Loading...
You are here:  Home  >  অন্যান্য  >  আন্তর্জাতিক  >  Current Article

যুক্তিবাদীদের উপর আক্রমণ, হিন্দু-মুসলিম মাসতুতো ভাই

By   /  September 1, 2015  /  No Comments

ময়ূখ নস্কর
বাংলাদেশে যুক্তিবাদী ব্লগাররা খুন হলে ভারতের একশ্রেণির মানুষ বড় খুশি হন। মুখে তাঁরা এমন ভাব দেখান,যেন যুক্তিবাদীদের উপর ধর্মান্ধদের আক্রমণে তাঁদের বুক দুঃখে ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখপ্রকাশের ভাষাগুলো শুনলেই বোঝা যায়, যুক্তিবাদীদের সঙ্গে তাঁদের মানসিকতার কোনও মিল নেই। নাস্তিক যুক্তিবাদীদের অপমৃত্যুতে তাঁরা এতটুকু উদ্বিগ্ন নন। বরং ভেতরে ভেতরে খুশি।
খুশির প্রথম কারণ, তাঁরা মনে মনে ভাবেন, আহা, আমাদের ভারত কি মহান দেশ! এখানে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। তুলনায় প্রতিবেশী দেশগুলি, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলি একেবারে বর্বর। খুশির দ্বিতীয় কারণ, তাঁরা মনে করেন, ইসলাম ধর্মটাই বর্বর। তুলনায় আমরা হিন্দুরা সভ্যতার মাথার মুকুট। তৃতীয় কারণ, বাংলাদেশের ব্লগাররা মূলত ইসলামের সমালোচনা করেন (আসলে, ব্লগাররা সব ধর্মেরই সমালোচনা করেন। কিন্তু ভন্ড হিন্দুরা বেছে বেছে ইসলামের কেচ্ছাগুলোই পড়ে)। ইসলামের সমালোচনা শুনতে তাঁদের বড্ড ভাল লাগে।
কিন্তু সমালোচনার তীর যখন হিন্দু ধর্মের দিকে ঘুরে আসে, তখন এই ভন্ডরা কেমন ব্যবহার করেন ? সেই আলোচনায় ঢোকার আগে এক ব্লগার দরদি সাংবাদি সম্পর্কে দু-কথা বলি। কলকাতার এক বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে কর্মরত এই বর্ষীয়াণ সাংবাদিকের পরিবার ছিল বামপন্থী। বর্তমানে কীসের মোহে জানি না, তিনি হিন্দুত্ববাদীদের মুখিয়া-তে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের ব্লগারদের জন্য চোখের জল ফেলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, এই ব্লগাররা আসলে হিন্দু তাদের হত্যাকান্ডের ফলে হিন্দুর রক্তে বাংলাদেশের মাটি লাল হয়ে গেছে।
অবাক হয়ে ভাবি, মানসিকতার কতটা অধোগতি হলে স্বঘোষিতক নাস্তিকদের মৃত্যুর পর তাদের ধর্ম নিয়ে টানাটানি করা যায়! এই কি মৃতের প্রতি শ্রদ্ধার নমুনা ? আরও ভাবি, ধর্মীয় গোঁড়ামির শিকড় কতটা গভীরে গেলে ব্লগারদের লেখার বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আক্রান্ত ও আক্রমণকারির ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামানো যায় ? ধর্মীয় একরোখামি কতটা তীব্র হলে এটা ভোলা যায় যে নিহত ব্লগার নিলয় নীলর ফেসবুক পেজ বন্দ করারল উদ্যোগ নিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

kalburgurgi

বাংলাদেশের ব্লগার হত্যা নিয়ে আকাশ ফাটানো হিন্দুত্ববাদী সাংবাদিকরা যখন বলেন, মুসলমানরা হিন্দু ব্লগারকে খুন করেছে, তখন তাঁরা কি ভুলে যান, রাজীব হায়দার বা ওয়াসিকুর রহমান বাবু কোনওভাবেই হিন্দু নন ? আসলে, কিন্তু তাঁরা ভোলেন না। তাঁরা জানেন, এই ব্লগারদের কোনও ধর্ম নেই। কিন্তু মুসলমানের হাতে হিন্দু মরেছে, এই প্রচারের ভাল বাজার আছে। তাই তাঁরা আমাদের মতো ধর্মনিরপেক্ষদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, হিন্দু ব্লগারদের হত্যা নিয়ে সেকুলাররা, বামপন্থীরা নিশ্চুপ কেন ?
আমরা, ধর্মনিরপেক্ষরা, নাস্তিকরা সোচ্চারে বলতে চাই, যে কোনও দেশের, যে কোনও যুক্তিবাদী মানুষ আমাদের আত্মার আত্মীয়। তিনি যদি যুক্তি দিয়ে আমাদের সমালোচনাও করেন, আমরা তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলব না। বরং তাঁর উচিত-অনুচিত বিচার করব। তাঁর মৃত্যু হলে আমরা পীড়িত হব, ক্রুদ্ধ হব। কিন্তু একই রকম সমালোচনার মখে পড়তে ধার্মিকরা কী করে ? মুসলমানরা কী করে, তার প্রমাণ তো বাংলাদেশে পাওয়া গেছে। হিন্দুরা কী করে, তার প্রমাণও ভারতে পাওয়া যাচ্ছে। যাঁরা মনে করেন, ভারত নামক দেশটি বা হিন্দু নামক ধর্মটি খুব উদার, তাহলে তাঁদের আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।
যদি সত্যের প্রতি বিন্দুমাত্র আনুগত্য থাকে, তাহলে স্বীকার করে নেওয়া ভাল, হিন্দুরা যুক্তিবাদের প্রতি সমান অসহিষ্ণু। ভারতের ধর্মোন্মাদরাও যুক্তিবাদীদের প্রতি সমান খড়্গহস্ত। সম্প্রতি এম এম কালবর্গি হত্যাকান্ড থেকে সেই কথাই প্রমাণিত হয়। কর্ণাটকের এই প্রাক্তন উপাচার্যকে হত্যার কারণ একটাই, তিনি ছিলেন কু সংস্কারের বিরোধী। কারা হত্যা করেছে, তা স্পষ্টভাবে বলার কোনও দরকার নেই। কারণ, বজরং দলের নেতা ভূভিত শেঠি স্পষ্টই বলেছেন, হিন্দু ধর্মের বিরোধীতা করলে এভাবেই কুকুরের মতো মরতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, এর পরে হত্যা করা হবে এ এস ভগবনকে।
এই হত্যাকান্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবলে চলবে না। কারণ, এর আগেও কুসংস্কার বিরোধী যোদ্ধা নরেন্দ্র দাভোলকার, গোবিন্দ পানসারেকে হত্যা করা হয়েছে। বিশিষ্ট লেখক ইউ আর অনন্তমূর্তির মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ির সামনে উৎসব করেছে সংঘ পরিবার।
তাহলে আমরা কীভাবে বলব হিন্দু ধর্ম ইসলামের থেকে উদার ? কীভাবে বলব, ভারত বাংলাদেশের থেকে উন্নত ? এই হত্যাকান্ড প্রমাণ করে বাংলাদেশ বা ইসলামকে নিয়ে মাথা ঘামানোর আগে হিন্দুত্ববাদীদের নিজের চরকায় তেল দেওয়া উচিত। কথায় বলে, চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। হিন্দু সন্ত্রাসবাদী আর মুসলিম সন্ত্রাসবাদীরাও তাই। তারা একই কায়দায় ঘরে ঢুকে খুন করে। একই কায়দায় পরবর্তী টার্গেট ঘোষণা করে।
সবথেকে আশ্চর্যের বিষয়, ভারতীয় রেনেসাঁর পীঠস্থান বলে পরিচিত বাংলায় বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রগুলিতে কালবার্গির হত্যাকান্ডে কার্যত কোনও প্রচারই হয়নি। তারা শিনা হত্যা, ট্রলির ভেতর মৃতদের – এসব পরকীয়ার গন্ধমাখানো খবর নিয়ে মত্ত হয়ে গেছে। এই বিষয়টা নিয়ে তোলপাড় যা হবার, তা হচ্ছে ফেসবুকে।
কয়েক মাস আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখেছিলাম, ধর্ম যখন চাপাতির ভাষায় কথা বলে, তখন বুঝতে হবে দেশের ঘোর দুর্দিন।’ কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। আসলে, সব ধর্মই সব যুগেই চাপাতির ভাষাতেই কথা বলে। খ্রীষ্ট ভক্তরা সাদা পায়রা উড়িয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় রাজ্যস্থাপন করেনি। আরবের যোদ্ধারা এশিয়াজুড়ে রাজ্য বিস্তার করার সময় হাতে জলপাই শাখা নেয়নি। পঞ্চনদের তীরের মুষ্টিমেয় কয়েকজন আর্য সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ল, তা কোনও প্রেমের মন্ত্রের জন্য নয়। kalburgi4

ভারতীয় উপমহাদেশের দুর্ভাগ্য, ব্রিটিশের কবল থেকে স্বাধীন হলেও ধর্মের কবল থেকে স্বাধীন হয়নি। স্বাধীনতা মানে তো কেবল রাজনৈতিক মুক্তি নয়। স্বাধীনতা হল নিজের অশিক্ষা, নিজের পশুত্ব থেকে মুক্তি। জনৈক দার্শনিক বলেছিলেন, স্বাধীনতা মানে নিজের সমালোচনা সহ্য করার উদারতা। যে দেশের সে উদারতা নেই, সেই দেশ নিজের আত্মার অন্ধকারে চির পরাধীন। যে দেশ যে ধর্ম নিজের ত্রুটি বিচার না করে কেবল অন্যের খুঁত ধরে বেড়ায়, সেই দেশকে ধিক্কার, সেই ধর্মকে ধিক্কার। নিজের দেশ হলেও তাকে মার্জনা করা যায় না। যেমন মার্জনা করা যায় না সেই সব অন্ধ মানুষদের, যাঁরা মনে করেন, আমরা বাংলাদেশের থেকে ভাল, আমরা মুসলমানদের থেকে ভাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 6 =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk