Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

শ্রীকান্ত ও অন্নদাদি

By   /  September 18, 2015  /  No Comments

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ছিল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিবস। তাঁর সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ চরিত্র শ্রীকান্ত। আমাদের এই শ্রীকান্ত, শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত নন। এই অন্নদাদির আসল নামও অন্নদা নয়। কিন্তু শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্তর মতোই এই শ্রীকান্তও দিদি অন্ত প্রাণ। দিদি বললে, তিনিই পাঁচিল ঘেরা ১০০০ একর জমি দখল করে দেবেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি জবরদখল করে শ্রীকান্ত নিজের সেই ক্ষমতা দেখিয়েছেন। লিখছেন রবি কর।

যাক বাবা, এতদিনে একটা উপায় পাওয়া গেল। এই জন্যই বলে, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। অন্নদাদির কতদিনের ইচ্ছা ছিল, পাঁচিল ঘেরা ১০০০ একর জমি উদ্ধার করবেন, কিন্তু আইন-আদালত করে ব্যাপারটার ঠিক সুরাহা হচ্ছিল না। এত দিনে সুরাহার উপায় পাওয়া গেছে। শ্রীকান্তকে দায়িত্ব দিলে তিনি চোখের নিমেষে জমি দখল করে দেবেন। আদালত-ফাদালত কিসসু করতে পারবে না।
দাঁড়ান, দাঁড়ান, শ্রীকান্ত অন্নদাদি এই সব নাম দেখে ভাববেন না, আমি শরৎচন্দ্রের টুকলি করছি। এই শ্রীকান্ত, শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত নন। অন্নদাদির আসল নামও অন্নদা নয়। তবে, অন্নদা শব্দের মানে হল ‘যিনি অন্ন দান করেন,’ আমাদের অন্নদাদিও শ্রীকান্তকে অন্ন দান করেন। তাঁর আশীর্বাদ মাথায় নিয়েই শ্রীকান্ত করেকম্মে খায়। তাই অন্য লোকে যে নামেই চিনুক, শ্রীকান্তর কাছে তিনিই অন্নদাদি।

sharatchandra5
দুই শ্রীকান্তর মধ্যে নামের মিল ছাড়াও একটা মিল আছে। শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত যেমন অন্নদাদির কথা ভুলতে পারত না, আপদে বিপদে সবসময় দিদির পাশে এসে দাঁড়াত, আমাদের শ্রীকান্তও তেমন। যতই বিতর্ক হোক, নিন্দুকেরা যতই নিন্দা করুক, সারদা–টেট-মোদী-মদন যতই কেলেঙ্কারি হোক, শ্রীকান্ত দিদির পাশে থাকবেই। নিন্দুকেরা বলে শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত ছিল ভবঘুরে, আর এই শ্রীকান্ত দিদিঘুরে। মানে সবসময় দিদির পিছনে পিছনে ঘোরে।
কিন্তু শ্রীকান্ত এমন করে কেন? কেন আবার, স্নেহের জন্য! শরৎচন্দ্র পড়েননি? শ্রীকান্ত ছিল স্নেহের কাঙ্গাল। নারীজাতির কাছে স্নেহ-মায়া-অন্নদা, ওফ স্যরি, মানে স্নেহ-মায়া-মমতা ইত্যাদি পেয়েছিল বলেই সে নারীজাতির কোনও দোষ দেখিতে পাইত না। আমাদের মমতাদিও শ্রীকান্তকে অন্নদার বন্ধনে, দূর ছাই কী লিখতে কী লিখছি, অন্নদাদিও শ্রীকান্তকে মমতার বন্ধনে বেঁধে ফেলেছেন।
আর এখানেই পুরুষ জাতির সঙ্গে নারীজাতির তফাত। আমাদের শ্রীকান্ত যখন ব্যবসাপাতি শুরু করেছিল, তখন তো নারীর হাতে ক্ষমতা ছিল না, ছিল পুরুষের হাতে। কিন্তু পুরুষরা শ্রীকান্তর দিকে ফিরেও তাকায়নি। ৩৪ বছরের প্রথম ২৪ বছর নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর পর তারা হঠাৎ ‘শিল্প চাই শিল্প চাই’ বলে খেপে উঠল। আরে মুখপোড়ারা শিল্প আবার চাইবি কী? ঘরের মধ্যেই শ্রীকান্তর মতো এত বড় একজন শিল্পপতি আছেন, তারদিকে চোখ দে! তা না করে, আজ টাটা কাল পাঁঠা, ভিন রাজ্য থেকে শিল্পপতি ধরে আনতে লাগল। কী হল? রাজ্যও গেল! শিল্পও গেল! থাকার মধ্যে পড়ে রইল সিঙ্গুরের পাঁচিল ঘেরা জমি।
singur

দিদিমনি মানে অন্নদাদি কিন্তু তেমন ভুল করেননি। তিনি জানেন failure is the pillar of success. সাকসেসের চেষ্টা করতে গেলেই ফেলিওর-টেলিওর হয়ে যাবে, তাই বেশি চেষ্টা না করাই ভালো। বরং যেটুকু আছে, সেটুকুও চলে গেলে নির্ঝঞ্ঝাট হওয়া যায়। তা দীর্ঘ সাড়ে চার বছর + আগের আরও চার বছরের সাধনার ফলে সে সব আপদগুলো মোটামুটি বিদায় হয়েছে। নেউটিয়া-কেউটিয়া ছাড়া বেশি কেউ এ তল্লাটে শিল্প করতে আসে না।
অন্নদাদির তো অন্ন মানে খাবার দাবার নিয়ে চিন্তা, তাই তিনি শিল্প বলতে বোঝেন তেলেভাজা-মুড়ি-আচার-বড়ি। আর শিল্পী বলতে বোঝেন সোহম–মিমি-বাহামনি। আগামি দিনে এই মুলুকে গাড়ি শিল্পের বদলে মুড়ি শিল্প, উত্তমকুমারের বদলে সোহম কুমার এই সবই হবে। হবেই হবে। গলার কাঁটা হয়ে বিধে আছে পাঁচিল ঘেরা ১০০০ একর জমি। মোটামুটি ঠিক হয়ে আছে জমির অর্ধেকটাতে আন্তর্জাতিক মানের মুড়ি কারখানা, আর বাকিটাতে অনুসারি শিল্প হবে, কিন্তু শালারা জমিটাতে কিছু করবেও না, আবার ছাড়বেও না।
এদিকে ওই জমি ছাড়া রাজ্যে জমিও নেই। দিদি কারও জমি নেবেন না। কী যে হবে? ২৭ বার দার্জিলিং আর ৩৫ বার দিঘা গিয়েও দিদি জট ছাড়াতে পারছিলেন না। কিন্তু যে কাজ দিদি পারেন না, সে কাজ ভাই পারে, যে কাজ অন্নদাদি পারে না, সে কাজ শ্রীকান্ত পারে। শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত যেমন বিপদে আপদে অন্নদাদিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসত, এই শ্রীকান্তও তেমনটাই করতে চায়। শুধু দিদি একবার হ্যাঁ বললেই হল।

srikanta5
আগেই বলেছি, শ্রীকান্তর মতো এত বড় শিল্পপতি এ মুলুকে নেই। শিল্প বলতে আমরা বুঝি হয় কালচার, নয় ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু শ্রীকান্ত একসঙ্গে দুটো নিয়েই কারবার করেন। কালচার নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি করেন তিনি। আর কালচার মানে বুদ্ধুবাবুর মতো মৃণাল-ঋত্বিক-সৌমিত্র নয়, একেবারে দিদির মনের মতো সোহম–মিমি-বাহামনি মার্কা কালচার। এই কালচারকে দিদিমণির স্বার্থে ব্যবহার করার ইন্ডাস্ট্রি পত্তন করেছেন তিনি। মিডিয়া বা বিরোধীদের আক্রমণের মুখে দিদি বেসামাল হয়ে গেলে শ্রীকান্ত ভাই এক ধমকে মিমি-সায়ন্তিকাদের রাস্তায় নামিয়ে দেয়। ভোটের টিকিট কে পাবে তাই নিয়ে গোষ্ঠী কোন্দল? শ্রীকান্তর এক অনুরোধেই দেব প্রার্থী হয়ে যায়।
শরৎচন্দ্রের পর বাঙালির স্বভাবচরিত্র যদি আর কেউ সঠিকভাবে বুঝে থাকেন তিনি হলেন শ্রীকান্তর দিদি। তিনি জানেন, বাঙালি যা জাত! টেট পরীক্ষায় ঘুষ দিতে পারেনি বলে যে চাকরি পেল না, সারদায় যার টাকা মারা গেল, সেও দেব-সায়ন্তিকাদের হাত নাড়া দেখে জলে গল, মানে গলে জল। সব ভোট দিদির ঝুলিতে। তাই দিদি শ্রীকান্তকে এত ভরসা করেন।
কিন্তু স্নেহের ভাইটির পেটে পেটে যে এত গুণ আছে তা বোধহয় দিদি নিজেও জানতেন না। দিদি তো একটা বেসরকারি সংস্থাকে তাড়িয়েছিলেন, শ্রীকান্ত খোদ কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাকে জমি থেকে উঠিয়ে দিয়েছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার দিদির অপর এক প্রিয় শিল্পপতি ভাই সুদীপ্তকে জেলে ভরে ভারি বাহাদুরি দেখিয়েছিল। কিন্তু শ্রীকান্ত অমন ন্যালাক্যাবলা নয়। তার দাপটই আলাদা! ১০০-২০০ লেঠেল নিয়ে এমন পিটুনি দিয়েছে যে শরৎচন্দ্রেরই আরেকটি উপন্যাস পল্লীসমাজের কথা মনে পড়ে। সেখানেও রমা তার লেঠেল বাহিনীকে রমেশের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল। হ্যাঁ বাংলার মেয়েরা চাইলে লেঠেল লেলিয়ে দিতেও জানে।
তা বলছিলাম কী দিদি! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আপনার ভাইয়ের লেঠেলরা তো ভালই কেরামতি দেখাল, এবার ওদের বকলস খুলে পাঁচিল-ওয়ালাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিন। আরে শ্রীকান্তর ওপর ভরসা রাখুন। তিনি ঠিক পারবেন ওই জমি দখল করতে। যদি লেঠেল দিয়ে কাজ না হয়, দেব-সোহম-হিরন-রাজ-অরিন্দম-নুসরত-পায়েল-শ্রাবন্তি-মিমি সবাই মিছিল করে যাবে জমি দখল করতে। দখল হবে না মানে? দেব যদি একবার হুঙ্কার দিয়ে বলে, “চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা” টাটার কাপড়েচোপড়ে হয়ে যাবে না! দেব তো শিল্প প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে লন্ডনেও গেছিল। যদি বলা হয়, দেব মাসে একবার করে ওই জমিতে এসে শিল্প নিয়ে বক্তব্য রাখবে, সাধারণ মানুষই জমি দখল করে দেবে।

srikant mohta2
তারপর ওই জমিতে গাড়ি কারখানার বদলে আপনি মনের মতো করে মুড়ি কারখানা গড়ে তুলুন। তার সঙ্গে অনুসারি শিল্প হিসাবে তেলেভাজা মল, আচার হাব, বিশ্ব বাংলা পাঁপড় বিপণন কেন্দ্র ইত্যাদি গড়ে উঠবে। সেই সব শিল্পে কত কর্মসংস্থান যে হবে কী আর বলব! ইস শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত যদি এমনটা করতে পারত, তাহলে অন্নদাদিকে শাহজির সঙ্গে দুঃখে দিন কাটাতে হত না।
আসলে শরৎচন্দ্রের কল্পনারও একটা লিমিট ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের জমি শ্রীকান্ত কেড়ে নিচ্ছে, এমন কল্পনা তার পক্ষেও অসম্ভব ছিল। তা দিদি, আপনি যখন হাতের কাছে এমন একটা চরিত্র পেয়েছেন, বলা ভালো নিজের হাতে এমন একটা চরিত্র তৈরি করেছেন, তখন তাঁকে নষ্ট হতে দেবেন না। শ্রীকান্তকে বলুন জমিটা দখল করে ফেলতে, দেখবেন ইতিহাস শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্তকে ভুলে গেলেও আপনার শ্রীকান্তকে চিরদিন মনে রাখবে।
পুনশ্চঃ চুপি চুপি দিদিকে আরেকটা পরামর্শ দিই। ওই জমির একটা অংশ শ্রীকান্তর হাতে তুলে দিন। শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্তর তো মাত্র একটা রাজলক্ষ্মী ছিল। আমাদের শ্রীকান্ত ওই জমিতে রাজলক্ষ্মী তৈরির কারখানা তৈরি করবে। সেইসব রাজলক্ষ্মীরা যেমন সিরিয়ালেও চান্স পাবে, তেমনি আপনার মিছিলেও চান্স পাবে।সিরিয়ালে টিকে থাকতে গেলে রাজলক্ষ্মীদের মিছিলে হাঁটতেই হবে। এখানে কোনও ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক চলবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =

You might also like...

land phone

এভাবে মজা করা ঠিক হয়নি

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk