও এক করে দেখা হল। দেখানো হল। সত্যিই খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এই অপবাদ কি সত্যিই তাঁর প্রাপ্য ছিল?‌

mithun4
জানা ছিল, মিঠুন নিশ্চয় সব টাকা ফিরিয়ে দেবেন। ঠিক সেটাই করলেন। তিনি সারদা থেকে নেওয়া সব টাকাই ফিরিয়ে দিলেন। না, তোলাবাজির টাকা নয়, রীতিমতো পরিশ্রম করে অর্জন করা টাকা। সত্যিই তো, যে মানুষটা পরপর চারবার সর্বোচ্চ আয়কর দেওয়ার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন, তিনি কেন চাইবেন কোনও কলঙ্কের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে থাকুক ?‌ গত আড়াই বছর তাঁকে প্রকাশ্যে সেভাবে দেখাই যায়নি। নিজেকে একেবারেই গুটিয়ে নিয়েছিলেন। কোথাও একটা গ্লানি যেন তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। মন বলছিল, যে কোনওদিনই সাংসদ পদ থেকেও তিনি সরে দাঁড়াবেন। এখনও সাড়ে তিন বছর বাকি ছিল। তার আগেই সরে দাঁড়ালেন। সত্যিই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
কিন্তু বাকিরা কি কিছু শিখলেন ?‌ একই দলে আরও দুই অভিনেতা আগে থেকেই সাংসদ। তাঁরা হলেন শতাব্দী রায় ও তাপস পাল। তাঁরাও সারদা ও রোজভ্যালি থেকে টাকা নিয়েছেন। কাজের বিনিময়ে নয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই। কিন্তু তাঁরা তো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি। এই সামান্য টাকা ফিরিয়ে দেওয়া কি যেত না ?‌ তাহলে অন্তত কিছুটা সম্মান অবশিষ্ট থাকত। কিন্তু তাঁরা সেই দৃষ্টান্ত দেখাতে পারলেন না। সংসদে তাঁরা যে কোনও ইতিবাচক ছাপ ফেলেছেন, এমন নজির নেই। এলাকায় সময় দেন বা এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে দারুণভাবে জড়িয়ে আছেন, এমনটাও বলা যাবে না। আসলে, সাংসদের কী কাজ, সেটাই তাঁরা জানেন না। সব কাজটা সবার দ্বারা হয় না।

tapas-paul3

ডাক্তারি করতে গেলে, শিক্ষকতা করতে গেলে, গানবাজনা করতে গেলে তালিম লাগে, যোগ্যতা লাগে। হ্যাঁ, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সেই যোগ্যতা নিশ্চয় তাপস বা শতাব্দীর আছে। কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রে নেই। থাকার কথাও নয়। মুশকিল হল, এই বিষয়ে তাঁরা যে চূড়ান্ত অযোগ্য, এই বোধটুকুও তাঁদের নেই। তাই সাংসদের দায়িত্ব কী, শিখে ওঠার কোনও চেষ্টাও করেননি। তাঁরা ভাবেন, সাংসদের কাজ বোধ হয় ওয়েলে নেমে হল্লা করা, সভা পন্ড করা, আর বাইরে গিয়ে স্লোগান দেওয়া। এই শিক্ষাটাই তাঁরা পেয়েছেন।
এত টাকার মালিক হয়েও সারদার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা তাঁরা ভাবেননি। উল্টে গলাবাজি করেই চলেছেন। তাঁরা কি পদত্যাগ করতে পারেন ?‌ কোনও চান্স নেই। সেই মূল্যবোধ তাঁদের নেই। মিঠুন হতেও বুকের পাটা লাগে। তাপস বা শতাব্দীর কাছে তা যেন আশা করবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + sixteen =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk