Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

মুকুলকে নিলেও ধাক্কা দেওয়া যাবে না

By   /  October 20, 2017  /  No Comments

সুগত রায়মজুমদার
‌সম্প্রতি তৃণমূল গঠনের অন্যতম প্রথম সারির নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে বিজেপি–‌র নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেই মুকুলের অভিযোগ, আমি দাস হয়ে থাকতে চাই না। দলের কর্মী হিসেবে একজন কমরেড হয়ে থাকাই শ্রেয় এবং পরিবারতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এক দৈনিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য, মুকুল রায়কে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে ঘোষণা করা তৃণমূলের পছন্দ নয়। বিজেপি–‌কে মুকুল অসাম্প্রদায়িক দল বলেও উল্লেখ করেন। এটা তৃণমূলের পক্ষে দলবিরোধী মন্তব্য। এজন্য তাঁকে দল থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এই অপসারণের হঠাৎ কি প্রয়োজন পড়ল, তারই একটি বৃত্তান্ত দেওয়া হল।

mukul roy2
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল দল গঠিত হয়। সেদিন মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে যে ক’‌জন ছিলেন, তার মধ্যে মুকুল রায়ও অন্যতম একজন। তিনি অত্যন্ত মমতা ব্যানার্জির প্রিয় সদস্য ছিলেন। ফলশ্রুতি হিসেবে তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন দীর্ঘদিন। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ২০০৯ সালে তৃণমূল কেন্দ্রীয় সরকারে যোগ দেয়, তখন রেলমন্ত্রী হন মমতা ব্যানার্জি। তার পর ২০১১ সালে পশ্চিমবাংলা থেকে সিপিএম–‌কে উৎখাত করে মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদীকে রেলমন্ত্রী করেন। কিন্তু দীনেশের দলের ঊর্ধ্বে ওঠার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ হওয়ায় মুকুলকেই রেলমন্ত্রী করেন। যাঁকে মমতা ব্যানার্জি এতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তাঁকেই সারদা নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য মন্ত্রিত্ব থেকে খারিজ করেন। তার পর বেশ কিছুদিন মুকুলের সঙ্গে মমতার বেশ দূরত্ব তৈরি হয়। তবে মুকুলের সঙ্গে বিজেপি–‌র সঙ্গে সম্পর্ক ভাল থাকলেও সেই সময় তিনি কোনও দলে তিনি যাননি। সেজন্য মমতা ব্যানার্জি দলের স্বার্থে তাঁকে ২০১৬–‌র বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুনরায় ফিরিয়ে এনে দলে গুরুত্ব দিতে থাকেন। মুকুলও ধীরে–ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নেন তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে। কিন্তু আবার কী হল যে, তিনি মুকুলকে অপসারিত করতে বাধ্য হলেন?‌
এখন এতদিন পর মুকুল রায় বলছেন, মমতার পরিবারতান্ত্রিক ব্যবহারের জন্যই তিনি নাকি দল ছাড়তে চান। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, মুকুলের ছেলে শুভ্রাংশু রায় কি তাঁর পরিবারের বাইরের কেউ?‌ তিনিও তো মমতার সঙ্গে সুসম্পর্কের জেরেই ছেলেকে বিধায়ক করতে পেরেছেন। এর আগে শুভ্রাংশুকে কি কেউ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে চিনতেন?‌ আর মমতা ব্যানার্জিকে উদ্দেশ্য করে অভিষেককে জড়িয়ে পরিবারতন্ত্রের কথা বলার কোনও যুক্তি আছে কী?‌
পরিবারে কেউ যদি সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হন, তা হলে সেই পরিবারের ছোটরা তাঁর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবেন, এটাই স্বাভাবিক। অভিষেকও এক রাজনৈতিক আবহে বড় হযেছেন। জওহরলাল নেহরু দেশে প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন বলেই তাঁর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এ ছাড়াও রাজীব গান্ধীর পুত্র রাহুল গান্ধীও তাই। মহাত্মা গান্ধীর পৌত্র বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীও মহাত্মা গান্ধীর পরিবারের বলেই হয়তো সেদিন চুপ করে থাকতে পারেননি। যেদিন সিঙ্গুরে তাপসী মালিকের খুন এবং নন্দীগ্রামে গণহত্যাকে ‘‌হাড় হিম হয়ে যাওয়া’‌ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছিলেন। এতে মহাত্মা গান্ধীর প্রভাব আছে বলেই অনুমান করা যেতে পারে। সেরকমই অভিষেক ব্যানার্জি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন, তাঁর পিসি মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেস দলে প্রতিবাদী ও দুঃসাহসী যুবনেত্রী বলেই পরিচিত ছিলেন। সুতরাং সেই পিসির প্রভাব যে পরিবারে কারোর মধ্যে পড়তে পারে, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং যাঁর বড় হওয়া এক রাজনৈতিক আবহে, তাঁর পক্ষে এই আবহ এড়িয়ে চলা সম্ভব না–‌ও হতেই পারে। অভিষেককে নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই অস্বাভাবিক যুক্তি খাড়া করে মুকুলকে তৃণমূল দলের পক্ষে অসহ্য বলেই মনে করা খুবই স্বাভাবিক। সুতরাং মুকুলের অপসারণ ছাড়া তৃণমূলের কিছু করার ছিল না। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জির সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য মনে পড়ে, মুকুলের পড়াশোনা কম বলেই হয়তো এই ধরনের পরিবারতন্ত্রের উদাহরণ দিচ্ছেন। তিনি পরিবারতন্ত্রের সংজ্ঞাই জানেন না।
এর পর দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য তাঁকে বিজেপি–‌ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করা স্বাভাবিক। বিজেপি এখন তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শত্রু দেশে। তৃণমূলের যাবতীয় আন্দোলন বর্তমানে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধেই। সেই দলের কোনও প্রথম সারির নেতা যদি মুকুলকে দক্ষ সংগঠক বলেন, তাতে তো মনে হতেই পারে, মুকুলের সঙ্গে বিজেপি–‌র নিবিড় সম্পর্ক।
তাঁকে যিনি ভাল সংগঠক বলছেন, সেটা যদি সত্যিই হয়, তা হলে সেই নেতা মুকুলকে নিজের দলে নিয়ে গিয়ে দেখুন না, মুকুল তাঁদের দলকে কতটা উতড়ে আনে এই বাংলার মাটিতে। মুকুলও ভালই জানেন, মুকুল যতটা ভাল সংগঠক হয়েছিলেন, সেই জমিটা তৈরি হয়েছিল মমতা ব্যানার্জির ছত্রতলে থেকেই। রাজ্যে অথবা তৃণমূল দলে সব নেতারাই মনে করেন, বিধানসভার যে ২৯৪টি আসন আছে, সবকটিই মমতার জনপ্রিয়তায় প্রভাবিত। জনগণ বিশ্বাস করেন, এই আসনগুলির যে কটিতে জেতে তৃণমূল, সবকটিই মমতার জন্যই জেতেন দলের নেতারা। মমতা কোনও নেতার মাথার ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিলে বেশিরভাগ নেতারই কাউন্সিলরও হওয়াটাও সংশয়াতীত হয়ে পড়বে। এটাই বাস্তব। জনগণ মমতাকে দেখেই ভোট দেন। আর কাউকে নয়। একটি দৈনিকে দিলীপবাবুর কথায় মুকুলবাবু যদি এতই দক্ষ সংগঠক হয়ে থাকেন, তা হলে উনি মুকুলকে দলে নিয়ে দেখান না, তিনি মমতা ব্যানার্জিকে পশ্চিমবঙ্গে কতখানি ধাক্কা দিতে পারেন?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − two =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk