Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  Current Article

রবি ঠাকুর পাঁচশো টাকার মতোই অচল

By   /  November 15, 2016  /  No Comments

নন্দ ঘোষের কড়চা

 

রবি কর অনেকদিন ধরে বাপাত্তা। বহুদিন পর হাজির। তিনি নাকি নন্দ ঘোষের কড়চা লিখবেন। যাকে তাকে নয়, ঝাড়বেন একেবারে রবি ঠাকুরকে। দিন কয়েক আগে দিয়ে গেছেন। আজ রবি ঠাকুরের নোবেল পাওয়ার দিন। তাই আজকেই ছাপা হল। পড়ুন।

 

বেঙ্গল টাইমসে নন্দ ঘোষের কড়চা বেশ জমে উঠেছে। এতটাই জমে উঠেছে যে এডিটর আমাকে আর পাত্তাই দিতে চাইছে না। আমার লেখা আর ছাপছেই না। বলছে, “আপনি তো যত বোকা বোকা হাসির লেখা লেখেন। কিন্তু ওই সব লেখার থেকে লোকে আজকাল নন্দ ঘোষের লেখা বেশি পড়ছে। পাঠকরা চিঠি লিখে সৌমিত্র, উত্তম, মৃণাল যাকে পারছে সমালোচনা করছে। কোনও রাখঢাক নেই। যিনি লিখছেন তাঁকে মাইনে দিতে হচ্ছে না। আবার ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। এই ভাবে আর কিছুদিন চললে আপনাকে ছাড়িয়ে দেব।”

কী বিপদ বলুন তো প্রিয় পাঠকরা। নন্দ ঘোষ সেজে এ ওকে, সে তাকে গালাগাল দিচ্ছে বলে আমার চাকরি থাকবে না ? তাই ঠিক করেছি, আমিও নন্দ ঘোষ সেজে গালাগাল দেব। আর দেবই যখন তখন সৌমিত্র, উত্তমের মতো চুনোপুঁটিদের দেব না। কাদা ছুঁড়লে একেবারে মগডালে ছুঁড়ব। আমি খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দোষ খুঁজে বের করব। সমালোচনায় ভরিয়ে দেব তাঁকে। এডিটর বাবাজিকে এই লেখা ছাপাতেই হবে।

nanda ghosh logo
রবি ঠাকুরের সমালোচনা করতে গেলে সবাই তাঁর বউদি, ওকাম্পো না ভূমিকম্প নামে কে একটা মেয়ে এইসব প্রসঙ্গ তোলে। কিন্তু আমি সে সব কাজ করব না। রবীন্দ্রনাথ একজন সাহিত্যিক, আমি তাঁর সাহিত্যের সমালোচনা করব। দেখুন মশাইরা, আমরা হলাম আধুনিক যুগের আধুনিক বাঙালি। এই যুগে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে আমাদের রুচির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। নইলে রবীন্দ্রনাথ হন আর যেই হন আমরা ছেড়ে কথা বলব না।
রবীন্দ্রনাথের কবিতার কথায় পরে আসব। আগে গদ্যের কথা ভাবুন। বাপরে, কি বড় বড় বাক্য! একটা বাক্যে একটা প্যারাগ্রাফ। এত বড় বাক্য পড়ার মতো ধৈর্য আধুনিক মানুষের  থাকে না। শুধু কি বাক্য? উপন্যাসগুলোর কথা ভাবুন। যতই পড়ি, শেষ হয় না রে, শেষ হয় না। পূজাবার্ষিকীর উপন্যাসগুলো কেমন একবেলার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। আর রবীন্দ্রনাথ? একবার গোরা খুলে বসেছিলাম। ৫ পাতা পড়ার পরেই মাথা ব্যাথা শুরু হল। বই বন্ধ করে আনন্দলোক পড়ে একটু স্বস্তি পেলাম।

rabindranath10
সেই থেকে আর রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস পড়ি না। কিন্তু ইদানিং টিভিতে চোখের বালি বলে একটা সিরিয়াল হচ্ছে। শাশুড়ি বউ ঝগড়া, পরকীয়া- একেবারে আদর্শ মেগা সিরিয়াল। এর আগে চোখের বালি সিনেমাটাও ভাল লেগেছিল। ঐশ্বর্য রাইয়ের খোলা পিঠ, পুরো মাখন। ও মা, রবীন্দ্রনাথ এইসব লিখেছিল বুঝি!
কিন্তু বইটা পড়তে গিয়েই দেখি যত রাজ্যের প্যাঁচাল। কেমন একটা ধরি মাছ না ছুঁই পানি টাইপের ব্যাপার। এঁর থেকে সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো। ডাইরেক্ট শরীরে ঢুকে যায়। রাখঢাক থাকে না। আসলে রবি ঠাকুরের মাথায় অনেক পরিকল্পনা আসত। কিন্তু চিন্তাভাবনায় সঙ্গীতাদের মতো আধুনিক ছিলেন্ না বলে খেই সামলাতে পারতেন না।
তারপর ধরুন নাটক। কি সব প্লট, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর প্রেমে পড়ছে চণ্ডালিকা, শ্যামা চোরের প্রেমে পড়ছে, চিত্রাঙ্গদা রূপ পাল্টে অর্জুনের কাছে যাচ্ছে। আজকের পরিচালকরা এই সব গল্প পেলে খান সাতেক বেড সিন দিয়ে সুপার হিট চিত্রনাট্য বানাত। এন কে সলিল ডায়লগ লিখে দিত। জোড়াসাঁকোতে শুরু, বোলপুরে গুরু, নোবেল জিতে মহাগুরু।
জিত গাঙ্গুলি গান লিখত। শ্যামা চোরকে বলছে, “কি করে তকে বলব তুই কে আমার।” আর রবীন্দ্রনাথ? “প্রেমের জয়ারে ভাসাব দোঁহারে” যত সব প্যানপ্যানানি। এসব গান আধুনিক যুগে অচল।
rabindranath3

গানের কথা যখন উঠল, তখন রবীন্দ্রসঙ্গীতের কথা বলা যাক। মাইরি এগুলো গান না পূজার মন্ত্র। আচ্ছা সত্যি করে বলুন তো কোনও গান একবার শুনে বুঝতে পারেন? একটা উদাহরণ দিই। “শ্রাবণ ঘন গহন মোহে নিরব তব চরণ ফেলে, নিশার মতো নিবিড় ওহে সবার দিঠি এড়ায়ে এলে।” আমি তো ভেবেছিলাম, অবৈধ প্রেমের গান। রাতের বেলায় চুপি চুপি নাগর আসছে। তার পর শুনলাম এটা বরষার গান। কি করে হবে? বর্ষা কি চুপি চুপি আসে? একজন বুদ্ধিমান বলল, এখানে ঈশ্বরের কথা বলা হয়েছে। “হে একা সখা হে প্রিয়তম, র‍য়েছে খোলা এ ঘর মম।”
দূর ছাই। প্রেম না পূজা না প্রকৃতি কোন পর্যায়ের গান তাই বুঝি না। একবার বলে আমি ভিখারি, একবার বলে ঈশ্বর নিজেই ভিখারি, একবার বলে আমায় মারো, একবার বলে প্রভু ক্ষমা করো। কোনও মতের স্থিরতা নেই।
তার পর ধরুন স্বদেশ পর্যায়ের গান। দেশাত্মবোধক গান মানে কেমন যুদ্ধ টুদ্ধ থাকবে, শত্রু দেশকে কচুকাটা করা হবে। তা না, মাগো তোমায় ভালবাসি ভালবাসি। যতসব। যুদ্ধ না করলে ভালবেসে কী হবে শুনি!
বুড়োটা মরার পরেও গৌরীপ্রসন্ন, পুলক এরা ওই সব নাকি নাকি গান অনুসরণ করত। কিন্তু আধুনিক বাঙালি পুরো ধুম মচিয়ে দিয়েছে। রুপমের গান শুনেছেন? “নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়। তাই সব কিছু মিলিয়ে দিয়ো। ” ষাঁড়ের মতো চিৎকার করে গাইতে হবে। প্যানপ্যান করে, নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগলো গাওয়ার থেকে ঢের ভালো। আধুনিক বাঙ্গালির প্রিয় গান, “আজ আমার মনটা যে তাই প্যাখম তুলে নাছে রে নাচে রে।” এই গান সোনার পর রবীন্দ্রনাথের হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে শুনতে ইচ্ছা করে?
এবার আসুন কবিতায়। আমরা সবাই জানি রবীন্দ্রনাথ ছন্দ মিলিয়ে মিলিয়ে কবিতা লিখতেন। আজকের দিনে ওসব অচল। তাই কঠিন কঠিন কবিতার কথা বাদ দিন ছোটদের কবিতায় আসুন। হাঁ তিনি ছোটদের কবিতাও লিখেছিলেন। ……।।
দূর দূর এর থেকে আজকের বাংলার শ্রেষ্ঠ কবির লেখা  ….. অনেক ভালো।
রবীন্দ্রনাথ ছবিও আঁকতেন। প্যারিসে সেই ছবির প্রদর্শনীও হয়েছিল। কিন্তু সেই ছবির একটাও ২ কোটি টাকায় বিক্রি হয়নি। আজকের বাংলার শ্রেষ্ঠ শিল্পীর ছবির দাম কোটি কোটি টাকা।
সুতরাং বাঙ্গালির জীবনে রবীন্দ্রনাথের একমাত্র অবদান ২৫ বৈশাখ, ওইদিন অফিস ছুটি থাকে। ওই ছুটির দিনটাতে রবীন্দ্রনাথ আমাদের গুরুদেব। অন্য দিনগুলোতে আমাদের গুরু দেব। মানে দীপক অধিকারী।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মাথা ঘামানর থেকে দেবের সিনেমা দেখা ভালো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 9 =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk