Loading...
You are here:  Home  >  শিরোনাম  >  Current Article

১২১ পেরিয়েও যেন জীবন্ত তাঁর কলম

By   /  September 12, 2015  /  No Comments

আজ, ১২ সেপ্টেম্বর, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। কেমন ছিল পথের পাঁচালির স্রষ্টার শুরুর দিনগুলো ? কীভাবে এলেন সাহিত্যের আঙিনায় ? তাঁর জীবনের নানা অজানা দিক তুলে ধরলেন অধ্যাপক ডঃ শুভ্রাংশু রায়।।

খুব সহজেই তাঁর কলমকে বলা যায় সাহিত্যের রত্নগর্ভা। ব্যক্তি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্যই একজন পুরুষ। কিন্তু সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ ? সাহিত্যিকের সত্ত্বার কি সত্যি কোনও লিঙ্গ পরিচয় থাকে? আজকের দিনে দাঁড়িয়েও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অপু, দুর্গা, সর্বজয়া, দোবরু পান্না, শঙ্কর, হাজারি ঠাকুর প্রমুখ বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী চরিত্রের জন্মদাতাকে অস্বীকার করা কি সম্ভব কোনও বাঙালির পক্ষে? ‘পথের পাঁচালী’’ থেকে ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, চাঁদের পাহাড় থেকে ‘ইছামতী’ বা ‘ভণ্ডুল মামার বাড়ি’ থেকে ‘সুলোচনার কাহিনী’ প্রায় আড়াই দশক ধরে বাংলা সাহিত্যকে উপন্যাস, ভ্রমণ, দিনলিপি এবং ছোটগল্পের মাধ্যমে পুষ্ট করেছিলেন তিনি।

bibhuti bhushan4
একশো একুশ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৯৪-এর ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মৃণালিনী দেবীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বিভূতিভূষণের। গ্রামের নাম মুরাতিপুর। কাঁচরাপাড়া হালিশহরের কাছে অবস্থিত এই মুরাতিপুর গ্রামটি ছিল আসলে বিভূতিভূষণের মামার বাড়ি। বিভূতিভূষণের প্রাথমিক পাঠ হয়েছিল মুরাতিপুর গ্রামের হরিমোহন রায়ের মুদি দোকান সংলগ্ন পাঠশালায়। ১৯০৮ সালে বনগাঁ হাইস্কুলে তিনি ভর্তি হন পঞ্চম শ্রেণিতে। ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে রিপন কলেজে ইন্টার মিডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯১৬-তে ইন্টার মিডিয়েট ক্লাসে প্রথম বিভাগে পাস করে ওই কলেজেই বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। এই সময় তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ননী চক্রবর্তী, জ্যোতির্ময় লাহিড়ি, গোলাম মুস্তাফা, কৃষ্ণচন্দ্র দে প্রমুখ। ১৯১৭-তে গৌরী দেবীর সঙ্গে বিভূতিভূষণ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরের বছর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একইসঙ্গে দর্শনে এমএ এবং আইন পড়তে শুরু করেন। দুর্ভাগ্যক্রমে ওই বছরই অল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর স্ত্রী এবং কনিষ্ঠ ভগ্নির মৃত্যু ঘটে। দুটি হাই স্কুলে শিক্ষকতা করার পর তিনি খেলাতচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে গৃহশিক্ষকতা করেন (১৯১৯-১৯২২)। তারপর ভাগলপুরে ঘোষেদের এস্টেটে কাজ করেন।
bibhuti bhushan2

এই সময়েই তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলি রচনার কাজ শুরু। তাঁর মেসজীবনের এক সময়ের সঙ্গী নীরদচন্দ্র চৌধুরির লেখা থেকে জানা যায় ১৯২৪ নাগাদ বিভূতিভূষণ শুরু করেছিলেন তাঁর কালজয়ী প্রথম উপন্যাস পথের পাঁচালির লেখা। যদিও ইতিমধ্যে ১৯২২ এ তাঁর ‘ উপেক্ষিতা’ ছোটো গল্প প্রকাশিত হয়। পথের পাঁচালি প্রথম ১৯২৮ সালে বিচিত্রা সাময়িকপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরের বছর গ্রন্থাকারে পথের পাঁচালির প্রকাশ ঘটে এবং বলাই বাহুল্য রীতিমত সাড়া পড়ে যায়। পথের পাঁচালি উপন্যাস তার স্রষ্টা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল আমৃত্যু তা বজায় ছিল। উপন্যাস লিখেছিলেন উনিশটি। ছোটো গল্পের সংখ্যা দুশোর কিছু বেশি । এ ছাড়াও ছিল ছয়টি ভ্রমন দিনলিপি যা তাঁর রচনায় অন্য স্বাদ এনে দিয়েছিল । বিভূতিভূষণের সাহিত্যসৃষ্টির একটি অনন্য দিক অবশ্যই তাঁর অনবদ্য কিশোর উপন্যাস। ‘চাঁদের পাহাড়’ ছাড়া বিভূতিভূষণের অনান্য কিশোর উপন্যাসগুলি হলো ‘মরণের ডঙ্কা বাজে’, ‘মিস্‌মীদের কবচ’, ‘হীরা মানিক জ্বলে’ এবং ‘সুন্দরবনে সাত বছর’ (এই উপন্যাসটি ছিল আসলে একটি বারোয়ারি উপন্যাস । এই উপন্যাসের শেষ কয়েকটি অধ্যায় বিভূতিভূষণের রচনা।)।

bibhuti bhusan3
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি অপু, দুর্গাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব অবশ্যই সত্যজিৎ রায়ের। শ্যাম বেনেগালের নির্মিত তথ্যচিত্রে সত্যজিৎ রায়কে আমরা বলতে শুনেছি “পথের পাঁচালি সিনেমার জন্য আমায় কিছু সংলাপ ছাড়া স্ক্রিপ্ট নতুন করে তেমন লিখতে হয়নি। তার প্রধান কারণ ছিল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখাটি ভীষণভাবে সিনেমাটিক ছিল”। প্রকৃতপক্ষে শুধু পথের পাঁচালি নয় সত্যজিৎ রায় আরো আরো তিনটি সিনেমা ‘অপরাজিত’, অপুর সংসার, অশনি সংকেত বিভূতিভূষণের কাহিনি নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও সত্যজিৎ রায় নিত্যানন্দ দত্ত পরিচালিত ‘বাক্স বদল ‘ নামে একটি সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন যার আঁধার ছিল বিভূতিভূষণের গল্প। বানিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রেও বিভূতিভূষণের লেখার উপর একাধিক সিনেমা নির্মিত হয়েছে । ১৯৭০ সালে তৈরি জনপ্রিয় বাংলা ছবি ‘নিশিপদ্ম’ বা তার হিন্দি রূপ ‘অমর প্রেম’ (১৯৭১) বানানো হয়েছিল বিভূতিভূষণের ছোট গল্প ‘ হিংয়ের কচুরি’ অবলম্বনে । এছাড়াও বিভূতিভূষণের গল্প অবলম্বনে নির্মিত বাংলা সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘নিমন্ত্রণ‘(১৯৭১) ‘ফুলেশ্বরী’ ( ১৯৭৪), আলো (২০০৩)। এবং অবশ্যই এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হবে যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী কিশোর উপন্যাস ‘চাঁদের পাহাড়’কে পর্দায় একই নামে উপস্থাপিত করেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।

প্রকৃতির নিয়মে ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর ঘাটশিলায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইহলোক ত্যাগ করেছেন। কিন্তু বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় লেখার সবচেয়ে বড় দিক সময় উত্তীর্ণতা । তাই আজও বিভূতিভূষণের সৃষ্ট চরিত্রগুলিকে ভীষণভাবে জীবন্ত মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − ten =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk