Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

সেদিনের নানা রঙের দিনগুলি

By   /  February 11, 2017  /  No Comments

শান্তনু ব্যানার্জি

“সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি, দিনগুলি মোর সোনার খাঁচা, রইলো না, রইলো না, সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি”………… কবিগুরুর ভাষায় ১৯৬০, ১৯৭০ এর দশকের কলকাতার ময়দানের ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচের নানা রঙের দিনগুলিকে এক চিত্রপটে তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র। চলমান আই লিগে রবিবাসরীয় “বড়ো ম্যাচ”। আজ যার পোশাকি নাম “মহাডার্বি” ম্যাচ। হতে চলেছে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান দ্বৈরথ দেখার জন্য তাকিয়ে রয়েছে তামাম বাঙালী ফুটবল প্রেমী। প্রিয় দলের সমর্থনে সমর্থকেরা নিজেদের গলা ফাটাতে ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। আর সেই সঙ্গেই আবেগ, উম্নাদনার পারদও চড়তে শুরু করে দিয়েছে। মাঠের ভিতরের ৯০ মিনিটের লড়াই আজ শুধু মাঠের মধ্যেই আবদ্ধ হয়ে ঠেমে থাকছে না। চা আর কফির তুফানী চুমুকে এই দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই পৌছে গিয়েছে বাঙালীর মননে! ৬০ আর ৭০ দশকের ইস্ট-মোহন ফুটবল দ্বৈরথ আজকের প্রজম্নের কাছে অজানা রয়ে গেছে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ওই আবেগ আর উম্নাদনাকে অস্বীকার করলে নিজের মাটিকে অসম্মান করা হয়ে যাবে। আর তাই মহাডার্বি ম্যাচের আগে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সোনালি অতীতকে একবার ফিরে দেখার প্রচেষ্টা মাত্র!

সেদিনের তরতাজা যৌবনের শক্তিতে ভরপুর উচ্ছল, উজ্জ্বল লাল হলুদ আর সবুজ মেরুন সমর্থকেরা আজ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত! স্মৃতির সরণীতে সেদিনের বড়ো ম্যাচের নানা স্মৃতি ঘুরপাক খেয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়! মনের মণিকোঠায় সেই সব অক্ষয় স্মৃতিতে একটু একটু করে ধুলোর চাদর পড়তে শুরু করে দিয়েছে। সেদিনের সোনাঝরা দিনগুলো নিয়ে বলতে গিয়ে আজ অনেকেরই কথা জড়িয়ে যায় বয়সজনিত ভারে। তবু তারই মধ্যে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল সমর্থকেরা আজ যারা  প্রবীণ বয়স্ক ফুটবল অনুরাগী নিজেদের স্মৃতি রোমন্থনে ৬০, ৭০ এর দশকের ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান বড়ো ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠলেই ফিরে চলে যান নিজেদের তরুণ জীবনে! মুহূর্তের মধ্যে ফিরে যান সোনালী অতীতে! মোহনবাগান সমর্থক দিলীপ দত্ত যিনি আদ্যপান্ত সবুজ মেরুন সমর্থক বড়ো ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠতেই ফিরে চলে যান পুরনো দিনে। স্মৃতির পাতায় হাতড়ে দিলীপবাবু্র এখন আর সাল, তারিখ মনে নেই। কিন্তু বড়ো ম্যাচের টুকরো স্মৃতি আজও অম্লান! বড়ো ম্যাচের প্রসঙ্গে দিলীপ দত্ত বলে ওঠেন, “মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের খেলা, যেটা আজও আমরা ভুলতে পারি না। দুই দলের খেলা চলছে। মোহনবাগান এক গোলে হারছে। শেষ মুহুর্তে মোহনবাগান গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। মোহনবাগান গোলকিপারও গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। বল পায়ে আক্রমণে উঠে এসেছে মোহনবাগান ফুটবলার। নিশ্চিত গোল। এমন সময় ইস্টবেঙ্গলের ব্যাক শান্ত মিত্র কোথা থেকে ভুতের মতো এসে বল ক্লিয়ার করে দিয়ে চলে গেল”। এরপর দিলীপবাবু যোগ করেন, “আমরা মোহনবাগানের সমর্থকেরা শান্ত মিত্রের ওই বল কিয়ারেন্স দেখে মাথায় তখন হাত দিয়ে বসে পড়েছি। আর সঙ্গে ছিল আমার ছোটভাই। আমার ছোটভাই ওই শান্ত মিত্রের ক্লিয়ারেন্স দেখে মাঠে বসে কেঁদেই ফেলেছিল”। আর এক মোহনবাগান সমর্থক অমর মল্লিক সোনালী অতীত স্মৃতিচারনায় জানিয়েছেন, “বর্তমান সময়ে সমর্থকেরা নিজেদের ফুটবলা্রদের বল মিস করতে দেখলে যেভাবে অসভ্যের মতো গালাগাল দিয়ে থাকে, আমাদের সময়ে এইসব ছিল না। নিজেদের দলের ফুটবলার বল মিস করলে হাহুতাশ পর্যন্তই আমাদের গলা শোনা যেত”। সোনালী দিনের স্মৃতি চারণায় অমরবাবু জানিয়েছেন, “ক্যালকাটা গ্রাউন্ডে মোহনবাগান জিতছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমাদের দল গোল খেয়ে যায়। ফলে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়ে যায়। আমি আর শৈলেন মান্না এক সঙ্গে বসে খেলা দেখছিলাম। ড্র হয়েছে, মনটাও খারাপ। বেরিয়ে আসছিলাম। এমন সময় দেখি গ্যালারি থেকে একজন থান ইট হাতে তুলে নিয়েছে শৈলেন মান্নাকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়বে বলে। এই দেখে আমি দৌড়ে গিয়ে শৈলেন মান্নাকে কলার ধরে একটা টেবিলের নীচে ঢুকিয়ে দিই। আর আমিও টেবিলের তলাতেই আশ্রয় নিই। ওই থান ইট সোজা টেবিলের ওপর আছরে পড়ে”। এরপর অমর মল্লিক এও জানিয়েছেন, “ওই ঘটনাতে শৈলেন মান্না এবং আমি কেউই আহত হয়নি এটা ঠিকই। কিন্তু এরপর আমি আর মাঠে যেতাম না”। আর এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক পি কে চন্দ্র নিজের সোনালী অতীতের স্মৃতি রোমন্থনে জানিয়েছেন, “মাঠের প্রতি ভীষণ টান ছিল আমার। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচকে কেন্দ্র করে। আমার বেশ মনে আছে ইস্টবেঙ্গল মাঠে বিনা চ্যারিটিতে বড়ো ম্যাচ চলছে। সালটা সম্ভবত ১৯৭০ সালের অনেকটা আগে। ওই ম্যাচে সুকল্যান ঘোষ দস্তিদার, সুভাষ ভৌমিক, মোহন সিং ফুটবলার হিসেবে মাঠে ছিলেন। ওই ম্যাচে আমার সঙ্গে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। লাইন দিয়ে এগোতে এগোতে হঠাৎ করে গিলোটিনের মতো আমার সামনে দরজাটা পড়ে গেল। অর্থাৎ মাঠে ঢোকা বন্ধ হয়ে গেল আমার। এরপর খেলা দেখার এতো আগ্রহ ছিল আমার ঠিক করে নিলাম যেনতেন ভাবেই হোক মাঠে ঢুকতে হবে আমাকে”। এরপর চন্দ্রবাবু বলতে থাকেন, “মাঠে ঢোকার একটা প্রক্রিয়া খুঁজে পেলাম ঠিকই। যদিও মাঠে ঢোকার ওই প্রক্রিয়া অন্যায় পথ, তবুও ওই অন্যায় পথটাই বেছে নিলাম। কারণ গ্যালারির ওপরে কাঁটাতারের বেড়া। সেখান থেকে আমার বন্ধুরা বলছে দাদা উঠে আসুন”। এরপর প্রবীণ এই ইস্টবেঙ্গল সমর্থক বলতে থাকেন, “আমার বন্ধুরা হাত বাড়িয়েছে। আর আমি দৌড়ে এসে কাঠের ঘেরার দেওয়ালে পা দিয়ে হাত ধরেছি। একজন জিমন্যাস্টের মতো খেলা দেখিয়ে কাঁটাতার পার করেছি। আর পরবর্তী সময়ে ঘোড়সওয়ার পুলিশের লাঠির ঘায়ে সজোরে পায়ে এসে পড়লো। আর ওই লাঠির ঘায়ে আমার পা থেকে রক্ত ঝড়ে পড়েছিল”। এখানেই থেমে না থেকে প্রবীণ এই লাল হলুদ সমর্থক জানিয়েন, “ওইভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় উত্তেজনাপূর্ব ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচটি দেখেছিলাম। আর আনন্দ সহকারে বাড়ি ফিরে আসলাম। তার কারন আমার ক্লাব এক গোলে জয়ী হয়েছিল ওই ম্যাচে”।

চলমান আই লিগের মহাডার্বি ম্যাচের আগে কলকাতার ময়দানে ৬০,৭০ এর দশকে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান বড়ো ম্যাচের টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতি এই দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের জবানী থেকে বেরিয়ে আসলো। আবেগ, উচ্ছ্বাসের জোয়ারে শিলিগুড়ির স্টেডিয়ামে তিলতিল করে সেজে উঠবে রবিবারের মহাডার্বির জন্য। দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব দলের সদস্যরা গলা ফাটাবে প্রিয় দলের জয় দেখার জন্য। আর এরই সঙ্গে ময়দানের সোনালী অতীত আরও সোনালী হয়ে উঠবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 17 =

You might also like...

bandhabgarh3

বান্ধবগড়ে জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk