Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

ওরে, মদ না থাকলে বিধায়কের মাইনেটাও পাবি না

By   /  July 3, 2016  /  No Comments

রবি কর

ফরওয়ার্ড ব্লক! উনি নাকি ফরওয়ার্ড ব্লক! ব্যাটা ভীতু, কাপুরুষ, কাওয়ার্ড। তুই হলি কাওয়ার্ড ব্লক বুঝলি কাওয়ার্ড ব্লক। ব্যাটা ছিঁচকে চোর। যেই দেখেছে গেরস্থ ঘরে নেই অমনি সংসারে ঝামেলা শুরু করেছে।

ভিক্টরের কথা বলছিলাম। ভিক্টর মানে ফরওয়ার্ড ব্লকের ওই ছোকরা বিধায়ক। আচ্ছা আপনারাই বলুন, বাজেট অধিবেশন চলছে, যে কোনও আইনসভায় এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন,– কিন্তু দিদিমণির তো এর থেকেও দরকারি কাজ আছে, তাই তিনি পুকুরের পাড় বাঁধানো, রাস্তায় সুরকি ফেলা, চৌমাথায় ল্যাম্পপোস্ট বসানো প্রভৃতি কাজে জেলায় জেলায় ঘুরছেন—আর এই সুযোগে ব্যাটা ভিক্টর সরকারের ওপর রে রে করে পড়েছে।

nanda ghosh logo

বলে মদ বন্ধ করতে হবে। এতে নাকি অর্থনীতিরও ভালো হবে, আইনশৃঙ্খলারও ভালো হবে। হুঁ, ভারী আমার বোদ্ধা এলেন রে ! তিনবার ভোটে জিতে ভেবেছে আমি কী হনু। স্পিকার সাহেবের উচিত ছিল ওকে সাড়ে ৩৭ বার উঠবস খাওয়ানো। কিন্তু দিদি না থাকলে তো কেউ কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারে না, তাই ভিক্টরকে কেউ কড়া করে দুকথা শোনাতে পারল না।
ঠিক আছে, কেউ না পারুক, আমি পারব। আমি রবি কর। ভিক্টরের victory ঘুচিয়ে দেব। আমি, ভিক্টরবাবুর কাছে, কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই। সৎসাহস থাকলে তিনি এর উত্তর দিন। নয়তো নিজেই মদ খাওয়া শুরু করুন।

আচ্ছা তুই না বামপন্থী! তুই না শ্রেণীহীন সমাজের কথা বলিস! সাম্যবাদের কথা বলিস! ভেবে দ্যাখ, মদ যেমন চটজলদি সাম্যবাদ আনতে পারে, তেমনটা আর কেউ পারে না। একজন অধ্যাপক আর একজন জুয়াচোরকে দু’বোতল করে খাইয়ে দে, দেখবি দুজনেই ধূলায় গড়াগড়ি দিচ্ছে। তারপর দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে ওঠার চেষ্টা করছে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, এ ওর গায়ে বমি করছে, ছ্যারছ্যার করে পেচ্ছাপ করছে, খিস্তি মারছে। শ্রেণীহীন
সমাজব্যবস্থা। ভদ্র-অভদ্র-ধনী-দরিদ্র-শিক্ষিত-মূর্খ-হিন্দু-মুসলমান সব ভেদাভেদ দূর হয়ে যাবে। তোরা ৩৪ বছরে যে সাম্যবাদ আনতে পারিসনি, মদ ৩৪ মিনিটে তা এনে দিতে পারে। এই সহজ সত্যিটা তুইও বুঝিস না। বেঙ্গল টাইমসকেও রাগ হচ্ছে। ওইসব আলতু ফালতু খবরকে কেউ এত ফলাও করে ছাপে !

তুই বলছিস, মদ খেলে গরীবের ক্ষতি হয়। ওরে হাবা-গঙ্গারাম ! মদ খেলে কিছুদিন ক্ষতি হলেও আখেরে গরীবের লাভই হয়। ধর, মদ খেয়ে গরীব মরে গেল। গরীবের বউ কাঁদল। কিন্তু রাজ্য থেকে একটা গরীবের সংখ্যা কমল। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন হল। আমরা দারিদ্রমুক্ত সমাজের দিকে একধাপ এগিয়ে গেলাম। তারপর গরীবের বউ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপুরন পেল। তাঁর মুখে হাসি ফুটল। মদ না খেলে ৫ লাখ টাকা কোনোদিন হাতে পেত?

আমি তো চাই, সরকার রেশনে ২ টাকা বোতল দরে মদ বিক্রি করুক। স্কুল কলেজে ‘চুল্লুশ্রী’ প্রকল্প চালু হোক। ছোট থেকেই মাতাল হওয়া প্র্যাকটিস করুক। যত মাতাল, তত মদ। যত মদ তত রাজস্ব। যত রাজস্ব তত মোচ্ছব।

victor5

মোচ্ছব মানে বুঝিস তো ? মানে মেলা, উৎসব। সেখানে আচার-বড়ি-ধূপ বিক্রি হয়। তার ফলে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। এই সব উৎসবের পাশেই আছে বিজয় উৎসব। যা ভোটে জেতার পর পালন করা হয়। এই বিজয় উৎসবে মদ মাস্ট। ক্লাবে ক্লাবে যে লাখ লাখ টাকা দেওয়া হয়, তা মদের পিছনে খরচ হয়। ফলে সরকারের ঘরে রাজস্ব আসে। রাজনিতিতেও ফায়দা, অর্থনীতিতেও ফায়দা। এসব বোঝ মাকাল বোঝ।

কিন্তু মদ শুধু খেলে হবে না। ঘরে ঘরে মদের কারখানা গড়ে তুলতে হবে। গাড়ির কারখানা হয়নি, কিন্তু তাড়ির কারখানা হবে। আরে আমাদের রাজ্য হল একমাত্র রাজ্য যার নামে একরকমের মদ আছে। সেই রাজ্যে মদ বন্ধ করলেই হল ! বরং এই রাজ্য থেকে বাঙলা মদ ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। বিহারে মদ নিষিদ্ধ। তাই বিহারিরা আমাদের রাজ্যে এসে মদ খাবে। সারা ভারত খাবে। দিদি তো বলেছেন, “বাঙলা আবার ভারতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন
লবে।“ ভারত থেকে সারা বিশ্বে। বিশ্ব বাঙলা। বিশ্বের লোক বাঙলা খাবে। রাশিয়ার যেমন ভদকা, ভারতের তেমন বাঙলা।

আমি জানি তুই যে মদ বন্ধ করতে বলছিস, তাঁর পিছনে অর্থনীতি নেই, আছে রাজনীতি। মা-মাটি-মানুষের সরকারের একটা ডাকনাম আছে, জানিস ? মদ-মার-মোচ্ছবের সরকার। মদ, মার, মোচ্ছব পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। মদ খেয়ে চড়াম চড়াম মার। মার দিয়ে ভোটে জেতার মোচ্ছব। মোচ্ছবে আবার মদ, আবার মার। ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। এই যে তাপস পালের ছেলেরা ঘরে ঢোকে, এই যে পার্ক স্ট্রিটে- কামদুনিতে সাজানো ঘটনা হয়, এই
যে অনুব্রত গুড় জল খাওয়ায়—মদ না খেলে এসব হত না। আর এসব হয় বলেই তোদের মতো বিরোধীরা ভোটের আগেই গর্তে ঢুকে যাস। মদ বন্ধ করলে, ছোট ছোট ছেলেরা আর দুষ্টুমি করবে না। আর তোরা আবার গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়বি। কাজেই তুই হাজার চেঁচালেও মদ বন্ধ হবে না।
যদি তুই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতিস, তাহলে একটা ভালো বুদ্ধি দিতাম। আর এস এস আজকাল গোমাংস নিয়ে খুব চেঁচামেচি করছে। বলছে, হিন্দু ধর্মে গোমাংস খাওয়া মানা। তুই একটা পাল্টা আন্দোলন শুরু কর। বল, ইসলামে মদ খাওয়া মানা। তাই মদ বন্ধ করতে হবে। সব মুসলিম এম পি, এম এল এ-কে চিঠি দে, ইমামদের চিঠি দে।

তারপর দেখবি তোর জনপ্রিয়তা চড়চড়। দিদির ভোটব্যাঙ্ক টলমল। মদ বন্ধ করলে মাতালরা খেপে যাবে। বন্ধ না করলে, সংখ্যালঘুরা খেপে যাবে।

কিন্তু তুই তো যোগাযোগ করলি না। উল্টে দিদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলি। বললি, “দিদি তো মদ খান না।“

ব্যস! অমনি বিধানসভায় চেঁচামেচি। ঠিকই তো। তুই কী করে জানলি, দিদি কী খায়, কী খায় না! তুই জানিস না, এই রাজ্যের মঙ্গলের জন্য মদ খাওয়া আমাদের পুন্য কর্তব্য ! মদের রাজস্ব থেকে সরকারের টাকা আসবে। যত মানুষ মদ খাবে তত টাকা রোজগার হবে। সেই টাকা ক্লাবে ক্লাবে দেওয়া হবে। আরও মদ, আরও টাকা, আরও মদ…।

সহজ কথাটা বোঝ মাথামোটা। কোষাগারের যা হাল, মদের টাকা না পেলে। তোদের মতো বিধায়করাই মাইনে পাবে না। সাধারন মানুষ তো দূরের কথা। যদি রাজ্যের ভালো চাস, যদি নিজের ভালো চাস তো আন্দোলন ছেড়ে আজ থেকে নিজেই মদ খাওয়া শুরু কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − one =

You might also like...

chalo lets go

অঞ্জনের একটা ছবিই চোখ খুলে দিল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk