Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

বাগানের রত্ন ‘ডায়মন্ড দত্ত’

By   /  June 15, 2016  /  No Comments

ময়ূখ নস্কর

গুরুতর অসুস্থ অমল দত্ত। মোহনবাগান জনতার প্রিয় ডায়মন্ড দত্ত। এবছরের মোহনবাগান রত্ন তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হোক, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ুক এই দাবি। আওয়াজ উঠুক বাগানের রত্ন ডায়মন্ড দত্ত। পড়ুন, একমত হলে শেয়ার করুন।

অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল। বিখ্যাত এই কবিতা লিখেছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি। কিন্তু আমাদের অমল দত্ত ডায়মন্ড হতে চেয়েছেন, এবং তিনি ডায়মন্ড হতে পেরেছেন। ময়দানের অজস্র কোচের ভিড়ে তিনিই একমাত্র ডায়মন্ড। মোহনবাগান সমর্থকদের প্রিয় ডায়মন্ড দত্ত।

অমল দত্তকে নিয়ে লিখতে বসে কবিতা দিয়ে শুরু করলাম। কারণ, তিনি নিজেও কবি। তিনি কবি অক্ষয় বড়ালের নাতি। তাঁর ফুটবল দর্শনে কবিতার মতোই ছন্দ ছিল। সৌন্দর্য ছিল। কবিদের মতোই তিনি ছিলেন নতুন সৃষ্টির নেশায় পাগল। ছিলেন বেহিসেবি, বিতর্কিত, খ্যাপাটে। সেই অমল দত্ত, বাইচুংকে পরম তাচ্ছিল্যভরে চুংচুং বলা অমল দত্ত। ব্যারেটোকে টিমে নিতে না চাওয়া অমল দত্ত। গট আপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া অমল দত্ত, আজ রোগশয্যায়। উত্থানশক্তিহীন। আর এই মহা বিতর্কিত কোচকে ঘিরে উথলে উঠছে মোহনবাগানিদের আবেগ। দাবি উঠছে, অন্য কাউকে নয়, ডায়মন্ড দত্তকেই দেওয়া হোক এবারের মোহনবাগান রত্ন।
ডায়মন্ড দত্ত নামটার ইতিহাস সব ফুটবলপ্রেমীরই জানা। যাঁরা জানেন না, তাঁদের জন্য সহানুভূতি রইল। কোনও খেলোয়াড় নন, একজন কোচ আর তাঁর চালু করা সিস্টেম কীভাবে রাজ্যজোড়া ক্রেজ তৈরি করতে পারে, তা তাঁরা ভাবতেও পারবেন না। ১৯৯৬-৯৭ এর সেই মোহনবাগান দলে তারকা বলতে ছিলেন চিমা। আর মধ্যগগন পার হয়ে যাওয়া সত্যজিৎ, অলোক দাস। দীপেন্দুরা নেহাতই নবাগত। কিন্তু সব তারকার উপরে ছিলেন অমল দত্ত। সত্যজিতের সিনেমায় যেমন অভিনেতা নন, পরিচালকই প্রধান, অমল দত্তর টিমেও তেমনই। সবাই বলে সত্যজিতের সিনেমা, সবাই বলে অমল দত্তর টিম।

amal dutta5

সত্যজিৎ রায় প্রসঙ্গে মনে এল, তিনি যখন অস্কার পান, তখন তিনি রোগশয্যায়। অস্কার কর্তৃপক্ষ কলকাতায় এসে সম্মান তুলে দিয়েছিল মহাপরিচালকের হাতে। মোহনবাগানের মহা-প্রশিক্ষক অমল দত্তকে কি সেই সম্মান দেওয়া যায় না ? তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া যায় না মোহনবাগান রত্ন? এই বছরেই ? এবছর না পেলেও ভবিষ্যতে তিনি এই পুরস্কার নিশ্চয় পাবেন। কিন্তু অসুস্থ শরীরে এই পুরস্কার, এই সম্মান-ভালবাসা তাঁকে যে শক্তি দেবে, তা কোনও ওষুধের থেকে কম নয়। বলা যায় না, হয়ত অসুস্থতা ঝেড়ে ফেলে পুরস্কার নেওয়ার জন্য তিনি ক্লাবেও চলে আসতে পারেন।

অনেকে বলবেন, অমল দত্তর থেকে সিনিয়র অনেকে আছেন, যাঁরা এই সম্মানের দাবিদার। কিন্তু সবকিছু কি নিয়ম মেনে হয় ? শিবদাস ভাদুড়ির আগে রত্ন পেয়েছেন শৈলেন মান্না। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা বলবেন, তাঁরা ইতিধ্যেই অমলবাবুকে ভারত-গৌরব সম্মান দিয়েছেন। তাঁরা এগিয়ে । কিন্তু তাতে কী ? জেনে রাখুন, অমল দত্ত মোহনবাগানের অনেক আপন। ১৯৯৭ এর প্রথম জাতীয় লিগ জেতার সময় কোচ ছিলেন চাটুনি। কিন্তু সবাই জানে, ওই জয় অমল দত্তরই জয়। শুধু জয় নয়, বিপদের দিনেও যখন মোহনবাগানের উপর অবনমনের ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে, তিনিই এগিয়ে এসেছেন দলকে উদ্ধার করতে।

আসলে, অমল দত্ত কখনও পরিস্থিতি নিয়ে মাথা ঘামাননি। টিম ছোট না বড়, তারকা আছে কিনা, তা নিয়ে মাথা ঘামাননি। তিনি যেন মহাভারতের যোদ্ধা। ফলের কথা না ভেবে তিনি কর্মের কথা ভাবেন। তারকার কথা না ভেবে সিস্টেমের কথা ভাবেন। এতটাই তাঁর দৃঢ়তা, যে সটান বলে দেন, ‘ব্যারেটো আমার সিস্টেমে মানাবে না, ওকে নেব না।’ মোহনবাগানের কোচ বলছেন ব্যারেটোকে চাই না। তবু তাঁর প্রতি মোহনবাগান জনতা বিরূপ নয়। তাহলেই ভাবুন তাঁর জনপ্রিয়তা কোন পর্যায়ের।

সুভাষ ভৌমিক প্রায়ই বলেন, জিতলে পঞ্চানন, হারলে পাঁচু। অর্থাৎ টিম জিতলে কোচ ভাল, হারলে কোচ খারাপ। অমল দত্ত কিন্তু সবসময়ই পঞ্চানন। জিতলেও পঞ্চানন, হারলেও পঞ্চানন। কারণ, যাঁরা পথিকৃত, যাঁরা স্রষ্টা, তাঁদের কাছে মানুষ শুধু জয় আশা করে না। নতুন কিছু আশা করে। অমল দত্ত বরাবরই আমাদের নতুন কিছু দিয়েছেন। ডায়মন্ড সিস্টেম দিয়েছেন, বক্স সিস্টেম দিয়েছেন। ট্রফি জয়ের বিচারে তাঁর থেকে বড় কোচ অনেক আছে। কিন্তু উদ্ভাবনের বিচারে তিনিই শ্রেষ্ঠ।

মোহনবাগানিরাও তাঁর সেই উদ্ভাবনী শক্তিকে সম্মান জানিয়েছে। ডায়মন্ড সিস্টেম নিয়ে খেলতে নেমে তিনি ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিলেন। অন্য কোনও কোচ হলে গালাগালির ঝড় বইত। অন্য কোনও ক্লাব হলে কোচের মুখে থুথু দিত। কিন্তু মোহনবাগানিরা এমন লজ্জার হারের পরেও উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছিল অমল দত্তকে, ডায়মন্ড দত্তকে।

amal dutta3

আজ সেই ডায়মন্ড দত্ত জীবনের সবথেকে কঠিন ম্যাচে লড়াই করছেন। গ্যালারি থেকে সমর্থন করা ছাড়া আমাদের বিশেষ কিছু করার নেই। কিন্তু সেই সমর্থনে যেন ঘাটতি না থাকে। মোহনবাগান কর্তারাও এগিয়ে আসুন। তাঁর হাতে তুলে দিন মোহনবাগান রত্ন।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলাম। রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে শেষ করি ‘অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া। দেখি নাই কভু দেখি নাই, এমন তরণী বাওয়া।’ বহু বছর মোহনবাগানের খেলা দেখছি। কিন্তু ডায়মন্ড মরশুমের মতো ‘এমন তরণী বাওয়া’ কখনও দেখিনি। কারণ, সেবার মোহনবাগানের পাল ছিল অমল ধবল। তাতে লেগেছিল মন্দ মধুর হাওয়া। ডায়মন্ড সিস্টেমের হাওয়া।

সেই সিস্টেমের জনককে এবছরই দেওয়া হোক মোহনবাগান রত্ন। এবং অন্য কেউ নয়, তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিন পি কে ব্যানার্জি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − five =

You might also like...

priyaranjan4

যাক, হাইজ্যাক অন্তত হল না

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk