Loading...
You are here:  Home  >  রাজনীতি  >  জাতীয়  >  Current Article

এই অকারণ উপনির্বাচন বন্ধ হোক

By   /  March 17, 2017  /  No Comments

অনুরাগ সেন

‌মনোহর পারিকর গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। এই নির্বাচনের ফলে দেশের অর্থনীতির পশ্চাদ্দেশে নতুন করে বংশদণ্ড প্রবেশ করল। না বিজেপি বা মনোহরবাবুর প্রতি আমার কোনও রাগ নেই। রাগ এই নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি।
মনোহরবাবু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। অতএব ৬ মাসের মধ্যে তাঁকে কোনও একটি আসন থেকে নির্বাচিত হতে হবে। বর্তমানে মনোহরবাবু কেন্দ্রিয় মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য তাঁকে এম পি পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। ফলে সেই আসনেও নতুন করে ভোট নিতে হবে।

manoharrajnath3

অর্থাৎ মনোহরবাবুকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য দু দুটি উপনির্বাচন। তবু রক্ষা, তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। এখানে উপনির্বাচন তুলনামূলক কম ঝামেলার। কিন্তু বিধানসভায় তো পেছনের দরজা দিয়ে আসার সুযোগ নেই। সেই উপ নির্বাচনের খরচা কে দেবে শুনি? এখানেই শেষ নয়, যিনি পদত্যাগ করে জায়গা ছেড়ে দেবেন, তাঁকে অন্য কোনও পদ কার্যত ঘুস দিতে হবে। নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহ বা মনোহর পারিকর কি নিজের পকেট থেকে এই খরচা দেবেন? গোয়ার সদ্য নির্বাচিত এমএলএ’দের মধ্যে কেউ নেই যিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন? যদি নাই থাকেন, যদি মনোহর পারিকরই যোগ্যতম হন, তাহলে তাঁকে এমপি করা হল কেন? তাঁকে গোয়াতেই রেখে দিলে হত।
শোনা যাচ্ছে রাজনাথ সিং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। রাজনাথবাবুও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলে আরও দুটি উপনির্বাচন। এর আগে সর্বানন্দ সোনওয়াল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হলেন। তিনিও ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর সময়েও দুটি উপনির্বাচন হয়েছিল।
এর পাশাপাশি রাখব নরেন্দ্র মোদীকেও। সবাই জানত লোকসভা ভোটে বিজেপি জিতবে। মোদি নিজেও নিশ্চয়ই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু তিনি আমেদাবাদ এবং বারাণসী দুটি আসন থেকে ভোটে লড়লেন। পরে আমেদাবাদ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হয়।
একা নরেন্দ্র মোদী নন, সনিয়া গান্ধিও ১৯৯৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বেল্লারি এবং আমেথি দুটি আসন থেকে লড়েছিলেন। জয়ী হয়েছিলেন দুটিতেই। পরে বেল্লারিতে উপনির্বাচন হয়।

subhendu2চোখ রাখুন পশ্চিমবঙ্গে। শুভেন্দু লোকসভা ছেড়ে বিধানসভায় এলেন। লোকসভায় উপনির্বাচন হল। সেই উপনির্বাচনে জয়ী হলেন দিব্যেন্দু। কিন্তু তিনি ইতিমধ্যেই বিধায়ক। ফলে বিধানসভায় উপনির্বাচন হবে। সর্বোপরি মমতা দেবী নিজে। তিনি এম পি পদে ইস্তফা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হলেন। তারপর ভবানীপুর বিধানসভা আর দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা আসনে যে উপনির্বাচন হল-
তার মানুষের টাকা আর সময় নিয়ে এই ছেলেখেলা কবে বন্ধ হবে? নরেন্দ্র মোদি বা সোনিয়া গান্ধী কেন দুটি আসনে লড়বেন? মনোহর পারিকর কেন রাজ্য ছেড়ে কেন্দ্রে এসে আবার রাজ্যে যাবেন? শুভেন্দু-দিব্যেন্দু দুই ভাই কেন এম পি- এম এল এ আসন নিয়ে নিজেদের মধ্যে চু কিত কিত খেলা খেলবেন?
নির্বাচন কমিশনের উচিত নতুন নিয়ম করা। অসুস্থতা অথবা মৃত্যু ছাড়া কেউ যদি জেতা আসন থেকে পদত্যাগ করেন সেই আসনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হবে। শুভেন্দু যদি তমলুক লোকসভা আসন থেকে ইস্তফা দিয়ে বিধানসভায় আসতে চান, তাহলে তমলুকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাম প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হবে। এই নিয়ম চালু হলেই দেখবেন সব দল উপনির্বাচনকে এড়িয়ে চলছে।

অথবা বলা হোক, পদত্যাগের কারণে উপনির্বাচন হলে, সেই উপনির্বাচনের সব খরচ পদত্যাগকারী ব্যক্তিকে বহন করতে হবে। দেশের টাকার প্রতি মায়া না থাকতে পারে, নিজের টাকার প্রতি সবার মায়া আছে। সেই টাকায় টান পড়লে নির্বাচন লড়ার সাধ ঘুচে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + five =

You might also like...

amstrong3

চাঁদে কি সত্যিই মানুষ গিয়েছিলেন ?

Read More →
game of thrones season 7 episode 1 game of thrones season 7 watch online game of thrones season 7 live streaming game of thrones season 7 episode 1 voot voot apk uc news vidmate download flipkart flipkart flipkart apk cartoon hd cartoonhd cartoon hd apk cartoon hd download 9Apps 9Apps apk