Loading...
You are here:  Home  >  খেলা  >  Current Article

পিকে, অমলের থেকে আলোকবর্ষ দূরে মর্গান

By   /  March 11, 2017  /  No Comments

কুণাল দাশগুপ্ত

‌ট্রেভর জেমস মর্গান কি অমল দত্ত?‌

সেটা ১৯৭৬ সাল। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ছেড়ে মোহনবাগানে গিয়েছেন সমরেশ চৌধুরি, সুভাষ ভৌমিক এবং ভারতীয় ফুটবলের তৎকালীন সুপারস্টার কোচ প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচ হিসেবে এসেছিলেন অমল দত্ত। সে বছর ইস্টবেঙ্গলের ঘরে এসেছিল আধখানা আই এফ এ শিল্ড। পরের বছর সাতাত্তর সালে লাল হলুদ শিবিরে ঢুকেছিল কেবলমাত্র কলকাতা লিগ। কিন্তু অমল দত্তর হাত ধরে উঠে এসেছিলেন বেশ কিছু ফুটবলার। যাঁরা পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ফুটবলকে শাসন করেছিলেন। ভাস্কর গাঙ্গুলি, চিন্ময় চ্যাটার্জি, প্রশান্ত ব্যানার্জি, শ্যামল ব্যানার্জি, মিহির বসু, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। তালিকাটা আরও বড় হতে পারে।

amal-dutta5
এবছর দল গঠনে সচিব কল্যাণ মজুমদারের কোনও অংশগ্রহণ ছিল না। পুরো টিমটাই কর্তারা করেছেন মর্গানকে সামনে রেখে। কতগুলো বদখদ নাম এবারের দলগঠনের সঙ্গে বিন্দুমাত্র যুক্ত ছিল না। কল্যাণ মজুমদার, আলভিটো ডিকুনহা ইত্যাদি ইত্যাদি। গুটিকয়েক ফুটবলার ছাড়া এ মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের অধিকাংশ ফুটবলারই নতুন। এঁদের সবাই এসেছেন কোচের সৌজন্যে। মর্গান একটা অদ্ভুত কাজ করেছেন। কোন কোন ফুটবলার তাঁর সিস্টেমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না বা উপযুক্ত নন, তা আই লিগ শুরু হতে না হতেই জানিয়ে দিয়েছেন। তাও সংবাদমাধ্যমে। আর ক্লাব বিরোধীতার দায় পড়ল কল্যাণ মজুমদারের উপর। যাঁর আমলে কিনা ইস্টবেঙ্গল সবথেকে বেশি কলকাতা লিগ, আই লিগ, আসিয়ান কাপ জিতেছে। যাঁর সততা বাংলার ফুটবলের ইতিহাসের একটা অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মন্তব্য নিয়ে মাঝে মাঝে বিতর্ক হয় ঠিকই, কিন্তু তাঁর আর্থিক সততা নিয়ে অতিবড় নিন্দুকও কোনওদিন প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। তিনি ক্লাব হেরে যাওয়ার পরে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। আর কোচ ফুটবলারদের উপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন আই লিগের শুরুতেই। জ্যাকিচাঁদ, হাওকিপরা মর্গানের একলব্য হয়ে ফিরে যাবেন। আর তাঁর অর্জুনরা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে নিয়ে যাবেন কোন ইন্দ্রপ্রস্থে, সেটা স্বয়ং মর্গানই জানেন। ডু ডংয়ের মোহনবাগানের বিরুদ্ধে চারটে গোল থাকার পরেও তাঁকে দল ছাড়তে হল। তাঁর টিমগেম যখন ফ্লপ করছে, তখন ডংয়ের সেটপিসই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারত, এটা সবাই বুঝলেও মর্গান বোঝেন না। আরও একটি অদ্ভুত কাজ করছেন মর্গান। ওয়েডসনকে জোর করে পেন বানানোর চেষ্টা। এটা হল কিশোর কুমারকে দিয়ে বৈজুবাওড়া বা রফিকে দিয়ে ঝুমরু গাওয়ানোরই নামান্তর।

না, মর্গান মোটেই অমল দত্ত নন।

*‌*‌*‌

মর্গান কি তাহলে প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ?‌

pk banerjee

আদতেও নন। মর্গান তাঁর প্রথম দফায় বহু স্টার ফুটবলার পেয়েছিলেন। যেমন পি কে ব্যানার্জি সাতের দশকের শুরুতে ইস্টবেঙ্গল, শেষে মোহনবাগানের হেভিওয়েট ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করেছিলেন। এবং সেটা করেছিলেন বেশ সাফল্যের সঙ্গেই। দুই কোচের সাফল্যের পার্থ্যক্য কয়েক আলোকবর্ষ তো হবেই। প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় হাবিব, শ্যাম, সুভাষ, সুরজিৎ, সমরেশ, গৌতম, সুব্রতদের নিয়ে চলতে জানতেন। মর্গান সেই পাঠটি নেননি। সমর্থকদের পিকে ব্যানার্জির কাছে দাবি ছিল লিগ, শিল্ড, ডুরান্ড, রোভার্স–‌সবই। ত্রিমুকুট দুই প্রধানের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন। মর্গানের কাছে সমর্থকদের দাবি একটা— আই লিগ। এ যাবৎ কাল অব্দি তিনি সেটি দিতে পারেননি।

morgan2

মর্গান কি অমল দত্ত?‌
মর্গান কি প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়?‌

এমনকী পরের প্রজন্মের সুভাষ, সুব্রতদের সঙ্গেও কি তাঁর তুলনা করা যায়? এখন বুঝতে পারি, কল্যাণ মজুমদার নামক ‘‌বিতর্কিত’‌ লোকটা ফুটবলটাও অনেকের থেকেই ভাল বোঝেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =

You might also like...

meghe dhaka tara

সুপ্রিয়ার কণ্ঠে অমরত্ব পাওয়া সেই সংলাপ

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk