Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

রোনাল্ডোকে এখন সর্বকালের সেরাদের দলে রাখাই যায়

By   /  June 8, 2017  /  No Comments

সুগত রায়মজুমদার

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে এখন নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা ফুটবলার বলাই যায়। এখন তাঁর বয়স ৩২। এই বয়সেও তিনি যে ফর্মে খেলছেন, সেই ফর্মে কোনও খেলোয়াড়কে আদৌ দেখা গেছে কিনা সন্দেহ আছে। আমরা ব্রাজিলের রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, ফ্রান্সের জিদান, আর্জেন্টিনার মারাদোনা, মেসি, ব্রাজিলের রোনাল্ডিনহোকে ফুল ফর্মে দেখেছি। কিন্তু এত ধারাবাহিকতা কারও মধ্যেই দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন খেলার পর প্রত্যেকেরই একটা ক্লান্তির ছাপ দেখা গেছে। যাঁদের নাম উল্লেখ করেছি, তাঁরা সকলেই তাঁদের সময়ের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ব্রাজিলের রোনাল্ডোর মতো স্ট্রাইকার বিশ্বে খুবই কম জন্মেছেন। ওরকম গোল করার দক্ষতা খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই দেখা যায়। জিদান, রোনাল্ডিনহো, মেসিরা ব্যতিক্রম। এঁরা তিনজনই শুধু স্কিল–‌নির্ভর খেলোয়াড়। তাঁদের ড্রিবলিং করার ক্ষমতা অসাধারণ। এঁরা তিনজনই একাই বহু ম্যাচ বের করে ক্লাব ও দেশকে জিতিয়েছেন। এখনও তাঁদের সেরা সময়ের খেলা চোখের সামনে ভাসে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনাল্ডো হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। সেই বছরই তিনি বিশ্বের ‌সেরা গোলদাতা হয়েছিলেন। অবশ্য সেই রেকর্ডও এখন ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির ক্লোজে। কিন্ত রোনাল্ডোকে কখনই ভোলা যাবে না। ২০০৬ সালে জিদানকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখেছি। ব্রাজিলের মতো দুর্ধর্ষ দলকে নাচিয়ে হারিয়েছিলেন। সেই স্মৃ্তিও মুছে যায়নি। রোনাল্ডিনহো বার্সিলোনায় যখন খেলতেন, তখন তাঁর সাপের ভঙ্গিতে ড্রিবলিং ভোলা যায় না। সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছিল বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলির মধ্যে অন্যতম। সেই দলকেও রোনাল্ডিনহো নাচিয়ে হারিয়েছেন। সুতরাং এঁদের মতো প্রতিভা বিরল। বিশ্বের বড় বড় দলকেও অনায়াসে তিনি পরাস্ত করতেন। মারাদোনা তো আমাদের কাছে ইতিহাস। কিন্তু মারাদোনা ১৯৮৬ সালে যে ফর্মে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করছেন, সেই ফর্ম ১৯৯০ সালে দেখা যায়নি। তবু দক্ষতার জোরেই দেশকে রানার্স করেছেন। এর পর মারাদোনা সেরকম ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য। লিওনেল মেসিও দীর্ঘদিন তাঁর দুরন্ত ফর্ম বজায় রেখেছেন। তিনিও বার্সিলোনাকে খুব ভাল সার্ভিস দিয়েছেন। তিনিও কয়েকবার বার্সিলোনাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। স্প্যানিশ লিগেও চ্যাম্পিয়ন করেছেন কয়েকবার। এখনও মাঝে মাঝে সেই ঝলক তিনিও দেখান। তবে মেসি এখন সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তাঁর দীর্ঘ ফুটবল জীবনে অসাধারণ ক্ষমতা এখনও বজায় রেখেছেন। এরকম শক্তিশালী ফুটবলার সারা বিশ্বে এখনও কেউ নেই। তিনি অন্য যে কোনও ফুটবলারের থেকে একেবারে আলাদা। একাধারে যেমন সেরা অ্যাথলিট, সেরকম দক্ষ ফুটবলার। এখনও তিনি যে পরিমাণে খাটেন, সারা মাঠে দৌড়ে বেড়ান, তা এই বয়সে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। এটা হয়েছে রোনাল্ডোর তাঁর দেশের সমর্থকদের জন্যই। সমর্থকরা মেসিকে দেখে তাঁকে নানারকম কটাক্ষ করে তাঁর জেদ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই জেদ বজায় রেখেই পর পর ২ বছর নিজের দল রিয়েলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন করা কোনও দলের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। প্রথমে তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে আসেন ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে। তথখনকার কোচ ফার্গুসনের চোখে পড়ে যান তিনি। তাঁর কোচিংয়েই শুরু তাঁর প্রথম শ্রেণীর ক্লাব ফুটবল খেলা। সে সময় রোনাল্ডো একদম অন্য জাতের ফুটবলার ছিলেন। তখন তাঁর পায়ে ছিল খুব ভাল ড্রিবলিং ও গতি। তখন থেকেই তিনি তাঁর শরীর সম্পর্কে সজাগ ছিলেন। কয়েক বছর কাটানোর পর ম্যাঞ্চেস্টার থেকে চলে আসেন রিয়েল মাদ্রিদে। রিয়েলে এসে প্রথমে খুব ভাল ফর্মে খেলেননি। সেই সময় রিয়েল মাদ্রিদ মেসির বার্সিলোনার কাছে নাস্তানাবুদ হত বারবার। সেই হারগুলিই রোনাল্ডোকে কঠিন করে তোলে। এর পর থেকে তিনি হতে থাকেন অপ্রতিরোধ্য।

ronaldo2

তিনিও ভাবতেন মনে মনে, মেসিকে টেক্কা দেবই। মেসি ৫ বার ব্যালন ডি ও’‌র পেয়েছেন আগেই। রোনাল্ডিনহোর সঙ্গ পেয়ে মেসিও হয়েছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তাঁর দ্রুতগতির ড্রিবলিং সবাইকে ভুলিয়ে দিয়েছে। এমনকী মারাদোনা ও জিদানকেও। কিন্তু সেই মেসি দেশের হয়ে খেলার সময় সেই পারফরমেন্স কখনই দেখাতে পারেননি। এমনকি গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের তকমা পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। সেজন্যই মেসির চেয়ে এখনও অনেক বিশেষজ্ঞ মারাদোনা ও জিদানকে এগিয়ে রাখেন। মারাদোনা বা জিদান সেই সুযোগ নষ্ট করেননি। এই জায়গাতেই সমর্থকরা বলেন মারাদোনা ও জিদানের সঙ্গে ওর তফাত। মেসির জাতীয় দল তুলনামূলকভাবে দুর্বলই বলা যায়। এই দলকে কখনই বিশ্বের সেরাদের তালিকায় ফেলা যায় না। তা সত্ত্বেও মারাদোনা ও জিদান অনামী দল পেয়েও নিজের দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন বিশ্বকাপে। কিন্তু তার চেয়ে দুর্বল দল পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নিজের দেশ পর্তুগাল প্রথম দশে আসে না। তা সত্ত্বেও সেই দলকে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এর পর থেকে তিনি আরও মারাত্মক ফর্মে ফেরেন এবং প্রচণ্ড উৎসাহিত হন ব্যালন ডি ও’‌র আবার জিতে মেসিকে ছুঁতে। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোনাল্ডো যে ফর্মে খেলেছেন, সেই ফর্মে খেলা কোনও খেলোয়াড়কেই খেলতে দেখিনি। এ বছরেও তাঁরই প্রাপ্য ব্যালন ডি ও’‌র। তিনি তাঁর গোল করার দক্ষতা, খিদে ও নিজের ফিটনেস বাড়িয়ে এমন জায়গায় এনেছেন, যা অবিশ্বাস্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ বছরে তাঁর স্বপ্নের ফর্মকে স্মরণ করেই বলা যায় ভবিষ্যতে ক্রিশ্চিয়ানো যদি নিজের দেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেও ফেলেন, অবাক হব না। এটাতেই এখন মনে হয় তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অস্বাভাবিক নয়, যে দেশ ইউরোপের সেরা দেশগুলিকে হারাতে পারে, তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও হতে পারে। বর্তমানে তাঁকে সর্বকালের বিশ্বসেরাদের তালিকায় অনায়াসেই আনা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 1 =

You might also like...

mohun bagan5

ক্লাবের নাম মোহনবাগান

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk