Loading...
You are here:  Home  >  কলকাতা  >  Current Article

যাক, লক্ষ্যটা অন্ততঃ ঠিক আছে

By   /  March 11, 2017  /  No Comments

সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি

স্বেচ্ছায় জামিন নিতে না চেয়ে আইনি বিচারে কারাবাস। হ্যাঁ এটাই তো বামপন্থীদের মানায়। অনেকদিন পরে এরকম একটা কর্মসূচী দেখে বেশ ভালো লাগলো। তাও আবার ছাত্র-যুবদের এরকম একটা পদক্ষেপ, যাদের অনেকেরই জেল, লাঠি, গুলির সাথে পূর্বপরিচিতি হয়তো ঘটেনি, এর আগে কখনও। তারাই টেট পরীক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারের নির্লজ্জ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলনে সামিল। ফলস্বরূপ শাসনযন্ত্রের “দাসত্ব” স্বীকার করা পুলিশের হাতে গ্রেফতার এবং পরের দিনে আদালতের রায়ে ৮ জনের কারাবাস ও বাকিদের নিঃশর্ত মুক্তি। নাহ,এরকম একটা “জাগরণ” প্রমাণ করল, ভোটের ফলাফলের বিচারে বাংলায় বামপন্থীদের শক্তি যাই থাকুক, লক্ষ্যটা অন্ততঃ ঠিক আছে ।
বাম রাজনীতি করার অর্থই হল যা কিছু অন্যায়, অবিচার বা অনাচার তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হওয়া এবং সমাজের সমস্ত শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে সেই প্রতিবাদে সামিল করা। শুধু বাংলাতে নয়, সারা ভারতবর্ষে তথা সারা পৃথীবিতে বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসই সেই সাক্ষ্য দেয়। ৭০ এর দশকে বাংলায় তদানীন্তন শাসক কংগ্রেসের ফ্যাসিবাদী মনোভাবের প্রতিবাদে হাজার হাজার বাম কর্মী ও সমর্থক পথে নেমে আন্দোলন করেছিলেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সেই প্রতিবাদের আগুন “দাবানল” হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

sfi

ফলস্বরূপ, ৭৭ সালে একটা হিংস্র শাসনতন্ত্রের অবসান হয়েছিল বামপন্থীদের নেতৃত্বে, মানুষের হাত ধরে। গোটা বিশ্বের ইতিহাসেও এর অজস্র উদাহরণ আছে। যেখানেই অন্যায়, অবিচার বা অচলায়তন, বামপন্থীরাই সর্বাগ্রে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন করেছে। এটাই তো বামপন্থীদের লক্ষ্য। সংগ্রামের এই সঠিক অভিমুখটাই বছরের পর বছর ধরে শয়ে শয়ে জনমুখী, জনহিতৈষী কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছে। এখানে ক্ষমতায় থাকা বা না থাকা, শাসক হওয়া বা বিরোধী হওয়ার মধ্যে বিশেষ কোনও পার্থক্য নেই। বামপন্থীদের লক্ষ্য বিপ্লব। লক্ষ্য সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তার বিনিময়ে জেল, লাঠি, গুলি, পুলিশি পীড়ন—সবকিছুই তাদের সহ্য করতে হয়েছে। সেই আন্দোলনের পথ, সেই সংগ্রামের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, বরং তা কন্টকাকীর্ণ। তা জেনেশুনেই বাম রাজনীতি করতে আসা, অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া এবং বিনিময়ে শাসনযন্ত্রের হাতে প্রতি পদে পদে বাধা পাওয়া,তবুও লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে যাওয়া।
বাংলার বর্তমান সরকারও সেই শাসনযন্ত্র যারা প্রশাসন কে নিজের “দলদাসে” পরিণত করেছে। এই প্রশাসনের কথা,যত কম বলা যায় ততই ভালো। এই প্রশাসনের পুলিশের ক্ষমতা নেই অনাচারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার। এরা শাসক দলের নেতাকে মারমুখী দেখে ভয়ে টেবিলের নীচে লুকিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচায়। এই পুলিশ প্রশাসন শাসকদলের নেতাদের সারদা কেলেঙ্কারির হাত থেকে বাঁচাতে সব তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে ফেলে। গোটা বাংলা জুড়ে একের পর এক নারীধর্ষণে শাসক দলের নেতাদের নাম জড়িয়ে পড়ছে, আর আশ্চর্যজনক “নির্লজ্জতায়” সেই দুস্কৃতীদের নাম পুলিশের খাতায় থাকে না। হয় তারা পলাতক, অথবা তাদের বিরুদ্ধে থাকা অকাট্য সাক্ষ্য প্রমাণও এই “দলদাস” পুলিশের চোখে খারিজ হয়ে যায়। কোনও কোনও পুলিশ আবার সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই শাসকদলের কর্মীদের সাথে নির্বাচন পরিচালনা থেকে শুরু করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদী মিছিলেও সামিল হয়। অথচ বিরোধী রা এই অন্যায়,অবিচারের বিরুদ্দে সোচ্চার হলেই “নপুংসক” পুলিশ তার “হারানো শক্তি”,”লুকানো দাপট” যেন ফিরে পায়। টেট আর এস.এস.সি পরীক্ষায় দুর্নীতি এই সরকারের আমলে এতোটাই লাগামছাড়া যে টেটে পরীক্ষার ফর্ম তুলতে গিয়ে পরীক্ষার্থীরা পুলিশের লাঠি খায়। না আছে পরীক্ষার কোনো সঠিক দিনক্ষ্ণ , না আছে তার রেজাল্টের দিনক্ষ্ণ।অথচ বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নিজের ঢাক পিটিয়ে সর্বক্ষণ তার সরকারের গুণগান গেয়ে চলেছেন। আর তার দলের নেতা ও সেই নেতার পরিবারের লোকজন এক ‘অজ্ঞাত পাণ্ডিত্যের” ফলে টেট পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ।আর হাজার,হাজার বেকার,চাকুরীপ্রত্যাশী,মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী হয় টেট পরীক্ষার ফর্ম তুলতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নিগৃহীত,বা পরীক্ষার দিনক্ষণের আশায় চাতকপাখির আশায় অপেক্ষা করার ন্যায় প্রতীক্ষারত অথবা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শাসকদলের আনুগত্য স্বীকার না করায় “অযোগ্য” রুপে প্রতিপন্ন— বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার এটাই ছবি। এর বিরুদ্ধেই বামপন্থী ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন কর্মসূচী ও আচার্য তথা রাজ্যপালের কাছে সেই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজভবন যাত্রা। সেই মিছিলে নির্বিচারে লাঠি চালাল শাসনযন্ত্রের “দলদাস” সেই পুলিশ। কী সাঙ্ঘাতিক বীরত্ব তাঁদের !! যুব মহিলা ও ছাত্রীদেরকেও রাস্তায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পুলিশি ভ্যানে তোলা হলো। আর পরের দিন আদালতে অন্যায়ের প্রতিবাদী সব ছাত্র-যুবদের পেশ করে জামিন অযোগ্যধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ প্রমাণ দিলো তারা শাসকের নুন খায় বলেই গুণ গায়। অথচ এই পুলিশ ই সিংহ থেকে মুষিক হয়ে যায়, শাসক দলের লুম্পেন,সমাজবিরোধী,দুষ্কৃতি ও নেতাদের রক্তচক্ষু দেখে। কি অদ্ভূত নিয়মনীতি !! কি অসহায় সুবিচারপ্রত্যাশী বাংলার সাধারণ মানুষ!!
হ্যাঁ বামপন্থীরা আগামীদিনেও লড়বে এই ঘৃণ্য শাসকের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এই নির্লজ্জ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবে বামপন্থীরা। সমাজের সর্বস্তরের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বামপন্থীরা চলবে লক্ষ্যের দিকে। লাঠি আসুক, গুলি আসুক, জেল হোক,তবু লক্ষ্য টা যেন ঠিক থাকে। একদিন মানুষের চেতনা ফিরে আসবেই। মানুষের হাতেই নতুন ইতিহাস লেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × one =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk