Loading...
You are here:  Home  >  জেলার বার্তা  >  দক্ষিন বঙ্গ  >  Current Article

কেষ্টাদার নিন্দে! রবি ঠাকুরের গুড় বাতাসা করে দিতাম

By   /  April 14, 2016  /  No Comments

রবি কর

নানান বাধাবিপত্তি কাটিয়ে, নতুন বছরে নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করল bengaltimes. আজ বাংলা বছরের প্রথম দিন। এই দিনে ব্যবসায়ীরা হালখাতা করে, দেবতাকে পূজা দেয়, প্রার্থনা করে যাতে ব্যবসা ভালোভাবে চলে। bengaltimes-এর তরফে আমরাও প্রার্থনা করছি, যাতে আমাদের খবরের ব্যবসা ভালো চলে।

কিন্তু কোন দেবতার কাছে প্রার্থনা করব? ব্যবসায়ীরা সাধারণত গণেশ বা কালীর কাছে প্রার্থনা করেন। আমরা ইষ্ট দেবতা হিসাবে বেছে নিলাম, অনুব্রত মণ্ডলকে। চমকে উঠবেন না। অনুব্রতবাবু যেমন তেমন লোক নন। তিনি নামে কেষ্ট, চেহারায় গণেশ এবং মা কালীর মতোই পাঁঠার (পড়ুন বিরোধী দলের কর্মীদের) মাথা খেতে ভালবাসেন। এমন কৃষ্ণ+গণেশ+কালীর আশীর্বাদ পেলে আমাদের উন্নতি হবেই।

সাংবাদিকরা সব সময় দাবি করেন যে তাঁরা সদা সত্য কথা বলেন, কোনও কথা গোপন করেন না। আমাদের অনুব্রতবাবু এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের গুরুদেব হতেই পারেন। তিনি সদা সত্য কথা বলেন, কোনও কথা গোপন করেন না। ভোটের দিন তিনি যে বিরোধী এজেন্টদের বুথে বসতে দেবেন না, বিরোধী ভোটারদের ঘর থেকে বেরতে দেবেন না, বেশি বেগড়বাঁই করলে ভ্যানিশ করে দেবেন- এসব ব্যাপারে তাঁর কোনও ঢাকঢাক গুড়গুড় নেই। সবার সামনে বুক চিতিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন। কার নির্দেশে তিনি এমন কাজ করেন, সেটাও স্পষ্ট করেছেন। এমন সত্যবাদী যদি সকলেই হত তাহলে আজ দেশের চেহারাটাই বদলে যেত।

anubrata3

নতুন বছরে আমরা কথা দিচ্ছি, সংবাদ পরিবেশনের সময় আমরা কেষ্টদার মতোই নিঃসঙ্কোচে সত্যি কথা বলব। কেষ্টদাকেই আমরা সত্যের অধিষ্ঠাতা দেবতা হিসাবে মানব। জাগ্রত দেবতার সব লক্ষণই তাঁর মধ্যে আছে। জাগ্রত দেবতারা তুষ্ট হলে আশীর্বাদ করেন আবার কুপিত হলে অভিশাপ দেন। আশীর্বাদ করার ক্ষমতা কেষ্টদার মজ্জাগত। ভেবে দেখুন, কেষ্টদা নিজে চাইলেই বিধায়ক-মন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু অন্যকে আশীর্বাদ করেই তাঁর সুখ। তাই তিনি নিজে ভোটে লড়েন না। অথচ তাঁর আশীর্বাদ ছাড়া বীরভূমের কোনও আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা জয়ী হতে পারবেন না। মুর্শিদাবাদ এবং বর্ধমানের কয়েকটি আসনের প্রার্থীর মাথাতেও তাঁর আশীর্বাদ আছে।

আবার তিনি কারও ওপর রেগে গেলে অভিশাপ দিয়ে গুড়-বাতাসা করে দেন। গুড়-বা্‌তাসার রঙ জানেন তো? জমাট বাধা রক্তের মতো। পঞ্চায়েতের ভোটে তাঁর ‌নিজের দলের সাগর ঘোষ ট্যাঁণ্ডাইম্যাণ্ডাই করতে গেছিল। দাদার লোকজন দিলেন তাঁকে গুড়-বাতাসা করে। তাঁর ছেলে হৃদয় ঘোষ কদিন বিদ্রোহ করে শেষে হাতেপায়ে ধরে দলে ফিরে এলো। পুজো করতে গেলে এমন দেবতাকেই করতে হবে।

নতুন বছরে রাজ্যে নতুন সরকার আসবে। কোন দলের সরকার আসবে জানি না। কিন্তু কথা দিচ্ছি, আমরা এমন খবর করব যাতে মনে হবে সরকার তথা প্রশাসনের দিকে বোমা মারা হল। এমন লেখা লিখব যাতে মনে হবে বি্‌রোধীদের ঘরটা জ্বালিয়ে দেওয়া হল।

anubrata6

একটাই মুশকিল, কেষ্টদা্‌র যেমন মাঝে মাঝে অক্সিজেন কমে যায়, আমাদেরও মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপন কমে যায়। আপনারা তো জানেন মানুষের শরীরে অক্সিজেন আর মিডিয়ার শরীরে বিজ্ঞাপন একইরকম প্রয়োজনীয়। দাদার কাছে আমাদের প্রার্থনা, যে সংস্থা আমাদের বিজ্ঞাপন দেবে না, তাদের পিঠে যেন চড়াম চড়াম করে ঢাক বাজান হয়। নিয়মিত বিজ্ঞাপন পেলেই আমরা, নিয়মিত ‘নন্দ ঘোষের কড়চা’ লিখব, দুনিয়ার বদমাশকে ‘মানপত্র’ দেব, বিখ্যাত লোকদের বিরুদ্ধে ‘নিন্দাপ্রস্তাব’ আনব।

সবথেকে বেশি নিন্দা করব রবীন্দ্রনাথের। কারণ তিনি লিখেছেন, “ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর, যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা ব্যাটাই চোর।” কেষ্টাদা ভূত? নির্বোধ? চোর? বোলপুরে বসে এই সব কবিতা লেখা? বেঁচে থাকলে রবীন্দ্রনাথ আর তাঁর গিন্নিকে গুড়-বাতাসা করে দিতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + sixteen =

You might also like...

shimultala2

শীতের ছোট্ট ছুটিতে শিমূলতলা

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk