Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

রবীন্দ্র জয়ন্তীঃ অভিনব এক আড্ডা

By   /  May 9, 2015  /  No Comments

রবি কর

দেখেত দেখতে আরও একটা পঁচিশে বৈশাখ চলে এল। কিন্তু সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষরা জামিন পেলেন না। একবার জামিন পেয়েও আবার ফিরে যেতে হল গৌতম কুন্ডুকে। কবিপক্ষের পুণ্য লগ্নে কী ভাবছেন তাঁরা ? তাঁদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা কি জেলের অন্দরে বিকশিত হতে পারে না ? আসুন, কল্পনার স্রোতে ভাসতে ভাসতে জেলের ভেতরে ঢুকে এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। অকারণে, কেন কী করে, কবে ইত্যাদি প্রশ্ন করে বিরক্ত করবেন না। লজিক ভুলে কমিক আনন্দে মেতে উঠুন।। মনে রাখবেন, রবীন্দ্রনাথ যা লিখতেন, তার সবকিছু সত্য নয়। আর রবি কর যা লেখে, তার কোনও  কিছুই সত্য নয়।।

 

কুণালঃ বৈশাখ মাস এলেই মনটা আনচান করে। জেলের বাইরে থাকলে নববর্ষ, পঁচিশে বৈশাখ আমাকে প্রধান অতিথি করার জন্য  দরজার বাইরে লাইন পড়ে যেত। একবার দলবল নিয়ে লন্ডেন গিয়েও পচিসে বৈশাখ পালন করেছিলাম।  আর আজ! নাইজেল আক্কারা নেচে গেয়ে, অভিনয় করে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেল। আজ সে রীতিমতো স্টার। মদনদা, ও মদনদা। আরে ও সুদীপ্তবাবু, চলুন না, আমরা সবাই মিলে রবীন্দ্র জয়ন্তী করি। তাহলে হয়ত আদালত আমাদেরও দস্যু রত্নাকর থেকে বাল্মিকী হওয়ার সুযোগ দেবে।

মদনঃ আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমাকে সঞ্চালনার দায়িত্ব দিতে হবে। সারদার সময় কেমন জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছিলাম, মনে আছে ? দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া , ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, একটি ঘাসের পাতার উপরে, দুই ফোঁটা শিশিরবিন্দু।

কুণালঃ হ্যাঁ, আরে বলেছিলে, সুদীপ্ত সেন বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়ে পাঞ্জাব সিন্ধু থেকে গুজরাট মারাঠা হয়ে দ্রাবিড়-উৎকল বঙ্গ ——।

মদনঃ এই শোন শোন, বঙ্গ মানে তো বাংলা। তোর কাছে বাংলা আছে ?

কুণালঃ আহ্, মদনদা। আমার কাছে বাংলা, বিলিতি কিছুই নেই। আর শোনো, তুমি সভাপতি হবে। সভাপতির ভাষণে ওইসব বিন্দু-সিন্ধু বলবে।  মনে নেই, সেই যে ব্রিগেডে সঞ্চালনা করেছিলুম।

মদনঃ মনে নেই আবার! দেব কী সুন্দর পাগলুর গান গেয়েছিল। রবীন্দ্র জয়ন্তীতে যদি এমন কিছু করা যেত!

কুণালঃ করা যাবে না কেন ? কপিরাইট উঠে যাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যা খুশি করা যায়। আমি তো একটা গান ভেবে রেখেছি। পাগলা হাওয়া বাদল দিনে, লে পাগলু আমার মন ডান্স ডান্স করে।

মদনঃ হ্যাঁ রে, কেউ কিছু বলবে না তো ?

কুণালঃ তুমি সঙ্গে থাকলে কে কী বলবে ? ভুলে যেও না, তুমি এখনও মিনিস্টার। আর সাসপেন্ড হলেও আমিও এখনও এমপি।  কিছু বললে বলব, এটা রবীন্দ্র সঙ্গীতের রিমিক্স। বাংলা আর্ট ফিল্মে আজকাল এমন হয়।

মদনঃ তা ঠিক। আমাদের রাজ্যে রিমিক্সের আলাদা কদর। একজন তো রিমিক্স গেয়ে গেয়ে ভোটে টিকিট পেল। গো হারান হেরেও  মুর্শিদাবাদ জেলার দায়িত্ব পেয়ে গেল। বেশ কয়েকবার বিদেশ সফরেও গেল। ওরে, সব খবর রাখি।

কুণালঃ আর আমি! আমি জেলে পঁচছি।

মদনঃ দুঃখ করিস না, দুঃখ করিস না। আমি আশীর্বাদ করছি। তুই একদিন সাংসদ সাংবাদিক থেকে রিমিক্স সাংবাদিক হয়ে উঠবি।

সুদীপ্তঃ আমাকে কী করতে হবে বলুন।

মদনঃ তুই আবার কী করবি ? টাকা ঢাল, অনুষ্ঠানটা স্পন্সর কর।

সুদীপ্তঃ আপনারা শুধু আমার  টাকাটাই দেখলেন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটা দেখলেন না। জানেন, রবীন্দ্রনথের মায়ের নাম ছিল সারদা ! তাছাড়া, আমার প্রিয় বই সঞ্চয়িতা। সঞ্চয়িতা চিটফান্ড দেখেই তো আমি সারদার ব্যবসা খুলি। সঞ্চয়িতাই আমার প্রেরণা।

কুণালঃ ঠিক আছে, টাকা নিয়ে ভাবতে হবে না। সবাইকে দিয়ে দিয়ে সুদীপ্তবাবু আজ সত্যিই নিস্ব।  আমার এম পি ল্যাডের টাকা তো খরচই হয় না। তার কিছুটা না হয় রবীন্দ্র জয়ন্তীতে খরচ হবে। আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে। আপনি কচ সাজুন। দেবযানী মুখোপাধ্যায় দেবযানী সাজুক। তারপর ‘দেহ আজ্ঞা, দেবযানী।’

সুদীপ্তঃ না, না। দেহ ফেহ নয়। ওর দেহ আমি টাচ করব না।

কুণালঃ  এটা তো সপ্তপদীতে সুচিত্রা সেনের ডায়লগ ।   আপনি  সুদীপ্ত সেন না সুচিত্রা সেন ?

সুদীপ্তঃ আমি একটা গান গাইব। ওই মালতিলতা দোলে, পিয়াল তরুর কোলে।

মদনঃ অ্যাই খবরদার, পিয়ালি তুলে কথা বলবি না।

সুদীপ্তঃ পিয়ালি বলিনি দাদা। পিয়াল বলেছি। তবু আপনার যদি আপত্তি থাকে, আপনার নামে একটা কবিতা বলব। মদনভস্মের পরে। ‘পঞ্চশরে দগ্ধ করি করেছো এ কী সন্ন্যাসী।’

মদনঃ থাম থাম। আমার নামে কবিতা। এখানে সন্ন্যাসী আসছে কোত্থেকে ? পঞ্চশরটাই বা কী বস্তু ? বক্রেশ্বর ? তারকেশ্বর ? নাকি অনুশ্বর ?

সুদীপ্তঃ আমার মনে হয় দক্ষিণেশ্বর।

কুণালঃ হ্যাঁ,  তা  তো  মনে হবেই। দক্ষিণেশ্বর, সারদা এইসবই তো মাথায় ঘুরছে। আবার দাঁড়ি রেখেছিল রামকেষ্টর মতো ।

সুদীপ্তঃ তোমার গালেও তো দাঁড়ি।

কুণালঃ আমি তো  আপনার মতো কেটে ফেলিনি। আমার দাঁড়ি আরও লম্বা হবে। রবীন্দ্রনাথের মতো হবে।

(রোজভ্যালি কর্ণধার গৌতম কুন্ডুর প্রবেশ)।

গৌতমঃ ঝগড়া নয়, ঝগড়া নয়। সবাই হাতে হাত মিলিয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তী করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, আয় তবে সহচরি হাতে হাতে ধরি ধরি।

মদনঃ সহচরি হাত ধরবে ? কই, কই , সহচরি কই ?

কুণালঃ মদনদা, তুমি থাম  তো।  একটা সিরিয়াস ব্যাপার হচ্ছে। আর তুমি কখনও বাংলা, কখনও সহচরি, এসব করে গুলিয়ে দিচ্ছে।  গৌতমবাবু, আপনিও কি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চান ?

গৌতমঃ চাই বইকি। অংশ নেব বলেই তো জামিন পেয়েও আবার ফিরে এলাম। আমাকে নিয়েও রবীন্দ্রনাথের কবিতা আছে, জানেন ! ‘উঠিলা গৌতম ঋষি ছাড়িয়া আসন।’ কবিতার নাম ব্রাহ্মণ।

(মেক আপ বক্স হাতে নিয়ে দেবযানীর প্রবেশ।)

দেবযানীঃ অ্যাঁ! কুন্ডু আবার ব্রাহ্মণ? এখানে ব্রাহ্মণ একমাত্র আমি। মুখোপাধ্যায়। দেবযানী। দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যের কন্যা। দৈত্যরাজ বৃশপর্বা– -।

মদনঃ এক মিনিট, এক মিনিট। বৃশ মানে তো বুল। আরাবুল তো এখন জেলে আছে। ওকে ডাকব ?

গৌতমঃ না না। ও আবার  এখআনেও তোলা চাইবে। না পেলে জগ-টগ ছুঁড়ে মারবে ।

মদনঃ কেন ? ব্রাত্য তো বলেছিল, রবীন্দ্রনাথ স্কুলে যায়নি, আরাবুলও যায়নি। ওর সঙ্তাগেও রবি ঠাকুরের মিল আছে। হলে ওকে ডাকব না কেন ?

(জলের জগ হাতে আরাবুলের প্রবেশ।।)

আরাবুলঃ কেন ডাকবি না বে ? মেরেছি জগের কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না ? রবীন্দোনাথ বলেছেন, জগেতে আনন্দযজ্ঞে সবার নিমন্ত্রণ। আমারও নিমন্ত্রণ। তাই চলে এসেছি।

সুদীপ্তঃ এসেছো, বেশ করেছো। কিন্তু উচ্চারণ ঠিক কর। জগেতে আনন্দযজ্ঞ নয়। জগতে আনন্দযজ্ঞ।

আরাবুলঃ চোপ বে। তুই আগে বানান ঠিক কর। পরে আমাকে উচ্চারণ শেখাবি। সারদা বানানে ডি-এর পরে একটা এইচ বসিয়ে রাখতিস কেন ? সারধা ?

কুণালঃ মদনদা, আরাবুল কিন্তু আমাদের চিটফান্ড সম্মেলনীর মেম্বার নয়। ওকে নিলে আরও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাইবে।

মদনঃ নিক না। যারা জামিন পেয়ে বাইরে আছে, যারা সন্দেহভাজন কিন্তু গ্রেপ্তার হয়নি, সবাইকে ফোন করো। তারা ফোনেই গান, কবিতা শোনাক।

দেবযানীঃ সত্যিই, আজ দাঁড়িওয়ালা শুভাদা আমাদের সঙ্গে থাকলে কেমন সুন্দর জ্যান্ত রবীন্দ্রনাথ সাজানো যেত, বলুন তো!

কুণালঃ সুভা বলে রবীন্দ্রনাথের একটা গল্প আছে, জানো ?

দেবযানীঃ আচ্ছা, শুভা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের কোনও কবিতা আছে ?

কুণালঃ শুভা নিয়ে নেই। তবে কাক নিয়ে আছে। একটা কবিতায় বলা আছে, ‘আমি কাক, স্পষ্টভাষী।’

গৌতমঃ হ্যাঁ, এককালে স্পষ্টভাষী ছিলেন। কিন্তু এখন মুখে কুলুপ। পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যেন সোনার হরিণ।  ‘নাগাল পেলে পালায় ঠেলে লাগায় চোখে ধাঁধা।’

সুদীপ্তঃ যাক গে ভাই, ছাড়ো। শুভাবাবুর নাগাল পাওয়া যাবে না। যাদের নাগাল পাওয়া যাবে, তাদের ফোনে ধরো দেখি। সৃঞ্জয়কে একটা ফোন করো।

কুণালঃ ওকে আমি কিছুতেই ফোন করব না। একসময় ও আমার মালিক ছিল। এখনও সেটা ভুলতে পারেনি। মালিকগিরি ফলাবে। এই তো কদিন বাদে মোহনবাগানের নির্বাচন। আমি বাইরে থাকলে ওর বিরুদ্ধে লড়তাম। তাই আমার পেছনে ছকবাজি করেছে ।

মদনঃ ঠিক আছে, আমিই ফোন করছি।

কী রে সৃঞ্জয়, আমি জেলে আছি বলে অরূপকে নিয়ে খুব মাতামাতি করছিস ? ভাবছিস, ‘অরূপ তোমার বাণী।’ মনে রাখিস, ক্রীড়ামন্ত্রী কিন্তু এখনও আমি।

 

সৃঞ্জয়ঃ কী যে বলো দাদা! তোমাকে কি ভোলা যায় ? তাছাড়া, একা অরূপদা কেন ? মোহনবাগান নির্বাচনে এবার তৃণমূলের ছড়াছড়ি।

মদনঃ যাই হোক। আমরা জেলে রবীন্দ্র জয়ন্তী করছি। তোকে খুব মিস করছি। তোর চেহারাটা বেশ দামোদর শেঠের মতো ছিল। তুই কি গান, কবিতা কিছু করবি ?

সৃঞ্জয়ঃ আমি এখন ক্লাবেই আছি। মাঠের ঘাস, বাগানের ফুল, সব মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান মনে পড়ছে।

‘ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে

ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে।’

ভাল করে ভেবে দেখ দাদা। গানের মধ্যে ঘাসও আছে, ফুলও আছে। রবীন্দ্রনাথ তার মধ্যেই হাঁটছেন। মনে হয় তিনি তৃণমূল ছিলেন। কই কাস্তে হাতুড়ির মধ্যে তো হাঁটতেন না।

মদনঃ দেখ কুণাল, দেখ। সৃঞ্জয়ও তো জেলে ছিল। কিন্তু তোর মতো দলবিরোধী কথা তো বলেনি। আহা, রবীন্দ্রসঙ্গীতের কী সুন্দর ব্যাখ্যা!

সুদীপ্তঃ মোহনবাগান তো হল। এবার ইস্টবেঙ্গলে গেলে কেমন হয়! ওখানেও কিন্তু আমি টাকা দিয়েছি। নিতু কী করছে, কে জানে!

(ফোনে ধরা হল দেবব্রত সরকার, ওরফে নিতুকে)

মদনঃ কী রে, ছাড়া পেয়ে সবাইকে ভুলে গেলি! ক্লাব নিয়ে খুব তো বিবৃতি দিচ্ছিস।

নিতুঃ না দাদা। ক্লাব নিয়ে ঘেঁটে আছি। আমরাও কিন্তু আই লিগে র লড়াইয়ে আছি।

মদনঃ সে তো বুঝলাম। রবীন্দ্রজয়ন্তী নিয়ে কী ভাবছিস ? একটু আগে সৃঞ্জয় বলছিল, রবীন্দ্রনাথ তৃণমূলের।

নিতুঃ বলতে দাও, বলতে দাও। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কী ? আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি। আমাদের এই বাংলা রবি ঠাকুরকে কতটুকু মনে রেখেছে ? একটা মরণোত্তর ‘বঙ্গভূষণ’ও দেয়নি। বেঁচে থাকলে, বলত এই বাংলার নই, আমি পূর্ব বঙ্গের, মানে ইস্টবেঙ্গলের।

(ময়দান চত্বরে টাওয়ার থাকে না। সৃঞ্জয়ের মতো নিতুর লাইনও কেটে গেল)

দেবযানীঃ  আপনারা উল্টো পাল্টা লোকদের ফোন করছেন। ওদের কথা কে শুনতে চায় ? যাওয়ার পর থেকে একবার খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। এতদিন একসঙ্গে ছিল। এখন কেমন ভুলে গেল! এবার মিঠুনকে ফোন করুন।

মদনঃ হ্যালো, মিঠুনদা কী করছেন ? গোয়েন্দারা কি আর পেছনে লাগছে ?

মিঠুনঃ  বেশি পেছনে লাগলে এক ছোবলে ছবি করে দেব।

মদনঃ দাদা, আজ তো পঁচিশে বৈশাখ। তাই আমার মনের মধ্যে শুধু রবীন্দ্র সঙ্গীত ঘুরঘুর করছে। তোমার ডায়লগটা শুনে মনে হল, তুমি কি এক ছোবলেই ছবি! শুধু পটে লেখা ?

মিঠুনঃ আরে, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার কি আজকের সম্পর্ক ? সেই যে আমার লিপে গান ছিল, ‘ইয়াদ আ রাহাহে তেরা প্যার’। ওটা তো ‘তেমনই তোমার স্মৃতি, ঢেকে ফেলে মোর গীতি’র ভাবানুবাদ।

কুণালঃ মিঠুনদা, আমি কুণাল বলছি। চিনতে পাচ্ছো ?

মিঠুনঃ তোকে চিনবো না! ‘এক ফোনে একলাখ’ করাতে গিয়ে এমন সর্বনাশ করলি, বাইরে মুখ দেখাতে পারছি না। রান্নাঘরে ঢুকে গিয়ে টিভিতে রান্না শেখাতে হচ্ছে। তোরা তো তবু ভেতরতে আছিস, আমার কী হচ্ছে, একবার ভাব তো। ফিল্ম ফেস্টিভালে যে পারছে, প্রদীপ জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আমার ডাক পড়ছে না। রবি ঠাকুর বোধ হয় এই জন্যই লিখেছিলেন, ‘আমার সকল দুঃখের প্রদীপ’। লোকটা সব বুঝত রে। আগেই লিখে গেছে।

kunal, debjani, sudipto

কুণালঃ একটু আগে আমরা সৃঞ্জয়কে ফোন করেছিলাম। ও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ খুঁজে পেয়েছে। তুমি কি তেমন কিছু যোগ খুঁজে পেয়েছো ?

মিঠুনঃ ওকেও এখন অনেক খুঁজতে হবে। সামনে মোহনবাগানের ইলেকশন। ওরে, ছাড়তে চাইলেই কি ছাড়া যায়! তা, মুকুলকে কি ফোন করেছিলিস ?

কুণালঃ না, করিনি। তাছাড়া, উনি এখন দলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।

মিঠুনঃ মুকুল যখন দূরত্ব রাখছে। আমি কেন দূরত্ব রাখব না ? রাজনীতি নিয়ে আমাকে কোনও প্রশ্ন করবি না । যেদিন সকল মুকুল গেল ঝরে, আমায় ফাঁসিওনা প্রশ্ন করে।

মদনঃ দেখলি তো। এমন উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করলি, যে লাইন কেটে দিল।

কুণালঃ দেখ মদনদা, আর যাই শেখাও সাংবাদিকতা শিখিও না। ৬ টা মিডিয়ার সিইও ছিলাম। এমনকি যে ভাষা বুঝি না, সেই ভাষার কাগজেও সিইও। এমন রেকর্ড আর কার আছে ? মনে রাখবে, আমিই বাংলার হায়েস্ট পেইড সাংবাদিক।

সুদীপ্তঃ  হায়েস্ট পেইড! তা, মাইনেটা কে দিল শুনি! আঠারো লাখ টাকা করে মাইনে দিতাম। তার এই ফল পাচ্ছি। উনি নাকি আমাকে বাঁচাবেন। নিজেই জেলে বসে আছে।

গৌতমঃ ঝগড়া করবেন না। ঝগড়া করবেন না। রবীন্দ্রনাথ বাংলার সব ভাই বোনকে এক হতে বলেছেন। বাংলার বায়ু বাংলার জল।

মদনঃ বাংলার জল ? কই, বাংলা কই ?

সুদীপ্তঃ আরে, এ তো বাংলা শুনলেই হ্যাংলা হয়ে যাচ্ছে । এখনও কত জনের পারফর্ম করা বাকি । আসিফ খান, এম পি এস কর্তা, আইকোর কর্তা, সিলিকন কর্তা। তাপস পাল আমাকে বলেছিল, পিয়ানোর পাশে দাঁড়িয়ে ‘ধর্ষণ করিতে দিয়োগো আমারে’ গানটা গাইবে। তার মধ্যে যতসব ফালতু কথাবার্তা।

এম পি এস কর্তা প্রমথনাথ মান্নাঃ আমি কী পারফর্ম করব বলুন তো ? আঙ্গিনায় কানাই বলাই। রাশি করে সরিশা কলাই। কবিতাটা বলব ? কবিতাটার মধ্যে বেশ একটা খামার খামার ভাব আছে। ঝাড়গ্রামে আমার তো একটা খামার আছে।

কুণালঃ খামার শুনে মনে পড়ল। অর্পিতাকে একটা ফোন করি। হ্যালো, অর্পিতা, আজ পঁচিশে বৈশাখ। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে দু-কথা বলবে ?

অর্পিতাঃ দেখ, লোকে তো আমার এই একটা নাটকেরই নাম জানে, পশুখামার। রবীন্দ্রনাথের গানে অনেক পাখির উল্লেখ আছে।  কিন্তু অন্ধকানাইয়ের ভক্ত কুকুর, আর কৃষ্ণকলির শ্যামল দুটি গাই, এছাড়া পশুর উল্লেখ বিশেষ নেই। তাই নাটকে রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার করা যায়নি। তবে যখন একের পর এক মোমবাতি মিছিল করতাম, তখন ব্যর্থপ্রাণের আবর্জনায় আগুন জ্বালো গানটা বেশ জুতসই হত। তোমরাও তো করতে পারো। জেলের মধ্যে মোমবাতি মিছিল করে আগুন জ্বালো, আগুন জ্বালো।

দেবযানীঃ (আপন মনে মেক আপ করছিল। হঠাৎ চমকে উঠে)। আগুন জ্বালবে ? কে ? ওরে বাবা, তখন তো হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হতে হবে। আমার সব মেক আপ নষ্ট হয়ে যাবে।

মদনঃ হাসপাতাল ? বার্ন ? এই কুণাল, আমি চললুম রে। আমার বদলে তুইই সভাপতিত্ব কর।

কুণালঃ আরে,

তোমার কি বার্ন শুনে উডবার্ন ওয়ার্পড মনে পড়ে গেল ? সভাপতি চলে গেলে অনুষ্ঠান হয় নাকি! সবাই প্রসঙ্গ ছাড়িয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ বারবার হারিয়ে যাচ্ছে।

সুদীপ্তঃ রবি ঠাকুর আছেন। সব কিছুর মাঝেই তিনি আছেন।

কুণালঃ অনুষ্ঠানটা ঠিক জমছে না। আসলে, রবি ঠাকুর গান লিখতেন, সুর দিতেন, গাইতেন, ছবি আঁকতেন, বিশ্বভারতী চালানোর টাকাও তুলতেন, ডাক্তারিও করতেন। একসঙ্গে এত প্রতিভা আমাদের কারুর মধ্যেই নেই। এমন প্রতিভা একজনেরই  আছে । তাকে পেলে জমে যেত।

সুদীপ্তঃ তুমি বড় বিতর্কিত কথা বল। রবীন্দ্রজয়ন্তীর মাঝে এসব টেনে আনার কী দরকার ? এখনও চারশো মামলা ঝুলছে। তুমি ভাবছ, সিবিআই বাঁচাবে ! আজ রাতে মিটিং হয়ে যাচ্ছে। রবি ঠাকুর লিখেছিল না, ‘দুজনে দেখা হল।’

কুণালঃ ‘গোপন কথাটি রবে না গোপনে।’ কী হল, সব জানা যাবে।

সুদীপ্তঃ আমি চললাম। তোমরা দেখছি, আরও বিপদে ফেলবে। না, না। এই অনুষ্ঠান আমি আর স্পন্সর করব না।

(সুদীপ্তবাবু বেরিয়ে গেলেন। স্পন্সর ছাড়া অনুষ্ঠান হয় না, এটা অভিজ্ঞ সাংবাদিক বেশ ভালই বোঝেন। তাছাড়া, শহরে মোদি আসছে। এই প্রথম এক মঞ্চে, মুখোমুখি একান্ত বৈঠক, আই পি এলের ম্যাচ, তার উপর রাজ্যজুড়ে নানা রবীন্দ্র জয়ন্তী। কাগজে জায়গা কই ? সেই পাঁচের পাতায় ছোট করে বেরোবে। ছবিও যাবে না। এসব ভেবে কুণালও হতোদ্যম হয়ে গেলেন।

মাঝপথেই থেমে গেল রবীন্দ্রজয়ন্তী। এখন কুণাল নিজের মনেই সারাদিন গান গাইবেন।)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + five =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk