Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

মেয়েদের ফুটবল নিয়ে কর্তারা ভাবলেন কই?‌ কুন্তলা

By   /  February 6, 2017  /  No Comments

ছেলেরা না পারলেও মেয়েরা পেরেছিলেন। ১৯৮১ তে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলেছিল ভারতের মহিলা দল। কিন্তু তারপরেও মহিলা ফুটবলের এই দুর্দশা কেন?‌ খোলামেলা সাক্ষাৎকারে জানালেন সেই দলের অধিনায়ক কুন্তলা ঘোষ দস্তিদার।। তাঁর মুখোমুখি শান্তনু ব্যানার্জি।।

প্রশ্ন:‌ দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে ৬ দলের পেশাদার মহিলা লিগ শুরু হয়েছে তা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা?
কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারঃ প্রথম কথা হচ্ছে এটা গ্রেট স্টার্ট। প্রিয়দার আমল থেকেই শুনে আসছিলাম আই লিগ হবে। তখন সেটা সম্ভব হয়নি। হয়তো শুরুটা তখন হলে প্রসার ঘটত। কিন্তু দেরিতে শুরু হলেও ভাল দিক এটা। তবে এর মধ্যেও একটা দুঃখজনক বিষয় হল এই মহিলা পেশাদার ফুটবল লিগে বাংলার দল অংশগ্রহণ করেনি। কলকাতার তিন প্রধানের কাছেই বাংলার টিম তৈরির বিষয়ে প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু ছেলেদের ফুটবলের চাপে মহিলা ফুটবল টিম তৈরি হয়ে উঠতে পারেনি। ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যসোসিয়েশন (আই এফ এ) থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে কোনও তাগিদ দেখা যায়নি। এটা একটা ভুল বার্তা গেছে। বাংলার বেশ কিছু মেয়ে খেললে ভাল লাগত। এখন দেখা যাচ্ছে মণিপুর, ওড়িশার মেয়েরাই ডমিনেট করছে। বাংলার চার পাঁচজন মেয়ে লিয়েনে খেলছে। তবে বাংলার টিম থাকলে আমরা খুশি হতাম। আমাদের অনুভূতিটা একটু বেশি বাড়ত। বর্তমানে পেশাদার মহিলা লিগ শুরু হয়েছে এটা দারুণ বিষয়। এখন শুরু হয়েছে ৬ দল নিয়ে। আগামী দিনে টিমের সংখ্যা বাড়বে। আর এই পেশাদার মহিলা ফুটবল লিগ নিয়ে ইতিমধ্যেই উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আগামী দিনে আমরা টিম নামাবো এই নিয়ে কথা বার্তাও শুরু হয়েছে।

প্রশ্ন:‌ ২০১৯ সালের মহিলা বিশ্বকাপে দেশের জাতীয় মহিলা ফুটবল টিমের বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পাওয়া নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারঃ ১৯৮১ সালে ভারত মহিলা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল। আমি ছিলাম সেই দলের ক্যাপ্টেন। ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের ট্যালেন্ট আছে। এ আই এফ এফ যদি সঠিক পরিকাঠামো দিয়ে কোচিং করাতে পারে তাহলে ভারতের মহিলা ফুটবল টিমের পক্ষে বিশ্বকাপে খেলা অস্বাভাবিক নয়।

প্রশ্ন :‌ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারতের সম্ভাবনা নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া?
কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারঃ বিগত চার পাঁচ বছর ধরে রব বানের হাত ধরে ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট প্রোগাম সাফল্যের রাস্তায় হাটতে শুরু করেছে। জাতীয় যুব দল বেশ ভালই খেলছে। আমি আশাবাদী টিম ভাল খেলা উপহার দেবে। এই টিমে অনেক ট্যালেন্টেড ফুটবলার রয়েছে। এরা অনেক ম্যাচ ইতিমধ্যেই খেলেছে। অনেক দিন ধরেই অনূর্ধ্ব-১৭ দল নিয়ে কাজ চলছে। আমি সব সময়েই পজিটিভ দিক নিয়ে চলি। আমি আশাবাদী অনুর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দল ভাল ফল করবে।

প্রশ্ন:‌ আই লিগ এবং ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আই এস এল) কোন টুর্নামেন্ট আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ হতে চলেছে এবং কেন?
কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারঃ আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলে আই এস এল ভবিষ্যৎ। খুব ভালভাবে দেখলে বোঝা যাবে ইংল্যান্ডের প্রধান ফুটবল সংস্থা এফ এ। এফ একে পরিচালনা করছে প্রিমিয়ার লিগ। জার্মান ফুটবল সংস্থার প্রধান ডিএমবি। জার্মান লিগ বুন্দেশলিগা এটি একটি কোম্পানি। আই এস এলের শুরুর সময় থেকেই আমি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বলে আসছি। বর্তমানে ফুটবল ইট সেলফস প্রোডাক্ট। আজ আই এস এলের জন্যই সারা দুনিয়ার ফুটবল ভক্তরা ভারতের ফুটবলকে জানে। কোটি কোটি মানুষ এই টুর্নামেন্ট দেখছে। আই এস এল নিয়ে আলোচনা চলছে। এর ফলে কোম্পানিগুলো এদেশে আসছে আই এস এলের হাত ধরে। এর ফলে বিপণন হচ্ছে। বিপণন তৈরি হওয়ার ফলে দেশের ফুটবলের পরিকাঠাম তৈরির সঙ্গেই বাচ্চারা মাঠে খেলতে আসবে। আর বাচ্চারা যখনই মাঠে খেলতে আসবে তখনই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে।

kuntala
প্রশ্ন:‌ ভারতীয় ফুটবলের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে আই এস এল শুরু করা হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে দেখা যাচ্ছে বিদেশি ফুটবলারদের সংখ্যা বেশি। অথচ দেশের ছেলেদের এই টুর্নামেন্টে সুযোগ কিছুটা কম। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য?
কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারঃ সারা বিশ্বে সব জায়গায় বিদেশি ফুটবলারেরা খেলছে। আমার মনে হয় একটা আকর্ষণ। প্রথম দিকে বিদেশি ফুটবলারেরা আসবেই। আর আমি চাই বিদেশি ফুটবলারেরা আসুক। এখনও তাদের যা প্রতিভা আছে তারা আসুক। আমি এটাই বলব, ওই সকল বিদেশি ফুটবলারদের কাছ থেকে দেখে আমরা কিছু শিক্ষা নেব না কেন! আমরা কেন ভয়ে পিছিয়ে থাকব। বিগত বছরের আই এস এলকে মূল্যায়ণ করলে দেখা যাবে বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে ভারতীয় ছেলেরা পাল্লা দিয়ে ভালো খেলেছে। এই স্পিরিট তৈরি হচ্ছে আমি আর ও ইকুয়াল। এই সমতা, বিশ্বাস চলে আসছে এই প্রজম্নের হাত ধরে। অর্ণব, শিল্টনেরা কোচদের মধ্যে ধীরে ধীরে ভরসার জায়গা তৈরি করে তুলছে। ফলে দেখা যাবে পরের প্রজম্ন এখন থেকেই স্বপ্ন দেখছে। এখানে বিদেশী স্বদেশীর বিষয় নয়। আমার সামনে যখন তারকা বিদেশী ফুটবলার দৌড়চ্ছে, আমি তখন ওই বিদেশী ফুটবলারের সঙ্গে দৌড় কমপ্লিট করতে পারি এটা দেখে আমার পরের প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবে উৎসাহিত হয়ে উঠবে। আর ফলে পরবর্তী প্রজন্ম থেকে নতুন মুখ উঠে আসবে। এটা আমার নিজস্ব অভিমত।
আর ফুটবলের উন্নয়ন বিষয়ে আমি ‘হ্যাটস অফ টু নীতা আম্বানি’ তিনি ফুটবলকে আজ কোন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। নট অনলি ভিউয়ারস। এটিকের তরফ থেকে গ্রাসরুট ফুটবল ডেভলপমেন্ট শুরু হয়ে গেছে। দুবছর ধরে এই প্রোগাম চলছে। নিজস্ব আকাডেমি করে ফেলেছে। ফুটবলার সিলেকশন হচ্ছে। ৯-১০ জন যারা আই এস এলের মূল টিমের জন্য তৈরি হচ্ছে তাদের মুম্বইতে নিয়ে প্র‌্যাকট্রিস চলছে। এর পাশেই চলেছে ওই ফুটবলারদের নিউট্রিশনের দেখভাল। আমি নিজে তাদের দেখেছি। ওই ফুটবলারদের প্রচুর উন্নতি ঘটেছে। রিলায়েন্স এখানেই থেমে না থেকে গত বছর স্কুল, কলেজ একসাথে টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল। মূলপর্বে যারা উঠে এসেছিল রিলায়েন্স তাদের মুম্বইতে টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল। পরিকাঠামগত সুযোগ সুবিধা প্রদান করে সাফল্যের মুখ দেখেছে ওই টুর্নামেন্ট। সম্প্রতি রিলায়েন্স ৮ টি জোনে স্কুল কোচেসদের বিনামূল্যে ডি লাইন্সেস প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়ে আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাদের শিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাতে ওই কোচেরা বাচ্চাদের আরও ভাল ফুটবল প্রশিক্ষণ দিতে পারে। অন্যদিকে এটিকের সকাল বিকেল দুবেলা বিধাননগরের সেন্ট্রাল পার্কে অনুশীলন চলছে। এটিকে নার্সারি লিগ খেলছে। আবাসিক ক্যাম্প আছে। এটিকে ভাল কাজ করছে। ফুটবল আকাডেমি বলতে যা বোঝায় তা এখনও গড়ে ওঠেনি এটা ঠিক। তবে আকাডেমি গড়ার কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। আকাডেমি গড়ার জন্য জমি চাই। জমি পাওয়া গেছে। একটু সময় লাগবে। একটা জিনিস গড়তে একটু সময় লাগে। আই এস এল সবেমাত্র পথচলা শুরু করেছে। শুরুতেই যদি বলে সোনা ফলিয়ে দেবে নট পসিবেল। সময় লাগবে।

প্রশ্ন:‌ কলকাতা ময়দানে তিন প্রধানের কাছে মহিলা ফুটবল ব্রাত্য। ক্লাবগুলির এই মনোভাব কেন?‌
কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারঃ মহিলা ফুটবল সব সময়েই ব্রাত্য। একে নিয়ে ভাবা উচিত। আমার মনে হয় আই এফ এতে একটা উইমেন্স উইং হলে ভাল হয়। উইমেন্স উইং দ্বারা পরিচালিত হলে মহিলা ফুটবলের মান আরও বাড়বে। একই লোকের ওপরে ছেলে ও মেয়েদের ফুটবলের দায়িত্ব রয়েছে। ফলে কাজের চাপ এসে পড়ে। আমরা এবার সকলে মিলেই চেষ্টা চালাচ্ছি মহিলা ফুটবল লিগ চালু করার বিষয়ে। মার্চ মাসে মহিলা ফুটবল লিগ চালু করার বিষয়ে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে। আন্তঃ জেলা লিগ শুরু হবে। এদেশের প্রতিটি ফুটবলের স্তম্ভ আলাদাভাবে কাজ করে চলেছে। সরকার, আই এফ এ, আই এস এল একসঙ্গে কাজ করলে ফুটবলের টোটাল উন্নয়ন ঘটবে। বিচ্ছিন্নভাবে ফুটবল নিয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু এই কাজটাই যদি কম্বাইন্ড ওয়েতে হয় তাহলে সুফল আরও ভালভাবে পাওয়া যাবে। ব্রাত্য কেউ থাকবে না। মাঝের সময়ে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান মেয়েদের নিয়ে ফুটবল টিম করেছিল। ওই সময়ে মহিলা ফুটবল সাফল্যের মুখ দেখেছিল। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহামেডান স্পোটিং এর মতো ক্লাব যদি মহিলা ফুটবল নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে মহিলা ফুটবলের প্রাধান্য অনেকটাই বেড়ে যাবে। আর এই বিষয়ে স্পনসরের প্রয়োজন। কর্পোরেট সংস্থা এগিয়ে আসলে তা মহিলা ফুটবলের ক্ষেত্রেও ভাল দিক হিসেবেই বিবেচিত হবে।
প্রশ্ন:‌ বাইশ গজে লোধা কমিটির সংস্কারের রথ ফুটবলে প্রয়োগ করা হলে আদৌ তা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে?‌ এই বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া?
কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারঃ লোধা কমিটির সুপারিশ দেয়ার উইলি বি চেঞ্জ। এই চেঞ্জগুলো আসলে সমস্ত কিছু ভাল হবে। লোধা কমিটির সুপারিশগুলো খুব একটা খারাপ হয় নি। সবকিছুর একটা বদল দরকার আছে। এই বদলগুলো হোক না ফুটবলে। কেউ ভাবতে পারে নি ডায়না এডুলজি ক্রিকেটের সংস্কারের কাজে নামবে। আমি এর জন্য ব্যক্তিগতভাবে গর্বিত। ডায়না অন্তর দিয়ে খেলেছে। আর অন্তর দিয়ে খেলার উন্নয়ন চাইবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three − 2 =

You might also like...

mazid baskar2

পুজোর পরেই আবার কলকাতায় মজিদ বাসকার!‌

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk