Loading...
You are here:  Home  >  ওপেন ফোরাম  >  আড্ডা জোন  >  Current Article

সরকারি আড্ডা

By   /  December 15, 2014  /  No Comments

রাজ্য সরকার বা  কেন্দ্রীয় সরকার নয়। এমনকি অভীক সরকারও নন। দুই ঘরানার দুই সরকারের আড্ডা। কান পেতে শুনে নিলেন রবি কর।।

 

ভৌতঃ যাক বাবা, নিশ্চিন্ত হওয়া গেল। আমাদের মিছিলে লোক বেশি হয়নি। খেলোয়াড়ও তেমন কেউ আসেনি। কিন্তু যিনি সব খেলোয়াড়ের সেরা খেলোয়াড়, তিনি নিজে হাজির হয়েছিলেন। সব খেলোয়াড়ের সেরা বাঙালির তুমি ফুলদি। আহা কী জাদু আছে ওই তোমার চটিতে ওগো ফুলদি। তোদের মিছিলে ফুলদি গিয়েছিল?

সুবুদ্ধিঃ মিছিলে লোক জোটাতে পারিসনি, আবার বড় বড় কথা বলছিস ? ইডেনে রনজি ট্রফির ম্যাচ দেখতে এর থেকে বেশি লোক হয় রে। নেহাত ফুলদি-কে দেখতে কিছু লোক হয়েছিল। আর শহীদ মিনারে সাত্ত্বিকদার সমাবেশ থেকে কিছু লোক এল। তাই রক্ষে।

 

ভৌতঃ আরে সাত্ত্বিকদা কে ? ফুলদিরই তো ভাই। আমিও ফুলদির ভাই। সাত্ত্বিকদাও ফুলদির ভাই। দুটো সমাবেশকে আলাদা ভাবছিস ? বাংলার বুকে ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা লাগাতে চাইছিস ? পদ্মফুল শুঁকছিস নাকি আজকাল ? হ্যাঁ, নিশ্চয় শুঁকছিস। ওই তো অমিত, নরেন্দ্র ওদের দাঁড়ি আছে, তোরও দাঁড়ি আছে।

 

সুবুদ্ধিঃ থাক, থাক। কাঁচের ঘরে বসে ঢিল ছুঁড়িস না। তুই নিজে কী ? অমিত, নরেন্দ্রর দলে তথাগত বলে যে লোকটা আছে বাংলায়, তাঁর নামের অর্থ আর তোর নামের অর্থ তো এক। নাম ভাঁড়িয়ে ভৌত হয়েছিস। ওদের দলে আবার একটা রাহুলও আছে। কী ঘনিষ্ট সম্পর্ক।

 

ভৌতঃ চুপ, চুপ। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া। এত জোরে জোরে কথা বলছিস কেন ? নাম পাল্টেছি কি সাধে ? একে তো তথাগত। তার ওপর নামটায় কেমন বুদ্ধদেব বুদ্ধদেব গন্ধ ছিল। ওই সব নাম ফুলদি একদম সহ্য করতে পারে না।

 

সুবুদ্ধিঃ দূর বোকা, ফুলদি ওগুলোই পছন্দ করে। এতদিন ফুটবল খেললি। আর এটা বুঝলি না ? ধর, একজন খেলোয়াড় মোহনবাগানে সাত বছর খেলছে। পায় কুড়ি লাখ। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল থেকে একজন যেমন তেমন খেলোয়াড় মোহনবাগানে এলেই এক ধাক্কায় পঞ্চাশ লাখ পেয়ে যায়। অন্যের খেলোয়াড় ছিনিয়ে আনার আনন্দই আলাদা। আমাকেই দেখ, এতদিন ধুতির কোঁচা ধরে ঘুরতাম। এখন হাওয়াই চটির ফিতে ধরে ঘুরি। এমন ডিগবাজি তোদের ওই ফিকরুও খেতে পারবে না।

 

ভৌতঃ সত্যি, এটা তুই একটা দেখিয়েছিস বটে। এই জন্যেই তুই ফুলদির আরাম কেদারা ঝাড়পোছ করার সুযোগ পাস। আর আমি পিছন থেকে শুধু তালি বাজাই।

 

সুবুদ্ধিঃ সাধে কি আমার নাম সুবুদ্ধি। লোকে বলে আমার বোধ নেই একটুও, কিন্তু বুদ্ধি আছে অনেক। যেমন ধর, এখন আমার নাম সুবুদ্ধি। কিন্তু যদি দেখি হাওয়া ঘুরছে, অমনি হাতে ত্রিশুল নিয়ে  নিজের নাম সু-কমল করে নেব। জয় শ্রী রাম বলে কাব্যগ্রন্থও নামিয়ে ফেলব। আচ্ছা, তুই নিজের নাম পাল্টে ভৌত করলি কেন ? তুই কি ভূত ?

 

ভৌতঃ এই তুই কবি ? ভৌত মানে ভূত হবে কেন ? ভৌত মানে ফিজিকাল। যেমন ফিজিকাল সায়েন্স হল ভৌত বিজ্ঞান। দিদি ফিজিকাল ব্যাপার স্যাপার খুব পছন্দ করে। যেমন জগ ছোঁড়া, চটিপেটা করা, পানের পিক ফেলা, বাম্বু দেওয়া, রেপ করানো- এইসব।

 

সুবুদ্ধিঃ ওরে, শুধু ফিজিকাল হলে হবে ? সঙ্গে তো বুদ্ধিটাও থাকতে হবে। এই জন্যই নিপেন্দু পায়, তুই পাস না।

 

ভৌতঃ কেন, পাব না কেন ? আমি তো নিপেন্দুর থেকে বড় খেলোয়াড় ছিলাম।

 

সুবুদ্ধিঃ ওই খেলা দিয়ে কিছু হবে না। এ খেলা অন্যরকম। পাতে তুই কাঁচকলা। শীতকালে ফুলদির হয়ে মিছিল করলি। ওয়েলিংটনে এত ভুটিয়া এসেছে। তুই তাদের একটাকেও মিছিলে আনতে পারলি না। ফুলদি কী ভাবল ? দিদি কি ভুটিয়াদের টিকিট দেয়নি ?

 

ভৌতঃ ভুটিয়ারা না এলে আমি কী করব? সেটা কি আমার দোষ ?

 

সুবুদ্ধিঃ দোষ নয়, ব্যর্থতা। আমাকে দেখ। আমাদের ডাকে, মানে আমি, নায়ক ত্রিবান্দাম, গায়ক বৃন্দনীল আর প্রযোজক অক্লান্তের ডাকে দলে দলে টিভিজীবী, সিনেমাজীবী, ছৌজীবী, রনপাজীবী জড়ো হল। আর তুই রসুন ব্যানার্জিকে অব্দি আনতে পারলি না।

 

ভৌতঃ তাতে আমার দোষটা কোথায় ? সাফল্য-ব্যর্থতা সবই তো ফুলদির ক্যারিশ্মা। মিছিল কি আমি ডেকেছিলাম?

 

সুবুদ্ধিঃ এই চুপ চুপ। ঝাড়ের বাঁশ ঘাড়ে নিস না। সেমসাইড গোল হয়ে যাবে। দেখ, কেষ্টবাবুর মূর্তি থেকে হর্মতলা আসতে ঠিক পাঁচ মিনিট লাগে। আমি নিজে হেঁটে দেখেছি।

 

ভৌতঃ আর তোদের চন্দন থেকে একাকীনি হাঁটতে দু মিনিটও লাগে না। আমরা খেলোয়াড়েরা হাঁটলে আরও কম।

 

সুবুদ্ধিঃ এই জন্যই তো বুদ্ধির দরকার। আমরা সোজা রাস্তায় না হেঁটে বাঁকা রাস্তায় গেলাম। দু মিনিটের দূরত্ব পেরোতে সাত মিনিট সাড়ে সাতাশ সেকেন্ড সময় লাগল। ছোট মিছিল হয়ে গেল মহা আ আ আ আ মিছিল। তোরাও বুদ্ধি খরচ করে তাজভবন ঘুরে হর্মতলায় আসতে পারতিস। ফুলদি তো বলে দেয়নি কোন পথে হাঁটতে হবে।

 

ভৌতঃ আসলে আমি ভেবেছিলাম, এটাই এখন ট্রেন্ড। ন্যানো গাড়ির বদলে ন্যানো মিছিল। দূরত্ব কম, লোক কম, সময় কম। ঝক্কিও কম।

 

সুবুদ্ধিঃ তোর বুদ্ধি কম। এই জন্যই আমি একদিন উচ্চসভায় চলে যাব। আর তুই নিম্মসভা, প্রধান সভা কোথাও যেতে পারবি না।

 

ভৌতঃ সত্যিই! তুই উচ্চ সভায় যাবি! আমাকে একটু বুদ্ধি দে না। যাতে অন্তত গুঁড়ো সভায় যেতে পারি।

 

সুবুদ্ধিঃ শোন, মাঝে মাঝে দলবদল না করলে খেলোয়াড়দের বাজার দর বাড়ে না। তুই একে দেরি করে খেলতে নেমেছিস। তার ওপর অন্য কোনও ক্লাবের সঙ্গে তোর যোগাযোগ নেই। তুই দিনকতক পদ্মপুকুর স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে কথাবার্তা চালা। দেখবি, কালীঘাট অ্যাথলেটিক তোকে ক্যাপ্টেন করে দেবে।

 

ভৌতঃ পদ্মপুকুরে কার সঙ্গে কথাবার্তা বলব ? তোর চেনাশোনা কেউ আছে ?

সুবুদ্ধিঃ চেনাশোনা থাকার কী দরকার? শুধু পরপর কয়েকদিন সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে হাবুলের গান শুনতে যা। নয়ত মাসি সরকারের শো দেখতে যা। মাসি তো তোর আর আমার মতোই সরকার।

ভৌতঃ সরকার হলেই হবে? তাহলে হাটবাজার কাগজে আই এস এল নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখি! ওরাও তো সরকার।

সুবুদ্ধিঃ হায় রে! আমরা বুদ্ধিজীবীরা খেলতে খেলতে খেলোয়াড় হয়ে উঠলাম। কিন্তু খেলোয়াড়দের আর বুদ্ধি হল না। ভগবান, তুমি রূপমকে একটা চাকরি দাও। আর গৌত–, থুড়ি ভৌতকে একটু বুদ্ধি দাও।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + thirteen =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk