Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  জাতীয়  >  Current Article

যারা পাকিস্তানকে ঘৃণা করেন, আসলে তারাই পাকিস্তানকে ভালবাসেন

By   /  October 18, 2016  /  No Comments

দিব্যেন্দু দে

পাকিস্তান দেশটা আসলে কেমন ? ভাল দিক নিশ্চয় কিছু আছে। কিন্তু খারাপ দিকগুলোতে আগে চোখ বোলানো যাক।
সেনার উপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। জঙ্গিদের উপরেও নিয়ন্ত্রণ নেই। মাঝে মাঝে ভোট হয় ঠিকই। কিন্তু হঠাৎ সেনাপ্রধান গায়ের জোরে রাষ্ট্রপতি হয়ে যেতেই পারেন। আবার ভোটে হেরে গেলেই আর দেশে থাকার উপায় নেই। চলে যেতে হবে লন্ডনে বা অন্য কোথাও। বেনজির ভুট্টো থেকে নওয়াজ শরিফ, এমনকি মুশারফেরও সেই এক দশা হয়েছিল।
স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রাস্তা- এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা বা আলোচনা নেই। কে কত ভারত বিরোধী ? কীভাবে ভারতকে শায়েস্তা করা যায়, এই নিয়েই তরজা। প্রায় আট বছর হয়ে গেল, সে দেশে কোনও দল খেলতে যাচ্ছে না। পাকিস্তান দলকে বাইরে বাইরে গিয়ে খেলে আসতে হচ্ছে। যে কোনও সময় গুলি, বোমা লেগেই আছে। সারাদিন কত মানুষ যে মারা যাচ্ছে, তার হিসেব নেই।
আমাদের দেশ ? হ্যাঁ, আমরা অনেক ভাল আছি। এখানে প্রাণ খুলে নিজের কথা বলা যেত (হ্যাঁ, যেতই বলছি। এখন আর সেভাবে যায় না)। আমাদের দেশের একটা বিরাট অংশ পাকিস্তানকে দারুণ ভালবাসে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের যা যা বদগুন, তা আমাদের দেশেও আমদানি করতে চায়।

raj-thakre2

কেউ সামান্য প্রশ্ন তুললেই এখানে তাঁকে দেশদ্রোহী বলা হয়। কেউ যদি হুঙ্কার দেন,, পাকিস্তানের শিল্পীদের দেশে ফেরত পাঠানো হোক, তিনি লাখ লাখ মানুষের সমর্থন পেয়ে যান। কেউ যদি বলেন যুদ্ধ চাই, তিনি জাতীয় নায়ক হয়ে যান। আর শান্তির কথা বললেই তাঁকে দেশদ্রোহী তকমা নিতে হবে।
আগে শিবসেনা হুমকি দিত। সরকার অসহায় হয়ে আত্মসমর্পন করত। এখন আর হুমকি দেওয়ার দরকার পড়ছে না। হুমকি দেওয়ার আগেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। হুমকি আসার আগেই ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও ক্রিকেট নয়। হুমকি আসার আগেই হলমালিকরা জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তানের শিল্পী থাকলে সেই ছবি হলে চালানো হবে না।
চ্যানেল বা খবরের কাগজও নত হতে বলার আগেই নতজানু হয়ে বসে আছে। কোনও ভিন্ন কণ্ঠস্বর শুনতে রাজি নয়। থামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তার গায়ে দেশদ্রোহী তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কোনও অভিনেতা বললেন, জঙ্গি আর শিল্পীদের গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল, যাও পাকিস্তানে চলে যাও।
বলিউডের বিগ বি। তিনি নিশ্চয় মনে মনে এইজাতীয় অসভ্যতাকে সমর্থন করেন না। কিন্তু তাঁকেও নীরব থাকতে হয়। কারণ, মুখ খুললে তাঁকেও রেয়াত করা হবে না। এটা তিনি বিলক্ষণ জেনে গেছেন।
সকাল থেকে একটাই আলোচনা। কী করে পাকিস্তানকে টাইট দেওয়া যায়। যেন এতেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ হলেই যেন সব কালো টাকা দেশে চলে আসবে, জিনিসপত্রের দাম কমে যাবে, পেট্রল নয়, জলে গাড়ি চলবে, সিঙ্গুরে কারখানাও হয়ে যাবে, লক্ষ লক্ষ ছেলে চাকরিও পেয়ে যাবে।

আমার দেশে একটা চোরা সাম্প্রদায়িকতার আবহ ছিল। কিন্তু তা এত বেআব্রু হয়ে পড়েনি। আমার দেশটা আগে সত্যিই ভাল ছিল। অন্তত নিজেদের মধ্যে এই সন্দেহ আর অবিশ্বাসের আবহটা এভাবে ছিল না। পাকিস্তান আর ভারতে সত্যিই আর তফাত থাকছে না। উপরদিকে উঠতে না পারি, আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, চাইলে অনেকটা নামতে পারি।

যাঁরা সবসময় পাকিস্তানের মুণ্ডপাত করেন, এখন দেখছি, তাঁরাই পাকিস্তানকে সবথেকে বেশি ভালবাসেন। পাকিস্তান যেমন, আমাদের দেশটাকেও তেমন বানাতে চান। হ্যাঁ, দেশপ্রেমের ঠিকাদারি এখন এদেরই হাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + 13 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk