Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  জাতীয়  >  Current Article

‌কোন পথে ভারতবর্ষ? মিলনের না বিভেদের?‌

By   /  March 14, 2017  /  No Comments

সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি
দেশের আমজনতার নজর ছিল উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের দিকে। নানাবিধ কারণে এই বছরের উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে যেমন কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শক্তির পরীক্ষা ছিল, তেমনি সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের জোট অন্যদিকে মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বি.এস.পি কেমন ফল করে তার দিকেও গোটা দেশবাসীর নজর ছিল। আর উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিটা যেহেতু ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি বিভাজনের মাধ্যমভিত্তিক, তাই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেখানে দ্বিতীয় সারিতে। তাছাড়াও উত্তরপ্রদেশেই রয়েছে অযোধ্যার সেই ‘বিতর্কিত জমি” তে রামমন্দির নির্মাণের মত বিষয়, যেখানে বাবরি মসজিদকে ধূলিস্যাৎ করেছিল একশ্রেণীর উগ্র, ধর্মান্ধ সম্প্রদায়। সর্বোপরি উত্তরপ্রদেশ থেকেই দেশের ৫১২ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৮০ টি আসন। তাই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন বস্তুতই জাতীয় রাজনীতিতে অর্থাৎ দিল্লির দরবার দখলের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিধানসভায় জ়য় মানেই ৮০ টি লোকসভাতে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায় সেই রাজ্যের কোন লোকসভা কার দখলে বা কোন রাজনৈতিক দলের দখলে বেশি লোকসভা হতে পারে আগামী নির্বাচনে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই ১১ই মার্চে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল নানাবিধ কারণেই খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই ফল প্রকাশে দেখা গেলো কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নিরঙ্কুশ একাধিপত্য। তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়ী গেরুয়া বাহিনী। সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের জোট পর্যুদস্ত এবং মায়াবতী বাহিনীও একপ্রকার ধরাশায়ী। এই ফলাফলে দেশবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্বভাবতই বিজেপির সমর্থককূল যেমন উল্লসিত তেমনি বিরোধী শিবির শোকে মূহ্যমান না হলেও বিস্ময়াহত। কারণ এই ফলাফলেই স্পষ্ট ভারতবর্ষের রাজনৈতিক সমীকরণটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে এখন। আর আগামী দিনে কোন পথে দেশ এগোবে—সেই বিষয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

modi, amit shah
ভারতবর্ষ এক সুবিশাল দেশ। তার ভাষা, বর্ণ, ধর্ম, আচার-বিচার, রীতি-নীতি সবই বিচিত্র। তবুও ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ভারতবর্ষ তার অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার ব্যাপারে ধর্ম, ভাষা বা অন্য কোনও বিভেদের সাথেই কখনও আপোস করেনি। দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম যেমন সর্বধর্মের ভারতবাসীর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, তেমনি স্বাধীনতার পরেও এই সর্বধর্মের মেলবন্ধন অটুট ছিল। অন্ততঃ দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে যাঁরাই অতীতে বসেছিলেন, প্রায় সবাই সেই অখণ্ডতা রক্ষা করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু এই সংহতি রক্ষাই দেশের উন্নয়ন তথা দেশবাসীর সামাজিকতা রক্ষার মূলমন্ত্র। আর এই সংহতির কারণেই গোটা বিশ্বের কাছে তৃতীয় বিশ্বের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতবর্ষ অনন্য একটি দৃষ্টান্ত।
উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের এই নজিরবিহীন ফলাফল সেই সংহতি, সেই অখণ্ডতা রক্ষায় একটা বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন যে তুলে দিল সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এমনিতেই ২০১৪ সালের লোকসভার নির্বাচনের পর থেকে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ধর্মীয় অন্ধত্বের নামে গোটা দেশজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি করছে, তা দেশবাসীর তথা সমাজের পক্ষে শুধু ক্ষতিকারকই নয়, এককথায় ভয়ংকর। সেখানে অ-হিন্দুদের আচার-বিচারে যেমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তেমনি রয়েছে অ-হিন্দু যে কোনও ধর্মীয় স্থানের ওপর হামলা। অতীতে এরা এই উত্তরপ্রদেশেই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধুলিস্যাৎ করেছিল। আর বিগত তিন বছর ধরে চলছে ধর্মের নামে মসজিদ, চার্চ ভাঙা, ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে মুঘল যুগ বাদ দেওয়া, মাদার টেরেসার নামে কুৎসা রটনা, জোর করে অ-হিন্দুদের হিন্দু ধর্মান্তকরণ, গোমাংস বিক্রিতে বিধি নিষেধ জারি, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে জ্যোতিষ শিক্ষার নিদান দেওয়া, দলিত হত্যা—– আর এইসব অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে “দেশদ্রোহী” বা “অ্যান্টি ইন্ডিয়ান” বলা। অমর্ত্য সেনের মতো নোবেলজয়ী যশস্বী থেকে শুরু করে যে কোনও প্রগতিশীল বিশিষ্ট ব্যক্তি যারা এই গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে—এদের দৃষ্টিতে সকলেই “দেশদ্রোহী”। দেশের ঐক্য, সংহতি এরা ভেঙেচুরে তছনছ করে দিচ্ছে। দেশের বর্তমান স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে ২০১৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির এই জ়য় ও প্রধানমন্ত্রীর অভিষেক ছিল “৮০০ বছর পরে ভারতবর্ষ নয়, “হিন্দুস্থানে” “হিন্দু রাজার রাজ্যাভিষেক”। সুতরাং এই অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ যেখানে চলছেই, সেই প্রেক্ষাপটে উত্তরপ্রদেশের মতো সুবিশাল রাজ্যে এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তির প্রভুত্ব বিস্তার শুধু দেশের ঐক্য, সার্বভৌমত্বের পথে বিশাল অন্তরায় হয়ে যে দাঁড়াবে তাই নয়, দেশজুড়ে ধর্মীয় হিংসা ও উগ্রতাকে যে আরও ত্বরাণ্বিত করবে, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি বরাবরই মনুবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, যাদবতন্ত্র ইত্যাদির ওপর নির্ভরশীল। গো-বলয়ের এই রাজ্যের মানুষও ভীষণভাবেই এই বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন । আর সেই বিশ্বাসের প্রতিফলনই ঘটেছে নির্বাচনে। আর সেই সঙ্গেই অপরিহার্যভাবে উঠে আসছে অযোধ্যাতে রামমন্দির নির্মাণের মত ধর্মীয় উসকানি মূলক স্পর্শকাতর বিষয়টি। উত্তরপ্রদেশের এই বিশাল জয় যে রামমন্দির নির্মাণ ও সেইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও উত্তেজনা ছড়াতে ইন্ধন জোগাবে, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত।
তাই প্রশ্ন একটাই। কোন পথে ভারতবর্ষ এগোবে আগামী দিনে ? মিলনের ? নাকি বিচ্ছেদের ? যে মহামিলনের ক্ষেত্র ভারতবর্ষ এতদিন সযত্নে তার ঐতিহ্য রক্ষা করে এসেছে, আগামীদিনে কি সেই পরম্পরা বজায় থাকবে ? নাকি উগ্র ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির হত্যাকারীরা এই একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের পরে আরও,আরও বিভেদ ছড়াবে সমাজ ও সভ্যতায় আর দেশের সংহতিটাও অচিরেই তাসের ঘরের মতই ভেঙে পড়বে ?? সময়ই উত্তর দেবে এই জ্বলন্ত প্রশ্নের ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × three =

You might also like...

radio3

না বোঝা সেই মহালয়া

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk