Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  রাজ্য  >  Current Article

স্পিকার রোজই প্রমাণ দিচ্ছেন, ওই চেয়ারে বসার যোগ্যতা তাঁর নেই

By   /  December 10, 2016  /  No Comments

বিরোধীরা সামান্য সমালোচনা করলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি স্পিকারও হুমকি দিচ্ছেন, প্রমাণ চাইছন। মুখ্যমন্ত্রীর আবোল তাবোল অভিযোগের প্রমাণ চাইতে পারবেন?‌ স্পিকার মশাই নিজে অন্তত রোজ প্রমাণ করে দিচ্ছেন, ওই চেয়ারে বসার যোগ্যতা তাঁর নেই। লিখেছেন স্বরূপ গোস্বামী।।
দেড় ঘণ্টার অনাস্থা। অনেকটা সময় নিয়ে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী একাই। তিনি যা বলবেন, তা অমৃতভাষণ। অন্যরা যা বলবেন, তা অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, আরও কত কী!‌
বিধানসভায় ‘‌তাঁর অনুপ্রেরণায়’ একটা অদ্ভুত রেওয়াজ চালু আছে। বিরোধীদের কেউ বলতে উঠলেই চিৎকার করো। মুখ্যমন্ত্রী হাজির থাকলে সেই চিৎকারের মাত্রাটা আরও বেড়ে যায়। এর মাঝেও যদি কোনও বিরোধী বিধায়ক কোনও সমালোচনা করে বসলেন, স্পিকার থেকে মন্ত্রী সবাই মিলে চেপে ধরবেন। হয় সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে চাপ দেওয়া হবে। নইলে প্রিভিলেজ মোশান আনার হুমকি দেওয়া হবে। নইলে প্রমাণ চাওয়া হবে।

‌মুখ্যমন্ত্রী বা বাকি মন্ত্রীরা আলটপকা যা খুশি মন্তব্য করে যাবেন। তখন স্পিকার চুপ। আর বিরোধীরা সমালোচনা করলেই কার্যত হুমকি দেওয়া। শাসকের চিৎকারে সামিল হয়ে যাচ্ছেন স্পিকারও।
পর পর দুদিনের দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যাক। বৃহস্পতিবার নিজের বক্তৃতায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক আলি ইমরান। তাঁর অভিযোগ ছিল, এস এস সি–‌তে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলা হচ্ছে। প্রশ্ন বিক্রিও হয়েছে। এই টাকা তোলায় যুক্ত শাসক দলের কোনও কোনও বিধায়ক। সবাই মিলে হল্লা। দাবি উঠল, প্রত্যাহার করতে হবে। স্পিকারও হুমকি দিলেন, আমিও বিধায়ক, এটা আমাকেও বলা হচ্ছে। প্রত্যাহার করতে হবে। কার নামে বলা হল, কার গায়ে লেগে গেল!‌

speaker
শুক্রবার। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা। কংগ্রেসের নেপাল মাহাতো বললেন, এই এক মাস নোট বাতিলের জন্য অন্তত দলত্যাগের হিড়িক কমেছে।
ব্যাস, আগুনে যেন ঘি পড়ে গেল। সামান্য সমালোচনাটুকুও সহ্য হল না। শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে হুমকি চলে এল, টাকা দিয়ে বিধায়ক কেনা হচ্ছে, প্রমাণ কররতে হবে, নইলে প্রিভিলেজ মোশান আনা হবে। শিক্ষামন্ত্রী হুমকি দিয়ে ফেলেছেন। অধ্যক্ষ আর নীরব থাকেন কী করে ?‌ তাঁরও দাবি, প্রলোভন দেখিয়ে দল বদল হচ্ছে, প্রমাণ করতে হবে।
অপরাধ বিজ্ঞানের একটা সাধারণ নিয়ম আছে। সামান্য সমালোচনায় যে প্রমাণ চেয়ে বসে, সে আসলে অপরাধটা মেনেই নিয়েছে। কীভাবে বিধায়ক বা কাউন্সিররা দলবদল করছেন, তা প্রায় সবাই জানেন। কেন উন্নয়নে সামিল হওয়ার এত হিড়িক, তা সাধারণ মানুষ খুব ভালভাবেই বুঝতে পারেন। আর এই দলত্যাগীদের আড়াল করার জন্য স্পিকার কী কী নির্লজ্জ আচরণ করে চলেছেন, সেটাও সবাই দেখছেন।
নেপাল মাহাতো বলার আগে আমরাও তো সেভাবে ভেবে দেখিনি। এতই যদি আদর্শের টানে দলবদল, তাহলে গত এক মাস হঠাৎ সেটা থমকে গেল কেন?‌ পুজোর পর থেকেই আরও অনেকেরই তো দলবদল করার কথা ছিল। অনেক নাম তো হাওয়ায় ভাসছিল। খোদ তৃণমূলের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছিল, আরও অনেকে আসবে। সেই স্রোত হঠাৎ থেমে গেল কেন ?‌ এর সঙ্গে নোট বাতিল জড়িয়ে নেই তো ?‌ একেবারে মোক্ষম প্রশ্নটাই তুলেছেন ঝালদার কংগ্রেস বিধায়ক ।

bidhan sabha
তাঁকে নাকি প্রমাণ দিতে হবে। একইদিনে মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন ?‌ সি পি এমের অনেক বিধায়ক নাকি তৃণমূলে যোগ দিতে চাইছেন। যখন নাম জানতে চাওয়া হল, নাম বলতে পারলেন না। স্পিকার মশাই, মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন তো নামগুলো জানাতে। বা প্রমাণ দিতে।
কয়েকদিন আগে বিমান বিভ্রাটে নাকি মুখ্যমন্ত্রীকে খুন করতে চাওয়া হয়েছিল। খোদ রাজ্যের মন্ত্রী এই মর্মে অভিযোগ তুললেন। পুলিশ পাইলটের নামে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করল। বিধানসভায় আপনি নিন্দাপ্রস্তাব আনার প্রস্তাব দিলেন। চমৎকার। মুখ্যমন্ত্রীকে তোয়াজ করতে আর কত নিচে নামবেন ?‌ খুনের চেষ্টা?‌ মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন না প্রমাণ করতে। সংসদে তৃণমূল সাংসদরা হইচই করে গেলেন। খুনের চক্রান্ত বলে গলা ফাটিয়ে গেলেন। তাঁদের বলুন না প্রমাণ দিতে। সাধারণ একটা বিমান বিভ্রাটকে নিয়ে গোটা দেশে শোরগোল তুলে দেওয়া হল। তৃণমূলের একজনকেও বিশ্বাস করাতে পারবেন ওটা খুনের চক্রান্ত ছিল ?নেপাল মাহাতো বা আলি ইমরানদের হাতে প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকলেও অভিযোগগুলো অন্তত বিশ্বাসযোগ্য। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশ্নগুলো ওঠে। অনাস্থা নিয়ে আলোচনা মাত্র দেড় ঘণ্টা। বিধানসভার ইতিহাসে কোনওদিন এমনটা হয়েছে ?‌ সরকার তো পড়ত না। সবাই জানে, এই অনাস্থার ফল কী হতে চলেছে। কিন্তু আলোচনার পরিসরটাও পাওয়া যাবে না ?‌ অধিকাংশ বাজেট গিলোটিনে পাঠানো হচ্ছে। প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় না। মুলতুবি প্রস্তাব আনা যায় না। তাহলে বিরোধী বিধায়করা কোথায় বলবেন ?‌ অবশ্য, বিধানসভার ইতিহাস বা ঐতিহ্য নিয়ে এই স্পিকারের কোনও মাথাব্যথা আছে বলে মনেও হয় না। তেমন ধারনাও নেই। নেপালবাবুদের হাতে প্রমাণ থাক আর নাই থাক। স্পিকার মশাই প্রতিদিন প্রমাণ করে চলেছেন। ওই চেয়ারে বসার কোনও যোগ্যতাই যে তাঁর নেই, এটা আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − five =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk