Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

যোগ্যতা আছে, কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা ?

By   /  July 13, 2016  /  No Comments

স্বরূপ গোস্বামী

মাত্র এক সপ্তাহে কতকিছু ঘটে গেল! সামান্য একটা বিষয়কে নিয়ে সংঘাত এমন চরমে পৌঁছে গেল, যা মেটার সম্ভাবনা কম। মিটলেও ফাটলটা থেকেই যাবে।
এক সপ্তাহ আগেই লিখেছিলাম, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতম লোক মানস ভুঁইয়া। এখনও সেটাই বিশ্বাস করি। কিন্তু যোগ্যতা যতই থাক, নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাকে অনেক কমিয়ে দিলেন সবংয়ের এই ডাক্তারবাবু।
বিরোধটা যে জায়গায় পৌঁছল, তা মোটেই কাম্য ছিল না। দুপক্ষই ছেলেমানুষির পরিচয় দিয়েছেন। অধীর চৌধুরি-আব্দুল মান্নানরা যেমন হঠকারিতার পরিচয় দিয়েছেন, পিছিয়ে রইলেন না মানস ভুঁইয়াও। ফলে, যে সমস্যাটা সহজেই মিটতে পারত, সেই সমস্যাকে পর্বতপ্রমাণ চেহারা দিলেন দুই পক্ষ।

adhir4

ইতিমধ্যে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির প্রথম মিটিংও সেরে ফেললেন। প্রথম বৈঠকের কী নির্যাস ? বামেদের কেউ এলেন না। কংগ্রেসের কেউ এলেন না। শাসকদলেরও অনেকে এলেন না। ২০ জনের মধ্যে হাজির মাত্র ৯ জন। ভবিষ্যতে হয়ত বাকিরা আসবেন। কিন্তু মূলত শাসকপক্ষের দাক্ষিণ্যের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির মূল কাজ সরকারের বিভিন্ন হিসেব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। বিভিন্ন অফিসারদের ডেকে পাঠানো, কৈফিয়ত চাওয়া। মানস ভুইঁয়ার দীর্ঘ পরিষদীয় অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন দপ্তর সম্পর্কে তাঁর স্বচ্ছ ধারনার জন্য এই কাজে তিনিই ছিলেন যোগ্যতম। সরকারের ত্রুটিকে তিনি যেভাবে সামনে আনতে পারতেন, সেটা অন্য কারও পক্ষেই সম্ভব ছিল না। পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, সুজন চক্রবর্তীর পক্ষেও না।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে নিজের দলের সঙ্গে বিরোধ যত বাড়বে, শাসক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ততটাই মধুর হবে। পিএ কমিটিতে বিরোধীরা নয়, মানসের মূল ভরসা হয়ে উঠবেন শাসক দলের বিধায়করা। এই পরিস্থিতিতে শাসক দল অস্বস্তিতে পড়তে পারে, এমন কাজ কি মানসের পক্ষে করা সম্ভব হবে ?
মানসের যোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় নেই, কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আছে। যে কোনও কারণেই হোক, কং শিবিরের কাছে মানস ভুঁইয়ার সেই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি ‘শাসকদের ঘনিষ্ঠ’ এরকম একটা তকমা বরাবরই তাঁর সঙ্গে ছিল। বাম জমানাতেও ছিল। এখনও আছে।
বাম জমানায় তাঁকে ভোটে হারাতে কী কী করা হয়েছিল, আদালতে প্রমাণিত। স্বাধীনতার পর থেকে এই একটি মাত্র কেন্দ্র যেখানে হাইকোর্ট নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। পুনরায় নির্বাচনের রায় দিয়েছিল। সন্ত্রাসের অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে সেটাকে প্রমাণ করেছিলেন একমাত্র মানস। তার পরেও তাঁরে সিপিএম ঘনিষ্ঠ বলা হয়েছে।
তৃণমূল জমানাতেও তাই। আগের নির্বাচনে জোট হওয়ার পরেও তাঁকে হারাতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনি তৃণমূল। পঞ্চায়েত থেকে এবারের বিধানসভা, তাঁকে হারাতে যতটা নিচে নামতে হয়, নামা হয়েছে। সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের খুনকে ঘিরে দিনকে রাত করা হয়েছে। খুন থেকে শ্লীলতাহানির কেসও দেওয়া হয়েছে তাঁর নামে। তারপরেও তাঁর লড়াইকে ছোট করার, বাঁকা চোখে দেখার লোকের অভাব নেই।

abdul mannan

মাঝে মাঝেই গুঞ্জন ওঠে, তিনি তৃণমূলে যাচ্ছেন। এবার হয়ত সেই দিকেই জল গড়াচ্ছে। কিন্তু সত্যিই কি এমন পরিণতি ডেকে আনার কোনও দরকার ছিল? গভীরভাবে বিশ্বাস করি, অধীর চৌধুরির যদি বিচক্ষণতা থাকত, এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। শুরুতেই বিষয়গুলো প্রকাশ্যে না এনে একান্তে মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে বসা যেত। হয়ত তারপরেও মানস পিএসি চেয়ারম্যানের পদ ছাড়তেন না। হয়ত তারপর অন্য যুক্তির আশ্রয় নিতেন। তবুও বিশ্বাস করি, তাঁকে বোঝানোর চেষ্টাটুকু করা যেত। অন্তত তাহলে, পরিস্থিতি এই এতখানি তিক্ত হত না।
অন্যদিকে মানস। শুরুর দিকে প্রতিবাদটা তবু ঠিক ছিল। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, নিজেকে হাসির খোরাক করে তুলছেন। অধীর-মান্নানদের বিরুদ্ধে রাগ থাকতেই পারে। দিল্লিতে গিয়ে হেস্তনেস্ত চাইতেই পারতেন। দলের সভায় হাজির থেকে নিজের যুক্তি তুলে ধরতে পারতেন। সেই সভা এড়িয়ে গেলেন কেন ? কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পুজো এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল ? সেটা অন্যদিনও দেওয়া যেতে পারত। তারপর যেভাবে আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন, সেটা কি আপনাকে মানায় ? অধীর-মান্নান যে ভুলটা করছে, সেটা আপনিও করবেন ?
ঘরে আগুন লাগলে কেউ ময়না তদন্ত করে না। আগে আগুনটা নেভাতে হয়। কিন্তু আপনারা দু পক্ষই আগুনে জল ঢালার বদলে ঘি ঢালছেন। আগুন স্বাভাবিক নিয়মেই দাউ দাউ করে জ্বলছে। একটা সামান্য ভুল বোঝাবুঝিকে ঘিরে বিচ্ছেদ কার্যত অনিবার্য হয়ে উঠছে।

manas bhunia six
এতে কার লাভ হল? মান্নান-অধীর ভাবতে পারেন, তাঁরা নিষ্কন্টক হলেন। দিল্লি গিয়ে তাঁদের নামে নালিশ জানানোর কেউ রইল না। আপনাকে যতটা সম্ভব অপদস্থও করা গেল। কিন্তু বিরোধী বেঞ্চ কতটা দুর্বল হয়ে পড়ল, সেটুকু তাঁরা বুঝছেন বলে মনে হয় না। অধীর আপনাকে অপদস্থ করতে চাইছে, বোঝা গেল। কিন্তু মানস নিজে নিজেকে কেন অপদস্থ করতে গেলেন ? এমনিতেই বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেটাকে দায়িত্ব নিয়ে আরও বাড়িয়ে দিলেন ? এই ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বাসযোগ্যতা যে আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল।
মানবাধিকার কমিশন বলে একটা বস্তু ছিল। কাগজে কলমে এখনও আছে। কিন্তু তা সরকারের রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কতটা অসহায়, তা পুরভোটে দেখা গেছে। এবার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিও হয়ত সরকারের রাবার স্ট্যাম্প হয়ে দাঁড়াবে। নাপরাজিত মুখার্জি, সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়দের সঙ্গে যদি আপনার নামটাও উচ্চারিত হয়, ভাল লাগবে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 10 =

You might also like...

taxi

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk