Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

স্পোর্টসম্যান মানেই জেন্টলম্যান

By   /  August 16, 2015  /  No Comments

ময়ূখ নস্কর

ফুটবল নিয়ে বাংলায় যত সিনেমা হয়েছে, মোহনবাগানের মেয়ে, সাহেব, এগারো, ওপেন টি বায়স্কোপ, সবার সেরা হল ধন্যি মেয়ে। এই সিনেমার শেষে একটা সুন্দর ডায়লগ আছে। সাবিত্রী, উত্তমকুমারকে বলছেন, “সত্যি তুমি মস্ত বড় স্পোর্টসম্যান।” জবাবে উত্তম বলছেন, “আর স্পোর্টসম্যান মানেই জেন্টলম্যান।” কলকাতা ময়দানের ক্লাবকর্তা, খেলোয়াড়, সমর্থক সকলেরই এই কথাটা বেদবাক্যের মতো মনে রাখা উচিত। “স্পোর্টসম্যান মানেই জেন্টলম্যান।”

biswajit sanjoy
ধন্যি মেয়ে সিনেমায় জয়া ভাদুড়ির গ্রামের মানুষ জেন্টলম্যান ছিল না। তাই তারা রেফারি ম্যানেজ করে চোরামি করত, বিপক্ষের গলায় ঘুঁটের মালা পরাত, আবার হেরে যাবে বুঝতে পেরে খেলা ভণ্ডুল করে দিত। অন্যদিকে উত্তমকুমার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, শিল্ড জেতার থেকেও বড় হল জেন্টলম্যান হওয়া। তাই তিনি বিজয়ী হওয়ার পরেও শিল্ড ত্যাগ করেছিলেন। এমনকি পেনাল্টি পেয়েও ভাই বগলাকে বাইরে মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই সিনেমাটা দেখে আমরা বাঙালিরা খুব আনন্দ পাই। কিন্তু বড় ম্যাচের সময় কী দেখি? ম্যাটাডরে চেপে দুই ক্লাবের সমর্থকরা চলেছে, নিজের ক্লাবের নামে জয়ধ্বনি যত দিচ্ছে, তার থেকে বেশি দিচ্ছে বিপক্ষকে খিস্তি। যেমন-তেমন খিস্তি নয়, রীতিমতো ছন্দ মিলিয়ে। “চা চিনি দুধে, মোহনবাগান…”, “আদা বাটা পোস্ট বাটা, ইস্ট বেঙ্গল …… ব্যাটা।” যারা এগুলো বলে তারা ভেবেও দেখে না, রাস্তার মানুষজন ক্লাব সম্বন্ধে কী ভাবছে। এতে কি ক্লাবের সম্মান বাড়ছে?
আর যখন নিজের মাঠে খেলা হয়, তখন যে কী কাণ্ড হয়! মাঠে বোতল ছোঁড়া, ঢিল ছোঁড়া তো আকছার ঘটে। অন্যান্য অসভ্যতাতেও দুটি বড় ক্লাব একে অন্যকে টেক্কা দেয়। ইস্টবেঙ্গল নিজেদের কোচের মুখে থুতু দেয়, তো মোহনবাগান বিপক্ষের কোচকে চাঁটা মারে। ইস্টবেঙ্গল মাঠে লাইন্সম্যানের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে, তো মোহন বাগান লালহলুদ পতাকা পুড়িয়ে দেয়। মাঠের বাইরে মোহনবাগান সমর্থকরা ইস্ট বেঙ্গলিদের ওপরে আক্রমণ চালাল, তো এক মোহন বাগান সমর্থকের অকাল মৃত্যুর খবরে ইস্ট বেঙ্গলিরা ফেসবুকে উল্লাস প্রকাশ করল। আচ্ছা এই সব কাজ করার পর কি নিজেদের বড় ক্লাবের সমর্থক বলে গর্ব করা সাজে ? এমন কাজ তো পাড়ার সমাজ বিরোধীরা করে।

football2
এটা ঠিক যে বিদেশেও এমন অসভ্যতা হয়। ফিগো যখন বার্সিলোনা থেকে রিয়ালে গেছিলেন তখন, বার্সিলোনার সমর্থকরা তাঁকে বোতল ছুঁড়েছিল। কিন্তু বিদেশে এমন গুণ্ডামি বন্ধ করার জন্য স্টেডিয়াম পুলিশ আছে। তাদের কাজই হল সমর্থকদের ওপর নজর রাখা। আমাদের দেশে সেসবের বালাই নেই। মাঠে পুলিশ থাকলেও তারা গ্যালারির দিকে তাকিয়ে থাকে না। মাঠের দিকে তাকিয়ে খেলা দেখে, নয়ত আপন মনে ফেসবুক করে। তাই উদ্যোগী হতে হবে সমর্থদেরই। অসভ্যতা তো আর সবাই করে না, কেউ কেউ করে।
এই পরিস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গলের ফ্যান গ্রুপ ইস্টবেঙ্গল দ্য রিয়েল পাওয়ার একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে বলে খবর পেলাম। ফেসবুকে তার ছবি দেখলাম। মাঠে বোতল ছোঁড়া বন্ধ করা, খেলোয়াড়দের গালাগাল দেওয়া বন্ধ করা এবং সবথেকে বড় কথা বিপক্ষ খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে ফ্যান গ্রুপটি। একটা কথা বলে রাখি, আমি মোহন বাগানের সমর্থক। আজীবন তাই থাকব। কখনও কোনও পরিস্থিতিতেই আমি ইস্ট বেঙ্গলকে সমর্থন করি না। ইস্ট বেঙ্গল হেরে গেলে আমি পৈশাচিক আনন্দ পাই। কিন্তু এত কিছুর পরেও ইস্টবেঙ্গল দা রিয়েল পাওয়ারকে কুর্ণিশ জানাবই। শাবাশ EBRP.
আমি জানি, মোহন বাগানের অনেক সমর্থকই মাঠে অসভ্যতা বন্ধ করার পক্ষপাতী। তাই মোহনবাগানের ফ্যান গ্রুপগুলিও এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করুক। দুটি ক্লাবের ফ্যান ক্লাব এক হয়ে কাজ করবে, এমনটা হয়তো সম্ভব নয়, তাই প্রত্যেকে নিজের নিজের ক্লাবকে সভ্য ভদ্র করে গড়ে তুলুক। EBRP যে কাজ করেছে তা আমরা কেন করব, এসব ভাবলে বোকামো হবে। দেরি করলে ইস্ট বেঙ্গলেরই সুনাম বাড়বে। আর ইস্ট বেঙ্গল যদি ভাবে, এই উদ্যোগ নিয়ে মোহনবাগানকে হ্যাঁটা করা গেছে, তা হলে তা বুমেরাং হতে পারে। হয়তো দেখা গেলো পরে শুরু করে মোহনবাগান এগিয়ে যাবে। কারণ এক সময় মোহন বাগানে এই ঐতিহ্য ছিল।
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দুটি ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে অনেক বিষয়ে প্রতিযোগিতা হয়। কে কবার মাঠ ছেড়ে পালিয়েছে, কারা আলো কম বলে খেলা বন্ধ করে দিয়েছিল, কারা ঢিল ছুঁড়েছে, কারা রেফারিকে ঘুষ দেয়েছে,… নিরপেক্ষ ভাবে দেখলে বলতেই হয়, কেউ কারোর থেকে কম যায় না। কিন্তু এবার একটু ভালো কাজের প্রতিযোগিতা শুরু হোক। দুটো ক্লাবই মনে রাখুক, অন্যকে সম্মান দিলে নিজের সম্মান বাড়ে। কোনও ক্লাব যদি অসভ্যতা করে, তার জবাবে পাল্টা অসভ্যতা করতে হবে, এটা কোনও নিয়ম হতে পারে না। একে অন্যকে বুক বাজিয়ে বলুক, তোর থেকে আমার সম্মান বেশি, কারণ আমি তোর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি না।
আগেই বলেছি, এক সময় মোহনবাগানে এমন ভদ্রতার কালচার চালু ছিল। মোহনবাগান তাঁবুর ভিতরে কেউ গালাগাল দেওয়ার সাহস পেত না। মনে আছে, ডায়মন্ড সিস্টেমের বছরে মোহনবাগান ৪-১ হারার পরেও কোচ বা খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে গ্যালারি থেকে কোনও গালাগাল ভেসে আসেনি। সবাই বুঝেছিল দল একটা নতুন সিস্টেমে খেলছে এবং খেলাটা দেখতে ভালো লাগছে। তাই সবাই হাততালি দিয়ে বাকি মরসুমের জন্য দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। এটাই স্পোর্টসম্যান স্পিরিট। লাল হলুদ পতাকা পোড়ানো কোনও বাহাদুরি নয়।

football3
হারের দুঃখ থাকুক, জয়ের আনন্দ থাকুক, কিন্তু মাঠে যদি শুধু খিস্তির বন্যা বইতে থাকে, বাচ্চা ছেলেরা মাঠে গিয়ে কী শিখবে ? ফেসবুকে একে অন্যকে নিয়ে খিল্লি করা যেতেই পারে, কিন্তু যদি একে অন্যের MKC করা হয়। মহিলা সমর্থকরা তো লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবেন না।
চুপি চুপি একটা কথা বলি, এই সব অন্যায় কাজ মাঝে মাঝে আমিও করে ফেলি। কিন্তু আমি তো মোহনবাগান সমর্থক তাই, ভালো জিনিসটা চটপট শিখে নিই। আর ভালোকে ভালো বলতে জানি। ফেড কাপে সেই ৪-১ হারের পর শিখেছিলাম, হেরে যাওয়ার পরেও দলকে উৎসাহিত করতে হয়। আর EBRP-র ভালো কাজকেও মন থেকেই ভালো বলছি।
চলুন আজ থেকে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হোক। দেখা যাক মাচা না লোটা, কারা বড় স্পোর্টসম্যান, কারা বড় জেন্টলম্যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 7 =

You might also like...

shimultala2

শীতের ছোট্ট ছুটিতে শিমূলতলা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk