Loading...
You are here:  Home  >  নিয়মিত বিভাগ  >  খোলা চিঠি  >  Current Article

ওয়ান ডে মাতরম

By   /  August 20, 2016  /  No Comments

মধুজা মুখোপাধ্যায়, নিউইয়র্ক

আচ্ছা স্বাধীনতা দিবসের দিনটা আমরা একটু বেশি দেশপ্রেমী হয়ে পড়ি কেন বলুনতো ? সারা বছর দেশের কথা মনে করার সময় থাকেনা,কর্ম বিমুখ মন কি খালি একদিনই দেশকে সম্মান জানানোর কথা স্মরণ করায়? তাই কি কারণ, সময়ের অভাব না কর্ম বিমুখ মন? বালাই ষাট ! তা কেন হবে ! রাতে পাড়ায় মাইক বাজিয়ে মাচায় দেশের পতাকার নিচে ” রং দে মুঝে তু গেরুয়া ” নাচার জন্য কবে থেকে মহড়া চলছে বলুনতো ! তার সাথে কচি পাঁঠার ঝোল, বাসন্তী পোলাউ, টমেটোর চাটনি ,রসগোল্লা আর বিয়ারের বোতল ভর্তি ক্রেট জোগাড় ! চাট্টিখানি কথা? এরপর বর্ষারকালের ঝক্কি সামলে হাওড়ার ফুলের বাজার থেকে সব থেকে সস্তার ফুলের মালা নিয়ে এসে রবীন্দ্রনাথ,নেতাজি ,গান্ধীজির ছবিতে নীল পাড় শাড়ি পরে মালা পড়ানো! আর শেষে “জন গণ মন” গান তাও আবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ! ওরে বাবা ভাবতেই পারছিনা ! কি কষ্ট ! নজরুলের “চিত্ত যেথা ভয় শূন্য ” .. আরে দাঁড়ান দাঁড়ান একটু যেন গন্ডগোল লাগছে ? আপনি জানেন এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা কিন্তু ঝন্টুকে বলতে গেলেই সে বলবে ” আরে কাকু চেপে জাননা,যে নজরুল সেই রবীদাদু (কবিগুরু দৃষ্টতা মার্জনা করুন) ,এতে আপনার আমার কি , তাড়াতাড়ি ভাষণটা শেষ হতে দিন না ,এরপর রহমানের বন্দেমাতরম গাইতে হবে ! ” একে নজরুল রবীন্দ্রনাথ মিলেমিশে একাকার তায়ে বন্দেমাতরম এর নতুন রচয়িতা রেহমান ! সাবাশ ভারতবাসী ! এই না হলে স্বাধীনতা দিবস ? এরপর শুনবো ক্ষুদিরাম, মাস্টারদা ? তারা আবার কারা ? ও হ্যাঁ বইয়ে ছবি দেখেছি মনে হয়, মাথা চুলকে ঝন্টু বলবে সে কথা! আর তারপর বলবে “সুনুন কাকু,স্বাধীনতা এনেছে আমাদের রাজনৈতিক দাদা দিদিরা, তাদের খুশি করতেই আমাদের আজ এই আয়োজন , কেন ফ্যাচাং বাঁধাচ্ছেন? কেটে পড়ুন। ” ব্যাস তাহলেই আমি জ্ঞান হারিয়ে কচি পাঁঠার হাঁড়িতে হুরমুরিয়ে পড়বো। তার আগেই মাচার আশপাশ থেকে কেটে পরা ভালো। গান, নাচ,ভাষণ পতাকা উত্তোলন এতো কাজ করে আন্দ কেলাপের (আনন্দ ক্লাব নয় কিন্তু!) সদস্যরা ভয়াবহ ক্লান্তহয়ে পড়েন যে পরদিন তারা মাচার ধারে কাছে আর আসেনা। মাচা সাজানোর জন্য ছাপিয়ে আনা দেশের পতাকা গুলো ছিঁড়ে খুঁড়ে ডাস্টবিন বা ড্রেন বা নিদেন পক্ষে মাটিতে গড়াগড়ি যাক তাতে আপত্তি নেই কিন্তু “ওয়ান-ডে মাতরম ” এর হ্যাংওভার টা কাটানো খুব প্রয়োজন। চোখের সামনে এসব দেখে আপনি হয়তো প্রতিবাদ করবেন “আরে ভাই পতাকা যে গাড়ির টায়ারের সাথে সেঁটে গিয়ে ঘুরপাক খেতে খেতে পিষে গেলো , ওটা সরিয়ে নাও?” উত্তরে “কাকু আপনার বড্ডো পোবলেম , দেখছেন মাথা টিপে বসে আছি , কালকের হ্যাংওভার তা কাটেনি তার মধ্যে আপনি ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে চলেছেন “! ব্যাস পতাকা উত্তোলনের যবনিকা পতন এখানেই।

national flag

দেশের স্বাধীনতা দিবসের এসব গপ্পো ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চোখ রাখলাম সোশাল মিডিয়াতে। দেখলাম আমার প্রিয় দুটি মানুষের সন্তান সম পাগের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ঝড় উঠেছে সেখানে। তাঁদের অপরাধ হল তাঁরা তাঁদের পাগের পাশে ভারতের জাতীয় পতাকা রেখে একটি ছবি তুলে সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে ! সেই নিয়ে তোলপাড় তাদের প্রোফাইলের ছবিটি। বোঝো ঠ্যালা! নিজেদের স্বাধীন বলছি অথচ চিন্তা ভাবনা কি পরাধিন ! দেশের জাতীয় পতাকার পাশে কেবল মাত্র মানুষই দাঁড়াতে পারবে ? একথা কোথায় লেখা আছে ?আমার জানা নেই, কেউ জেনে থাকলে জানাবেন । বেশ কিছু কুরুচিকর মন্তব্য চোখে পড়ল যার মধ্যে একটা মনে রেখেছি ” এরপর কি কুকুর লাল কেল্লায় পতাকা তুলবে ?” ! ঝন্টুর দৌঁড় না হয় মাচা পর্যন্ত্য কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ঝুনুপিসিমাদের ভিড় তো কম না ! গুগল ও সোশ্যাল মিডিয়া আর কিছু না করুক এরকম প্রচুর ঝুনুপিসিমার জন্ম দিয়েছে যাদের “অল্প বিদ্যে ভয়ঙ্করী “! ছবিটি নিয়ে যারা ঝড় তুলেছেন সেই দলের নেতা আবার একজন স্কুল শিক্ষিকা ! সর্বনাশ তিনি নতুন প্রজন্মের মাথায় তাহলে সেই গতানুগতিক পরাধীন চিন্তা ভাবনা ঢোকাচ্ছেন নাকি ? তাহলে তাই যদি হবে তবে মডার্ন সাজার জন্য আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে কেন বাপু?

আমেরিকায় বহুবার এদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন দেখেছি ,পতাকাকে এরা অধরা করে রাখেনা। দেশ যেমন আমার তেমনি পতাকাও আমার,তাই তাকে কোথায় কিভাবে ব্যবহার করব তার জন্য এদের স্পেশাল লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। নিজের বাড়ির বাগান থেকে শুরু করে রাতের আকাশে তুবড়ি আলোর মালায় , জামা, প্যান্ট, টুপি, মোজা , জুতো ,ব্যাগ, বেল্ট,গয়না, টর্চ বাতি, বালিশ, বিছানা ,আসবাব এমনকি পায়ের পাতার ট্যাটু পর্যন্ত্য কোথায় কোথায় স্থান দেয়না এরা পতাকাকে ?! ! গৃহপালিত সমেত গোটা পরিবার পতাকার ছাপ দেওয়া পোষাক পরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে বেড়োয়। একটা গোটা গাড়িকে জাতীয় পতাকার রং করে ঘুরে বেড়াতে বা একটা গোটা বাড়িকে পতাকার রং করে ফেলতে এদের কোনো বাঁধা নেই। তবে যেভাবেই ব্যবহার হোক না কেন ৪ জুলাইয়ের পরের দিন রাস্তায় কোনোদিন এদের দেশের জাতীয় পতাকা গড়াগড়ি যেতে চোখে পড়েনি। উপরোক্ত স্কুল শিক্ষিকার পক্ষে আমেরিকাটা সিলেবাসের বাইরে সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিন্ত যদিও তিনি আমেরিকারই একটি সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র বানিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করেছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে বেশ কিছু কমরেডও জুটিয়ে ফেলেছেন। দুঃখের বিষয় এই যে তিনি ভারতবর্ষেও পশুপ্রাণীদের কি ভূমিকা সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল নন। তিনি মানষীদের মতো লড়াকু লাব্রাডরদের খবর রাখেন না, তিনি জানেননা এবছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে ‘আর্মি ডগ’ মার্চ হয়েছিল। শক্তিমানের কথাও তিনি ভুলে গেছেন। শিক্ষিকার ছোট্ট মাথায় অত চাপ দেবনা। তিনি তো বাঙালি,তা ধরা যেতে পারে মা দুর্গার নাম শুনেছেন নিশ্চই, তিনি নিশ্চয়ই জানেন মা দুর্গার পরিবারে প্রচুর পশুপাখি রয়েছে। দূর্গা পুজোর মণ্ডপে কি তিনি কাঁটা বাছাবাছি করেন?! তাহলে দেশের জাতীয় পতাকার ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য কেন? প্রাণীটি কুকুর বলেই কি সে নিকৃষ্ট? না জাতীয় পতাকা মানেই সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে, শেকল পরানো উদ্ভট মস্তৃষ্কে তার বাস?মান অপমান নামক অর্থহীন ভারী ভারী শব্দ দিয়ে বিশাল প্রাচীর গড়ে তার মধ্যে তাকে আটকে রাখা ! সমস্যাটা ঠিক কোথায়?

সমস্যটা আজকের না। বহুযুগ আগে স্বামী বিবেকানন্দ একটি কথা বলে গেছিলেন “Ignorance is the mother of all the evil and all the misery we see. Let men have light, let them be pure and spiritually strong and educated, then alone will misery cease in the world, not before. We may convert every house in the country into a charity asylum, we may fill the land with hospitals, but the misery of man will still continue to exist until man’s character changes.” হায় রে ভারতবর্ষ ! তুমি যে ভালো নেই তা বেশ টের পাচ্ছি । অশিক্ষা বা কুশিক্ষা তোমাকে গ্রাস করেছে। তোমার নাম সারা পৃথিবী জানছে , মুগ্ধ হচ্ছে তোমার প্রতিভাদের দেখে। প্রতিদিন তোমাকে চিনছে নতুন রূপে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো তোমার নিজের বহু মানুষ কূপমণ্ডুক হয়ে রয়েছে ! ঝন্টু আর ঝুনুপিসিরাই এখন তোমার পতাকা বাহক। আবার একবছরের অপেক্ষা , না জানি আগামী বছরের ওয়ান-ডে মাতরমে আর কি চমক অপেক্ষা করছে তোমার জন্য !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 3 =

You might also like...

chalo lets go

অঞ্জনের একটা ছবিই চোখ খুলে দিল

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk