Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

লিগ আসুক না আসুক, আজ বসন্ত

By   /  May 30, 2015  /  No Comments

ময়ূখ নস্কর
ক্লাবের নাম মোহনবাগান। যে ক্লাবের নামের শুরুতে ‘মোহ’, আর শেষে ‘গান’- সেই ক্লাবের সঙ্গে যে অজস্র মানুষের অপরিসীম আবেগ জড়িয়ে থাকবে তাতে আশ্চর্য কী!
সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ আমরা প্রথম দেখেছিলাম ১৯১১ সালে, যখন পাটনা, আসাম, এমনকি যশোর খুলনা থেকে দলে দলে মানুষ ছুটে এসেছিল আই এফ এ শিল্ডের ফাইনাল দেখতে। তারপর বছরের পর বছর সেই আবেগের ঝড় মাতিয়ে দিয়েছে কলকাতাকে।
কিন্তু এই ২০১৫-তে যে ভাবে সেই আবেগ, সেই মোহ খরস্রোতা নদীর বেঙ্গালুরুর দিকে ছুটে চলেছে, তা সত্যিই আগে কখনও দেখা যায়নি। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে যারা নিয়মিত চোখ রাখেন না, তারা অনুমান করতে পারছেন না, এই আবেগ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নবীন প্রজন্ম দিনরাত ফেসবুক করে, পুরানো দিনের মানুষরা তাদের একটু করুণার চোখে দেখেন। ভাবেন ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির
জগতে ঘুরে ঘুরে এরা রিয়াল জগতটাকেই চিনল না। কথাটা পুরপুরি ভুল নয়। কিন্তু আজ, সেই বয়স্ক প্রজন্মের জন্য আমাদের করুণা হচ্ছে।
বয়স্করা শুনুন, যে কাজ আপনারা ৩০-৪০ বছর আগে করতেন সেই একই কাজ এরাও করছে। মোহনবাগানের জন্য যে আবেগ আপনাদের ছিল, সেই আবেগ এদেরও আছে। বায়ার্ন- বার্সিলোনার খবর রাখে বলে এই নয় যে এরা কলকাতার ময়দানকে ভুলে গেছে। ফেসবুকের পাতায় চোখ রেখে দেখুন, মোহনবাগানকে কেন্দ্র করে আবেগের কী মহাবিস্ফোরন ঘটেছে। আপনাদের জমানায় কলকাতা
ফুটবলের স্বর্ণযুগেও বোধহয় এমনটা দেখা যায়নি। যারা ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক তারাও দেখুন, যারা ফুটবলের খবর রাখেন না, যারা খেলাধুলা পছন্দ করেন না, তারাও দেখুন। না দেখলে জীবনের এক পরম প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।

mohun bagan5
আসুন ফেসবুকের কিছু নমুনায় চোখ বোলান যাক। একজন লিখছেন, “বেঙ্গালুরু গামি ট্রেন থেকে ফোন এলো… দল বেঁধে সব মাঠের লোক যাচ্ছে বেঙ্গালুরু…. ট্রেনের ভিতরে ‘জিতছে কারা… মোহনবাগান… ভারতসেরা মোহনবাগান’ স্লোগান শুনছি ভায়া ফোন”। বেঙ্গালুরুগামি জসবন্তপুর এক্সপ্রেস থেকে একজন লিখছেন, “গতকাল একটি ছেলে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। তার পরেই সে মাত্র এক হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। যাচ্ছে বেঙ্গালুরু। টিকিট পায়নি বলে সে ট্রেনের টয়লেটের সামনে বসে আছে। বেঙ্গালুরু গিয়ে কোথায় থাকবে, কী খাবে, কোথায় খেলার টিকিট পাবে ছেলেটি কিছুই জানে না।”
আরেকজন লিখছেন “আমার মেজ দাদু… বেলজিয়ামে থাকেন গত ৩০ বছর। আজ সকালে দাদু মাকে জানিয়েছেন, মোহনবাগানের খেলা দেখার জন্য তিনি কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বেঙ্গালুরু আসছেন।“

বাবা যাচ্ছে বেঙ্গালুরু। বিমানবন্দরে ছাড়তে এল ছেলে। একদিন একটু বড় হলে সেও নিশ্চয় বাবার সঙ্গে যাবে।

বাবা যাচ্ছে বেঙ্গালুরু। বিমানবন্দরে ছাড়তে এল ছেলে। একদিন একটু বড় হলে সেও নিশ্চয় বাবার সঙ্গে যাবে।

আপনারা বলবেন, এমন ঘটনার মধ্যে নতুনত্বের কী আছে? ইউরোপে তো সমর্থকরা প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য বিদেশেও পাড়ি দেন। ঠিকই। কিন্তু এটাও ভাবুন, সেখানে দূর দেশে খেলা দেখতে যাওয়ার সংস্কৃতি বহুদিনের। অনেক ক্ষেত্রেই সেটা অরগানাইজ করা হয়। কিন্তু এখানে যা হচ্ছে সমর্থকদের নিজের উদ্যোগে। তাছাড়া আমাদের দেশে ফুটবল এখনও গরিবের খেলা। টয়লেটের সামনে বসে দু’রাত ট্রেন জার্নি কোনও বড়লোক করে না। ক্লাবকর্তারা ব্যাপারটা অরগানাইজ করলে গোটা স্টেডিয়ামই চলে যেত মোহনবাগানের দখলে। ট্রফি জেতার দরকার হত না, এই
সমর্থন দেখিয়েই ৫০ কোটির স্পনসরশিপ আদায় করা যেত। ক্লাব কর্তারা উদ্যগ নিলে কলকাতার কোনও বড় মাল্টিপ্লেক্সে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা যেত। করা যায়নি। তার বদলে সমর্থকরা নিজেদের চেষ্টায়, শোভাবাজার, বেহালা, বালিগঞ্জ, আগরপাড়া, জয়নগর, আন্দুল, শ্রীরামপুর, বালি, সিউড়ি, শিলিগুড়ি, এমনকি দিল্লিতেও স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন।
সাবাস মোহনবাগান! সাবাস বাঙালির ফুটবল! মোহনবাগান লিগ জিতুক না জিতুক, সমর্থকরা যে নজির গড়ল, তার কাছে আই-লিগও তুচ্ছ। সমর্থকদের এমন স্বতস্ফূর্ত ভালবাসা পৃথিবীর কটা ক্লাবের ভাগ্যে জোটে ! ৫ বছর ট্রফি না পেয়েও এমন ‘মোহ’ ছড়াতে, এমন ‘গান’ শোনাতে আর কোন ক্লাব পারে!
সেই ভালবাসার টানেই, সেই মোহের টানেই, ৩১ তারিখ বেঙ্গালুরুর ভুমিপুত্র অরুময় নৈগম, উলগানাথন, নোয়েল উইলসন, আর সি প্রকাশরা স্টেডিয়ামে থেকে মোহনবাগানের বিজয় কামনা করবেন। বিজয় কামনা করবেন আরও অনেকে।
স্বর্গ বলে কিছু যদি থাকে, ৩১ তারিখ সন্ধ্যায় সেখান থেকে কান্তিরাভায় নজর রাখবেন, ১৯১১- সেই অমর যোদ্ধারা, নজর রাখবেন গোষ্ঠ পাল, উমাপতি কুমার। নজর রাখবেন উমাকান্ত পালধি- সেই আবেগ সর্বস্ব তরুণ, যিনি ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের শোকে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। নজর রাখবেন খুলনা জেলার সেই মানুষটি যিনি গোয়ালন্দ ঘাট হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন মোহনবাগানের জয় দেখবেন বলে, অথবা সেই মুসলমান বন্ধুটি যিনি, মোহনবাগান গোরাদের হারানোর পর ধর্মতলায় মসজিদের সামনে আনন্দে ডিগবাজি খেয়েছিলেন। ৩১ তারিখ তাঁরা সবাই মোহনবাগানের জয় চাইবেন।
mohun bagan supporter3

আপনিও আসুন। ফুটবল বোদ্ধা হবার দরকার নেই, মোহনবাগানের সমর্থক হবারও প্রয়োজন নেই, শুধু এই পাগলগুলোকে সম্মান জানানোর জন্য একবার বলুন, “থ্রি চিয়ার্স ফর…”
ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত।
লিগ জিতুক না জিতুক, এই সমর্থকদের জন্য মোহনবাগানই ভারত সেরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + eight =

You might also like...

chalo lets go

অঞ্জনের একটা ছবিই চোখ খুলে দিল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk